বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

সুফিয়া কামাল: মানবতা, সৌন্দর্য ও নারী জাগরণের চিরন্তন কণ্ঠস্বর,,

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
সুফিয়া কামাল: মানবতা, সৌন্দর্য ও নারী জাগরণের চিরন্তন কণ্ঠস্বর,,

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
আজ ২০ জুন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক প্রথিতযশা কবি, মানবতাবাদী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণের অগ্রদূত সুফিয়া কামালের জন্মদিন। ১৯১১ সালের এই দিনে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সৈয়দ আব্দুল বারী এবং মাতা সাবেরা খাতুন। রক্ষণশীল পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তাঁর খুব সীমিত ছিল, কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি, মেধা ও আত্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে।
শৈশব থেকেই সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ ছিল। তিনি নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার সংস্পর্শে এসে নারীর শিক্ষা, আত্মমর্যাদা ও সমাজ পরিবর্তনের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু অল্প বয়সেই। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা ছিল ‘বাসন্তী’। পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁঝের মায়া’, যা বাংলা সাহিত্যে তাঁর একটি শক্তিশালী আবির্ভাবের ঘোষণা দেয়।
‘সাঁঝের মায়া’ কাব্যগ্রন্থের মুখবন্ধ লেখেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি সুফিয়া কামালের কবিতার অনুভব ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন-“সাঁঝের মায়ার কবিতাগুলি সাঁঝের মায়ার মতোই যেমন বিষাদঘন, তেমনি রঙিন—গোধূলির রঙের মতো রঙিন। এ সন্ধ্যা কৃষ্ণা-তিথির সন্ধ্যা নয়, শুক্লা চতুর্দশীর সন্ধ্যা। প্রতিভার পূর্ণচন্দ্র আবির্ভাবের জন্য বুঝি এমনি বেদনাপুঞ্জিত অন্ধকারের, বিষাদের প্রয়োজন আছে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও সুফিয়া কামালের কবিতা পড়ে তাঁর প্রতিভার প্রশংসা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁর লেখনীতে সুফিয়া কামালের কবিত্বশক্তি, ভাষার সৌন্দর্য ও অনুভূতির আন্তরিকতার স্বীকৃতি দেন। রবীন্দ্রনাথের মতো বিশ্বকবির এই স্বীকৃতি সুফিয়া কামালের সাহিত্যজীবনে ছিল এক অনন্য সম্মান এবং অনুপ্রেরণার উৎস।
সুফিয়া কামালের কবিতার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর সহজ-সরল ভাষা, গভীর মানবিকতা এবং হৃদয়স্পর্শী অনুভূতি। তিনি জটিল শব্দচয়নের মাধ্যমে নয়, মানুষের হৃদয়ের কথা মানুষের ভাষায় প্রকাশ করে পাঠকের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। তাঁর কবিতায় বাংলার প্রকৃতির রূপ, নদী, পাখি, ফুল, ঋতুচক্র যেমন জীবন্ত হয়ে উঠেছে, তেমনি উঠে এসেছে মানুষের দুঃখ, বেদনা, ভালোবাসা, সংগ্রাম এবং স্বপ্ন।
তিনি শুধু কবিতার জগতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না; সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা সংকটময় সময়ে তিনি ছিলেন একজন সাহসী কণ্ঠস্বর। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। দীর্ঘদিন তিনি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নারীর অধিকার, শিক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নিরলস সংগ্রাম করেছেন।
সাহিত্যে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘সাঁঝের মায়া’, ‘মায়া কাজল’, ‘মন ও জীবন’, ‘উদাত্ত পৃথিবী’ এবং স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘একাত্তরের ডায়েরি’। সাহিত্য ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পুরস্কারসহ অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হন।
১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর এই মহীয়সী নারী পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু তাঁর আদর্শের মৃত্যু নয়। তাঁর কবিতা, মানবপ্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং নারী মুক্তির সংগ্রাম আজও আমাদের পথ দেখায়।
সুফিয়া কামাল ছিলেন এমন এক আলোকবর্তিকা, যিনি কলমকে ব্যবহার করেছেন সৌন্দর্যের জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য এবং সমাজের অন্ধকার দূর করার জন্য। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন তাঁর কবিতা ও তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে প্রেরণার আলো জ্বালিয়ে রাখবে।
“সাঝের মায়া”
অনন্ত সূর্যাস্ত-অন্তে আজিকার সূর্যাস্তের কালে
সুন্দর দক্ষিণ হস্তে পশ্চিমের দিকপ্রান্ত-ভালে
দক্ষিণা দানিয়া গেল, বিচিত্র রঙের তুলি তারথ
বুঝি আজি দিনশেষে নিঃশেষে সে করিয়া উজাড়
দানের আনন্দ গেল শেষ করি মহাসমারোহে।
সুমধুর মোহে
ধীরে ধীরে ধীরে
প্রদীপ্ত ভাস্কর এসে বেলাশেষে দিবসের তীরে
ডুবিল যে শান্ত মহিমায়,
তাহারি সে অন্তরাগে বসন্তের সন্ধ্যাকাশ ছায়।
ওগো ক্লান্ত দিবাকর! তব অন্ত-উৎসবের রাগে
হেথা মর্তে বনানীর পল্লবে পল্লবে দোলা লাগে।
শেষ রশ্মিকরে তব বিদায়ের ব্যথিত চুম্বন
পাঠায়েছ। তরুশিরে বিচিত্র বর্ণের আলিম্পন
করিয়াছে উন্মন অধীর
মৌনা, বাক্যহীনা, মূক বক্ষখানি স্তব্ধ বিটপীর।
তারো চেয়ে বিড়ম্বিতা হেথা এক বন্দিনীর আঁখি
উদাস সন্ধ্যায় আজি অস্তাচল-পথপরি রাখি
ফিরাইয়া আনিতে না পারে
দূর হতে শুধু বারে বারে
একান্ত এ মিনতি জানায়:
কখনও ডাকিয়ো তারে তোমার এ শেষের সভায়!
সাঙ্গ হলে সব কর্ম, কোলাহল হলে অবসান,
দীপ-নাহি-জ্বালা গৃহে এমনি সন্ধ্যায় যেন তোমার
আহ্বান

