মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

সুফিয়া কামাল: মানবতা, সৌন্দর্য ও নারী জাগরণের চিরন্তন কণ্ঠস্বর,,

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
সুফিয়া কামাল: মানবতা, সৌন্দর্য ও নারী জাগরণের চিরন্তন কণ্ঠস্বর,,

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
আজ ২০ জুন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক প্রথিতযশা কবি, মানবতাবাদী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণের অগ্রদূত সুফিয়া কামালের জন্মদিন। ১৯১১ সালের এই দিনে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সৈয়দ আব্দুল বারী এবং মাতা সাবেরা খাতুন। রক্ষণশীল পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তাঁর খুব সীমিত ছিল, কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি, মেধা ও আত্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে।
শৈশব থেকেই সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ ছিল। তিনি নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার সংস্পর্শে এসে নারীর শিক্ষা, আত্মমর্যাদা ও সমাজ পরিবর্তনের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু অল্প বয়সেই। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা ছিল ‘বাসন্তী’। পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁঝের মায়া’, যা বাংলা সাহিত্যে তাঁর একটি শক্তিশালী আবির্ভাবের ঘোষণা দেয়।
‘সাঁঝের মায়া’ কাব্যগ্রন্থের মুখবন্ধ লেখেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি সুফিয়া কামালের কবিতার অনুভব ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন-“সাঁঝের মায়ার কবিতাগুলি সাঁঝের মায়ার মতোই যেমন বিষাদঘন, তেমনি রঙিন—গোধূলির রঙের মতো রঙিন। এ সন্ধ্যা কৃষ্ণা-তিথির সন্ধ্যা নয়, শুক্লা চতুর্দশীর সন্ধ্যা। প্রতিভার পূর্ণচন্দ্র আবির্ভাবের জন্য বুঝি এমনি বেদনাপুঞ্জিত অন্ধকারের, বিষাদের প্রয়োজন আছে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও সুফিয়া কামালের কবিতা পড়ে তাঁর প্রতিভার প্রশংসা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁর লেখনীতে সুফিয়া কামালের কবিত্বশক্তি, ভাষার সৌন্দর্য ও অনুভূতির আন্তরিকতার স্বীকৃতি দেন। রবীন্দ্রনাথের মতো বিশ্বকবির এই স্বীকৃতি সুফিয়া কামালের সাহিত্যজীবনে ছিল এক অনন্য সম্মান এবং অনুপ্রেরণার উৎস।
সুফিয়া কামালের কবিতার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর সহজ-সরল ভাষা, গভীর মানবিকতা এবং হৃদয়স্পর্শী অনুভূতি। তিনি জটিল শব্দচয়নের মাধ্যমে নয়, মানুষের হৃদয়ের কথা মানুষের ভাষায় প্রকাশ করে পাঠকের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। তাঁর কবিতায় বাংলার প্রকৃতির রূপ, নদী, পাখি, ফুল, ঋতুচক্র যেমন জীবন্ত হয়ে উঠেছে, তেমনি উঠে এসেছে মানুষের দুঃখ, বেদনা, ভালোবাসা, সংগ্রাম এবং স্বপ্ন।
তিনি শুধু কবিতার জগতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না; সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা সংকটময় সময়ে তিনি ছিলেন একজন সাহসী কণ্ঠস্বর। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। দীর্ঘদিন তিনি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নারীর অধিকার, শিক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নিরলস সংগ্রাম করেছেন।
সাহিত্যে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘সাঁঝের মায়া’, ‘মায়া কাজল’, ‘মন ও জীবন’, ‘উদাত্ত পৃথিবী’ এবং স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘একাত্তরের ডায়েরি’। সাহিত্য ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পুরস্কারসহ অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হন।
১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর এই মহীয়সী নারী পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু তাঁর আদর্শের মৃত্যু নয়। তাঁর কবিতা, মানবপ্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং নারী মুক্তির সংগ্রাম আজও আমাদের পথ দেখায়।
সুফিয়া কামাল ছিলেন এমন এক আলোকবর্তিকা, যিনি কলমকে ব্যবহার করেছেন সৌন্দর্যের জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য এবং সমাজের অন্ধকার দূর করার জন্য। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন তাঁর কবিতা ও তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে প্রেরণার আলো জ্বালিয়ে রাখবে।
“সাঝের মায়া”
অনন্ত সূর্যাস্ত-অন্তে আজিকার সূর্যাস্তের কালে
সুন্দর দক্ষিণ হস্তে পশ্চিমের দিকপ্রান্ত-ভালে
দক্ষিণা দানিয়া গেল, বিচিত্র রঙের তুলি তারথ
বুঝি আজি দিনশেষে নিঃশেষে সে করিয়া উজাড়
দানের আনন্দ গেল শেষ করি মহাসমারোহে।
সুমধুর মোহে
ধীরে ধীরে ধীরে
প্রদীপ্ত ভাস্কর এসে বেলাশেষে দিবসের তীরে
ডুবিল যে শান্ত মহিমায়,
তাহারি সে অন্তরাগে বসন্তের সন্ধ্যাকাশ ছায়।
ওগো ক্লান্ত দিবাকর! তব অন্ত-উৎসবের রাগে
হেথা মর্তে বনানীর পল্লবে পল্লবে দোলা লাগে।
শেষ রশ্মিকরে তব বিদায়ের ব্যথিত চুম্বন
পাঠায়েছ। তরুশিরে বিচিত্র বর্ণের আলিম্পন
করিয়াছে উন্মন অধীর
মৌনা, বাক্যহীনা, মূক বক্ষখানি স্তব্ধ বিটপীর।
তারো চেয়ে বিড়ম্বিতা হেথা এক বন্দিনীর আঁখি
উদাস সন্ধ্যায় আজি অস্তাচল-পথপরি রাখি
ফিরাইয়া আনিতে না পারে
দূর হতে শুধু বারে বারে
একান্ত এ মিনতি জানায়:
কখনও ডাকিয়ো তারে তোমার এ শেষের সভায়!
সাঙ্গ হলে সব কর্ম, কোলাহল হলে অবসান,
দীপ-নাহি-জ্বালা গৃহে এমনি সন্ধ্যায় যেন তোমার
আহ্বান

