শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

অন্ধদ্বীপের আজব পাঠশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
অন্ধদ্বীপের আজব পাঠশালা

মোঃ মামুন হাসান
এক যে ছিল দ্বীপ যার নাম অন্ধদ্বীপ। সেই দ্বীপে একটি প্রকান্ড অট্টালিকা ছিল যেখানে প্রজাদের সন্তানদের তলোয়ার চালানো আর কারিগরি বিদ্যা শেখানো হতো। অট্টালিকার প্রধান তোরণেই ঝোলানো ছিল এক মস্ত বড় আয়না। তাতে লেখা ছিল চরিত্রই মানুষের অলঙ্কার। কিন্তু সেই আয়না এতই ধুলোবালি আর কালিমাখা ছিল যে তাতে নিজের চেহারা দেখা যেত না কেবল আবছা অন্ধকার চোখে পড়ত।
সেই অট্টালিকার মহাপ্রধান ছিলেন এক অদ্ভুতুড়ে মানুষ। তার কাছে তলোয়ারবাজি জানা ওস্তাদদের চেয়ে সেইসব চন্ডাল আর দ্বারপালদের কদর ছিল বেশি যারা সারাদিন নর্দমার খবর রাখত। মহাপ্রধান মহাশয় সেইসব নিচুপদস্থ অনুচরদের সাথে নিয়ে বনের ঝোপঝাড়ে বসে আয়েশ করে লিকার চা গিলতেন আর ফন্দি আঁটতেন কীভাবে রাজভান্ডার থেকে আসা মোহরগুলো সিন্দুক অব্দি পৌঁছানোর আগেই মাঝপথে উধাও করে দেওয়া যায়।
সেই দপ্তরে মোহর গুনে রাখার দায়িত্বে ছিলেন এক কুবের বাবু। তার সাথে গলায় গলায় ভাব ছিল রণসজ্জা বিভাগের এক জাঁদরেল কর্তার। তারা দুজন মিলে রাজদরবারকে দেখাতেন যে তারা খাঁটি ইস্পাতের তলোয়ার কিনছেন কিন্তু আসলে ঝুড়ি বোঝাই করে আনতেন পচা কাঠ আর টিনের পাত। মহাপ্রধান সেই নকল মালের ওপর নিজের মোহর মেরে দিতেন আর বদলে তার থলেতে জমা হতো ভারী ভাগ।
আবার ওস্তাদদের মধ্যে একজন ছিলেন মৌনী বাবা। তিনি পাশের জনপদ থেকে প্রতিদিন আসার নামগন্ধও করতেন না। তিনি জানতেন মহাপ্রধানের অপকর্মে নীরব সমর্থন দিলে ঘরে বসেই দক্ষিণা পাওয়া যায়। তার অনুপস্থিতিই ছিল সেই অপরাধের রাজপথ।
আরেকজন ওস্তাদ ছিলেন যার নেশা ছিল কেবল মোহর আর মোহর। তিনি নবীন যোদ্ধাদের বলতেন ময়দানে লড়তে শেখার চেয়ে আমার বাড়িতে এসে তিল তিল করে সোনা দান করা বেশি জরুরি। যে সোনা দেবে না তার তলোয়ার ভোঁতা করে দেওয়া হবে। বেচারা শিক্ষার্থীরা ভয়ে তাদের শেষ সম্বলটুকুও সেই ওস্তাদের পায়ে সঁপে দিত।
এদিকে মহাপ্রধানের প্রধান সহকারী ছিলেন এক অদ্ভুত কিপটে রাম। তার কাজ ছিল সারা অট্টালিকার হাঁড়ির খবর রাখা। কে কয়টা ভাত খেল কার ঘরে ঘি কম পড়ল এইসব তিলকে তাল করে তিনি মহাপ্রধানের কানে বিষ ঢালতেন। তার মূল পেশা ছিল কানাকানি আর নেশা ছিল অন্যের পাত থেকে খাবার চুরি করা।
এরই মধ্যে একদিন অট্টালিকার পেছনে লঙ্কাকান্ড ঘটে গেল। দেখা গেল সেই কুবের বাবুর লালসায় এক পরিচারিকার সম্মান ধুলোয় মিশেছে। চারিদিকে যখন ঢি-ঢি পড়ে গেল তখন মহাপ্রধান এক সালিশি সভা ডাকলেন। সেখানে ন্যায়ের বদলে যা হলো তাকে বলে কাকস্য পরিবেদনা। মহাপ্রধান সেই কুবেরকে বাঁচাতে সব দায় পরিচারিকার ঘাড়ে চাপিয়ে দিলেন। লোকে আড়ালে বলাবলি করত মহাপ্রধান নিজেও তো এক কন্যাকল্প ওস্তাদের সাথে নিভৃতে মোহমায়ার খেলা খেলেন তাই চোরের ওপর রাগ করে তিনি গৃহত্যাগী হতে চাননি।
সবচেয়ে তাজ্জব ব্যাপার ছিল সেই অট্টালিকার শৃঙ্খলা। সেখানে দ্বারপালেরা ওস্তাদদের সম্মান করা তো দূরে থাক তাদের দিকে এমনভাবে তাকাত যেন ওস্তাদরাই তাদের ভৃত্য। কোনো পন্ডিত যদি নিজের সম্মান নিয়ে একটু উচ্চবাচ্য করতেন অমনি মহাপ্রধান হুঙ্কার দিয়ে বলতেন আমার আদরের দ্বারপালদের সাথে যারা ঝগড়া করবে তাদের এই দুর্গ থেকে বের করে দেওয়া হবে।
ফল যা হওয়ার তাই হলো। কিছু পন্ডিত বাঁচার তাগিদে মহাপ্রধান আর ওই দ্বারপালদের জুতো পালিশে লেগে গেলেন। আর যারা সত্যিকারের বিদ্যার্থী ছিল তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দেখল যেখানে সরস্বতীর আসন থাকার কথা সেখানে উইপোকা আর ছুঁচোদের মিলনমেলা বসেছে।
সেই জনপদের বৃদ্ধরা আজও সেই অট্টালিকার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নাক চেপে ধরেন। তারা বলেন অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালালে যদি ধোঁয়া বেশি বের হয় তবে বুঝে নিও তেলের চেয়ে কালিই ছিল বেশি।
লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

