সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

সাহিত্য ও সমাজ পরিবর্তন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সাহিত্য ও সমাজ পরিবর্তন

রাজিব হাওলাদার

সমাজ কখনও হঠাৎ বদলে যায় না। তার পরিবর্তন ঘটে ধীরে, স্তরে স্তরে, মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও মূল্যবোধের ভেতর দিয়ে। এই দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ায় সাহিত্য একটি নীরব কিন্তু গভীরভাবে কার্যকর শক্তি। সাহিত্য সমাজের আয়না যেমন, তেমনি সে কখনও কখনও সমাজের বিবেকও হয়ে ওঠে। মানুষ যে বাস্তবতায় বাস করে, যে সংকটের মুখোমুখি হয়, যে স্বপ্ন ও হতাশা বহন করে—সাহিত্য সেই অভিজ্ঞতাকে ভাষা দেয়, অর্থ দেয় এবং অনেক সময় দিকনির্দেশও দেয়। তাই সাহিত্য ও সমাজ পরিবর্তনের সম্পর্ক কখনও একমুখী নয়; এটি পারস্পরিক, গতিশীল এবং ঐতিহাসিকভাবে প্রোথিত।
সাহিত্য মূলত মানুষের অভিজ্ঞতার শিল্পরূপ। এই অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগত হলেও তার শিকড় থাকে সামাজিক বাস্তবতায়। একটি গল্পের চরিত্র, একটি কবিতার কণ্ঠস্বর বা একটি উপন্যাসের সংঘাত আসলে সমাজের ভেতরকার টানাপোড়েনের প্রতিফলন। দারিদ্র্য, বৈষম্য, শ্রেণি দ্বন্দ্ব, লিঙ্গ বৈষম্য, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা সাংস্কৃতিক ভাঙন-এসব বিষয় সাহিত্যকে এড়িয়ে যেতে পারে না। ফলে সাহিত্য সমাজকে শুধু বর্ণনা করে না, বরং সমাজের অসঙ্গতি ও বৈপরীত্যকে দৃশ্যমান করে তোলে। অনেক সময় মানুষ যে অন্যায়কে দৈনন্দিন বাস্তবতার অংশ হিসেবে মেনে নেয়, সাহিত্য সেটিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাহিত্যের সবচেয়ে বড় ভূমিকা হলো চেতনা জাগরণ। আইন, অর্থনীতি বা রাজনীতি সরাসরি কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারে, কিন্তু মানুষের মন বদলানো ছাড়া সেই পরিবর্তন টেকসই হয় না। সাহিত্য মানুষের ভাবনার জগতে নাড়া দেয়। একটি উপন্যাস পড়ে পাঠক যখন কোনো নিপীড়িত চরিত্রের কষ্ট অনুভব করে, তখন সেই কষ্ট আর পরিসংখ্যান বা সংবাদে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা ব্যক্তিগত অনুভূতিতে রূপ নেয়। এই সহমর্মিতা থেকেই জন্ম নেয় প্রশ্ন, প্রতিবাদ এবং পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা। ইতিহাসে বহু সামাজিক আন্দোলনের পেছনে সাহিত্যিক চেতনার ভূমিকা এ কারণেই গুরুত্বপূর্ণ।
সাহিত্য আবার সমাজের ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে এক ধরনের সংলাপে লিপ্ত থাকে। ক্ষমতা সব সময় নিজের ভাষ্য তৈরি করতে চায়, আর সাহিত্য প্রায়ই সেই ভাষ্যের বাইরে দাঁড়িয়ে বিকল্প সত্য তুলে ধরে। এই কারণে অনেক সময় সাহিত্য হয়ে ওঠে প্রতিরোধের ভাষা। উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লেখা সাহিত্য, স্বৈরশাসনের সময়কার কবিতা বা নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর বহনকারী গল্প—এসবই প্রমাণ করে যে সাহিত্য নিছক সৌন্দর্যচর্চা নয়, এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানও নিতে পারে। এই অবস্থান সরাসরি স্লোগান না হয়েও গভীরভাবে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
সমাজ পরিবর্তনের আলোচনায় ভাষা ও সাহিত্য ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি চিন্তার কাঠামোও নির্ধারণ করে। সাহিত্য ভাষাকে নতুনভাবে ব্যবহার করে, শব্দকে নতুন অর্থ দেয়, নীরব অভিজ্ঞতাকে উচ্চারণযোগ্য করে তোলে। এর ফলে সমাজের প্রান্তিক মানুষ, যাদের কণ্ঠ সাধারণত শোনা যায় না, সাহিত্যের মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়। গ্রাম, শ্রমজীবী মানুষ, নারী, সংখ্যালঘু বা নিপীড়িত শ্রেণির জীবন যখন সাহিত্যে উঠে আসে, তখন মূলধারার সমাজ নিজের প্রতিচ্ছবি নতুন চোখে দেখতে বাধ্য হয়।