Ads small one

দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

মাসুদ রানা

নদী, প্রকৃতি, ইতিহাস আর সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা দক্ষিণ-পশ্চিমের ঐতিহ্যবাহী জেলা সাতক্ষীরা। আর এই জেলার শিক্ষার আলো ছড়াতে যে প্রতিষ্ঠানটি গত আট দশক ধরে বাতিঘর হিসেবে কাজ করছে, তা হলো সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ। ‘জ্ঞানী শক্তি’-এই মহৎ বাণীকে বুকে ধারণ করে ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই বিদ্যাপীঠটি আজ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও জাতীয়করণ:সাতক্ষীরা জেলার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৪৬ সালে এই কলেজের যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন শিক্ষানুরাগীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই বিদ্যাপীঠটি পরবর্তীতে ১ মার্চ ১৯৮০ সালে জাতীয়করণ করা হয়। জেলা শহরের রাজারবাগান এলাকায় অবস্থিত ৩০ একরের বিশাল এই ক্যাম্পাসটি সাতক্ষীরার শিক্ষার ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

চোখ জুড়ানো সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস: ৩০ একরের এই বিশাল ক্যাম্পাসে পা রাখলেই মন জুড়িয়ে যায়। কলেজের মূল ফটক বা প্রবেশদ্বার রয়েছে দুটি। প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই ডান পাশে চোখে পড়বে এক বিশাল আকৃতির শিশু গাছ, যা মূল ভবনের সামনের বিস্তৃত খালি জায়গাকে সবসময় মায়াবী ছায়ায় আবৃত করে রাখে। এছাড়া পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে রয়েছে অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছপালা।

ক্যাম্পাসের ভেতরে রয়েছে: মনোরম লেক ও মিঠা পানির পুকুর,যা ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শহীদ মিনার: কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ের ঠিক সামনেই বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনারটি অবস্থিত।
আরসিসি ঢালাই রাস্তা: কলেজের মসজিদের পাশ এবং বিজ্ঞান ভবনের সামনে দিয়ে একটি দীর্ঘ ও আঁকাবাঁকা আরসিসি ঢালাই রাস্তা চলে গেছে সরাসরি ছাত্রী হোস্টেলের সামনে।

অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শুধুমাত্র পড়াশোনাতেই নয়, শিক্ষার্থীদের আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ। ছাত্রদের আবাসিক হোস্টেল ২টি, ছাত্রীদের আবাসিক হোস্টেল ১টি, লাইব্রেরী ও ১টি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ, বিস্তৃত ও উন্মুক্ত মাঠ, সুপরিসর সাইকেল ও মোটরসাইকেল শেড।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে কলেজ অনুমোদিত ডিজিটাল আইডি কার্ড প্রদান করা হয়।

শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী সংখ্যা: বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৫,০০০ (পনের হাজার) শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন। উচ্চশিক্ষার বিস্তারে এখানে রয়েছে, অনার্স (স্নাতক) কোর্স ১৬টি বিষয়ে,মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) কোর্স ১৫টি বিষয়ে
সহ-শিক্ষা কার্যক্রম ও সংস্কৃতি চর্চা: লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে কলেজটিতে নিয়মিত সহ-শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং রোভার স্কাউট-এর সক্রিয় ইউনিট।

এছাড়াও প্রতি বছর ক্যাম্পাসে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ’ বা বাংলা নববর্ষ বরণ
যুগের পর যুগ ধরে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ এই অঞ্চলের মেধা ও মননশীলতা গঠনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। জ্ঞানালোক ছড়ানোর পাশাপাশি একটি আদর্শ ও আধুনিক ক্যাম্পাস হিসেবে এই কলেজটি সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের গর্বের প্রতীক হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

 

 

 

ইছামতির বাঁকে বাঁকে: জল ও জীবনের লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
ইছামতির বাঁকে বাঁকে: জল ও জীবনের লড়াই

দীপঙ্কর বিশ্বাস

নদীমাতৃক বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক চিরচেনা ও ঐতিহাসিক নদী ইছামতি। এই নদীকে ঘিরেই যুগ যুগ ধরে গড়ে উঠেছে কতশত জনপদ, সভ্যতার বিকাশ আর হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা। বিশেষ করে ইছামতির দুই পাড়ে বসবাসকারী মৎস্যজীবীদের কাছে এই নদী কেবলই একটি জলধারা নয়; এটি তাদের অন্নদাতা, তাদের সুখ-দুঃখের পরম সঙ্গী। কিন্তু সময়ের আবর্তে আজ কেমন আছে ইছামতির সেই মৎস্যজীবীরা? তাদের জীবন-জীবিকার হালচালই বা কী?

ভোর হওয়ার আগেই যখন চারপাশ কুয়াশায় বা মৃদু অন্ধকারে ঢাকা থাকে, তখনই ইছামতির বুকে শোনা যায় বৈঠার শব্দ। ছৈওয়ালা নৌকায় বসে জাল গোছাতে গোছাতে মৎস্যজীবীরা জপতে থাকেন এক অজানা প্রার্থনা-আজ যেন নদীর বুক থেকে কিছু রূপালি ফসল ঘরে তোলা যায়।

বংশপরম্পরায় এই পেশায় টিকে থাকা জলদাস বা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবন ইছামতির জোয়ার-ভাটার মতোই চঞ্চল। খেপলা জাল, কারেন্ট জাল কিংবা ঝাঁকি জাল ছুঁড়ে দিয়ে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। মাছ বলতে কখনো চিংড়ি, আবার কখনো বেলে, ট্যাংরা বা পারশে। এই মাছ বিক্রি করেই চলে তাদের সংসারের চাল-ডাল কেনা, সন্তানের স্কুলের খরচ আর বুড়ো মা-বাবার ওষুধের টাকা।

সংকটের চোরাবালি: বিপন্ন ইছামতি, বিপন্ন জীবন
সোনালী অতীতের গল্প এখন রূপকথা মনে হয়। বর্তমান সময়ে ইছামতির মৎস্যজীবীরা নানামুখী সংকটের মুখোমুখি। সাংবাদিক হিসেবে মাঠপর্যায়ে তাকালে কয়েকটি বড় ধাক্কা স্পষ্ট চোখে পড়ে,

১. নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে আগের মতো গভীরতা নেই, ২.কমে গেছে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র। ৩. কৃষিজমিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত কীটনাশক ধুয়ে এসে পড়ছে ইছামতিতে। ফলে মাছের মড়ক এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। ৪. ইছামতির একটি বড় অংশ বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা নির্ধারণ করে। সীমানা জটিলতা ও কড়া নজরদারির কারণে মৎস্যজীবীরা অনেক সময় স্বাধীনভাবে মাছ ধরতে পারেন না। অনিচ্ছাকৃত সীমান্ত লঙ্ঘনের ভয়ে আতঙ্কে কাটে তাদের দিন।

