শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ শিক্ষার্থী বিথার রবিউলের জন্মদিন উদ্যাপিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ শিক্ষার্থী বিথার রবিউলের জন্মদিন উদ্যাপিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা ল কলেজের অধ্যক্ষ ড. রবিউল ইসলাম খান ও প্রয়াত আইনজীবী হাসনা হেনা খানের একমাত্র পুত্র, ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী বিথার রবিউল ইসলাম খানের জন্মদিন উদ্যাপিত হয়েছে। ৩ জুলাই শুক্রবার রাতে শহরের খান বাড়িতে অ্যাডভোকেট হাসনা হেনা খান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই জন্মদিন পালন করা হয়।

জন্মদিনের এই আয়োজন পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাক্সক্ষীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিথার রবিউল ইসলাম খান বলেন, জীবনের আরেকটি বছর পূর্ণ করায় তিনি সবার কাছে দোয়া ও ভালোবাসা চান। জন্মদিন উপলক্ষে কেক বা উপহারের চেয়েও তাঁর পথচলাকে যাঁরা অর্থবহ করে তুলেছেন, সেই প্রিয় মা-বাবার কথা বেশি মনে পড়ছে। মায়ের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, “আজ এই দিনে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে আমার গর্ভধারিণী মাকে, যিনি আজ এই পৃথিবীতে নেই। যাঁর মা নেই, তাঁর কিছুই নেই। তিনি আমাকে ছায়ার মতো আগলে রাখতেন।” কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য তিনি তাঁর পরিবার, বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

Ads small one

বাবুই পাখি ডেকে কইছে শুনো মহাজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
বাবুই পাখি ডেকে কইছে শুনো মহাজন

সুদয় কুমার মন্ডল
প্রকৃতির নিমগ্নতা
শীত গ্রীষ্ম রৌদ্র বৃষ্টি ঝড়
গগন চুম্বি তাল গাছের মাথায় বাবুই পাখিরা বেঁধেছে সুখের ঘর।
কত সুন্দর কারিগর
বারো মাস স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে
অট্টালিকার সুখ
বাবুই পাখিরা পরিশ্রমী স্বনির্ভর।
জীবিকা নির্বাহেখাদ্য অন্বেষণ করে
বাসায় ফিরে
সারাদিন ধরে।
ছানা গুলিকে খাওয়ায় আদর যতœ সহকারে
প্রকৃতির রাজ্যে বাবুই পাখিরা কত সুখী
অট্টালিকা বাসির নেই সেই সুখ
একদা বাবুই পাখি ডেকে কইছে শুনো মহাজন
তোমাদের মাঠে ছড়ানো খাদ্য কুড়িয়ে
আমরা করি জীবন ধারণ।
তোমাদের অট্টালিকা পাশে খড়কুটো এনে বাসা করলে ভেঙে দাও অকারণ।
তোমরা কিসের মহৎ? ক্ষুদ্র প্রাণীর আশ্রয়টুকু
ভেঙে দাও কেড়ে নাও এই কি তোমাদের স্বভাব? পাতালতা চিবিয়ে মসৃণ করি
নিরাপদ আশ্রয় গড়ি। আমরা পরিশ্রমী
আমরা নিরীহ প্রাণ সুযোগ পেলে কেন ঘাড় মটকাও! তোমাদের নিষ্ঠুর বিড়ম্বনায় তাল তরু পাতায় গড়েছি আশ্রয় কেন হীন জীবের
রক্ত চুষে খাও? জবাব দিতে পারো কংক্রিটের গড়া অট্টালিকা বাসি। জানি,পারবেনা
মনুষ্য রক্তে স্বার্থপরতা বইছে ধমনীতে
ঐশ্বর্যের ভুবনে তোমরা গড়েছ তাসের ঘর সারাক্ষণপাশা খেলায় মত্ত
গর্হিত রীতিনীতিতে।
সাবধান মহাজন
ক্ষুদ্র হলেও
কারো অধিকার করোনা হনন।

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে অনিয়ম!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে অনিয়ম!

জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু একটি সরকারি প্রকল্প নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টিকে থাকার লড়াই। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগটি যখন মাঠপর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার পকেট ভারী করার হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন তা কেবল আর্থিক দুর্নীতি থাকে না; বরং তা হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় দূরদর্শিতার পিঠে এক চরম আঘাত। সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে চারা ও উপকরণ বিতরণে যে প্রকাশ্য হরিলুটের খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১ হাজার ২০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫টি চারা, ৫টি বাঁশের খুঁটি এবং ১৫০ কেজি জৈব সার (গোবর) দেওয়ার কথা। সরকারি নথিতে প্রতি কেজি গোবর সারের দাম ৪ টাকা এবং প্রতিটি খুঁটির দাম ৫০ টাকা ধরা হয়েছে। অথচ বাস্তবে কৃষকদের ১৫০ কেজির জায়গায় দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪০ কেজি সার। আর ৫০ টাকার মানসম্মত খুঁটির বদলে দেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা মূল্যের নি¤œমানের বাঁশের কঞ্চি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, চতুর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের কাছ থেকে কাগজে-কলমে ১৫০ কেজি সার ও ভালো মানের উপকরণ বুঝে পাওয়ার কথা লিখিয়ে নিয়ে টিপসই বা স্বাক্ষর আদায় করছেন।

