রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

অভিযানও চলছে, মাদকও পাওয়া যাচ্ছে: গলদ কোথায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৩ অপরাহ্ণ
অভিযানও চলছে, মাদকও পাওয়া যাচ্ছে: গলদ কোথায়?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরায় মাদক চোরাচালান, মাদক কেনাবেচা এবং ‘কিশোর গ্যাং’-এর দৌরাত্ম্য দিন দিন উদ্বেগজনক বাড়ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কোন কোন এলাকায় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় মাদক ও অপরাধ দমনে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত অভিযান, মাদক উদ্ধার, মাদক ধ্বংস এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের খবরও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এসব অভিযানের পরও মাঠপর্যায়ে অপরাধ কমছে না কেন? মাদক চোরাচালান ও বিক্রির নতুন নতুন পথ তৈরি হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে অভিযানগুলো কি সত্যিই অপরাধের মূল শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে, নাকি কেবল ছোটখাটো অপরাধীদের ধরেই অভিযান শেষ করা হচ্ছে?

‎সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তপথ দিয়ে ফেন্সিডিল ও গাঁজার পাশাপাশি ‘আইস’ ও ‘কুশ’-এর মতো মাদক প্রবেশের অভিযোগ আছে। এসব মাদক শুধু তরুণদের জীবনই নষ্ট করছে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বড় ধরনের অপরাধ চক্র।

‎প্রশ্ন হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও এলাকায় এলাকায় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গঠন করামাদক বিরোধী কমিটির নিয়মিত নজরদারি ও অভিযানের পরও কীভাবে মাদক ঢুকছে এবং বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে? সাধারণের মনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, প্রশাসনিক দুর্বলতা, গাফিলতি কিংবা প্রভাবশালী কোনো মহলের মদদ কাজ করছে? শুধু নামে নিদিষ্ট এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান, তলে তলে মাদক সম্্রাটের সাথে আঁতাত না তো।

‎মাদকের এই বিস্তারের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে তরুণ প্রজন্মের ওপর। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ সংস্কৃতি। সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় তরুণদের মধ্যে দলবদ্ধভাবে চলাফেরা, মারামারি, ভয় দেখানো এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কখনো কখনো এসব বিরোধ ভয়াবহ সহিংসতায়ও রূপ নিচ্ছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অভিযানের লক্ষ্য কি শুধু ছোট অপরাধীদের আটক করা, নাকি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা মূল চক্রকে আইনের আওতায় আনা? অপরাধ দমনে লোকদেখানো অভিযান কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। প্রয়োজন নিয়মিত ও নিরপেক্ষ অভিযান, সীমান্তে কঠোর নজরদারি, মাদকের অর্থের উৎস অনুসন্ধান এবং অপরাধের পেছনে থাকা মূল ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী পরিচয় যেন অপরাধীদের রক্ষা করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

Ads small one

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরায় বোরো চাল সংগ্রহ, কৃষি অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরায় বোরো চাল সংগ্রহ, কৃষি অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা

চলতি ২০২৬ বোরো মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় সরকারিভাবে বোরো চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হওয়ার খবরটি সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কৃষি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সাতটি উপজেলায় নির্ধারণ করা ১৯ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৫৫০ টন চাল সংগ্রহ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে অর্জিত এই অর্জন স্থানীয় কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি মজুত বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সাতক্ষীরা অঞ্চলে এ বছর সংগৃহীত চালের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৬ কোটি ২৮ লাখ টাকারও বেশি, যা জেলা স্তরের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিরাট অর্থপ্রবাহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সদর ও তালা উপজেলার মতো এলাকাগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ চাল সংগ্রহ নির্দেশ করে যে, স্থানীয়ভাবে খাদ্যশস্যের ফলন ও প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা দুটোই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ে এবং নিবন্ধিত ২৪৭টি মিলমালিকের কাছ থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে ক্রয়প্রক্রিয়া পরিচালনা করার যে দাবি কর্তৃপক্ষ করেছে, তা বজায় থাকলে এটি মাঠপর্যায়ের প্রকৃত কৃষকদের সরাসরি সুবিধা দেবে।

