বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

হেমলকের নিমন্ত্রণ ও মুক্তচিন্তার চিরন্তন সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
হেমলকের নিমন্ত্রণ ও মুক্তচিন্তার চিরন্তন সংকট

‎তারিক ইসলাম

‎ইতিহাসের এক অদ্ভুত স্বভাব আছে। সে কখনো নিজেকে হুবহু পুনরাবৃত্তি করে, আবার কখনো দূর অতীতের আয়নায় আমাদের বর্তমানকে নগ্নভাবে ফুটিয়ে তোলে। বর্তমান সময়ের কথাসাহিত্যিক ও কূটনীতিক সুজন দেবনাথের ‘হেমলকের নিমন্ত্রণ’ উপন্যাসটি পড়তে পড়তে ঠিক এই অনুভূতিটাই বারবার চড়া দিয়ে ওঠে। বইটি আপাতদৃষ্টিতে আড়াই হাজার বছর আগের প্রাচীন গ্রিসের ক্লাসিক্যাল যুগ, বিশেষ করে এথেন্সের জ্ঞান-বিজ্ঞানের জন্মলগ্নের এক মহাকাব্যিক আখ্যান। কিন্তু এর পাতাগুলো যত উল্টানো যায়, ততই মনে হয়-লেখক আসলে সুদূর অতীতের গল্প বলতে গিয়ে আমাদের চেনা এই একুশ শতকের (কিংবা বলা ভালো যেকোনো শতকের) সমাজটাকেই ব্যবচ্ছেদ করছেন।

‎আজকের আধুনিক সভ্যতার যে কয়টি শক্তিশালী স্তম্ভ-দর্শন, বিজ্ঞান, ইতিহাস, থিয়েটার, চিকিৎসাশাস্ত্র এবং সবচেয়ে বড় কথা ‘গণতন্ত্র’-তার আঁতুড়ঘর ছিল এথেন্স। সক্রেটিস, প্লেটো, হিপোক্রাটিস, হেরোডোটাস কিংবা সফোক্লিসের মতো মহাপ্রতিভাধর মানুষেরা কোনো অলৌকিক ক্ষমতাবলে এগুলো রাতারাতি তৈরি করেননি। বইটিতে লেখক দেখিয়েছেন, এটি ছিল একদল রক্ত-মাংসের মানুষের অদ্ভুত, মধুর ও জেদি এক পাগলামি। তারা সমাজকে অন্ধত্ব থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন, প্রশ্ন করতে শিখিয়েছিলেন।

‎কিন্তু এই বইয়ের আসল দর্শন লুকিয়ে আছে এর নামকরণে-‘হেমলকের নিমন্ত্রণ’। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সমাজকে যারা যখনই নতুন আলো দেখাতে চেয়েছেন, প্রচলিত কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের দেয়ালে আঘাত করেছেন, তাদেরই কোনো না কোনোভাবে এক পেয়ালা বিষ কিংবা চরম দন্ড উপহার দেওয়া হয়েছে। সক্রেটিসকে হেমলক পানে বাধ্য করা হয়েছিল, কারণ তিনি যুবসমাজকে ‘নষ্ট’ করছিলেন-শাসকগোষ্ঠীর চোখে এই ‘নষ্ট’ করার অর্থ ছিল আসলে যুবসমাজকে প্রশ্ন করতে শেখানো, চারপাশের অন্যায় ও অযৌক্তিকতাকে চ্যালেঞ্জ করতে শেখানো।

‎প্রশ্ন হলো, আড়াই হাজার বছর আগের এথেন্সের সেই সংকট কি আজ একুশ শতকে এসে ফুরিয়ে গেছে? আমরা কি আজ এক মুক্ত, পরমতসহিষ্ণু ও যুক্তিবাদী সমাজে বাস করছি? উত্তরটা বোধহয় খুব একটা ইতিবাচক নয়।

