রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

সংসদ চত্বরে আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস: কূটনৈতিক সৌজন্যতা নাকি আত্মমর্যাদার সংকট?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
সংসদ চত্বরে আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস: কূটনৈতিক সৌজন্যতা নাকি আত্মমর্যাদার সংকট?

‎‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎একটি জাতির কিছু প্রতীক থাকে, যা কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, বরং তার ইতিহাস, আত্মত্যাগ, স্বাধীনতা এবং জাতীয় চেতনার বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন তেমনই একটি প্রতীক। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্বের অন্যতম প্রধান প্রতীক এই জাতীয় সংসদ ভবন।

‎সেই সংসদ ভবনের সামনে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস উদযাপনের আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। প্রশ্নটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়, কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও নয়; বরং প্রশ্নটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, জাতীয় আত্মসম্মান এবং পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত।

‎বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো “সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।” এই নীতির অর্থ কখনোই কোনো পরাশক্তির প্রতি অতিরিক্ত অনুরাগ প্রদর্শন নয়, বরং সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখা। কিন্তু জাতীয় সংসদের মতো একটি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় প্রতীকের সামনে বিদেশি রাষ্ট্রের জাতীয় উৎসব আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে এটি কি কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য, নাকি এর মাধ্যমে একটি ভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হচ্ছে?

‎বিশ্বের অধিকাংশ স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র তাদের জাতীয় প্রতীক, সংসদ ভবন কিংবা রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রকে বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে সংরক্ষণ করে। এসব স্থান কেবল প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, বরং জাতীয় সার্বভৌমত্বের দৃশ্যমান প্রতীক। ফলে এসব স্থানের ব্যবহার নিয়ে জনগণের সংবেদনশীলতা থাকা স্বাভাবিক।

‎বাংলাদেশের জনগণ রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই রাষ্ট্র। সেই ইতিহাসের প্রতি সম্মান দেখানো রাষ্ট্রের প্রতিটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের নৈতিক কর্তব্য। জাতীয় সংসদ ভবনের মতো একটি স্থানের ব্যবহারে তাই সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিচক্ষণতা প্রত্যাশিত।

‎এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে। বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় সংসদ, প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স কিংবা ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর সামনে অন্য দেশের জাতীয় দিবস উদযাপনের কতটুকু নজির রয়েছে? যদি এমন নজির খুবই সীমিত হয়, তাহলে বাংলাদেশে এমন আয়োজনের যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

‎ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বর্তমান বিশ্ব ক্রমেই প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে। বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার এমন হওয়া উচিত, যাতে দেশের নিরপেক্ষতা, স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং কৌশলগত ভারসাম্য সম্পর্কে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়।

‎জনগণের একটি অংশ মনে করে, জাতীয় সংসদ ভবনের মতো স্থানে বিদেশি রাষ্ট্রের জাতীয় উৎসব উদযাপনের সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের দাবি অন্যান্য দেশও তুলতে পারে। তখন রাষ্ট্র কোন নীতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে, সেই প্রশ্নও সামনে আসবে। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা, জনজবাবদিহিতা এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

‎রাষ্ট্রের মর্যাদা কখনো অর্থনৈতিক সহায়তা, উন্নয়ন সহযোগিতা কিংবা কূটনৈতিক সম্পর্কের বিনিময়ে পরিমাপ করা যায় না। একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার আত্মমর্যাদা, স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জনগণের আস্থা। জাতীয় প্রতীকসমূহের মর্যাদা রক্ষার মধ্য দিয়েই সেই শক্তি প্রতিফলিত হয়।

‎আজ প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা। জনগণ জানতে চায় কোন নীতির আলোকে জাতীয় সংসদ চত্বরে এ ধরনের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে একই সুযোগ কি অন্য দেশগুলোকেও দেওয়া হবে, এবং জাতীয় প্রতীকগুলোর মর্যাদা রক্ষায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান কী।

‎বাংলাদেশ কারও বিরোধী নয়, কারও শত্রুও নয়। বাংলাদেশ বন্ধুত্ব চায়, সহযোগিতা চায়, উন্নয়ন চায়। কিন্তু সেই বন্ধুত্ব হতে হবে সমমর্যাদার, সেই সহযোগিতা হতে হবে সম্মানের, আর সেই উন্নয়ন হতে হবে জাতীয় স্বার্থ ও আত্মসম্মান অক্ষুণœ রেখে। কারণ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও যদি আমরা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও জাতীয় প্রতীকগুলোর প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নিতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

