রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাফে মালদ্বীপকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
সাফে মালদ্বীপকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশনে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। ভারতের গোয়ায় উদ্বোধনী ম্যাচে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারানোর পাশাপাশি সেমিফাইনালও নিশ্চিত করেছে তারা।

অথচ তিন দলের ‘বি’ গ্রুপে ভারত এই মালদ্বীপকেই ১১-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে। বাংলাদেশ ম্যাচের আগে এর চেয়ে বেশি গোল করার হুঙ্কার দিলেও খেলাতে মন ভরাতে পারেনি, জিততে ঘাম ঝরাতে হয়েছে। একটা পর্যায়ে তো স্কোর লাইন ২-২ করে ভড়কে দিয়েছিল মালদ্বীপ। শেষ পর্যন্ত অবশ্য জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে লাল-সবুজ দল।

শুরুতে একাদশে বড় চমক দেখান কোচ পিটার বাটলার। গত সাফের সর্বোচ্চ গোলদাতা তহুরা খাতুনকে বাইরে রেখে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকাকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলান। যিনি কোচের আস্থার প্রমাণ দেন ১১ সেকেন্ডেই! কিক অফের পর দ্রুততম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। তার পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল বেশ কয়েকবার। কিন্তু লাল-সবুজরা সেসব সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৩৪ মিনিটে স্কোর ২-০ করেছেন উমেলাহ মারমা। যদিও এই অর্ধের শেষ দিকে স্কোর ২-১ এ নামিয়ে আনে মালদ্বীপ। ৪১ মিনিটে গোল করেন মালদ্বীপের মারিয়াম নুরা।

বিরতির পর তো বাংলাদেশ শিবিরে ভয়-ই ধরিয়ে দেয় তারা। আমিনাত ফাজলার গোলে স্কোরে ২-২ সমতা আনে মালদ্বীপ। তাতে ড্রয়ের শঙ্কাও জাগে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তেমন কিছু হতে দেয়নি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ৬৪ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে বাংলাদেশকে আবার এগিয়ে নেন সুরভী আকন্দ প্রীতি। তার পর শেষ দিকে যোগ করা সময়ে ঋতুপর্ণার ফ্রি কিক থেকে কোহাতি হেড করে জাল কাঁপালে স্বস্তির এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

এখন বাংলাদেশ শেষ ম্যাচে গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে রবিবার স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে।

Ads small one

শ্যামনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় দুইজনের কারাদন্ড, বাল্কহেড জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় দুইজনের কারাদন্ড, বাল্কহেড জব্দ

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দুর্গাবাটি মন্দির সংলগ্ন ঝাপারচর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় একটি বাল্কহেড জব্দ করেছে বিজিবি। এ ঘটনায় দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে হাবিলদার জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিজিবি টহল দল স্পিডবোটযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনরত একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, জব্দকৃত বাল্কহেডে আনুমানিক ৫ হাজার ৩০০ ঘনফুট বালু ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬৭ হাজার ২০০ টাকা। পরে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বাল্কহেডটি ব্যাটালিয়ন সদর পল্টন ঘাট সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে আসা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসেন এবং বুড়িগোয়ালিনী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তদন্ত শেষে বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী মামলা নং-৩২/২৬ দায়ের করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্ত বাল্কহেডের চালক মোঃ নজরুল ইসলাম (পিতা: মৃত আফসার আলী, গ্রাম: দরগাহপুর, থানা: আশাশুনি, জেলা: সাতক্ষীরা)-কে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন।

এছাড়া সহকারী মোঃ আক্তারুল জামান (৩০) (পিতা: জিল্লুর গাজী, গ্রাম: রাড়ুলী, থানা: পাইকগাছা, জেলা: খুলনা)-কে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।

এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সাতটি পিভিসি পাইপ অপসারণ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

কার্যক্রম শেষে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে দন্ডপ্রাপ্তদের নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নৌ-পুলিশের কর্মকর্তারা শ্যামনগর থানার উদ্দেশ্যে রওনা হন। জব্দকৃত বাল্কহেডটি বর্তমানে বিজিবির তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত রয়েছে।

স্থানীয়রা সুন্দরবন ও উপকূলীয় নদী-খালে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

নিঃশব্দ বিপ্লবের নাম রক্তদান/ ‎তারিক ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
নিঃশব্দ বিপ্লবের নাম রক্তদান/ ‎তারিক ইসলাম

‎তারিক ইসলাম

‎ডিজিটাল স্ক্রিনে তখন রাত দুটো। ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতেই চোখে পড়ল একটা পরিচিত আর্জি-“জরুরি ভিত্তিতে ও-নেগেটিভ রক্ত প্রয়োজন। স্থান: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যোগাযোগের নম্বর…”। এই একটি পোস্টের পেছনে লুকিয়ে থাকে এক একটি পরিবারের আকুলতা, উৎকণ্ঠা আর বেঁচে থাকার শেষ লড়াই। প্রতি বছর ১৪ জুন ‘বিশ্ব রক্তদাতা দিবস’ যখন আমাদের দরজায় কড়া নাড়ে, তখন এই স্ক্রিনশটগুলোই আমাদের মনে করিয়ে দেয়-বিজ্ঞান যতই মঙ্গল গ্রহে বসতি গড়ার স্বপ্ন দেখুক না কেন, ল্যাবরেটরিতে আজও এক ফোঁটা কৃত্রিম রক্ত তৈরি করা সম্ভব হয়নি। মানুষের জীবনের বিকল্প আজও কেবলই মানুষ।