বাংলা সাহিত্যের ধারায় সমাজ পরিবর্তনের এই ভূমিকা স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায়। মধ্যযুগের ধর্মীয় সাহিত্য মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চেতনা গঠনে ভূমিকা রেখেছে। ঔপনিবেশিক যুগে সামাজিক কুসংস্কার, নারী শিক্ষা, জাতিভেদ এবং জাতীয় চেতনা নিয়ে সাহিত্য নতুন প্রশ্ন তুলেছে। পরবর্তী সময়ে কৃষক, শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন সাহিত্যে গুরুত্ব পেয়েছে। এসব রচনা শুধু সময়ের দলিল নয়, বরং সমাজকে নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে সহায়তা করেছে।
তবে সাহিত্য সমাজ পরিবর্তন করে কি সরাসরি, না পরোক্ষভাবে—এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবে সাহিত্য খুব কম ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক পরিবর্তন ঘটায়। তার প্রভাব ধীর, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী। একটি কবিতা হয়তো আজ কোনো আইন বদলাবে না, কিন্তু কয়েক প্রজন্মের চিন্তায় যে বীজ বপন করবে, তা একসময় সমাজের মূল্যবোধকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে। এই কারণেই সাহিত্যকে অনেক সময় ভবিষ্যতের নীরব স্থপতি বলা হয়।
এই বার্তা স্পষ্ট যে, সাহিত্য ও সমাজ পরিবর্তনের সম্পর্ক গভীর, জটিল এবং বহুস্তরীয়। সাহিত্য সমাজের বাস্তবতাকে ধারণ করে, প্রশ্ন তোলে, সহমর্মিতা তৈরি করে এবং মানুষের চিন্তার ভেতরে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের বীজ রোপণ করে।
সমাজ যেমন একরৈখিক নয়, সাহিত্যও তেমন স্থির কোনো শক্তি নয়; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ভাষা, বিষয় ও প্রভাবের ধরন বদলে যায়। অনেক সময় সাহিত্যকে সমাজ পরিবর্তনের অলৌকিক হাতিয়ার হিসেবে কল্পনা করা হয়, যা বাস্তবসম্মত নয়। সাহিত্য সমাজের কাঠামো বদলাতে পারে না একা, পারে না দারিদ্র্য দূর করতে বা ক্ষমতার অসমতা সরাসরি ভেঙে দিতে। তার শক্তি অবস্থান করে মানুষের ভাবনার জগতে। ফলে সাহিত্য তখনই কার্যকর হয়, যখন সমাজে পাঠক আছে, চিন্তাশীল পাঠক আছে, এবং সেই পাঠ সমাজের বৃহত্তর আলোচনার অংশ হয়ে ওঠে। একটি শক্তিশালী উপন্যাস বা কবিতা যদি সীমিত গ-ির মধ্যে আবদ্ধ থাকে, তবে তার সামাজিক প্রভাবও সীমিত হয়। এই বাস্তবতা স্বীকার করাই সাহিত্যের ভূমিকা বোঝার ক্ষেত্রে পরিপক্বতা।
তবু এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সাহিত্যের বিশেষ শক্তি লুকিয়ে আছে। সাহিত্য প্রশ্ন তোলে, কিন্তু উত্তর চাপিয়ে দেয় না। এটি মানুষকে ভাবতে শেখায়, সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করে। সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এই স্বাধীন চিন্তার চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টেকসই পরিবর্তন কখনও ভয় বা চাপ থেকে আসে না, আসে উপলব্ধি থেকে। সাহিত্য পাঠকের মনে সেই উপলব্ধির জায়গা তৈরি করে। একটি গল্প পাঠককে বলে না কী ভাবতে হবে, বরং তাকে এমন এক পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করায়, যেখানে নিজের বিবেক থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
আধুনিক সমাজে সাহিত্যের ভূমিকা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আজকের মানুষ দ্রুতগতির জীবনে অভ্যস্ত, তথ্যের বন্যায় সে প্রতিনিয়ত আক্রান্ত। এই প্রেক্ষাপটে সাহিত্য আর একমাত্র চিন্তার উৎস নয়, বরং অসংখ্য মাধ্যমের একটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও কনটেন্ট, সংবাদ এবং তাৎক্ষণিক মতামত মানুষের মনোযোগকে খ-িত করে দিয়েছে। ফলে সাহিত্যকে এখন আগের মতো দীর্ঘ মনোযোগের দাবি করতে গেলে পাঠক হারানোর ঝুঁকি থাকে। এই বাস্তবতা সাহিত্যকে নতুন রূপ নিতে বাধ্য করেছে।
