বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

সুন্দরবন প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা, কর্মহীন উপকূলের হাজারো জেলে-বাওয়ালি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা, কর্মহীন উপকূলের হাজারো জেলে-বাওয়ালি

এম এ হালিম উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মাছের প্রজনন মৌসুমকে নিরাপদ রাখতে পহেলা জুন থেকে আগামী তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে সুন্দরবন নির্ভর উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী, গাবুরা, কৈখালী, মুন্সিগঞ্জসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ মানুষ সুন্দরবনের মৎস্য আহরণ, কাঁকড়া সংগ্রহ, মধু আহরণ ও বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছরের মতো এবারও বন বিভাগ তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করায় তাদের আয়-রোজগারের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় জেলে জামাল মোল্লা বলেন, “সারা বছর আমরা সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরে সংসার চালাই। তিন মাস বন বন্ধ থাকায় আমাদের কোনো আয় নেই। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হবে। সরকার যদি কোনো সহায়তা দিত তাহলে কিছুটা উপকার হতো।”

জেলে সাত্তার গাজী বলেন, “আমরা দিন আনি দিন খাই। সুন্দরবন বন্ধ থাকলে ঘরে বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই। বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”

আরেক জেলে আব্দুল হাকিম বলেন, “বনের ওপর নির্ভর করেই আমাদের জীবন-জীবিকা। নিষেধাজ্ঞা মেনে আমরা বনে যাব না, তবে এই সময়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার নিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, বন সংরক্ষণের স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন হলেও এ সময়ে জেলে ও বনজীবীদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তা, ভিজিএফ কর্মসূচি ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আর বৃদ্ধি করা জরুরি।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মাছ, কাঁকড়া ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিন মাসের জন্য বন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় কোনো ব্যক্তি বা নৌযান সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপকূলবাসীর প্রত্যাশা, সুন্দরবন রক্ষার পাশাপাশি বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।