রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হজযাত্রীরা আজ মক্কা থেকে মিনায় যাত্রা করবেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
হজযাত্রীরা আজ মক্কা থেকে মিনায় যাত্রা করবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পবিত্র হজ পালনের জন্য প্রস্তুত বিশ্বের হজযাত্রীরা। গোটা মক্কা নগরী এখন হজযাত্রীমুখর। আজ রোববার থেকেই শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিকতা। এদিন পবিত্র মক্কা থেকে হজের নিয়তে এহরাম বেঁধে তাঁবুর নগরী মিনার উদ্দেশে রওনা দেবেন লাখ লাখ হজযাত্রী। আগামীকাল সোমবার (৮ জিলহজ) সেখানে নির্ধারিত তাঁবুতে অবস্থান নিয়ে ইবাদত-বন্দেগি করবেন সবাই। পর্যায়ক্রমে ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতাসহ ১২ জিলহজ পর্যন্ত হজের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন তারা।

সূত্রমতে, সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে এবারের হজ অনুষ্ঠানের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি সরকার। অভ্যন্তরীণ ছাড়াও বাংলাদেশসহ বিশ্ব থেকে ১৫ লক্ষাধিক হজযাত্রী ইতোমধ্যে দেশটিতে পৌঁছেছেন।

এদিকে এবার পবিত্র হজ পালনের জন্য ৭৯ হাজার ১৬৪ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯২৬ জন হজ পালন করবেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বুলেটিন সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়ে এ পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন পুরুষ ও সাতজন মহিলা। মক্কায় ১৫ জন ও মদিনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার হজযাত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (৬১) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

মক্কায় অবস্থানরত ‘কাজী হজ কাফেলার’ পরিচালক কাজী রফিকুল ইসলাম গতকাল শনিবার আমার দেশকে বলেন, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করার জন্য আমরা সবাই প্রস্তুত হয়ে আছি। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে বাসযোগে হজ যাত্রীরা মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে মিনার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে সোমবার অবস্থান করবেন সবাই। ওইদিন রাত থেকেই আবার পবিত্র আরাফাত ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন হজযাত্রীরা। মঙ্গলবার ৯ জিলহজ সেখানে অবস্থান ও হজের খুতবা শোনার মধ্য দিয়ে মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। তবে পরবর্তী সময়ে ১২ জিলহজ পর্যন্ত মুজদালিফায় রাতযাপন, মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, কোরবানি, তাওয়াফে জিয়ারতসহ অন্যান্য কার্যক্রম আদায় করবেন সবাই।

তিনি আরো জানান, প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ার কারণে সবাইকে খুব সাবধানে চলাফেরা করতে হচ্ছে। তাছাড়া এখন পর্যন্ত হজযাত্রীদের তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। সৌদি গেজেট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে সৌদি আরবের জননিরাপত্তা পরিচালক এবং হজ নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আল-বাসামি জানিয়েছেন, হজের ধর্মীয় উদ্দেশের পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপের জন্য তারা হজ মৌসুমকে অপব্যবহার করতে দেবে না। ভুয়া হজ যাত্রীদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ঘোষণার পাশাপাশি হজ মৌসুমে দায়িত্ব পালনে হজ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণ প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

আল-বাসামি প্রকাশ করেন যে, কর্তৃপক্ষ দেশব্যাপী ২১৭টিরও বেশি ভুয়া হজ অভিযান নস্যাৎ করেছে এবং বাসস্থান, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারী সাত হাজার ৭৩৩ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে, যারা অবৈধভাবে মক্কায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। কর্তৃপক্ষ মক্কার প্রবেশপথগুলোতে তিন লাখ ৬৬ হাজার অননুমোদিত ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে দেয়নি এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহনে ব্যবহৃত হাজার হাজার অননুমোদিত যানবাহন আটক করেছে।

তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের সূচকগুলো গত বছরের তুলনায় নিয়ম পালনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখিয়েছে, যার মধ্যে লঙ্ঘনকারী ও নির্বাসিতের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ, ভুয়া হজ প্রচারণা ১২ শতাংশ এবং বাসস্থান ও সীমান্ত বিধি সংক্রান্ত লঙ্ঘন ৩৩ শতাংশ হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। দেশটির পাসপোর্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ড. সালেহ আল-মুরব্বা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত বিদেশ থেকে ১৫ লাখ ১৮ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী পৌঁছেছেন, যার মধ্যে ১৪ লাখ ৫৭ হাজারেরও বেশি বিমানবন্দর দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন।

এদিকে আরব নিউজ সূত্রে জানা গেছে, হজ মৌসুমে মক্কায় তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মদিনায় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত আর্দ্রতা এবং খোলা জায়গায় ধুলি উড়ানো বাতাসের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময় পানিশূন্যতা এড়াতে হজযাত্রী ও ভ্রমণকারীদের প্রচুর পরিমাণে তরল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র হজের খুতবা বাংলায় অনুবাদ করবেন চার বাংলাদেশি