যখন নিষেধাজ্ঞার মেঘ নামে
মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে সরকারিভাবে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ইলিশের প্রজনন মৌসুম বা জাটকা রক্ষার এই উদ্যোগ পরিবেশের জন্য দারুণ হলেও, বিকল্প কর্মসংস্থানহীন মৎস্যজীবীদের পেটে তখন চড়া চাবুক পড়ে। সরকারের দেওয়া চালের বরাদ্দ অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল কিংবা পৌঁছাতে দেরি হয়। ফলে দাদন ব্যবসায়ী বা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হন তারা। এই ঋণের জাল থেকে তারা আর সহজে বের হতে পারেন না।
“নদী আমাদের মা। মা কি কখনো সন্তানকে না খেয়ে মারে? নদী ঠিকই মাছ দিত, কিন্তু মানুষই তো নদীটারে মেরে ফেলল।” -একজন প্রবীণ মৎস্যজীবীর আক্ষেপ।

বাঁচিয়ে রাখার দায় আমাদেরই
ইছামতি নদী এবং এর ওপর নির্ভরশীল মৎস্যজীবীদের জীবন বাঁচাতে হলে এখনই সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

১. শিল্পবর্জ্য নদীতে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

২. মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে মৎস্যজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত ও সঠিক সময়ে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিকল্প আয়ের (যেমন- হাঁস-মুরগি পালন, কুটির শিল্প) প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।

৩. মহাজদের কবল থেকে বাঁচাতে সরকারি ব্যাংক বা সমবায় সমিতির মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের স্বল্প সুদে বা সুদহীন ঋণের ব্যবস্থা করা উচিত।

ইছামতি নদী শুধু এক ফালি জলরেখা নয়, এটি হাজার হাজার মৎস্যজীবী পরিবারের ধমনী। এই ধমনী শুকিয়ে গেলে কিংবা দূষিত হলে থমকে যাবে একটি আস্ত জনপদের জীবনস্পন্দন। ইছামতির রূপালি মাছ আর মৎস্যজীবীদের মুখের অমলিন হাসি টিকিয়ে রাখতে হলে নদীকে ভালোবাসতে হবে, নদীকে বাঁচাতে হবে। কারণ, ইছামতি বাঁচলে, বাঁচবে মৎস্যজীবী; আর মৎস্যজীবী বাঁচলে টিকে থাকবে আমাদের চিরন্তন বাংলার রূপ।

 

 

পাটকেলঘাটায় জামিয়া আরাবিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া মাদ্রাসার নতুন উপদেষ্টা ও কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় জামিয়া আরাবিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া মাদ্রাসার নতুন উপদেষ্টা ও কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া আরাবিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া মাদ্রাসার ২০২৬ সালের জন্য নতুন উপদেষ্টা মন্ডলী ও কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নবগঠিত কমিটিতে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সেক্রেটারি হয়েছেন মাদ্রাসার মুহতামিম আলহাজ্ব মুফতি মনিরুল হক। সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ব্যবসায়ী আলহাজ্ব সালাউদ্দীন এবং সহ-সেক্রেটারি হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন আলহাজ্ব আওলাদ হোসেন। শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা মোশাররফ হুসাইন।

সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলহাজ্ব আকবর হোসেন, আলহাজ্ব মীর আসাদুজ্জামান, আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান সরদার, আসাদুজ্জামান আসাদ এবং মো. বাবলুর রহমান।

চার সদস্যের উপদেষ্টা মন্ডলীতে রয়েছেন আলহাজ্ব আব্দুল আলীম মাহমুদ (মদনপুর), আলহাজ্ব আব্দুল কালাম বাবলা (সাতক্ষীরা), আলহাজ্ব আবুল ইফতেখার (ঈমান গ্লাস স্টোর, সাতক্ষীরা) এবং আলহাজ্ব মীর শাহিন হোসেন (পাটকেলঘাটা)।
এছাড়া কমিটিতে সিনিয়র সদস্য হিসেবে আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, মুশফিকুল আলম বিশ্বাস, শেখ অহিলুর রহমান, আলহাজ্ব রেজাউল ইসলাম (বাবু), আলহাজ্ব শেখ মাহমুদুল ইসলাম, আলহাজ্ব নাজিম উদ্দীন, মকবুল হোসেন এবং মাস্টার আব্দুর রব পলাশ-সহ মোট ১৪ জন স্থান পেয়েছেন। সাধারণ সদস্য হিসেবে আলহাজ্ব লুৎফর রহমান, প্রিন্সিপাল রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক আব্দুল মোমিন ও ডা. মামুনুর রশিদ-সহ মোট ২৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবনির্বাচিত সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, “পাটকেলঘাটার জামিয়া আরাবিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া মাদ্রাসা সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম প্রাচীন ও স্বনামধন্য দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন কওমিয়া মাদ্রাসাসহ নানা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। নবগঠিত কমিটি মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়ন এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবে বলে আমি আশাবাদী।” প্রেসবিজ্ঞপ্তি