এই পরিবর্তনের ফলেই সমসাময়িক সাহিত্যে বিষয় ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য বেড়েছে। ছোটগল্প, ফ্ল্যাশ ফিকশন, ব্যক্তিগত গদ্য, ব্লগভিত্তিক লেখা বা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কবিতা—এসবই আজ সাহিত্যের বিস্তৃত পরিসরের অংশ। অনেকে এটিকে সাহিত্যের অবক্ষয় বলে মনে করেন, কিন্তু অন্যভাবে দেখলে এটি সাহিত্যের অভিযোজন ক্ষমতার প্রমাণ। সমাজ বদলালে সাহিত্যও বদলাবে, এটাই স্বাভাবিক। গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই নতুন রূপগুলোও সমাজের প্রশ্ন ও সংকটকে কতটা গভীরভাবে ধারণ করতে পারছে।
প্রযুক্তি সাহিত্যের সামাজিক প্রভাবকে একদিকে যেমন সীমিত করেছে, অন্যদিকে তেমনই বিস্তৃতও করেছে। আগে একটি বই পৌঁছাতে সময় লাগত, পাঠক ছিল নির্দিষ্ট শ্রেণির। এখন একটি লেখা মুহূর্তে হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। প্রান্তিক মানুষের অভিজ্ঞতাও আজ সহজে প্রকাশিত হচ্ছে। এর ফলে সাহিত্যিক কণ্ঠ আরও বহুমুখী হয়েছে। নারী, সংখ্যালঘু, শ্রমজীবী বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন নিয়ে লেখা আগের চেয়ে বেশি দৃশ্যমান। সমাজ পরিবর্তনের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তবে এই সহজপ্রাপ্যতার সঙ্গে একটি ঝুঁকিও যুক্ত। গভীর চিন্তার বদলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার প্রবণতা বেড়েছে। সাহিত্য যখন খুব দ্রুত ভোগ্য পণ্যে পরিণত হয়, তখন তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ক্ষীণ হতে পারে। সমাজ পরিবর্তনের জন্য যে ধীর, গভীর এবং আত্মসমালোচনামূলক চিন্তা দরকার, তা সবসময় এই দ্রুতগতির সাহিত্যে সম্ভব হয় না। তাই সমসাময়িক সাহিত্যের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গভীরতা ও সহজপ্রাপ্যতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।
সমাজ পরিবর্তনের আলোচনায় সাহিত্যের নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্নও আসে। সাহিত্য কি শুধু নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক থাকবে, নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে? এই প্রশ্নের একক উত্তর নেই। কিছু সাহিত্য নীরব থেকে সমাজের জটিলতা তুলে ধরে, কিছু সাহিত্য সরাসরি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে। উভয় ধারারই প্রয়োজন আছে। নিরপেক্ষতা অনেক সময় বাস্তবতার বহুস্তরীয় রূপ দেখায়, আর প্রতিবাদী সাহিত্য মানুষকে নাড়া দেয়। সমাজ পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় এই দুই প্রবণতাই পরস্পরকে সম্পূরকভাবে কাজ করে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকালে দেখা যায়, সাহিত্য ও সমাজ পরিবর্তনের সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে, যদি শিক্ষা ও পাঠচর্চার সঙ্গে সাহিত্যের সংযোগ দৃঢ় হয়। যখন সাহিত্য কেবল পরীক্ষার বিষয় না হয়ে চিন্তার অনুশীলন হয়ে ওঠে, তখনই তার সামাজিক ভূমিকা শক্তিশালী হয়। একটি সমাজ যত বেশি প্রশ্ন করতে শেখে, তত বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। সাহিত্য সেই প্রশ্ন করার সাহস দেয়।
সবশেষে বলা যায়, সাহিত্য সমাজকে বদলে দেয় না একা, কিন্তু সমাজ বদলানোর প্রক্রিয়ায় সে এক অপরিহার্য সঙ্গী। সে আমাদের চোখ খুলে দেয়, অনুভূতিকে শানিত করে এবং নীরবে মনে করিয়ে দেয় যে বর্তমান বাস্তবতাই শেষ কথা নয়। এই বিশ্বাসই সমাজ পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। সাহিত্য সেই বিশ্বাসকে ভাষা দেয়, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করে নিয়ে যায়, এবং মানবসভ্যতার দীর্ঘ যাত্রায় এক নিরবচ্ছিন্ন আলোকবর্তিকা হয়ে থাকে।

