সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আশাশুনিতে অনুমোদনহীন পানির প্লান্টের রমরমা ব্যবসা, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে অনুমোদনহীন পানির প্লান্টের রমরমা ব্যবসা, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলায় সুপেয় পানির তীব্র সংকটকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ পানির প্লান্ট। বিএসটিআই কিংবা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই এসব প্লান্ট থেকে ‘নিরাপদ পানি’র নামে যা বাজারজাত করা হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন থেকে চার লাখ টাকা খরচ করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্রযুক্তির প্লান্ট বসিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কোনো ধরনের মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই প্রতি লিটার পানি ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তদারকি না থাকায় এসব পানি আসলে কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আশাশুনির নলকূপের পানিতে লবণ ও আর্সেনিক থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে প্লান্টের পানির ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু রিভার্স অসমোসিস প্রক্রিয়ায় পানি পরিশোধনের পর প্রয়োজনীয় মিনারেল বা খনিজ উপাদান যুক্ত করা বাধ্যতামূলক, যা অধিকাংশ প্লান্টেই করা হচ্ছে না। এছাড়া ফিল্টার ও মেমব্রেন সময়মতো পরিবর্তন না করলে পানিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর আশঙ্কা থাকে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত পরিশোধনের ফলে পানি থেকে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো জরুরি খনিজ উপাদান দূর হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় এই পানি পান করলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা, পেশিতে ব্যথা ও দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। বিএসটিআই-এর পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে পরিদর্শন করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর ভাষ্য আরও করুণ। রিক্তা রানী ও বিথীকা সানা নামের দুই নারী জানান, বাড়িতে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই তাঁরা প্লান্টের পানি কিনছেন। ২০ লিটার পানির জার কিনতে পরিবহন খরচসহ তাঁদের ৩০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। পানি ভালো না মন্দ, তা যাচাই করার সুযোগ তাঁদের নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীতিশ গোলদার জানান, এসব প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় এনে নিয়মিত পানির নমুনা পরীক্ষা করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে এলাকায় বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, “পানির মান নিশ্চিত করতে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

Ads small one

বুড়িগোয়ালিনী বিএনপির মধ্যস্থতায় দুই পরিবারের ছেলে-মেয়ের বিয়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
বুড়িগোয়ালিনী বিএনপির মধ্যস্থতায় দুই পরিবারের ছেলে-মেয়ের বিয়ে

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুটি পরিবারের ছেলে-মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে বুড়িগোয়ালিনী বিএনপি কার্যালয়ে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে এ বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক জটিলতা ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিয়েটি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের নজরে এলে তারা উভয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আলোচনা করেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সমাধানের মাধ্যমে ছেলে-মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করান।

এসময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক সেনা সদস্য জিএম রুস্তম আলী, কুদরতে খোদা, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের মহিলার সদস্যা নিপা চক্রবর্তী, ফজলুল করিম, মহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম।

 

এসময় কুদরতে খোদা বলেন, সমাজে বিরোধ মীমাংসা, মানবিক সহায়তা এবং পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের এ উদ্যোগে দুই পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয়রা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

প্রাথমিক শিক্ষা পদকে শ্যামনগরে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক বাবু লাল ও শ্রেষ্ঠ স্কুল খ্যাগড়াদানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক শিক্ষা পদকে শ্যামনগরে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক বাবু লাল ও শ্রেষ্ঠ স্কুল খ্যাগড়াদানা

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: চলতি বছরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার তালিকায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (পুরুষ) ১৪ নং চিংড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু লাল মিস্ত্রী ও শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯১ খ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে প্রকাশ, ২০২৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষা পদকের তালিকায় অন্যান্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক (পুরুষ) ১৩ নং হায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিনুর রহমান, শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক(মহিলা) ৯১ খ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাছরিন আক্তার।

 

শ্রেষ্ঠ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহীন হোসেন, শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (পুরুষ) ৯১ খ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ সুমন আহমেদ, শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা) ১৭৫ নং দক্ষিণ পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিনা খাতুন ও শ্রেষ্ঠ কর্মচারী মোঃ খায়রুল আলম।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার এনামুল হক বলেন সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রাপ্তদের নির্ধারিত কমিটি কর্তৃক যাচাই বাছাই করে নির্বাচন করা হয়েছে এবং পদক প্রাপ্ত সকলকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করা হয়েছে।

 

শ্যামনগরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কম আয়ের মানুষরা পেল ১৪৮ মেট্রিক টন চাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কম আয়ের মানুষরা পেল ১৪৮ মেট্রিক টন চাল

রনজিৎ বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সরকারিভাবে একটি পৌরসভা ও এগারটি ইউনিয়নের দরিদ্র ব্যক্তি বা কম আয়ের মানুষ ১৪ হাজার ৮৮৬ টি ভিজিএফ কার্ডধারীরা পরিবার পিছু ১০ কেজি হারে পাবে ১৪৮.৮৬০ মেট্রিকটন চাউল।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে প্রকাশ, উপজেলায় ১১ টি ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডধারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৩৭ জন। এই কার্ডের বিনিময়ে বরাদ্দকৃত চাউলের পরিমান ১৩৩.৩৭০ মেট্রিকটন। শ্যামনগর পৌরসভায় কার্ডধারীর সংখ্যা হল ১৫৪৯ জন এবং এই কার্ডের বিনিময়ে চাউল বরাদ্ধ ১৫.৪৯ মেট্রিকটন।

ইউনিয়ন অনুযায়ী কার্ড ধারীর সংখ্যা ও বরাদ্ধকৃত চাউল ভূরুলিয়া ইউনিয়নে কার্ড সংখ্যা ৮৭৯ টি ও বরাদ্ধকৃত চাউল ৮.৭৯ মেট্রিকটন, কাশিমাড়ী ইউপির কার্ড সংখ্যা ১২৫২ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১২.৫২০ মেট্রিকটন, নুরনগর ইউপির কার্ড সংখ্যা ৮৯৯টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ৮.৯৯০ মেট্রিকটন, কৈখালী ইউপির কার্ড সংখ্যা ১৩৫২ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১৩.৫২০ মে.টন, রমজাননগর ইউপির কার্ডধারী ১১১২ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১১.১২০ মে.টন, মুন্সিগঞ্জ ইউপির কার্ড সংখ্যা ১৪৬৫ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১৪.৬৫০ মে.টন, ঈশ^রীপুর ইউপির কার্ড সংখ্যা ১১৮৫ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১১.৮৫০ মে.টন, বুড়িগোয়ালিনী ইউপির কার্ড সংখ্যা ১২৭২টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১২.৭২০ মে.টন, আটুলিয়া কার্ড সংখ্যা ১৩৭৩টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১৩.৭৩০ মে.টন, পদ্মপুকুর ইউপির কার্ড সংখ্যা হল ১২১৯ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১২.১৯০ মে.টন ও গাবুরা ইউপির কার্ড সংখ্যা হল ১৩২৯টি, বরাদ্ধকৃত চউাল ১৩.২৯০ মে.টন।

 

সব মিলিয়ে ১১টি ইউপিতে কার্ড সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৩৭টি এবং বরাদ্ধকৃত চাউল ১৩৩ মেট্রিক টন ৩৭০ কেজি।

জানা যায় ঈদের পূর্বেই সকল ইউনিয়নে চাউল বিতরণ সমাপ্ত করা হবে। চাউল বিতরণের সময় প্রত্যেকটি ইউপির ভিজিএফ কমিটি ও নির্ধারিত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে মাস্টার রোলের মাধ্যমে চাউল বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।