সুন্দরবনে স্মার্ট টহল দলের অভিযানে ৬ নৌকাসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ
সংবাদদাতা: নারীর অধিকার সুরক্ষা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নারীর আদালত’।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৫নং শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে স্বদেশ সংস্থার বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর সহযোগিতায়, সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (জিএসি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর সহায়তায় পরিচালিত ‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফসি)’ প্রোগ্রামের ‘এখনই যুক্ত হোন এখনই যুক্ত হোন’ প্রকল্পের অধীনে এই ব্যতিক্রমি আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় নারী, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, অভিযোগ, অধিকারবঞ্চনা এবং নিজস্ব মতামত ও পরামর্শ সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পান।
আয়োজকরা বলেন, নারীরা যাতে নির্ভয়ে নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ প্রকাশ করতে পারেন এবং দ্রুত আইনি বা সামাজিক প্রতিকার পেতে পারেন, সেই ক্ষেত্র তৈরিতে কাজ করছে ‘নারীর আদালত’। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা, সমতা স্থাপন এবং মানবাধিকারের চর্চা আরও বেগবান হবে।
কর্মসূচিতে জেলা লিগ্যাল এইডসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবার তথ্য এবং সরকারি টোল-ফ্রি নম্বরসমূহ প্রচার করা হয়। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি আইনি সহায়তা ও পরামর্শের জন্য স্বদেশের হটলাইন নম্বর (০১৩৩৯৬২৬৮৮৪)-এ যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়।
স্বদেশ সাতক্ষীরার নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ এবং তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা এবং সাতক্ষীরা সদর থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের এসআই (নিরস্ত্র) মমতাজ খাতুনসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন স্বদেশ সংস্থার পিও আজহারুল ইসলাম ও প্যারালিগাল শরিফুল ইসলাম।
সংবাদদাতা: বাঙালির মজ্জায় ও মননে সাম্য, দ্রোহ আর প্রেমের যে অবিনাশী সুর বেজে ওঠে, তা কবি নজরুল ইসলামের চিরঞ্জীব সৃষ্টি। সেই দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক প্রাণবন্ত সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সুর, বাণী আর মননশীল আলোচনার মধ্য দিয়ে মুখরিত হয়ে উঠেছিল কলেজের পুরো প্রাঙ্গণ। মননশীল উৎসবের মূল মঞ্চ আলোকিত করেছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ ।
নজরুল চেতনার আলোয় সমৃদ্ধ হয়ে অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসু দেব বসু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনার দীপ্তি ছড়িয়েছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মো. শাহিনুর রহমান। কবি নজরুলের সাহিত্য-দর্শনের ওপর গভীর আলোকপাত করে সেমিনারের মূল প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান প্রফেসর মো. শফিকুর রহমান।
শ্রোতাদের মুগ্ধতায় ভাসিয়ে এবং অত্যন্ত সুনিপুণ ও সাবলীল বাচনভঙ্গিতে সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রোকনুজ্জামান।
সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ইংরেজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর শ্যামাপ্রসাদ ঘোষ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরিফুল আলম এবং সদস্য প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোঃ আমিরুল ইসলাম। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানগণ, শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত গুণীজনদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
প্রধান অতিথি ও সভাপতির মূল্যবান বক্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নজরুলের সাম্যবাদী ভাবধারা এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদানের কথা নতুন করে সবার হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়।
প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): ডোরাকাটা মাল্টা হলো থাইল্যান্ডের একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং চমৎকার লেবুজাতীয় ফল। যা মূলত ভেরিগেটেড মাল্টা বা রঙিন মাল্টা নামে পরিচিত। এর বাহ্যিক রূপ এবং চমৎকার স্বাদের কারণে এটি বর্তমানে সৌখিন বাগানীদের ছাদবাগান এবং বাণিজ্যিক চাষে ব্যাপক সাড়া ফেলছে।
ডোরাকাটা মালটা হলো মালটার একটি আকর্ষণীয় ও নতুন জাত। এর কাঁচা অবস্থায় গায়ে সবুজ ও সাদার ডোরাকাটা দাগ থাকে এবং পাকা অবস্থায় হলুদ ও হালকা হলুদ ডোরা দেখা যায়। এর পাতা ও ফল উভয়ই দেখতে খুব সুন্দর হওয়ায় এটি শৌখিন ও ছাদবাগানে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ডোরাকাটা মাল্টা ফলের ত্বকে সবুজ এবং হলুদের চমৎকার ডোরাকাটা বা জেব্রা প্রিন্টের মতো দাগ থাকে। শুধু ফলই নয়, এই গাছের পাতাও সাধারণ মাল্টা গাছের মতো পুরো সবুজ হয় না, পাতাতেও সাদা-সবুজ বা হলুদ-সবুজের মিশ্রণ (ভেরিগেটেড) থাকে। এটি অত্যন্ত রসালো এবং মিষ্টি স্বাদের হয়ে থাকে। গাছটিতে ঝোপালো অবস্থায় প্রচুর পরিমাণে ফল ধরে।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হিতামপুর গ্রামে অবস্থিত রজনীগন্ধা নার্সারীর মালিক সুকনাথ পাল জানান, তার নার্সারীতে ডোরাকাটা মাল্টা, বারোমাসি আম, আমড়া, থাই পেয়ারা, জাম্বুরা, দার্জিলিং কমলা, মিষ্টি জলপাই, মিয়াজাকি আম, ব্যানানা ম্যাংগো, আপেল কুল, ছবেদা, কাঁঠাল, থাই ডালিম, ত্বিন, লাল পেয়ারা, কামরাঙা, মালবেরিসহ কয়েক ডজন দেশ-বিদেশি ফলের চাষ হচ্ছে।
ডোরাকাটা মাল্টা ড্রাম বা টবে ঘরের ছাদবাগানে যেমন সহজে চাষ করা যায়, তেমনি জমিতেও এর বাণিজ্যিক ফলন সম্ভব। চাষাবাদের সুবিধাএই জাতটি ছাদের সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা মেটাতে দারুণ ভূমিকা রাখে। সাধারণ মাল্টা গাছের মতোই এর পরিচর্যা করতে হয় এবং অল্প দিনের মধ্যেই গাছ থেকে ফল পাওয়া শুরু হয়।
থাইল্যান্ডের জাতটি দেখতে খুবই আকর্ষণীয় এবং ফলনও অনেক বেশি। বাজারে আমদানি করা সাধারণ মাল্টার চেয়ে ডোরাকাটা মাল্টা পাঁচ থেকে ছয় গুণ বড় হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাল্টাটির ওজন এক কেজি ছাড়িয়ে যায়। সুস্বাদু ফলটি এ দেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা শুরু হয়েছে।
ছাদবাগানের জন্য হাফ ড্রাম বা বড় টবে এই গাছ খুব সহজে চাষ করা যায়। কলমের চারা হওয়ায় রোপণের প্রথম বছরের মধ্যেই গাছে ফুল ও ফল চলে আসে। গাছে ফল না থাকলেও এর সুন্দর পাতার ভ্যারিয়েশনের কারণে এটি ছাদবাগান বা বাড়ির আঙিনার সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।