Ads small one

আশাশুনিতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের প্রস্তুতি সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এই সভা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) আশাশুনির যৌথ আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (আরডিও) আবুল কালাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাশ, খাদ্য নিয়ন্ত্রক সঞ্জয় কুমার রায়, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা পলাশ কান্তি রায়, বিআরডিবি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
সভায় আগামী ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, সমবায়ীদের পুরস্কার বিতরণ এবং সুফলভোগী সদস্যদের মাঝে গাছের চারা বিতরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দেবহাটায় পুওর ওয়েলফেয়ার ফোরামের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পুওর ওয়েলফেয়ার ফোরামের প্রস্তুতি সভা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটায় ‘পুওর ওয়েলফেয়ার ফোরাম’ (পফ)-এর নতুন কমিটি গঠন উপলক্ষে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার উপজেলার কামটাস্থ সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে এই সভা হয়।
সংগঠনের সাবেক সভাপতি সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম। সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহছান হাবীবের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেন, বেসরকারি সংস্থা ‘আইডিয়াল’-এর নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম, সাবেক কোষাধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান প্রমুখ। উল্লেখ্য, এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি স্থানীয় এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে।

তালায় নগরঘাটা-মাছখোলা সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
তালায় নগরঘাটা-মাছখোলা সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন

তালা প্রতিনিধি: তালা উপজেলার নগরঘাটা আসননগর মোড় থেকে হরিণখোলা হয়ে মাছখোলা রোড পর্যন্ত নতুন রাস্তা নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার গোয়ালপাতা মন্দির প্রাঙ্গণে এই কাজের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তিনি বলেন, এই এলাকার মূল সমস্যা জলাবদ্ধতা। রাস্তাঘাট, মসজিদ ও মন্দিরের উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাটকেলঘাটা থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম, তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।