‎বর্তমান বৈশ্বিক ও জাতীয় বাস্তবতার দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, মুক্তচিন্তা ও সত্য প্রকাশের পথ আজও কতটা কণ্টকাকীর্ণ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এই যুগে দাঁড়িয়েও মানুষ প্রতিনিয়ত গুজব, উগ্রতা, আর অন্ধত্বের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে যেখানে তথ্যের অবাধ প্রবাহ থাকার কথা, সেখানে আমরা দেখছি ভিন্নমতের প্রতি চরম অসহিষ্ণুতা ও ডিজিটাল মব ট্রায়ালের সংস্কৃতি। সমাজ বা ব্যবস্থার ভুলত্রুটি নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে, কিংবা সত্যের পক্ষে বুক চিতিয়ে দাঁড়ালে আজও তাকে কোনো না কোনোভাবে অদৃশ্য ‘হেমলকের পেয়ালা’র মুখোমুখি হতে হয়-তা কখনো সামাজিক বয়কট, কখনো আইনি জটিলতা, আবার কখনো বা প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক নিগ্রহের মাধ্যমে।

‎উপন্যাসের এক জায়গায় দেখা যায়, প্লেটো শরীরহীন এক পবিত্র ‘প্লেটোনিক প্রেম’ খুঁজছেন, অন্যদিকে সক্রেটিস সাধারণ মানুষের মনে যুক্তির বীজ বুনে দিচ্ছেন। আজ আমাদের সমাজেও এমন একদল মানুষের বড় প্রয়োজন, যারা স্্েরাতের বিপরীতে হেঁটে সমাজকে সত্যের পথ দেখাবেন। যারা পরিবেশ বিপর্যয়, জলবায়ু সংকট, নৈতিক অবক্ষয় আর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখাবেন। গণতন্ত্রের যে প্রাথমিক রূপটি এথেন্সে গড়ে উঠেছিল, তা-ও কিন্তু নিষ্কণ্টক ছিল না। সেখানেও ছিল ক্ষমতার দম্ভ আর চাটুকারিতার খেলা। আজকের পৃথিবীতেও আমরা যখন তথাকথিত ‘গণতন্ত্র’ বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে একধরনের ছদ্ম-স্বৈরাচারী মানসিকতা চারপাশ জুড়ে দেখি, তখন ‘হেমলকের নিমন্ত্রণ’ আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়।

‎সুজন দেবনাথের এই বইটি কেবল ইতিহাসের রস আসাদনের জন্য নয়। এটি মূলত একটি মৃদু চপেটাঘাত, যা আমাদের ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে তোলে। এটি মনে করিয়ে দেয় যে, অন্ধত্ব আর কূপমন্ডূকতা দূর করতে হলে সমাজকে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন করতে হবে। আর সেই সত্যের পথে চলতে গিয়ে যদি কখনো ‘হেমলকের নিমন্ত্রণ’ আসে, তবে সেই বিষপাত্রকে অমৃত মনে করে গ্রহণ করার মতো moral courage বা নৈতিক সাহসও সমাজকে অর্জন করতে হবে। তবেই একটা সভ্যতা বেঁচে থাকে, তবেই জন্ম নেয় নতুন কোনো রেনেসাঁস।

লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

সাতক্ষীরায় সামান্য বৃষ্টিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা, বিপাকে শিশু শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সামান্য বৃষ্টিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা, বিপাকে শিশু শিক্ষার্থীরা

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে বিভিন্নস্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা এই জলাবদ্ধতায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। মাঠে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্যান্ট গুটিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় বই-খাতাসহ স্কুলব্যাগ পানিতে ভিজে যাচ্ছে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার দক্ষিণ দেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সূত্রে জানাগেছে, বিদ্যালয়ের মাঠটি নিচু হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে চারপাশে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। চলতি বছরও একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের টয়লেটে যাওয়ার পথও পানির নিচে তলিয়ে থাকায় শিশুদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

 

এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোছনা আরা এ প্রতিবেদককে বলেন কয়েক মাস হলো সাতক্ষীরা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাঠ ভরাট এবং স্কুলের প্রাচীন এর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের।

 

বিদ্যালয়ের অভিভাবক আবু সাঈদ বলেন, বর্তমান সরকার শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে এই বিদ্যালয়ের শিশুরা স্বাভাবিকভাবে ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাঠটি ভরাট ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে শুধু শিক্ষার পরিবেশই উন্নত হবে না, শিশুদের খেলাধুলার সুযোগও নিশ্চিত হবে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জোছনা আরা বলেন, “শিশুদের কষ্ট দেখে আর চুপ করে থাকা সম্ভব হয়নি। তাই জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে আশু সুদৃষ্টি কামনা করেছি।