Ads small one

সাতক্ষীরায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে মহান মে দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে মহান মে দিবস পালিত

মহান মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সাতক্ষীরা জেলা সংসদের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১ মে, বুধবার বিকেল ৫টায় শহরের কাছারীপাড়াস্থ সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শিল্পীচক্র’ চত্বরে এই সভার আয়োজন করা হয়।

উদীচী সাতক্ষীরা জেলা সংসদের সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুরেশ পান্ডে।

আলোচনা সভায় শ্রমিক শ্রেণির অধিকার এবং মে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন উদীচী সাতক্ষীরার সহ-সভাপতি ও বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী আবু আফফান রোজবাবু, কমরেড আবুল হোসেন এবং নির্বাহী সদস্য মৃত্যুঞ্জয় কুমার বিশ্বাস।

বক্তারা বলেন, মে দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রেরণা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ভূমিকা অপরিসীম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সংগঠক মনিরুজ্জামান মুন্না, শেখ আব্দুল ওয়াহেদসহ উদীচীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সভা শেষে শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

আশাশুনিতে মে দিবসে উপজেলা প্রশাসনের র‌্যালি ও পথসভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে মে দিবসে উপজেলা প্রশাসনের র‌্যালি ও পথসভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আশাশুনি উপজেলা প্রশাসন বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও পথসভা করেছে। শুক্রবার (১ মে) বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে র‌্যালি বের করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডুর নেতৃত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীন, উপজেলা নেতা স ম হেদায়েতুল ইসলাম, মশিউল হুদা তুহিন, আবু জাহিদ সোহাগ, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, অফিস সম্পাদক মাওঃ রুহুল কুদ্দুছ, উপজেলা শ্রমিক দল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, ইজিবাইক মালিক সমিতি, মোটর সাইকেল চালক সমিতি, ভ্যান চালক সমিতিসহ রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশ গ্রহনে র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে পথ সভায় মিলিত হয়।

 

পথসভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু আলোচনা রাখেন।

 

 

 

 

 

 

 

আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আশাশুনি উপজেলা শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সকালে দিবসের শুরুতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে থেকে র‌্যালিটি শুরু করা হয়।

“শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতির বাস্তবায়ন অনিবার্য” স্লোগানকে সামনে রেখে ব্যানার, ফেস্টুন সহকারে র‌্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি প্রফেসর শাহজাহান হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সহ-সভাপতি ও শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান মাওঃ আবু বক্কার সিদ্দিক।

 

সভায় উপদেষ্টা ও উপজেলা জামায়াতের আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, অফিস সেক্রেটারি মাওঃ রুহুল কুদ্দুস, উপজেলা সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন, সাবেক মেম্বার খোরশেদ আলম, মাসুম বিল্লাহ খানসহ আশাশুনি ভ্যান চালক সমবায় সমিতি, রিক্সা ভ্যান ও ঠেলাগাড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন, নৌকা মাঝি শ্রমিক ইউনিয়ন, দোকান কর্মচারী ট্রেড ইউনিয়ন, মৎস্যজীবী ট্রেড ইউনিয়ন ও দর্জি ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।