বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল: সেবার মান বাড়াতে টিআইবি-সনাকের অ্যাকশন মিটিং

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল: সেবার মান বাড়াতে টিআইবি-সনাকের অ্যাকশন মিটিং

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের লক্ষ্যে একটি ‘কমিউনিটি অ্যাকশন মিটিং’ বা গণ-অলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে শহরের মধ্য লস্কর পাড়ায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অনুপ্রাণিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর সহায়তায় অ্যাক্টিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি) এই সভার আয়োজন করে।
সভায় বক্তারা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সাম্প্রতিক কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে হাসপাতালে সান্ধ্যকালীন প্যাথলজি বিভাগ চালু হওয়া এবং ২৪ ঘণ্টা ডেলিভারি সেবা চালু রাখাকে স্বাগত জানান সেবাগ্রহীতারা।
প্রশংসার পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন সংকট ও অব্যবস্থাপনার চিত্রও সভায় তুলে ধরা হয়। এসিজি’র নিয়মিত ‘কমিউনিটি মনিটরিং’ কার্যক্রমে চিহ্নিত হওয়া বেশ কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, হাসপাতালে এখনো অপর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রয়েছে। টিকিট কাউন্টার, ওষুধ বিতরণ কেন্দ্র এবং ডাক্তার দেখানোর ক্ষেত্রে সঠিক সিরিয়াল মানা হচ্ছে না। নারী ও পুরুষদের আলাদা লাইনের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। হাসপাতাল চত্বরে দালাল চক্রের উৎপাত রয়েছে, যার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা হাসপাতালের নতুন কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সাবিহা, নিলুফা ও ইলিয়াস নামের কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ভেতরের চেয়ে বাইরের নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বেশি পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া নার্সদের অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওষুধের সংকট রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতারা বলেন, “হাসপাতালের প্যাথলজি সেবা উন্নত করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে এখনো রোগীদের বাইরের ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সরকারি ওষুধ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”
সভায় জানানো হয়, চিহ্নিত এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের তাগিদ নিয়ে খুব শিগগিরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে একটি অ্যাডভোকেসি (সুপারিশ) সভা আয়োজন করা হবে।
এসিজি’র সমন্বয়ক মো. মামুনার রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহ-সমন্বয়ক তাহেরা পারভীন হিরা। আলোচনায় আরও অংশ নেন সনাক-এর সহসভাপতি ইয়াছীন সিদ্দীকী, সদস্য রেবেকা সুলতানা, মনিরুজ্জামান মুন্না, টিআইবি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর সিই আল-আমিন, ইয়েস সদস্য সৌভাগ্য দাস, মো. সানজিদ ও ইরানী আক্তার প্রমুখ।

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।