একই চিত্র দেখা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ১৪৯ নং শ্রীফলকাটি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম গত ৮ জুলাই সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাঠ ভরাটের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের।

 

শ্যামনগরে আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপকূলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে নিজস্ব চত্তরে বুধবার (৮ জুলাই) সকালে বিনামূল্যে আমন ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রনোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ-২ মৌসুমে আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ২ হাজার ৮০০ জন কৃষক ও কৃষাণীর মাঝে মাথাপিছু ৫ কেজি ধানের বীজ ও ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি পটাশ সার বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত আমন ধানের জাতের মধ্যে ছিল ব্রি-৮৭ ,ব্রি-১০৩, বিনা-১৭, বিনা-২৬।

বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার ওয়ালিউল ইসলাম।

 

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ, উপজেলা জাময়োতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক সোলায়মান কবীর, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি সামিউল আযম মনির, কৃষকবৃন্দ, উপজেলা জামায়াত ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ প্রমুখ।

আইএইচআর মাল্টিসেক্টরাল স্টেকহোল্ডার শীর্ষক বিভাগীয় অ্যাডভোকেসি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
আইএইচআর মাল্টিসেক্টরাল স্টেকহোল্ডার শীর্ষক বিভাগীয় অ্যাডভোকেসি সভা

আইএইচআর (২০০৫) মাল্টিসেক্টরাল স্টেকহোল্ডার শীর্ষক বিভাগীয় অ্যাডভোকেসি সভা আজ (বুধবার) বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন।

প্রধান অতিথি বলেন, আর্ন্তজাতিক স্বাস্থ্যবিধি ২০০৫ সালের একটি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও আজ ২১ বছর পর ২০২৬ সালে এসে আমরা এখনো অবহিতকরণ পর্যায়ে আছি যা অত্যন্ত দু:খজনক। করোনা মহামারীর সময়ে এ ধরণের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। আমরা অনেক পিছিয়ে আছি, যার অন্যতম কারণ জনস্বাস্থ্য সমস্যাকে আমরা মনে করি শুধুমাত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়। অথচ মহামারীর পর্যায়ে যেতে পারে এ ধরণের রোগগুলোকে প্রতিরোধ করতে সব পক্ষকেই সচেতন হয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আইনি এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আছে কিন্তু বাস্তবায়ন পর্যায়ে অগ্রগতি কম। বিভিন্ন অংশীজন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম গ্রহণ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ না হলে আমরা এই আন্ত:সীমান্ত সংক্রামক রোগগুলো মোকাবেলা করতে পারবো না। আবার বিশ^ায়নের যুগে আমরা আইসোলেটেড হয়েও থাকতে পারবো না। তাই সকল ফোকাল পয়েন্ট গুলোকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেছে। তিনি বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও তার দলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সভায় জানানো হয়, যে কোন ধরণের মহামারী প্রতিরোধ করা আর্ন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধির একমাত্র উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি (আইএইচআর) এর অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ। আইএইচআর, ২০০৫ একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ১৯৬টি সদস্য রাষ্ট্র জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং বজায় রাখার অঙ্গীকার করছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশসহ প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের নৌ, স্থল ও বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, ডাক্তার ও সুনির্দিষ্ট হাসপাতাল থাকা বাধ্যতামূলক। যেকোন কেস সনাক্ত হওয়ার দুই ঘন্টার মধ্যে ফোকাল পয়েন্টে অবহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য, সীমান্তরক্ষা, নিরাপত্তা ও খাদ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের তৎপরতা এবং ঝুঁকি মোকাবেলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

 

অ্যাডভোকেসি সভায় বিজিবি খুলনা সেক্টরের পরিচালক লে. কর্নেল অনুপ কুমার বিশ^াস, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. আশনাফুন্নাহার, খুলনা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক মো: মোজাম্মেল হক, আনসার ও ভিডিপির উপপরিচালক এএসএম আজিম উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন খুলনা স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. অপর্ণা বিশ^াস। সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার কারিগরি কর্মকর্তা ডা. ইনিন ইসিবোর।

অ্যাডভোকেসি সভায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সহযোগিতায় ডিজিএইচএস অ্যাডভোকেসি সভার আয়োজন করে। তথ্যবিবরণী