তবে শুধু সংগ্রহের পরিসংখ্যান বৃদ্ধিতেই সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না, দুটি মূল বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখা অত্যন্ত জরুরিÑচাল সংরক্ষণের সঠিক ব্যবস্থা এবং গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ। অতীতে দেখা গেছে, যথাযথ গুদামজাতকরণ ব্যবস্থার অভাব কিংবা আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের ত্রুটির কারণে রক্ষিত খাদ্যের ক্ষতি হয়। সাতক্ষীরা খাদ্য প্রশাসন যেভাবে চালের পুষ্টি ও মান কঠোরভাবে যাচাইয়ের নির্দেশনা দিয়েছে, সেই সতর্কতা পুরো সংরক্ষণ মেয়াদেও অব্যাহত রাখা দরকার।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কৃষকদের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি অব্যাহত রাখা। সরকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি ৪৯ টাকা দর নির্ধারণের পর এবার যে অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়েছে, তা ভবিষ্যতে চাষীদের ধান ও চাল উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করবে। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজস্ব খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা ধরে রাখাই প্রধান ঢাল। সাতক্ষীরার এই অর্জন প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ তদারকি থাকলে জেলা পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করা কঠিন কিছু নয়।

প্রশাসনকে এখন জোর দিতে হবে খাদ্য গুদামগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে এই উৎপাদনের গতি ধরে রাখার কৌশল প্রণয়নে। সাতক্ষীরার মতো কৃষিভিত্তিক অঞ্চলে যদি প্রতিবছর এভাবে চাল সংগ্রহ ও সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা সফল হয়, তবে তা শুধু স্থানীয় অর্থনীতিকেই চাঙা রাখবে না, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তাকে করবে আরও সুসংহত।

বিশ্ব বসতি দিবস: সবার জন্য নিরাপদ আবাসনের অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
বিশ্ব বসতি দিবস: সবার জন্য নিরাপদ আবাসনের অঙ্গীকার

সাকিবুর রহমান বাবলা

একটি নিরাপদ ঘর শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়; এটি মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক জীবনের ভিত্তি। অথচ আজও বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত আবাসনের বাইরে। এই বাস্তবতায় প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথম সোমবার পালিত হয় বিশ্ব বসতি দিবস। ২০২৬ সালে দিবসটি পালিত হচ্ছে ৫ অক্টোবর, এর প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত বাসস্থান’। এ বছরের বৈশ্বিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ওমানের মাস্কাটে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৮৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর ৪০/২০২ রেজুলেশনের মাধ্যমে অক্টোবরের প্রথম সোমবারকে বিশ্ব বসতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৮৬ সালে কেনিয়ার নাইরোবিতে প্রথম দিবসটি পালিত হয়; প্রতিপাদ্য ছিলÑ‘আশ্রয় আমার অধিকার’। দিবসটির উদ্দেশ্য ছিল মানুষের বসবাসের পরিবেশের অবস্থা পর্যালোচনা করা এবং সবার জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়ের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সচেতন করা।

বর্তমানে আবাসন সংকটের ব্যাপ্তি আরও গভীর। ইউএন হ্যাবিট্যাট ওয়ার্ল্ড সিটিজ রিপোর্ট ২০২৬ অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ ও পর্যাপ্ত আবাসনের কোনো না কোনো ঘাটতিতে রয়েছে। এর মধ্যে এক বিলিয়নের বেশি মানুষ অনানুষ্ঠানিক বসতি ও বস্তিতে বসবাস করছে। ২০২৩ সালে বৈশ্বিক আবাসন ঘাটতি প্রায় ২৮৮ মিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছেছে। অপর্যাপ্ত আবাসনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অনিরাপদ জমির মালিকানা, অতিরিক্ত ভিড়, মৌলিক সেবার ঘাটতি, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি।

