রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সুন্দরবন বন্ধ, নাকি খোলা? বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন বন্ধ, নাকি খোলা? বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সরকার ঘোষিত তিন মাসের প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে সব ধরনের মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য বনজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে সেই নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কাগজে-কলমে বন বন্ধ থাকলেও সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে অসংখ্য মাছ ও কাঁকড়া আহরণকারী নৌকার বিচরণ দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে বন বিভাগের তদারকি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের পুষ্পকাটি, দোবেকি, লটাবেকিসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিগণে জেলেদের নৌকা প্রবেশ করছে। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে সমঝোতা করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব নৌকাকে বনে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এরপর তারা অবাধে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে বাজারজাত করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে ও বাওয়ালি জানান, বন বন্ধ থাকলে সাধারণত বনে মানুষের আনাগোনা কমে যায়। সে সময় যারা প্রবেশ করতে পারেন, তারা তুলনামূলক অনেক বেশি মাছ ও কাঁকড়া পান। একজন জেলে বলেন, “বন বন্ধের সময় মাছ ও কাঁকড়ার উৎপাদন বেশি থাকে। তাই যারা যেতে পারি, তারা ভালো আয় করি। কিন্তু সবাই তো যেতে পারে না।”

অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অবৈধভাবে বন ব্যবহার করছে। এতে সরকারের রাজস্ব যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

এদিকে সম্প্রতি সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বনদস্যুদের তৎপরতাও বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবন বন্ধ রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো মাছ, কাঁকড়াসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং বনজ সম্পদ সংরক্ষণ করা। কিন্তু যদি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হয়, তাহলে সরকারের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, বন বন্ধের সময় নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ যদি নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ দিতে পারেন, তবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল বক্তব্যে নয়, বাস্তবেও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ, মাছ ও কাঁকড়া আহরণ এবং এ কাজে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে বন তিন মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই ও প্রমাণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করতে পারে।

Ads small one

দুস্থদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দুস্থদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা ও জীবিকায় সাহায্যার্থে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ।
রোববার (২৭ জুলাই) বিকেল ৫টায় তালা উপজেলার মির্জাপুর বাজারে কাদের বক্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে নগদ টাকা ও ছাগল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. আলাউদ্দিন মল্লিকের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, “ধনী মানুষের সম্পদের ভেতরে আল্লাহ তাআলা গরিবের হক রেখে দিয়েছেন। আজকের সমাজে যদি জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকত, তাহলে কোনো গরিব খুঁজে পাওয়া যেত না। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে ১০ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষকে ১টি করে ছাগল এবং ১ জনকে চায়ের দোকান দেওয়ার জন্য নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। ছাগলপ্রাপ্তরা হলেন বারাত গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ ও মোসাঃ সাজেদা বেগম, কুমিরার ফাতেমা বেগম, মদনপুরের আছিয়া বেগম, ভাগবা গ্রামের শিরিনা বেগম, সেনপুরের মফিজুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ, নোয়াকাটির নিসার আলী এবং জামাল উদ্দিন। এছাড়া চায়ের দোকান করার জন্য হাজরাপাড়ার কামরুল ইসলামকে নগদ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. মাহমুদুল হক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী, ভিডিএফের জেলা সভাপতি ডা. আফতাব উদ্দীন, তালা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিদুল্লাহ, সেক্রেটারি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাজমুল হক খান, কুমিরা ইউনিয়ন আমীর মাস্টার বকুল, সেক্রেটারি মাওলানা তরিকুল ইসলাম, মাস্টার মাওলানা মোশাররফ হোসেন, ছাত্রনেতা জুবায়ের, সমাজসেবক আল মামুন, ডা. আবু হোসেন ও মতিউর রহমান।

 

সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি থেকে একযোগে ৮ নেতার পদত্যাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি থেকে একযোগে ৮ নেতার পদত্যাগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির বর্তমান ১৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি প্রত্যাখান করে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ৮ জন শীর্ষ নেতা। পদত্যাগকারীরা হলেন কার্যকরী সভাপতি শেখ সাঈদ আহমেদ রঞ্জু, সহ-সভাপতি মো. জিয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুজ্জামান বাবলু, এবং কার্যকরী সদস্য যথাক্রমে আব্দুল মোমেন খান চৌধুরী (সান্টু), মো. আবু হাসান, মো. নুরুজ্জামান জামু, শেখ শাহাজাহান আলী ও মো. দেলোয়ার হোসেন সুজন।
রবিবার (২৬ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পদত্যাগপত্রটি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরবোর ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে।
পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, গত ২৯ নভেম্বর সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১৯ সদস্যের কমিটি অনুমোদিত হলেও পরবর্তীতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের সুবিধাজনক ব্যক্তিদের নিয়ে ৯ সদস্যের একটি পৃথক কমিটি গঠন করে খুলনা শ্রম অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন করিয়ে আনেন। বিষয়টি নিয়ে বারবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো সমাধান করা হয়নি। এছাড়া অনুমোদিত কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তার নিজস্ব কোনো ট্রাক নেই বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসব অসাংগঠনিক কর্মকা-ের প্রতিবাদেই তারা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে কুশপুত্তলিকা দাহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে কুশপুত্তলিকা দাহ

পত্রদূত রিপোর্ট: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে আন্দোলন অব্যাহত আছে। সংসদ সদস্য পদ থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো শ্যামনগরে রোববার বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বেলা ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বাবলাতলা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এ সময় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঠিকাদার মো. শামসুদ্দোহা। বক্তব্য দেন রবিউল ইসলাম, আবদুস সালাম, মফিজুল ইসলাম, মো. রাসেল প্রমুখ।
মফিজুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের নৈতিক প্রত্যাশা ও সংসদ সদস্যের পদমর্যাদার কথা বিবেচনায় নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
অন্য বক্তরা বলেন, শ্যামনগরের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, গাজী নজরুল ইসলামকে ইতিমধ্যে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে শ্যামনগর অচল কর্মসূচির পাশাপাশি জেলার সব উপজেলায় একযোগে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। তবে পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে নানা বিতর্ক ও নির্বাচনী এলাকায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলার মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ জরুরি সভায় বসে গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।