রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু

কমছেই না হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু। আজও ৮ শিশু মারা গেছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম রোগের লক্ষণ নিয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হামের লক্ষণে মারা গেছেন ২১৬ জন।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘন্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪১২, যা গতকাল ছিল ১ হাজার ৫৮ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২১৬, যা গতকাল ছিল ২২৯ জন।

এদিকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে সন্দেহজনক হামে ভর্তি হয়েছে ২১ হাজার ৪৩৪ জন, যা গতকাল ছিল ২০ হাজার ৩৭৫ জন। আর সব মিলিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১৭ হাজার ৯৫৫ জন, যা গতকাল ছিল ১৭ হাজার ৯১ জন।

 

 

Ads small one

কলারোয়ায় ফসলি জমির মাটি বিক্রির মহোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ফসলি জমির মাটি বিক্রির মহোৎসব

oppo_0

সংবাদদাতা: কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির ধুম পড়েছে। পুকুর বা ঘের খননের নামে অবৈধ ভেকু মেশিন দিয়ে দিনরাত কাটা হচ্ছে তিন ফসলি জমির মাটি। এসব মাটি ড্রামট্রাক ও ট্রাক্টরে করে চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমি কমছে, অন্যদিকে ধুলাবালি ও কাদায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকির অভাবে ‘মাটিখেকো’ চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে এই অবৈধ কারবার চালিয়ে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
সরেজমিনে কেরালকাতা ইউনিয়নের নাকিলা উত্তরপাড়া ও বহুড়া দক্ষিণপাড়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অন্তত তিনটি স্থানে বড় বড় গর্ত করে মাটি কাটা হচ্ছে। ৮ থেকে ১২ ফুট গভীর করে মাটি তোলায় পাশের জমিগুলোও এখন ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, যশোরের শার্শা উপজেলার বেলতলা এলাকার নূর ইসলাম, নাকিলা গ্রামের কিতাব আলী ও পুটুনি গ্রামের রাশেদসহ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
মাটি বহনের কাজে ব্যবহৃত অবৈধ ট্রাক্টরের কারণে গ্রামের কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলোর কঙ্কালসার অবস্থা। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব রাস্তা কাদায় সয়লাব হয়ে যায়, যার ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কারণে রাস্তায় চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন কৃষক বলেন, আইন থাকলেও তার কোনো প্রয়োগ নেই। চোখের সামনে তিন ফসলি জমিগুলো পুকুর হয়ে যাচ্ছে। জমির উর্বর শক্তি নষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে এলাকায় খাদ্যঘাটতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরিফুল ইসলাম বলেন, “ফসলি জমি নষ্ট করে বা ঘের খননের নামে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এই চক্রের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শ্যামনগরে অসহায় হত-দরিদ্রদের মাঝে জাতীয় নাগরিক পার্টির বস্ত্র বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে অসহায় হত-দরিদ্রদের মাঝে জাতীয় নাগরিক পার্টির বস্ত্র বিতরণ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা’র শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নে ১০০জন হত দরিদ্রদের মাঝে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) ৬নং শংকরকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর আয়োজনে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্র শক্তির উদ্যোগে শ্যামনগর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য ও বস্ত্র বিতরণ করেন সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক মোঃ কামরুজ্জামান (বুলু)।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব মো. নাজমুল ইসলাম, সদস্য শেখ আব্দুল্লাহ, জেলা শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক আল ইমরান, সদস্য সচিব আব্দুস সবুর, জেলা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক হাসিবুল হাসান রুমন, সদস্য সচিব বক্তিয়ার হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব আবু সুফিয়ান।
আরও বক্তব্য রাখেন, শ্যামনগর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব মো. ফারুক হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক মেহেদী হাসান, কাশিমাড়ি ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মো. আব্দুল জব্বার পিয়াদা প্রমুখ।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব জিএম মোখলেছুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক সহ উপজেলা এনসিপি ও ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, সাতক্ষীরা জেলা ছাত্র শক্তির মুখ্য সংগঠক মুজাহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি ইনসাফের দল। এদল সবসময় দেশের কল্যাণ কাজ করার জন্য সৃষ্টি হয়েছে। তাই দেশের স্বার্থে কোন আন্দোলন হলে সকলকে এনসিপি পাশে থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেওয়ার জন্য আহবান করেন।

আশাশুনিতে ১০ হাজার বিঘা ধানের জমিতে লোনাপানি, বিপাকে কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ১০ হাজার বিঘা ধানের জমিতে লোনাপানি, বিপাকে কৃষক

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে রাতের আঁধারে স্লুইসগেটের কপাট তুলে প্রায় ১০ হাজার বিঘা ধানের জমিতে লোনাপানি ঢুকিয়ে দিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। এতে কপোতাক্ষ নদের লোনা পানিতে খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের অন্তত আটটি গ্রামের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ধান চাষের পাশাপাশি এলাকায় ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কালকি স্লুইসগেটের কপাট তুলে দেওয়ায় লোনাপানি ঢুকে খাজরা ইউনিয়নের গজুয়াকাটি, রাউতাড়া, গোয়ালডাঙ্গা, পিরোজপুর, খালিয়া, ফটিকখালী এবং বড়দল ইউনিয়নের দক্ষিণ বাইনতলা ও পাঁচ পোতা গ্রামের হাজার হাজার বিঘা জমি এখন পানির নিচে। অনেক জমির পাকা ধান এখনও কাটা শেষ হয়নি।
গজুয়াকাটি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক শিবপ্রসাদ ম-ল বলেন, “দিন ১৫ আগে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা গেট তুলে দেয়। এতে প্রায় ৭০০ বিঘা জমির ধান ও পুকুর লোনা পানিতে ভরে গেছে। মারা যাচ্ছে গাছপালাও।” কৃষক সতীশ চন্দ্র বৈদ্য জানান, লোনা পানির কারণে এলাকায় গো-খাদ্য ও রান্নার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র চেউটিয়া খালের ওপর নির্মিত কালভার্টের কপাটও খুলে দিয়েছে। এর ফলে আরও কয়েক হাজার বিঘা জমি নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। গত তিন বছর এসব এলাকায় কোনো ফসল না হলেও এবার ভালো ফলনের আশা করেছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু লোনাপানির কারণে বোরো ধানের পাশাপাশি আসন্ন আউশ মৌসুমও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
খাজরা ইউনিয়ন নদী-খাল সুরক্ষা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব হাবিবুর রহমান বলেন, খালের মাছ ধরার জন্য একটি কুচক্রী মহল এ কাজ করছে। স্লুইসগেটটি সংস্কারের পর কোনো তদারকি কমিটি না থাকায় দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, বড়দল গ্রামের একটি প্রভাবশালী চক্র স্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে গেটের কপাট তুলে নদী ও খালে মাছ ধরছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় স্থানীয়রা ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কু-ু বলেন, “আমি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, লোনাপানি প্রবেশ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।