আশাশুনিতে অনুমোদনহীন পানির প্লান্টের রমরমা ব্যবসা, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য
সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলায় সুপেয় পানির তীব্র সংকটকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ পানির প্লান্ট। বিএসটিআই কিংবা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই এসব প্লান্ট থেকে ‘নিরাপদ পানি’র নামে যা বাজারজাত করা হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন থেকে চার লাখ টাকা খরচ করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্রযুক্তির প্লান্ট বসিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কোনো ধরনের মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই প্রতি লিটার পানি ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তদারকি না থাকায় এসব পানি আসলে কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আশাশুনির নলকূপের পানিতে লবণ ও আর্সেনিক থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে প্লান্টের পানির ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু রিভার্স অসমোসিস প্রক্রিয়ায় পানি পরিশোধনের পর প্রয়োজনীয় মিনারেল বা খনিজ উপাদান যুক্ত করা বাধ্যতামূলক, যা অধিকাংশ প্লান্টেই করা হচ্ছে না। এছাড়া ফিল্টার ও মেমব্রেন সময়মতো পরিবর্তন না করলে পানিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর আশঙ্কা থাকে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত পরিশোধনের ফলে পানি থেকে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো জরুরি খনিজ উপাদান দূর হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় এই পানি পান করলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা, পেশিতে ব্যথা ও দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। বিএসটিআই-এর পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে পরিদর্শন করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর ভাষ্য আরও করুণ। রিক্তা রানী ও বিথীকা সানা নামের দুই নারী জানান, বাড়িতে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই তাঁরা প্লান্টের পানি কিনছেন। ২০ লিটার পানির জার কিনতে পরিবহন খরচসহ তাঁদের ৩০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। পানি ভালো না মন্দ, তা যাচাই করার সুযোগ তাঁদের নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীতিশ গোলদার জানান, এসব প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় এনে নিয়মিত পানির নমুনা পরীক্ষা করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে এলাকায় বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, “পানির মান নিশ্চিত করতে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”