Ads small one

লাঙ্গলদাড়িয়ায় মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
লাঙ্গলদাড়িয়ায় মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়নের লাঙ্গলদাড়িয়া মৌজায় ডিডকৃত (চুক্তিভিত্তিক লিজ) ও পৈতৃক সম্পত্তির একটি মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ঘের ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী জানান, তিনি লাঙ্গলদাড়িয়া মৌজায় পৈতৃক ও ডিডকৃত ২১০ বিঘা জমিতে ২০২১ সাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্য চাষ করে আসছেন। ২০২৬ সালে হিসাব অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু অংশ বাদ দিয়ে ১৭৬.৫৭ বিঘা জমি তার পাওনা হয়, যার মধ্যে ১৫৯ বিঘা জমি তিনি বুঝে পেয়ে গত ৬ মাস ধরে ভোগদখল করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই হিসাব চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু গত ১৪ জুন অধ্যাপক সিরাজুল কবির ঘেরের জমি নিজের দাবি করে আকস্মিক দখলের চেষ্টা চালান এবং ১৫ জুন শ্রমিক নিয়ে ঘেরে নামেন।
এই বিষয়ে শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অধ্যাপক সিরাজুল কবিরের জমি আগেই তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইউসুফের ঘেরে তার নতুন কোনো জমি নেই। দখলের চেষ্টা করা হয়ে থাকলে তা অন্যায় হয়েছে।
তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক সিরাজুল কবির জবরদখলের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, এর আগে কোনো সালিস-মিমাংসা হয়নি বা কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি ইউসুফের ঘের দখল করতে যাননি।

কপিলমুনিতে চাচার মামলা ও হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় এতিম ভাই-বোন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে চাচার মামলা ও হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় এতিম ভাই-বোন