‎আজকের এই আধুনিক পৃথিবীতে রক্তদান কেবল একটি ‘মানবিক কাজ’ বা ‘ধর্মীয় পুণ্য’ নয়; এটি মূলত একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নাগরিক সচেতনতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

‎আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন অনেক বেশি প্রযুক্তি-নির্ভর। ওপেন হার্ট সার্জারি, জটিল ক্যানসার থেরাপি, অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট কিংবা থ্যালাসেমিয়া ও হিমোফিলিয়ার মতো জেনেটিক রোগের চিকিৎসায় রক্তের চাহিদা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, একটি দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ মানুষ যদি নিয়মিত রক্তদান করেন, তবে সেই দেশের রক্তের মৌলিক চাহিদা মেটানো সম্ভব।

‎উন্নত বিশ্বে যেখানে ‘ভলান্টিয়ার ব্লাড ডোনেশন’ বা স্বেচ্ছায় রক্তদানের হার প্রায় শতভাগ, সেখানে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে এখনো সিংহভাগ রক্ত আসে রোগীর আত্মীয়-স্বজন বা ‘রিপ্লেসমেন্ট ডোনার’-দের কাছ থেকে। এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।

‎আজকের তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তিতে দারুণ পারদর্শী। তারা রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করছে, ফুড ডেলিভারি নিচ্ছে এক ক্লিকে। কিন্তু রক্তের মতো জরুরি প্রয়োজনের সময় এখনো আমাদের ফেসবুক গ্রুপ বা মেসেঞ্জার চ্যাটের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা অনেক সময় সঠিক সময়ে রক্ত প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে না।

‎আমাদের এখন ‘স্মার্ট ডোনেশন’ কালচারের দিকে যেতে হবে। রক্তদানকে একটি সামাজিক ফ্যাশন বা লাইফস্টাইল হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বছরে তিনবার রক্ত দেওয়াকে যদি একজন তরুণ তার ফিটনেস রুটিনের অংশ করে নেয়, তবে ব্লাড ব্যাংকগুলো কখনোই শূন্য থাকবে না।

‎‎আপনি যখন এক ব্যাগ রক্ত দিচ্ছেন, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেটিকে ভেঙে লোহিত কণিকা, প্লাটিলেট এবং প্লাজমা-এই তিনটি উপাদানে ভাগ করা হচ্ছে। অর্থাৎ, আপনার এক ব্যাগ রক্ত আধুনিক চিকিৎসায় তিনজন ভিন্ন রোগীকে নতুন জীবন দিচ্ছে। এর চেয়ে বড় ‘মাল্টিটাস্কিং’ আর কী হতে পারে?

‎অনেকে এখনো ভাবেন রক্ত দিলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। নিয়মিত রক্তদান আসলে শরীরের এক চমৎকার ‘রিসেন্ট বাটন’।

‎নতুন রক্তকণিকা সৃষ্টি: রক্ত দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শরীরের তরল অংশ পূরণ হয়ে যায় এবং দ্রুত নতুন ও সতেজ রক্তকণিকা তৈরি হতে শুরু করে।

‎হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: রক্তে অতিরিক্ত আয়রন জমা হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত রক্তদান শরীরে আয়রনের ভারসাম্য বজায় রাখে, যা কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী।

‎ফ্রি হেলথ চেকআপ: প্রতিবার রক্ত দেওয়ার আগে হেপাটাইটিস বি, সি, এইডসের মতো মারাত্মক রোগের স্ক্রিনিং এবং রক্তচাপ পরীক্ষা করা হয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

‎১৪ জুনের ক্যালেন্ডারে রক্তদাতা দিবস আসে মূলত সেইসব নায়কদের স্যালুট জানাতে, যারা কোনো প্রতিদান ছাড়াই নিজেদের শরীরের তরল সোনা বিলিয়ে দেন অন্যকে বাঁচানোর জন্য। তবে এই দিবসটিকে শুধু সেমিনার আর র‌্যালির ফ্রেমে বন্দি রাখলে চলবে না। রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্লাড ব্যাংকগুলোর আধুনিকায়ন, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে রক্তের উপাদান পৃথকীকরণের প্রযুক্তি পৌঁছানো এবং রক্তদান প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ কাগজহীন ও ডিজিটাল করা এখন সময়ের দাবি।

‎আসুন, এই রক্তদাতা দিবসে আমরা ট্র্যাডিশনাল চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক হই। রক্ত দেওয়া কোনো দয়া বা করুণা নয়, এটি একজন সুস্থ মানুষের সুস্থ থাকার এবং অন্যকে বাঁচিয়ে রাখার আধুনিক নাগরিক দায়িত্ব। আপনার রক্তে সচল থাকুক অন্য কারও লাইফ-সাপোর্ট।

‎লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

 

সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়াজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় সীমান্তে পুশইন বন্ধে বিজিবির কঠোর অবস্থান বজায় রাখা,বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, যানজট নিরসনে বাস থামার স্থান চিহিৃতকরণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারকরণ, সুন্দরবনে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারকরণ, সরকারি খাস জমি উদ্ধার, অনলাইন জুয়া ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের তৎপরতা বন্ধে পুলিশী ব্যবস্থা জোরদারকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো: আশরাফুল আলম, সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, সিভিল সার্জন আব্দুস সালাম, জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, যুগ্ম আহবায়ক ড. মনিরুজ্জামান, জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল, প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।