শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় মানবাধিকার কর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবিতে সংলাপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মানবাধিকার কর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবিতে সংলাপ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় মানবাধিকার কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে “মানবাধিকার কর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন” বিষয়ক এক সংলাপ ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘স্বদেশ’ যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য ও উদ্বোধন ঘোষণা করেন সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার। কর্মশালায় মূল বিষয়ের ওপর আলোচনা ও বক্তব্য রাখেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সমন্বয়ক মো. রোকনুজ্জামান এবং দেশ টিভির সিনিয়র সাংবাদিক কায়সার সুমন। সংলাপে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধবচন্দ্র দত্ত।

সংলাপে বক্তারা বলেন, দেশে মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত নানা ঝুঁকি ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাজ করছেন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে যারা মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করেন, তারা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। তাই তাদের পেশাগত নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট ‘মানবাধিকার কর্মী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। বক্তারা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যৌথ উদ্যোগে এই আইনের খসড়া দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা প্রবেশন অফিসার (অঃদঃ) মশিদুল হক, জেলা তথ্য কর্মকর্তা জাহারুল ইসলাম, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ জামিল, উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা (তথ্য আপা) রিদিশা রঙান, সদর হাসপাতালের ওসিসি প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুল হাই সিদ্দিক, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন এবং দৈনিক মানবজমিনের জেলা প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন প্রমুখ।

আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শেষে একটি মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নিয়ে মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা ও আইনি সুরক্ষার নানাদিক তুলে ধরে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন।

Ads small one

নিঃশব্দ বিদ্রোহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
নিঃশব্দ বিদ্রোহ

 

জহুরুল হক জুলু
যারা ভেবেছিল
মানুষের কণ্ঠ চেপে রাখলেই
নদীর স্রোত থেমে যাবে,
তারা বোঝেনি-
জমে থাকা নীরবতাও একদিন
বজ্রের ভাষা শিখে নেয়।

এই নগরের বাতাসে আজ
অদ্ভুত এক ধাতব গন্ধ।
প্রতিটি মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে
অবিশ্বাসের কালো ছায়া।

চোখে চোখ পড়লেই
মানুষ এখন হিসেব কষে
কে বন্ধু, কে ছদ্মবেশী শত্রু।

একসময় বিকেলের মাঠে
শিশুরা দৌড়ে বেড়াতো পাখির মতো,
এখন সন্ধ্যা নামলেই
দরজাগুলো নিঃশব্দে বন্ধ হয়ে যায়।

মায়েরা জানালার ফাঁক দিয়ে
ফিরে আসা পথের দিকে তাকিয়ে থাকে,
যেন প্রতিটি পদধ্বনি
ভয়ের কোনো সংবাদ বহন করে।

রাত গভীর হলে
অনেক ঘরে চুলা জ্বলে না,
তবু ক্ষুধার শব্দ
দেয়াল ভেদ করে বেরিয়ে আসে।

একজন বাবা অন্ধকারে বসে
নিজের হাত দুটো দেখেন—
কেন এত অসহায় লাগে আজ!
চারদিকে এত উচ্চারণ,
তবু সত্যের জন্য কোথাও জায়গা নেই।

মানুষের দীর্ঘশ্বাসগুলো
ধোঁয়ার মতো জমে আছে আকাশে।
যে মুখগুলো একদিন
স্বপ্নে দীপ্ত ছিল,
আজ সেখানে কেবল
ক্লান্ত সময়ের দাগ।

তোমরা শুনতে পাও না?
ভেঙে পড়া মানুষের বুকের ভেতর
কেমন প্রচ- শব্দ ওঠে!
সেটা কোনো ঝড় নয়,
কোনো সমুদ্রের গর্জনও নয়
সেটা বেঁচে থাকার শেষ আর্তি।

 

শুভ স্নান যাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
শুভ স্নান যাত্রা

 

 

বাপী নাগ
জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথিতে পবিত্র
স্নানযাত্রা শুভ ক্ষণ।
স্নান যাত্রা’য় জাগে যে ভক্তের
অটল এ অনুরণন।
একশো আট’টি পবিত্র ঘড়ায়
মহাস্নান হয় আজ।
জগন্নাথ বলভদ্র ও সুভদ্রাকে
ভক্তি সোনার সাজ।

স্নানের পবিত্র ছোঁয়ায় দূর হয়
এই মনের ক্লান্তি।
প্রভুর চরণে নত হয়ে’ই মেলে
আজ চিরশান্তি।

বলভদ্র সুভদ্রা সনে মহা প্রভু
শ্রী জগন্নাথ মহান।
করুণা ধারায় ভাসিয়ে করেন
সুখ ও শান্তি দান।

নীলাচলের এই মহালীলা চির
পবিত্রতার এ জয়।
প্রভুর কৃপায় খুশি ভরে উঠুক
সবার জীবনময়।

পবিত্র মন ও ভক্তি নিয়ে করি
শ্রী’জগন্নাথে’র ধ্যান।
জয় শ্রী জগন্নাথ ধ্বনিতে ভরে
উঠুক এই মন প্রাণ।

শোধ নেবো বলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
শোধ নেবো বলে

মুকুল ম্রিয়মাণ
শোধ নেবো বলে বলে আর শোধ নেয়া হয়নি,
রাগের, ক্রোধের- উদ্ধত ফণাগুলো অবদমন হয়ে গেছে সেই কবে,
এখন কোনো অপার্থিব ইশারায় অগ্নিচুল্লিতে চুপচাপ ফুটছে সব নির্ঘুম শান্ত্রিক ফুল।
শোধ নেবো বলে বলে আর শোধ নেয়া হয়নি আজ অব্দি,
ডুবে গেছে সব সংক্ষুব্ধ আবেগ, উবে গেছে সব ক্রুদ্ধস্বর আর প্রতিশোধের প্রতিচিন্তা।
অনুরাগের বিপ্রতীপ আনাগোনায়
অবশ্যম্ভাবী ভাবেই থেমে গেছে সব প্রতিপাক্ষিক দুঃখ বিলাপ;
কার বিরুদ্ধে শোধ নেবো?কার বিরুদ্ধেইবা ছুঁড়বো বিষমাখা তীর?
শোধ নেবো বলে বলে আর শোধ নেয়া হয়নি-
রক্তকণা থেকে মুছে গেছে সব ঘৃণা ও ধ্বংসের কার্তুজ,
তার ছুঁড়ে দেওয়া ব্যথা ও পাপ প্রণোদনা তাই আজ হয়েছে এক সুবিশাল প্রেমের স্মারক।