এই সংকটের পেছনে রয়েছে দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আয়-বৈষম্য, আবাসন ও জমির উচ্চমূল্য, দারিদ্র্য, যুদ্ধ-সংঘাত, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, খরা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো দুর্যোগ মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত করছে। ফলে আবাসন এখন কেবল নগর পরিকল্পনার বিষয় নয়; এটি দারিদ্র্য হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা, জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকারের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত নগরায়ণ, গ্রাম থেকে শহরে কর্মসংস্থান ও সেবার সন্ধানে মানুষের আগমন এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি শহরাঞ্চলে আবাসনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ইউএন হ্যাবিট্যাট-এর বাংলাদেশ-সংক্রান্ত তথ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নগর দরিদ্র ও অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাসকারীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতিকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ এবং বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ আবাসন পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভিত্তি। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তথ্যেও বস্তি ও ভাসমান পরিবারের উপস্থিতি স্পষ্ট; তাই আবাসন পরিকল্পনায় শুধু বাড়ির সংখ্যা নয়, বাসস্থানের মান, নিরাপত্তা, নাগরিক সুবিধা ও ভাড়ার সক্ষমতাকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়ে কিছুটা হলেও সহায়ক ভূমিকা পালন করা যেতে পারে।

বিশ্ব বসতি দিবসের তাৎপর্য এখানেইÑমানুষকে শুধু একটি ছাদ দেওয়া নয়, বরং নিরাপদ, সাশ্রয়ী, স্বাস্থ্যসম্মত, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করা। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার এসডিজি ১১-এর লক্ষ্যও হলো শহর ও মানববসতিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সংকটসহনশীল ও টেকসই করে তোলা। ২০২৬ সালের জাতিসংঘের মূল্যায়ন বলছে, এই লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ব এখনও প্রয়োজনীয় গতিতে এগোতে পারেনি।

এ অবস্থায় সরকারের দায়িত্ব হলো সাশ্রয়ী আবাসন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, নিরাপদ ভূমি-ব্যবস্থা, পানি ও স্যানিটেশন, পরিবহন এবং দুর্যোগসহনশীল অবকাঠামোকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনা। নি¤œআয়ের মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্প, বস্তি উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও জরুরি। একই সঙ্গে ইউএন হ্যাবিট্যাট, স্থানীয় সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইউএন হ্যাবিট্যাট-ও জাতীয় সরকারকে সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের নীতি ও কৌশল প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানায়।

১৯৮৯ সাল থেকে ইউএন হ্যাবিট্যাট স্ক্রোল অব অনার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে আসছে মানব বসতি ও নগরজীবনের মানোন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে। এটিও দেখিয়ে দেয়Ñআবাসন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশেষে বলা যায়, একটি সুন্দর শহর মানেই শুধু উঁচু ভবন, প্রশস্ত সড়ক কিংবা আধুনিক অবকাঠামো নয়; সুন্দর শহর হলো যেখানে প্রত্যেক মানুষের নিরাপদে থাকার জায়গা আছে, যেখানে বস্তি ও প্রান্তিক মানুষ উন্নয়নের বাইরে পড়ে থাকে না এবং যেখানে আবাসন মানুষের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত থাকে। বিশ্ব বসতি দিবস তাই কেবল একটি দিবসের আনুষ্ঠানিকতা নয়Ñএটি সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করার বৈশ্বিক অঙ্গীকারকে নতুন করে স্মরণ করার দিন।

 

 

সড়ক যেন নীরব মৃত্যুফাঁদ!/ এম. এম হায়দার আলী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
সড়ক যেন নীরব মৃত্যুফাঁদ!/ এম. এম হায়দার আলী