এদিকে পবিত্র হজের খুতবা চলতি বছরও বাংলাসহ বিশ্বের ৫০টি ভাষায় অনুবাদ ও সম্প্রচার করা হবে। এর মাধ্যমে টানা সপ্তমবারের মতো বাংলা ভাষায় হজের খুতবা শুনতে পারবেন বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানরা। সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর তত্ত্বাবধানকারী জেনারেল প্রেসিডেন্সির অধীনে পরিচালিত এ কার্যক্রমে এবার বাংলা অনুবাদ দলের দায়িত্ব পালন করবেন চার বাংলাদেশি। তারা হলেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক এবং নাজমুস সাকিব।

জানা গেছে, অনুবাদ কার্যক্রমে যুক্ত চারজনই মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। বাংলা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান। তিনি জানান, আরাফাতের ময়দান থেকে প্রচারিত হজের খুতবা বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হবে। অনুবাদ কার্যক্রমে পুরো দল অংশ নিলেও উপস্থাপনায় সাধারণত দুজন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এর আগে একাধিকবার হজের খুতবার বাংলা অনুবাদ উপস্থাপনা করেছেন।

Ads small one

১ লাখ ২০ হাজার টাকার স্বপ্ন, আজ ২০ শ্রমিকের ভরসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
১ লাখ ২০ হাজার টাকার স্বপ্ন, আজ ২০ শ্রমিকের ভরসা

ঈদের অর্ডারে ব্যস্ত সাতক্ষীরার ‘রাকিব সুজ’

মিলন বিশ্বাস: শিল্প-কারখানায় পিছিয়ে থাকা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরায় সীমিত পুঁজিতে গড়ে ওঠা একটি ছোট জুতা কারখানা এখন হয়ে উঠেছে কর্মসংস্থান ও সম্ভাবনার নতুন প্রতীক। শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসা পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত “রাকিব সুজ” নামের এই কারখানাটি বর্তমানে প্রায় ২০ জন শ্রমিকের জীবিকার উৎস। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এখন দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কারখানার শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষ।

২০২২ সালে মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পুঁজি এবং কয়েকজন নতুন কারিগর নিয়ে উদ্যোক্তা হাফিজুর রহমান শুরু করেন এই উদ্যোগ। শুরুতে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও ধীরে ধীরে স্থানীয় বাজারে জায়গা করে নেয় তাদের তৈরি জুতা। বর্তমানে কারখানাটিতে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ ধরনের জুতা তৈরি হচ্ছে। অটোকাটিং মেশিনের ব্যবহার এবং দক্ষ নারী শ্রমিকদের নিপুণ হাতে প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জোড়া জুতা।

শিশু থেকে শুরু করে নারী-পুরুষের বিভিন্ন বয়স উপযোগী জুতা তৈরি হচ্ছে এখানে। পাইকারি বাজারে প্রতি জোড়া জুতা ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে এসব জুতা।

কারখানার নারী শ্রমিক বিলকিস পারভিন বলেন, “আমি এখানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। নিয়মিত বেতন পাই, তাই সংসার ভালোভাবে চালাতে পারছি। বাড়ির পাশেই কাজ হওয়ায় এলাকার অনেক নারী এখন স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।”

আরেক নারী শ্রমিক সেলিনা খাতুন বলেন, “ঈদের আগে কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। তবে এই কারখানার আয়ে আমার সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসার ভালোভাবেই চলছে।”
ক্রেতারাও স্থানীয়ভাবে তৈরি জুতার মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। কয়েকজন ক্রেতা জানান, “রাকিব সুজের জুতার ডিজাইন ও কোয়ালিটি অনেক ভালো। দামও তুলনামূলক কম। তাই পরিবারের সবাই এখন স্থানীয় এই জুতাই ব্যবহার করছে।”

কারখানার ম্যানেজার সোহারব হোসেন বলেন, “ঈদ সামনে থাকায় অর্ডারের চাপ অনেক বেড়েছে। শ্রমিকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন। আমরা ভালো মান বজায় রেখে জুতা তৈরি করছি। কোনো সমস্যা হলে গ্রাহকদের তাৎক্ষণিক রিটার্ন সুবিধাও দিচ্ছি।”

কারখানার মালিক হাফিজুর রহমান বলেন, “শুরুটা খুব কঠিন ছিল। প্রথম দুই বছর অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। কারিগরদের কাজ শিখিয়ে নিতে হয়েছে। এখন আল্লাহর রহমতে চাহিদা বেড়েছে। ভবিষ্যতে কারখানাটি আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আরও মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা যায়।”

তিনি আরও বলেন, “সাতক্ষীরায় জুতা শিল্প নিয়ে তেমন কোনো প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নেই। যদি সরকারি বা বেসরকারিভাবে প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতো, তাহলে আমরা আরও উন্নত মানের জুতা তৈরি করে বিদেশেও রপ্তানি করতে পারতাম।”

