বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম, দেশের বাজারে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম, দেশের বাজারে কবে?

আন্তর্জাতিক বাজারে গত একমাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। গত মে মাসে গড়ে বিশ্ববাজারে অশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ব্যারেল প্রতি ১৮ ডলার। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রর মধ্যে চুক্তি সইয়ের পর ধারণা করা হচ্ছে— জ্বালানি তেলের দাম আরও কমবে। প্রশ্ন উঠেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তো দাম কমলো, এখন দেশের বাজারে কী হবে?

সরকারের তরফ থেকে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সময় বলা হয়েছিল— আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে দ্রুত দেশের বাজারেও দাম কমানো হবে।

গত দুই মাসের জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১ মে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলার। জুনের ১ তারিখে এই দাম কমে ব্যারেল প্রতি ৯৮ ডলারে নেমে আসে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পর বুধবার (১৭ জুন) তেলের দাম ব্যারেল প্রতি আরও ১৮ ডলার কমে ৭৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই এই দাম আর কমবে।

গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে ও জুন মাসে প্রতি ব্যারেল অশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে ৬১ থেকে ৬৫ ডলারের মধ্যে। অর্থাৎ এখনকার আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় এক বছর আগে ব্যারেল প্রতি কম ছিল ১৪ ডলার।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে ওঠে। তখন সরকার জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়িয়েছিল। চলতি জুনে আবারও ডিজেলের দাম না বাড়িয়ে অন্য তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়।

কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে গত মে মাসে দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার। যা বর্তমানে ৭৯ ডলার, অর্থাৎ ব্যারেল প্রতি দাম কমেছে ৪১ ডলার। তাহলে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমবে কিনা ভোক্তাদের মাঝে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও দেশে তেলের দাম বাড়ানোর অতীত ইতিহাস বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারে যে পরিমাণ বাড়ানো হয়, পরবর্তী সময়ে সেই হারে আর দাম কমে না।

যদিও জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্য বাড়ানোর পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গত ১ জুন বলেছেন, ‘‘আমরা আশাবাদী, মধ্যপ্রাচ্য সংকট শিগগিরই সমাধান হবে। আমি খুব দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও কমবে।’’

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিমাসের শেষে সরকার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে। এর ব্যতিক্রম করবে কিনা। এর আগে দেখা গেছে, এলপিজি ব্যবসায়ীদের চাপে সম্প্রতি একমাসে দুবার এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে।

গত ১৮ এপ্রিল সব চেয়ে বেশি তেলের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, অর্থাৎ লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়। কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, অকটেন লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়। পেট্রোলের দাম লিটারে ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা করা হয়। এরপর জুন মাসের জন্য ডিজেলের দাম ঠিক রেখে অন্য সব তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। জুনে অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে জ্বালানি সচিব মোহম্মদ সাইফুল ইসলাম ও বিপিসির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

বিইআরসি’র চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘‘জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে মন্ত্রণালয়। ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে বিইআরসি শুনানি করে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণ করে থাকে। বিইআরসির ক্ষেত্রে নিয়ম করা আছে— দামের ১০ ভাগ এদিক- ওদিক হলে আমরা মাসের মাঝামাঝি সমন্বয় করতে পারবো। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে এই নিয়ম থাকলে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও মাসের মাঝেও সমন্বয় করতে পারতো।’’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘‘একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের উচিত মানুষের সমস্যা বিবেচনা করা। কিন্তু কোনও সরকারই তা করে না। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে, দেশে যে পরিমাণ বাড়ানো হয়—কমলে সে পরিমাণ আর কমানো হয় না। এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা থাকলেই সম্ভব।’’

তিনি বলেন, ‘‘এখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমছে, তার ভিত্তিতে এখনই দাম সমন্বয় সম্ভব, যদি সরকার সেটা চায় তবেই।’’

Ads small one

কলারোয়ায় মিষ্টান্নের দোকানে ৮ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় মিষ্টান্নের দোকানে ৮ হাজার টাকা জরিমানা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে দুলালের মিষ্টির দোকান ও রাজ হোটেলকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে কলারোয়ার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ওই দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাতক্ষীরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান তানভীরের নেতৃত্বে ভোক্তা অধিকারের একটি টিম কলারোয়া পৌর শহরের বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়। এ সময় খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি না মানা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সংরক্ষণ এবং অন্যান্য ভোক্তা অধিকারবিরোধী অনিয়মের অভিযোগে কলারোয়া উপজেলা মোড়ের রাজ হোটেলের স্বত্বাধিকারী সাগর হোসেনকে ৩ হাজার টাকা এবং দুলালের মিষ্টির দোকানের স্বত্বাধিকারী সুভাষ ঘোষকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। সাতক্ষীরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান তানভীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

শ্যামনগরে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের সূচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের সূচনা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: “সংস্কৃতি মানুষের মনন গঠনে সহায়ক। সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও দ্রোহের চেতনা বিলিয়ে দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নির্যাতিত মানুষকে পথ দেখিয়েছেন।” প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে দেশব্যাপী এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ৬৪টি জেলা ও নির্ধারিত ৭৩টি উপজেলার মতো শ্যামনগরেও এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা যেমন জাতির মেরুদ-, তেমনি সংস্কৃতি মানুষের ভেতরের মননকে বিকশিত করে। নজরুলের সাহিত্য ও সৃষ্টিকে যদি নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া না যায়, তবে তারা বাঙালি সংস্কৃতির এক বিশাল অধ্যায় থেকে বঞ্চিত হবে। উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি জাতীয় কবির জীবন ও কর্ম নিয়ে আরও বেশি গবেষণা ও চর্চা বাড়ানোর তাগিদ দেন।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনের পর শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনকের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলার তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয় এবং সর্বস্তরের মানুষকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদ হোসাইনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন:
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. জিয়াউর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুল ওয়াহেদ ও সোলায়মান কবির, অধ্যাপক আবু সাইদ, শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনির, শিক্ষক প্রতিনিধি লাভলু, আজহারুল ইসলাম এবং এস কে সিরাজ।

আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও দর্শনের ওপর একটি তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধ পাঠ করেন শ্যামনগর সরকারি মহসীন কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক সচ্চিদানন্দ অমল।

বক্তারা বলেন, নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের বার্তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে কবির গান, কবিতা ও জীবনভিত্তিক নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক জাগরণ তৈরি করবে।

 

কেশবপুরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনায় শনিবার সকালে এই কার্যক্রমের সূচনা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন।

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহনেওয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডা. সমরেশ কুমার দত্ত ও ডা. তরিকুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মীরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ক্যাম্পেইনের আওতায় উপজেলার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে এই পুষ্টি ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং অন্ধত্ব দূরীকরণে এই ক্যাম্পেইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।