‎জাতীয় সংসদ ভবন বাংলাদেশের। এটি কোনো রাজনৈতিক দল, কোনো সরকার কিংবা কোনো বিদেশি শক্তির প্রতীক নয়; এটি ১৮ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্খা, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতীক। সেই মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।

‎‎‎লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা 

Ads small one

তহবিল অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের সবুজ জ্বালানি পরিকল্পনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
তহবিল অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের সবুজ জ্বালানি পরিকল্পনা

বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এটি দেশের সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রতি শক্তিশালী অঙ্গীকারের ইঙ্গিত দিলেও, বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল নিয়ে অনিশ্চয়তা দক্ষিণ এশিয়ায় এই রূপান্তরের গতি ধীর করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তুরস্কের আন্টালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের (কপ-৩১) আগে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সরকারের সাম্প্রতিক বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে একাধিক কর ও শুল্ক সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩১ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সরঞ্জাম আমদানিতে শূন্য শুল্ক এবং ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে করপোরেট আয়কর অব্যাহতি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য বিনিয়োগ ব্যয় কমানো, বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করা।

এ পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো অভিযোজন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ন্যায়সংগত রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে উন্নত দেশ ও বহুপাক্ষিক অর্থায়ন সংস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে একদিকে দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে হচ্ছে, অন্যদিকে কমে যাওয়া গ্যাস মজুত, আমদানি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

এই বাস্তবতাই বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তরকে একইসঙ্গে পরিবেশগত প্রয়োজন ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারে পরিণত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরেও এ বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতা ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—যার মধ্যে রয়েছে বড় সৌর প্রকল্প, ব্যাটারি স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন, সবুজ শিল্প ও জলবায়ু তহবিল।

চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন অংশীদার। নীতিনির্ধারকেরা আশা করছেন, বেইজিংয়ের সবুজ বিনিয়োগ সম্প্রসারণ দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পগুলোকে আরও গতিশীল করবে।

তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অগ্রগতি থাকলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভর করছে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকার এলএনজি আমদানি অব্যাহত রেখেছে; পাশাপাশি ২০৩০ সাল পর্যন্ত কয়লা আমদানিতে কর সুবিধা বহাল রেখেছে। সরকার বলছে, রূপান্তরকালীন সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এসব ব্যবস্থা প্রয়োজন।

এই বাস্তবতা দক্ষিণ এশিয়ার বড় চ্যালেঞ্জের প্রতিচ্ছবি—যেখানে একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্প উৎপাদন, অপরদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু লক্ষ্যকে সমন্বয় করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করবে এবং হালনাগাদ জাতীয় অবদান (এনডিসি) অনুযায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমাবে—যা আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

তবে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনো সীমিত, যা বড় আকারের বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গ্রিড আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ, উপকূলীয় সুরক্ষা এবং কৃষি ও নগর অবকাঠামোতে সহনশীলতা বাড়াতে প্রতিবছর বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশের এই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মিল রয়েছে।

ভারতেও জলবায়ু ঝুঁকি ও জ্বালানি রূপান্তরের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় বহু জেলায় ফসলহানি ও খাদ্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বেড়েছে। একইসঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ ও ব্যাটারি স্টোরেজে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে জলবায়ু তহবিল কপ-৩১ এর অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

বিশ্বব্যাংক ২০২৪ সালে ৪১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন দিয়েছে, যার মধ্যে ১১ দশমিক ৫ বিলিয়ন অভিযোজন খাতে। তবে সহায়তার দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

যদিও ২০২৪ সালে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, দাতা দেশগুলোর অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক অগ্রাধিকার পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে তহবিল কমে যেতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এ পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রয়োজন শুধু নিঃসরণ কমানোর জন্য নয়, বরং বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা ও কৃষি ক্ষতির মতো বাস্তব প্রভাব মোকাবিলায় অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন।