এ বিষয়ে বিসিক সাতক্ষীরার উপব্যবস্থাপক গৌরব দাস বলেন, “রাকিব সুজ দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত জুতা তৈরি করছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে বিসিক বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে। এ ধরনের উদ্যোগ জেলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

শিল্পায়নে পিছিয়ে থাকা সাতক্ষীরায় সীমিত পুঁজিতে গড়ে ওঠা এমন উদ্যোগগুলোই বদলে দিতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্র। “রাকিব সুজ” এখন শুধু একটি কারখানার নাম নয়, বরং বহু মানুষের স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস ও জীবিকার প্রতীক।

 

 

 

 

 

শিশু রামিছা ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
শিশু রামিছা ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা পরিষদের সামনে শিশু রামিছা ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমতা ফোরাম (সিএসও হাব, সাতক্ষীরা) ও ভূমিজ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ও একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় রবিবার (২৪ মে) সকাল ১০টায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য দেন ভূমিজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী প্রধান অচিন্ত্য সাহা। তিনি স্মারকলিপির বিভিন্ন দাবি ও বিষয়বস্তু পাঠ করে শোনান।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সমতা ফোরাম (সিএসও হাব) সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সম্পাদক ফারুক হোসেন জোয়াদ্দার, আমরা বন্ধু ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের প্রধান নাহিদ ইসলাম, তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র মজুমদার, সম্পাদক জুলফিকার রায়হান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন জোয়াদ্দার, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান, উত্তরণের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি রেজাউল করিম, অন্ত্যজ পরিষদের সভাপতি সরস্বতী দাস ও এক শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বক্তারা শিশু রামিছা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ভবিষ্যতে দেশে এ ধরনের ঘটনা আর দেখতে না চাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেয় আমরা বন্ধু ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, তালা নাগরিক কমিটি, বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ, অন্ত্যজ পরিষদ, তালা প্রেসক্লাব, তালা রিপোর্টার্স ক্লাব, গণগ্রন্থাগার তালা, রূপালীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ।

কর্মসূচি শেষে সাংবাদিক, সমতা ফোরাম ও ভূমিজ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

 

 

 

খাল খননের নামে কৃষিজমি নষ্টের অভিযোগে শ্যামনগরে কৃষকদের বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
খাল খননের নামে কৃষিজমি নষ্টের অভিযোগে শ্যামনগরে কৃষকদের বিক্ষোভ

DCIM100MEDIADJI_0274.JPG

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ধানখালী এলাকায় খাল খননের নামে কৃষিজমি নষ্টের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। রবিবার সকালে ধানখালী খননকৃত খাল ও কৃষিজমিতে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে খাল খনন বন্ধ, প্রকল্পের নকশা প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কৃষক নেতা জমির আলী বলেন, উপকূলের লবণাক্ত অঞ্চলে চাষাবাদ করেই কোনো রকমে পরিবার চালাতে হয়। অথচ খাল খননের নামে তাদের শেষ সম্বল আবাদি জমি কেটে নষ্ট করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ১০ ফুটের খাল কাটতে গিয়ে নষ্ট করা হচ্ছে ৪০ ফুটের কৃষি জমি।

ভূপতি ঘোষ বলেন, কাজ শুরুর আগে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি। মুল ঠিকাদার কোনদিন সংশ্লিষ্ট এলাকাতে আসেনই নি। যারা এসেছেন তাদের কাছে এলাকার মানুষ বারবার নকশা ও স্টিমেট দেখতে চাইলেও সংশ্লিষ্টরা তা দেখাতে রাজি হননি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
মজিদ সরদার অভিযোগ করে বলেন, গরিব কৃষকদের জমির ওপর যত অনাচার চালানো হচ্ছে, অথচ প্রভাবশালীদের জমি অক্ষত রাখা হয়েছে। তিনি এই বৈষম্যের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

রবিউল পাড় বলেন, বারবার ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ত পানির আঘাতে এলাকার অধিকাংশ জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। ধানখালীর কিছু উর্বর জমিই ছিল কৃষকদের ভরসা। সেই জমিও যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে কৃষকরা চরম সংকটে পড়বেন।

সেলিনা পারভিন বলেন, যে ক্ষতি কৃষকদের করা হয়েছে তার ক্ষতিপুরণ অবশ্যই দিতে হবে।
এনামুল গায়েন বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে খাল কাটার কারণে ফসলি জমির পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। দ্রুত কাজ বন্ধ করে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

এসময় উপস্থিত মাধব দত্ত বলেন, খাল খননের নামে কৃষিজমি ধ্বংসের এই অনিয়ম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। প্রকল্পের মূল নকশা, স্টিমেট ও ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ পরিচালনার দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করেন। এদিকে এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনকের সাথে ফোনে যোগায়োগ করা হলে তিনি বলেন, এব্যাপারে তিনি অবগত নন। বিএডিসির সাথে কথা বলতে বলেন তিনি।