রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

১০ মহরম ত্যাগ, ন্যায় ও মানবতার এক অবিনশ্বর ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
১০ মহরম ত্যাগ, ন্যায় ও মানবতার এক অবিনশ্বর ইতিহাস

এম.এম হায়দার আলী

ইসলামের ইতিহাসে ১০ মহরম বা আশুরা এমন একটি দিন, যা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে গভীর শোক, আত্মত্যাগ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে চিরস্মরণীয়। ৬১ হিজরির ১০ মহরম (১০ অক্টোবর ৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) ইরাকের কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও অল্পসংখ্যক সঙ্গীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে শাহাদাত বরণ করেন। ইতিহাসে এই ঘটনাই “কারবালার ট্র্যাজেডি” নামে পরিচিত।

কারবালার ঘটনা কেবল একটি যুদ্ধের ইতিহাস নয়; এটি অন্যায়, জুলুম ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সত্যের বিজয়ের প্রতীক। সংখ্যায় অল্প হলেও ইমাম হুসাইন (রা.) আপোষ করেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করার চেয়ে সত্যের পথে জীবন উৎসর্গ করা অধিক মর্যাদার। সে সময় মুসলিম বিশ্বের শাসক ইয়াজিদের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণের জন্য ইমাম হুসাইন (রা.)-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু তিনি মনে করতেন, অন্যায় ও অবিচারের সঙ্গে আপস করা ইসলামের মৌলিক আদর্শের পরিপন্থী। তাই তিনি মদিনা থেকে মক্কা এবং পরে কুফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

 

পথে কারবালায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে অবরুদ্ধ করা হয়। ইতিহাস বর্ণনা করে, টানা কয়েক দিন ফোরাত নদীর পানি থেকেও তাঁদের বঞ্চিত রাখা হয়। তীব্র তৃষ্ণা, অনাহার ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর সঙ্গীরা সত্যের পথ থেকে সরে আসেননি। অবশেষে ১০ মহরম তিনি, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং বিশ্বস্ত সঙ্গীরা একে একে শাহাদাত বরণ করেন। এই নির্মম ঘটনার স্মৃতি আজও বিশ্ব মুসলিমকে শোকাহত করে। বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা আশুরার দিনকে বিভিন্নভাবে স্মরণ করেন। অনেকে রোজা রাখেন, দোয়া ও ইবাদতে সময় অতিবাহিত করেন এবং কারবালার শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন।

 

ইসলামি ঐতিহ্যে সহিহ হাদিসে বর্ণিত রয়েছে যে, আশুরার রোজা রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজা রাখতেন এবং পরবর্তীতে ৯ ও ১০ মহরম অথবা ১০ ও ১১ মহরম রোজা রাখার উৎসাহ দিয়েছেন, যাতে অন্য ধর্মাবলম্বীদের রীতি থেকে ভিন্নতা বজায় থাকে।

কারবালার শিক্ষা আজও সমান ভাবে প্রাসঙ্গিক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়ানো, সত্যকে আঁকড়ে ধরা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার যে আদর্শ ইমাম হুসাইন (রা.) রেখে গেছেন, তা যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আসছে। ক্ষমতা বা ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে নীতিকে বিসর্জন না দেওয়ার এক অনন্য উদাহরণ কারবালার ঘটনা। বর্তমান বিশ্বে যখন যুদ্ধ, সংঘাত, বৈষম্য, দুর্নীতি ও অবিচার নানা রূপে মানব সমাজকে বিপর্যস্ত করছে, তখন কারবালার বার্তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকাই একজন মানুষের সর্বোচ্চ মর্যাদা।

 

১০ মহরম তাই শুধু শোকের দিন নয়; এটি আত্মত্যাগ, নৈতিকতা, ধৈর্য, সাহস ও মানবতার এক চিরন্তন প্রেরণার দিন। কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন এক আলোকবর্তিকা, যা অন্যায়ের অন্ধকারে ন্যায়ের পথ দেখিয়ে যাবে অনন্তকাল এমনটি আশা আমি অধমের।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট
মোবাইলঃ ০১৯৭৯ ১৩৬০৯৮

 

Ads small one

দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ পূর্বাহ্ণ
দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ড এবং স্পেনের কাছে ফ্রান্সের বিদায়ের পর দুই দলের সমর্থকদের মাঝেই যেন বিশ্বকাপের আমেজ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ৩টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য দুই ইউরোপীয় জায়ান্টের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী বা ব্রোঞ্জ মেডেল ম্যাচে। ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগমুহূর্তেও ফিফার অফিসিয়াল সাইটগুলোতে হাজার হাজার টিকিট অবিক্রিত পড়ে রয়েছে।

ফিফার টিকিট পোর্টাল এবং অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের এই ম্যাচটি ঘিরে এখনও প্রায় ৭,০০০ টিকিট অবিক্রিত অবস্থায় তালিকাভুক্ত রয়েছে। সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১,২৪৬টি টিকিট অবিক্রিত আছে, যার একেকটির মূল্য হাঁকা হচ্ছে ৮৬৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬৫৭ পাউন্ড) থেকে ১,১২৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৫৫ পাউন্ড) পর্যন্ত।

সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে অফিসিয়াল রিসেল বা পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্মে। সেখানে প্রায় ৫,৮৬৪টি টিকিট বিক্রির জন্য জমা পড়ে আছে। সমর্থকরা তাদের কেনা টিকিট নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিতে চাইছেন। সবচেয়ে সস্তা ক্যাটাগরি-৩-এর টিকিটগুলো ফেস ভ্যালু ৪৫৫ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে (এর সঙ্গে ফিফার ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত ফি যুক্ত হবে)।

ম্যাচের আকর্ষণ ও দর্শক আগ্রহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে প্রিমিয়াম বা ক্যাটাগরি-১-এর টিকিটগুলোতে। যে টিকিটগুলোর মূল ক্রয়মূল্য ছিল ১,১২৫ ডলার, সেগুলো এখন প্রায় অর্ধেক বা বিশাল ডিসকাউন্টে মাত্র ৬৫৯ ডলারে রিসেল প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:১০ পূর্বাহ্ণ
মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের মহারণে নামার ঠিক আগের দিন বড়সড় ধাক্কা খেলো স্পেন শিবির। নিউজার্সির বৈরী আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি আর ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন করতে পারলো না লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। প্রবল বৃষ্টি ও লাগাতার বজ্রপাতের কারণে শনিবারের (১৮ জুলাই) নির্ধারিত শেষ দিনের পুরো অনুশীলন সেশনটিই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার নিউজার্সির হুইপ্যানিতে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়) স্পেনের অনুশীলনে নামার কথা ছিল। স্প্যানিশরা এই সেশনের জন্য বেছে নিয়েছিল নিউইয়র্ক রেড বুলসের সাবেক অনুশীলন কেন্দ্র এবং বর্তমানে এনডব্লিউএসএল ক্লাব গথাম এফসির ভবিষ্যৎ ট্রেনিং কমপ্লেক্সটি। কিন্তু সকাল থেকেই শুরু হয় তীব্র বজ্রঝড়। প্রথমে অনুশীলন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুরো সেশনই বাতিল ঘোষণা করা হয়। মাঠে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা সংবাদকর্মীদেরও নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত কর্মক্ষেত্রের ভবনের ভেতরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রে বজ্রঝড় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা নিখুঁত ও কঠোর, তা প্রকাশ পেয়েছে মাঠের এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, অনুশীলন বা ম্যাচ ভেন্যুর ৮ মাইলের মধ্যে কোথাও বজ্রপাত শনাক্ত হলেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের সব ধরনের কার্যক্রম সঙ্গে সঙ্গে স্থগিত করা হয়। এরপর প্রতি ৩০ মিনিট পরপর পরিস্থিতি গভীরভাবে মূল্যায়ন বা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বজ্রপাতের এই ঝুঁকি যখন পুরোপুরি কেটে যায়, তখনই কেবল নিরাপত্তা বিভাগ থেকে ‘অল ক্লিয়ার’ সংকেত দেওয়া হয়। এই সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশের অনুমতি পান। তবে শনিবার সকালে হুইপ্যানির পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে স্পেনকে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়াই সম্ভব হয়নি।

চলতি বিশ্বকাপজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ভেন্যুগুলোতে একই বজ্রঝড়-সংক্রান্ত কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। এর আগে এই নিয়মের মারপ্যাঁচে পড়ে চলমান টুর্নামেন্টের একাধিক ম্যাচের সময়সূচিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছিল। কোনও কোনও ম্যাচ দীর্ঘ সময় স্থগিতও রাখতে হয়েছিল।

বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় (স্থানীয় সময় সন্ধ্যা) নিউজার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরার মুকুটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। যেখানে আর্জেন্টিনা দল তাদের প্রস্তুতি ঠিকঠাক সারতে পেরেছে, সেখানে অনুশীলনের এই ঘাটতি স্পেনের জন্য কতটা ভোগান্তি বাড়াবে তা বলা মুশকিল। তবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কা— নিউজার্সির এই বৈরী আবহাওয়া ফাইনালকেও কোনও বিঘ্নের মুখে ফেলে কি না!

বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

বিশ্বকাপ ট্রফি শুধু ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কারই নয়, এটি মর্যাদা ও ঐতিহ্যেরও প্রতীক। সেই ট্রফিকে ফাইনালের মঞ্চে নিয়ে যেতে এবারও বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান লুই ভিতোঁ। ২০১০ সাল থেকে টানা পঞ্চম বিশ্বকাপে এই দায়িত্ব পালন করছে প্রতিষ্ঠানটি।

নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বিশেষভাবে তৈরি লুই ভিতোঁর এই ট্রাঙ্কে করেই মাঠে আনা হবে বিশ্বকাপ ট্রফি।

বিশেষ এই ট্রাঙ্কের সামনে রয়েছে সোনালি রঙের ইংরেজি অক্ষর ‘ভি’। যা একদিকে ভিক্টরি তথা জয় -এর প্রতীক, অন্যদিকে ভিতোঁর আলাদা পরিচয় বহন করছে। ট্রাঙ্কজুড়ে রয়েছে লুই ভিতোঁর পরিচিত নকশা এবং সোনালি আবরণযুক্ত পিতলের কর্নার প্রটেক্টর।

এটি টানা পঞ্চম বিশ্বকাপ যেখানে ট্রফির জন্য বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে লুই ভিতোঁ। এর আগে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও একই দায়িত্ব পালন করেছিল ফরাসি এই বিলাসবহুল ব্র্যান্ড।