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে মায়ের হত্যাকারী ও আপন চাচার করা ‘মিথ্যা’ মামলা ও জীবননাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দুই এতিম ভাই-বোন। সোমবার সকালে কাশিমনগর বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ইটভাটার শিশু শ্রমিক মো. রিফাত গাজী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিফাত গাজী বলেন, ২০২১ সালে তাদের বাবা এনামুল গাজী মারা যান। এরপর ২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তার মা রাশিদা বেগমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় রিফাত বাদী হয়ে চাচা মহিদুল গাজীকে আসামি করে পাইকগাছা থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ সেদিনই মহিদুলকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু গত ২১ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পেয়েই মহিদুল মামলা তুলে নেওয়ার জন্য রিফাত ও তার ছোট বোন তাসমিরা খাতুনসহ (১৪) সাক্ষীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১১ জুন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রিফাত।
রিফাত আরও অভিযোগ করেন, মায়ের হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে চাচা মহিদুল গাজী উল্টো তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। সম্প্রতি তিনি পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিফাতসহ ৭ স্বজনের নাম উল্লেখ করে একটি ‘মিথ্যা’ মামলা (সিআর-৪০৪/২৬) দায়ের করেছেন। মামলায় দাবি করা হয়েছে—তার মা আত্মহত্যা করেছেন এবং রিফাত ও অন্যরা মিলে চাচার ঘরের আসবাবপত্র, স্বর্ণালঙ্কার, পুকুরের মাছ ও কলাসহ প্রায় ৩২ লাখ টাকার মালামাল চুরি ও ক্ষতিসাধন করেছে। রিফাত এই দাবিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে পুলিশ জানায়, রাশিদা বেগম আত্মহত্যা করেছেন। ফলে মামলাটি হত্যা (৩০২ ধারা) থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার (৩০৬ ধারা) অপরাধে রূপ নেয়।
রিফাত গাজীর দাবি, তার বাবার মৃত্যুর পর থেকে চাচা মহিদুল তার মাকে নানাভাবে যৌন হয়রানি ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিস হলেও মহিদুল উপস্থিত হননি। ঘটনার রাতে তার মাকে বাইরে ডেকে নেওয়া হয়েছিল এবং ঘরের বাইরে থেকে শিকল আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরদিন সকালে লিচু গাছ থেকে মায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও সুরতহাল রিপোর্টে শরীরের নানা অসঙ্গতি ছিল। তাই মায়ের মৃত্যুর সঠিক রহস্য উদঘাটনে পুনরায় ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই এতিম তরুণ।

 

 

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

oppo_0

একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় নাগরিকরা নিয়মিত কর পরিশোধ করবেন, আর বিনিময়ে পাবেন ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাÑএটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকার চিত্র দেখলে মনে হয়, সেখানকার বাসিন্দারা যেন কোনো পরিত্যক্ত জনপদে বসবাস করছেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যকাটিয়ার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে কার্যত একটি উন্মুক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কাদা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ড্রেনের উপচে পড়া কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। একই চিত্র সাতক্ষীরা তুফান কোম্পানীর মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়টির। এ সড়কটির কোথাও আস্ত নেই।
একটি সভ্য সমাজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সড়ক যদি এমন নরককু-ে পরিণত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকছে। রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো এই নোংরা পানির নিচে লুকিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; এই জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। এলাকার মানুষ ঘরের দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছেন না দুর্গন্ধের কারণে। অথচ নাগরিকরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করে যাচ্ছেন। ট্যাক্স দিয়েও কেন মানুষকে এমন আদিম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বাস করতে হবেÑএই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে আরও কতটা ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে, তা সহজেই অনুমেয়।
পৌরসভার পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই “বিষয়টি অবগত আছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু মুখের আশ্বাস বা আশ্বাসের চাদরে দুর্ভোগ ঢেকে রাখার সময় আর নেই। মধ্যকাটিয়াবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান।
আমরা সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—অবিলম্বে মধ্যকাটিয়া এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা পৌরসভার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আশা করি, কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাঠে নামবেন এবং মধ্যকাটিয়াবাসীকে এই দুঃসহ নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।