এম. এম হায়দার আলী

মাত্র একটি মাস। ক্যালেন্ডারের পাতায় ৩০টি দিন। অথচ এই একটি মাসেই সড়ক কেড়ে নিয়েছে ৪২৩টি তাজা প্রাণ। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চলতি বছরের
সেপ্টেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের এই পরিসংখ্যান শুধু একটি সংখ্যা নয়,এর প্রতিটি অঙ্কের পেছনে রয়েছে একটি করে পরিবার, একটি করে স্বপ্ন, একটি করে অসমাপ্ত জীবন কাহিনি। কেউ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, কেউ ছিলেন সন্তানের নির্ভরতার জায়গা, কেউ ছিলেন মায়ের আদরের সন্তান, কেউ আবার ছিলেন ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুকে নিয়ে স্কুলে যাওয়া শিশু। একটি দুর্ঘটনার মুহূর্তে তাদের সব স্বপ্ন থেমে গেছে। সেপ্টেম্বরে দেশের ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪২৩ জন, আহত হয়েছেন আরও ৬৭৪ জন। নিহতদের মধ্যে ৭৩ জন নারী এবং ৬১ জন শিশু। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রতিটি দিন গড়ে প্রায় ১৪টি পরিবারকে শুনতে হয়েছে প্রিয়জন হারানোর খবর। প্রশ্ন হলো, এসব মৃত্যুকে আমরা আর কতদিন ‘দুর্ঘটনা’ বলে পাশ কাটিয়ে যাব ?

সড়ক দুর্ঘটনা শব্দটি শুনলেই যেন আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি অনিবার্য ঘটনাÑহঠাৎ কিছু একটা ঘটেছে, মানুষ মারা গেছে, আহত হয়েছে, এরপর তদন্ত হবে, কয়েক দিন আলোচনা হবে, তারপর সবকিছু আবার আগের মতো চলবে। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই এত সরল? অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অনিরাপদ সড়ক, চালকদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন এবং ট্রাফিক আইন না মানার মতো কারণগুলো যখন বছরের পর বছর একই ভাবে সামনে আসে, তখন এসব মৃত্যুকে শুধু ‘দুর্ঘটনা’ বলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কতটুকু থাকে ? বরং বলা যায়, আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা, উদাসীনতা এবং দায়িত্বহীনতার সম্মিলিত ফলেই অনেক মৃত্যু প্রতিদিন সড়কে লেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। মাসটিতে ১৫৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। যা মোট নিহতের ৩২ দশমিক ৮৬ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। তরুণদের মধ্যে মোটরসাইকেলের ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার প্রবণতাও। অনেক তরুণের হাতে মোটরসাইকেল এখন প্রয়োজনের বাহন হওয়ার পাশাপাশি হয়ে উঠেছে গতি প্রদর্শনের মাধ্যম।

 

রাস্তার সামান্য ফাঁক পেলেই গতি বাড়ানো, এক যানবাহনকে আরেক যানবাহনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অতিক্রম করা, ট্রাফিক আইনকে গুরুত্ব না দেওয়া,এসব প্রবণতা শেষ পর্যন্ত অনেক পরিবারকে নিঃস্ব করে দেয়। একটি তরুণ প্রাণের কাছে হয়তো কয়েক মিনিট সময় বাঁচানো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, কিন্তু সেই কয়েক মিনিটের ভুলের মূল্য দিতে হয় একটি পরিবারকে সারাজীবন। সড়কে সবচেয়ে অসহায় মানুষদের একজন পথচারী। অথচ সেপ্টেম্বরে ১০৬ জন পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান শুধু পথচারীদের অসচেতনতার কথা বলে না, বরং আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। কোথাও ফুটপাত নেই, কোথাও ফুটপাত থাকলেও দখল হয়ে আছে, কোথাও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নেই, আবার কোথাও জেব্রা ক্রসিং থাকলেও সেটি ব্যবহার নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে রাস্তা পারাপারের সময় একজন সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনের সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। একদিকে দ্রুতগতির গাড়ি, অন্যদিকে অসহায় পথচারী,এই অসম লড়াইয়ের ফল অনেক সময় হয় মৃত্যু। তাই পথচারী মারা গেলে শুধু পথচারীকে অসচেতন বলে দায় শেষ করার সুযোগ নেই। নিরাপদে হাঁটার জায়গা, নিরাপদে রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রিত গতি নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে ১৬৮টি দুর্ঘটনা বা ৩৮ শতাংশই ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। কিন্তু কেন নিয়ন্ত্রণ হারায় যানবাহন? উত্তর খুঁজতে গেলে আবারও ফিরে আসতে হয় অতিরিক্ত গতি, চালকের ক্লান্তি, অদক্ষতা, যানবাহনের ত্রুটি এবং সড়কের নানা সীমাবদ্ধতার কাছে। একজন চালক যখন দীর্ঘ সময় বিশ্রামহীন অবস্থায় গাড়ি চালান, তখন তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা স্বাভাবিক থাকার কথা নয়। অথচ পরিবহন খাতে চালকদের কর্মঘণ্টা, বিশ্রাম, বেতন ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বহুদিন ধরেই আলোচনায় থাকলেও বাস্তব পরিবর্তন খুব বেশি দেখা যায় না। একজন ক্লান্ত চালকের হাতে যখন বাস, ট্রাক কিংবা যাত্রীবাহী যান তুলে দেওয়া হয়, তখন শুধু তার জীবন নয়, তার সঙ্গে থাকা অসংখ্য মানুষের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

