বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

অপশক্তি প্রতিহত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধ হোন: এমপি ফাহমিদা হক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
অপশক্তি প্রতিহত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধ হোন: এমপি ফাহমিদা হক

জিএম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা): সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্য দেশে একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তাই শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অপশক্তি যেন উৎসবের আনন্দ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য মন্দির কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কয়রায় দুর্গোূৎসব উপলক্ষে মন্দিরসমূহের অনুকূলে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও খুলনা জেলা পরিষদ কর্তৃক সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সংস্কার কাজের প্রকল্পের বরাদ্দের চিঠি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক এসব কথা বলেন।

উপজেলা অডিটোরিয়ামে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক। তিনি বলেন, বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্বাধীনতা এবং ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ নীতিতে বিশ্বাসী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব মত, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে সব মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ দেশ ও জাতি গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং কেউ যেন বিএনপির নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে এই অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগণের কল্যাণে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষণাবেক্ষণ এবং শিক্ষা-সংস্কৃতির উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। অবহেলিত কয়রা-পাইকগাছার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে আরও বরাদ্দ এনে এই অঞ্চলকে আধুনিকায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে কয়রা উপজেলার ৫৯টি শারদীয় দুর্গাপূজা মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে ৭ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা এবং ৫৪টি আর্থসামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের চিঠি হস্তান্তর করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও খুলনা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপনের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। খুলনা জেলার ৮৮৭টি পূজা মন্দিরে এবারের পূজা আরও জাঁকজমকপূর্ণ করতে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিটি পূজাম-পে সহায়তা দেবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল আলম নান্নু, কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান ও মনিরুজ্জামান বেল্টু এবং প্রেস ক্লাবের সভাপতি হারুনর রশীদ। এ সময় কয়রা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অম্বিকা চরণ সানা, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বৈরাগীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: জয়দেব সভাপতি, কুদ্দুস সম্পাদক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: জয়দেব সভাপতি, কুদ্দুস সম্পাদক

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে জয়দেব চক্রবর্তী (লোকসমাজ) এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রুহুল কুদ্দুস (ইনকিলাব) নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া সহসভাপতি পদে আব্দুল হাই সিদ্দিকী (নয়া দিগন্ত ও পূর্বাঞ্চল) ও মোতাহার হোসাইন (সমকাল ও গ্রামের কাগজ), যুগ্ম সম্পাদক পদে মশিয়ার রহমান (আলোকিত বাংলাদেশ) ও মেহেদী হাসান জাহিদ (সময়ের খবর), কোষাধ্যক্ষ পদে সিদ্দিকুর রহমান (খোলা কাগজ), দপ্তর সম্পাদক পদে আলমগীর হোসেন (দৈনিক খুলনাঞ্চল), ক্রীড়া ও সাহিত্য সম্পাদক পদে মাসুম বিল্লাহ (প্রতিদিনের কথা), এবং গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে মতিয়ার রহমান (অনির্বাণ) নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যনির্বাহী পাঁচ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন আজিজুর রহমান (যুগান্তর), নুরুল ইসলাম খান (কালের কণ্ঠ), আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ (দৈনিক কল্যাণ), উৎপল দে (কালবেলা) ও শেখ শাহীনুর ইসলাম (করতোয়া)।
নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রেস ক্লাবের সদস্য ও ভোটারদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে তাঁদের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। সংবাদ পরিবেশনে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লেখনী ধারণ এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন। প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আগামী দিনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

শ্যামনগরে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা

‘জলবায়ু অভিঘাত পেরিয়ে গ্রামীণ নারী ক্ষমতায়ন ও সমৃদ্ধির পথে’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউনিয়নের নারী দলের সদস্যদের আয়োজনে শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীর দাতিনাখালি বালুর মাঠে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিডার্স, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও অ্যাম্বাসি অব সুইডেনের সহযোগিতায় কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি–সিআরইএ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করা হয়। ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জিএম আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার ওয়ালিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সম্পাদক ও সাংবাদিক হুদা মালী, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের সমাজসেবক জি এম রুস্তম আলী, ফেইথ ইন অ্যাকশনের জেন্ডার অফিসার নয়মী বিশ্বাস, পিসিআরসিবি প্রকল্প সিসিডিবির সহসভাপতি মিনতি রানী মল্লিক, মেঘনা নারী দলের সভাপতি নার্গিস সুলতানা, দোলন চাঁপা নারী দলের সহসভাপতি জেবুন্নেছা খাতুন এবং লিডার্সের সিআরইএ প্রকল্প সমন্বয়কারী সুব্রত অধিকারীসহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা সুলতা রানী সাহা। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

আলো ঝলমলে রাতের গুড়পুকুর মেলা, বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
আলো ঝলমলে রাতের গুড়পুকুর মেলা, বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলায় দুপুরের পর থেকেই বাড়তে শুরু করে দর্শনার্থীদের ভিড়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই আলো ঝলমলে মেলা প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়। কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি ও বিনোদনের আনন্দে মেতে ওঠেন নানা বয়সী মানুষ। মেলা শেষের দিকে চলে আসায় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও জমে উঠেছে। অন্যদিকে, মেলার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মেলার ১৫তম দিনে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এমন উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। গত ১ অক্টোবর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী এ মেলা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও দর্শনার্থীরা আসছেন। মেলায় রয়েছে প্রসাধনী, পোশাক, শিশুদের খেলনা, গৃহস্থালির সামগ্রী ও খাবারের নানা দোকান। রঙিন আলোকসজ্জা আর মানুষের পদচারণায় সন্ধ্যার পর মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।

মেলার শেষ পর্যায়ে এসে বেচাকেনা ভালো হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, মেলার বাকি দিনগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি আরও বাড়বে এবং বিক্রিও ভালো হবে।

ঢাকা থেকে আসা কসমেটিকস ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, “মেলার শেষ দিকে এসে বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। দুপুরের পর থেকেই ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এভাবে ক্রেতা আসতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা আরও ভালো হবে বলে আশা করছি।”

বরিশাল থেকে শিশুদের খেলনা নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আকবর বলেন, “মেলার শেষ সপ্তাহে এসে ক্রেতাদের আনাগোনা ভালো। শিশুদের খেলনার প্রতি ছোটদের আগ্রহ রয়েছে। এখন বেচাকেনা ভালো হওয়ায় আমরা আশাবাদী। মেলার শেষ দিনগুলোতে আরও ভালো বিক্রির প্রত্যাশা করছি।”
মাদারীপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন বলেন, “মেলা শেষের দিকে হওয়ায় এখন বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। বিভিন্ন বয়সী মানুষ মেলায় আসছেন, পছন্দের জিনিস কিনছেন। সামনে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়লে আমাদের ব্যবসাও ভালো হবে বলে আশা করছি।”

এদিকে, বৃহস্পতিবার গুড়পুকুর মেলার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম। মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের দায়িত্ব পালন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

শতাব্দীর ঐতিহ্য বহনকারী গুড়পুকুর মেলা সাতক্ষীরার মানুষের কাছে শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, বরং সামাজিক মিলন ও বিনোদনেরও অন্যতম উপলক্ষ। মেলা শেষের দিকে এসে দর্শনার্থীদের আনাগোনা এবং ব্যবসায়ীদের বেচাকেনায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসায় আয়োজক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।