সম্প্রতি জাতিসংঘ জলবায়ু আলোচনায়ও তহবিল ইস্যু বড় ভূমিকা রাখে, তবে অগ্রগতি ছিল সীমিত।

স্বল্পোন্নত দেশগুলো বলেছে, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে রূপান্তরের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয় পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর ছাড়া।

এবার নজর কপ-৩১ এর দিকে, যেখানে তুরস্ক ‘অ্যাকশন অ্যাজেন্ডা’ প্রস্তাব করেছে—বিদ্যুতায়ন, মিথেন কমানো এবং বাস্তবভিত্তিক জ্বালানি রূপান্তরকে কেন্দ্র করে।

তবে বাংলাদেশের সাফল্য নির্ভর করবে কেবল আন্তর্জাতিক আলোচনার ওপর নয়, বরং অভ্যন্তরীণ বাস্তবায়নের ওপরও।

বাংলাদেশ এখনো সীমিত গ্রিড সক্ষমতা, ব্যাটারি স্টোরেজ ঘাটতি, জমির সংকট এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়ার মতো কাঠামোগত বাধার মুখে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কর ও শুল্ক প্রণোদনা তখনই কার্যকর হবে, যদি তা বেসরকারি বিনিয়োগ টানতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেন্টার ফর পারটিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (সিপিআরডি) প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, এখন সময় নীতি ঘোষণার বাইরে গিয়ে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প তৈরি করার। তার মতে, অনুদানভিত্তিক, পূর্বানুমানযোগ্য জলবায়ু তহবিলই টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের মূল চাবিকাঠি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের সবুজ জ্বালানি কৌশল বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিনিয়োগ বাড়লেও তা কার্যকর করতে হলে স্বচ্ছতা, পরিবেশগত মান এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি।

কপ-৩১ সামনে রেখে বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ হলো—নীতিকে বাস্তব প্রকল্পে রূপান্তর, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে বাস্তবায়নযোগ্য অর্থ ও প্রযুক্তিতে পরিণত করা।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তরের সফলতা নির্ভর করছে প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তবায়নের গতির ওপর।

আশাশুনিতে আবাসিক এলাকায় অবৈধ রাইস মিল, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে আবাসিক এলাকায় অবৈধ রাইস মিল, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

আশাশুনি প্রতিনিধি: সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে একের পর এক অটো রাইস মিল। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ও খাদ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই এসব মিল চলায় একদিকে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি।
বুধহাটা ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, মিলের ধোঁয়া ও তুষের ছাইয়ে গাছপালা পুড়ে যাচ্ছে এবং শিশুদের শ্বাসকষ্ট ও চোখের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। প্রতিটি মিলে আধুনিক ‘সাইক্লোন প্রযুক্তি’ থাকার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ চাতালে তা নেই। ফলে উড়ন্ত ছাই ও কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠছে।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণা রায় জানান, যেসব রাইস মিল পরিবেশ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়া চলছে, সেগুলোর তালিকা করা হচ্ছে এবং অচিরেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা সহকারী পরিচালক জানান, আবাসিক এলাকায় চাতাল স্থাপন নিয়মবহির্ভূত, লিখিত অভিযোগ পেলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

মণিরামপুরে ১০ মসজিদের উন্নয়নে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
মণিরামপুরে ১০ মসজিদের উন্নয়নে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১০টি মসজিদের উন্নয়নকাজে মোট ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২’ প্রকল্পের আওতায় এ অর্থ বরাদ্দ করা হয়।
রোববার (৫ জুলাই) উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বরাদ্দের অনুমোদনপত্র সংশ্লিষ্ট মসজিদ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদের অনুকূলে ৩ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বরাদ্দপ্রাপ্ত মসজিদগুলোর মধ্যে রয়েছে— মণিরামপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, বড় সালাতপুর জামে মসজিদ, পল্লি পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ, লেবুগাতী গোয়ালপাড়া মোড় জামে মসজিদ, ভোজগাতী বায়তুল আমান জামে মসজিদ, করেরাইল বাইতুল মামুন জামে মসজিদ, জালঝাড়া মাদ্রাসা মসজিদ, খড়িঞ্চি দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ, পারখাজুরা বায়তুল মামুন জামে মসজিদ এবং বাটবিলা পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ।
অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক ফজলুল হকসহ সংশ্লিষ্ট মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।