দুর্ঘটনা ঘটছে জাতীয় মহাসড়কে, আঞ্চলিক সড়কে, গ্রামীণ সড়কে, শহরের সড়কে,অর্থাৎ নিরাপত্তার সংকটটি সর্বত্র। সেপ্টেম্বরে ১৭৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে, জাতীয় মহাসড়কে ১৪৫টি, গ্রামীণ সড়কে ৫৬টি এবং শহরের সড়কে ৬৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। মহাসড়কে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি স্বল্পগতির বিভিন্ন যানবাহনের চলাচলও ঝুঁকি বাড়ায়। একই সড়কে যখন একটি যান ঘণ্টায় অনেক বেশি গতিতে ছুটছে এবং অন্যটি ধীরগতিতে চলছে, তখন সংঘর্ষের আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস রোড নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা বহুদিন ধরেই আলোচিত। প্রশ্ন হলো, বাস্তবায়ন কতটা
হয়েছে ? বিভাগ ভিত্তিক পরিসংখ্যানও কম ভয়াবহ নয়। ঢাকা বিভাগে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার ২৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং প্রাণহানির ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশই এই বিভাগে। একক জেলা হিসেবে গাজীপুরে সবচেয়ে বেশি ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকাতেও সেপ্টেম্বরে ৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বরিশাল, রংপুর ও সিলেটÑকোনো বিভাগই এই মৃত্যুর মিছিল থেকে মুক্ত নয়। অর্থাৎ এটি কোনো একটি জেলা বা একটি শহরের সমস্যা নয়; এটি জাতীয় সমস্যা।

আরও বেদনাদায়ক বিষয় হলো, এই মৃত্যুর তালিকায় সমাজের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, সেনা সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কাস্টমস কর্মকর্তা, ব্যাংক-বীমার কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিও কর্মী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, বিক্রয় প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম বা খাদেম, মোটর মেকানিক, পোশাক শ্রমিক, দিনমজুর এবং ৫৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। অর্থাৎ সড়কের মৃত্যু কাউকে চিনে আসে না। ধনী-গরিব, ক্ষমতাবান-সাধারণ, শহর-গ্রাম কারও জন্য সড়ক আলাদা কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। আজ যে মানুষটি অন্যের মৃত্যুর সংবাদ পড়ছেন, কাল তিনিই হয়তো একটি দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণও আমাদের ভাবায়। ভোর, সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতে সব সময়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অর্থাৎ দিনের কোনো নির্দিষ্ট সময়কে নিরাপদ বলা যাচ্ছে না। যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু নিরাপদ চালনার সংস্কৃতি ততটা বাড়ছে না। শহর ও মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে, কিন্তু সেই তুলনায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নজরদারি এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো কতটা আধুনিক হয়েছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সড়কের পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, সাতজন আহত এবং চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে ২৩টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। অর্থাৎ মানুষের চলাচলের প্রায় প্রতিটি মাধ্যমেই নিরাপত্তার প্রশ্নটি আজ সামনে এসেছে। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা শুধু দ্রুত চলাচলের নিশ্চয়তা দেয় না; মানুষের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তাও দিতে হয়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার যেসব কারণ উঠে এসেছে, সেগুলো নতুন নয়।