এই জালিয়াতি ঢাকতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা একেক সময় একেক অজুহাত দিচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দাবি করছেন, গোবরের বদলে সমমূল্যের কোম্পানির সার দেওয়া হয়েছে। অথচ খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালকের তথ্যে সেই সারের মূল্যেও বড় ধরনের গলদ প্রকাশ পেয়েছে। প্রশ্ন হলো, সরকারি পত্রে যেখানে স্পষ্ট ‘গোবর সার’ ও সুনির্দিষ্ট ওজনের কথা উল্লেখ আছে, সেখানে কর্মকর্তারা কার অনুমতিতে কোম্পানির বস্তা সার দিলেন এবং ওজনে ১১০ কেজি কম দিলেন? সরকারি বরাদ্দের সুনির্দিষ্ট নিয়ম ভেঙে এই ধরনের মনগড়া উপকরণ দেওয়া এবং মূল্যের অসঙ্গতিই প্রমাণ করে যে এখানে একটি বড় ধরনের আর্থিক সিন্ডিকেট কাজ করছে।

হিসাব বলছে, শুধু সদর উপজেলার খুঁটি ও সার থেকেই ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকার মতো লোপাট করা হয়েছে। পুরো সাতক্ষীরা জেলায় ৪৮ হাজার ৬০০ জন কৃষকের জন্য এই প্রকল্পের বরাদ্দ ১ কোটি ৭১ লাখ টাকারও বেশি। সদরের এই খ-চিত্র যদি পুরো জেলার বাস্তবতার প্রতিফলন হয়, তবে সামগ্রিক লুটপাটের অঙ্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা সহজেই অনুমেয়। প্রধানমন্ত্রীর একটি মহৎ উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে গিয়ে কীভাবে আমলাতান্ত্রিক লোভের গ্রাসে পরিণত হয়, সাতক্ষীরার এই ঘটনা তারই এক নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাতক্ষীরা শাখা এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছে, যা অত্যন্ত যৌক্তিক। জেলার প্রশাসক অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন যে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা মনে করি, শুধু আশ্বাসের বৃত্তে বন্দি না থেকে এই তদন্ত হতে হবে দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ।

সরকারি উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে না পারলে সাধারণ মানুষের আস্থা যেমন ফিরবে না, তেমনি পরিবেশ রক্ষার এই মহতী উদ্যোগও ভেস্তে যাবে। জলবায়ু সুরক্ষার মতো স্পর্শকাতর প্রকল্পের টাকা যাঁরা আত্মসাৎ করেন, তাঁরা দেশের শত্রু। সর্ষের ভেতরের এই ভূতদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোকÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

সুখ গুলো শীত হয়ে গেছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
সুখ গুলো শীত হয়ে গেছে

ফিনিক্স সুজন
যাদের নেই শীতে একটা উষ্ণ কম্বল,তাদের দুঃখ আমার চোখে লাগুক!
তাদের দুঃখ লাগুক রাজ্যপাটে বসে থাকা সুলতানের রাজকোষে!
কত মোলায়েম পোশাকে আবৃত তোমাদের দেহ, কতো কিছুতে ঢাকা স্তন,
তব একটা গরম বুক পেলনা রাস্তার পাশে শুয়ে থাকা করিম বক্স!
ইটকে জড়িয়ে সে করিয়াছে তারে প্রিয়তমা, আর শীতে কে করেছে চাদর!
কুয়াশার অদৃশ্যমান পথের পাথর হয়েছে তাহার প্রাত্যহিক সঙ্গী!
পথিকের আধখাওয়া সিগারেটের আগুন তার দেহকে একটুখানি গরম করে!
সে কভু ছুঁয়ে দেখেনি সামান্য একটা সিগারেট, তবুও এই নিশি রাত্রে,
সিগারেট বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে,একটুখানি উষ্ণতার নিমিত্তে!
জগতের সমস্ত সুখ আজ শীতের বেশে এসে তার জানালায় উঁকি করে,
জানালা! যার নেই একটা মাথাগোঁজার ঠাঁই,নেই একটা ঘর অথবা কম্বল!
যার জন্য জোটে না একটা কাফনের কাপড় মরণের পরেও,
মরণের পরে যার দেহ হতে অঙ্গগুলো ঠুকরে খাবে ধবধবে সাদা চিল,
তার পানে পৃথিবীর সমস্ত সুখ, শীত হয়ে আলিঙ্গন করে গভীরভাবে!
তার জন্য আছে পথের ধারের সাড়ে তিন হাত জায়গা বরাদ্দ করা,
সেখানে সুয়ে সে নক্ষত্র গোনে, কতবছর এমনি কেটে গেলো কে জানে?
এই কবে ছোট্টকালে সে গুনেছিল তারা তার বাবার সাথে এখানে এসে,
তারপর কত বছর কেটে গেল, কতজন চলে গেল তার ফুটপাত থেকে,
তার বাবাও তাকে ছেড়ে, হয়ে গেল ওই দূর আকাশের একটা নক্ষত্র !
সেও চাই এ জীবন ত্যাগ করতে, তবুও পারছে না ছাড়তে জগৎ মায়া;
কি এক অদ্ভুত টানে বেঁধে আছে সে মহাবিশ্বের এই কেন্দ্রবিন্দুতে!
অদ্ভুত এক মায়ার টান, অদ্ভুত এক প্রেমের টান, খুবই অদ্ভুত টান।
তাই তো তার রুহু যেতে পারল না তার জীর্ণ দেহকে ছেড়ে যেতে,
পারেনি ছেড়ে চলে যেতে আকাশে, নক্ষত্র হতে পারেনি তার আত্মা;
যাদের সুখগুলো শীত হয়ে গেছে, লাগিছে তাদের বুকে চুরির মতন,
তাদের দুঃখগুলো আমার চোখে লাগে না কেন? কিংবা রাজাধিরাজের;