 

ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, অনির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে নানা অনিয়ম,এসব কারণ বহুবার আলোচনায় এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত আলোচনা, এত প্রতিবেদন, এত মৃত্যুর পরও পরিবর্তন কোথায় ?

শুধু দুর্ঘটনার পর মামলা করে, চালককে গ্রেপ্তার করে কিংবা তদন্ত কমিটি করে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া। প্রয়োজন প্রযুক্তি নির্ভর গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি। প্রয়োজন দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ। চালকদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, ন্যায্য বেতন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। রাজধানীতে আধুনিক কোম্পানি ভিত্তিক গণপরিবহন চালুর পাশাপাশি মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য সার্ভিস রোড নির্মাণ করতে হবে। সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ এবং সড়ক ব্যবহার কারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ও কার্যকর প্রচারণা চালাতে হবে। তবে সব কিছুর আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। কারণ নিরাপদ সড়ক কেবল পুলিশের দায়িত্ব নয়, শুধু বিআরটিএর দায়িত্ব নয়, শুধু সড়ক বিভাগের দায়িত্ব নয়। এটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক দায়িত্ব। একটি নিরাপদ সড়ক মানে একটি শিশু নিরাপদে স্কুলে যাবে, একজন শ্রমিক কর্মস্থল থেকে ঘরে ফিরবেন, একজন বাবা সন্তানের কাছে ফিরবেন, একজন মা তার সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকবেন না আতঙ্কে।

সেপ্টেম্বরের ৪২৩টি মৃত্যু তাই আমাদের কাছে শুধু একটি মাসের হিসাব নয়; এটি একটি আয়না। সেই আয়নায় আমরা আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা এবং উদাসীনতার চেহারা দেখতে পাচ্ছি। প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই আয়নায় তাকিয়ে নিজেদের বদলাব, নাকি পরের মাসের নতুন পরিসংখ্যানের অপেক্ষা করব ? কারণ ৪২৩ জন মানুষ কোনো সংখ্যা নন।

 

তারা ৪২৩টি পরিবার, ৪২৩টি অসমাপ্ত গল্প, অসংখ্য স্বপ্ন এবং অসংখ্য মানুষের কান্না। তাদের কেউ আর ফিরবেন না। কিন্তু তাদের মৃত্যু যদি আমাদের সড়ক ব্যবস্থাকে বদলে দিতে পারে, যদি একটি শিশুকে ভবিষ্যতের একটি দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে পারে, যদি একজন চালককে বেপরোয়া গতি থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে, যদি একটি ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি সড়ক থেকে সরিয়ে নিতে পারে,তবেই এই মৃত্যুগুলোর প্রতি আমাদের দায় কিছুটা হলেও পূরণ হবে। সড়ক উন্নয়নের নামে শুধু পিচ ঢালাই, উড়ালসড়ক নির্মাণ কিংবা যানবাহনের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; মানুষের নিরাপদে ঘরে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ যে সড়ক মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছানোর বদলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, সেই সড়ক যত আধুনিকই হোক, তার উন্নয়ন অসম্পূর্ণ। সেপ্টেম্বরে ৪২৩ জন চলে গেছেন। অক্টোবরের হিসাব যেন আরেকটি নতুন সংখ্যা না হয়,এটাই এখন প্রত্যাশা। সড়ককে মৃত্যুর ফাঁদ নয়, মানুষের নিরাপদ পথ বানানোর সময় এখনই। কারণ প্রতিটি মানুষই কারও না কারও অপেক্ষার নাম, প্রতিটি জীবনই একটি পরিবারের পৃথিবী।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট