সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

আশাশুনিতে চাল বিতরণ নিয়ে হট্টগোল: পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে চাল বিতরণ নিয়ে হট্টগোল: পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে ডিলার ও এক নারী কার্ডধারীর মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী ‘যার কার্ড তাকেই চাল’ দেওয়ার নীতি মানতে চাওয়ায় ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ডিলার। তবে ভুক্তভোগী ওই নারী ডিলারের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও মারধরের পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। রবিবার (১২ এপ্রিল) উপজেলার কালাবাগী বাজারে চাল বিতরণ কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
ডিলার হাবিবুর রহমান জানান, তাঁর অধীনে ৬০২ জন কার্ডধারী রয়েছেন। গতকাল চাল বিতরণ চলাকালীন ঝর্না খাতুন নামের এক নারী নিজের কার্ডসহ আরও ৫-৭টি কার্ড নিয়ে একসঙ্গে সব চাল দাবি করেন। ডিলার তখন নিজেরসহ মা ও ভাইপোর চাল দিলেও বাকিদের ক্ষেত্রে কার্ডধারীদের উপস্থিতির কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঝর্না খাতুন চিল চিৎকার ও অশালীন ভাষা ব্যবহার শুরু করেন। একপর্যায়ে বিতরণে বিঘœ ঘটলে তাঁকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। ডিলারের দাবি, কোনো মারধর বা শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেনি; বরং চাল না পেয়ে বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে অসত্য অভিযোগ করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঝর্না খাতুন দাবি করেছেন, ডিলার তাঁকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর ও জখম করা হয়েছে। ইতিপূর্বেও ওই ডিলার তাঁকে উত্ত্যক্ত করেছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী সজল গাইন ও খালেক মোড়ল জানান, শত শত মানুষের সামনে ওই নারী রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে একাধিক বস্তা চাল নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। সেখানে মারধর বা রক্তারক্তির কোনো আলামত তাঁরা দেখেননি। স্থানীয় চা-দোকানি মাবিয়া খাতুনও জানান, তিনি ওই নারীকে উত্তেজিত অবস্থায় জুতা হাতে নিয়ে গালিগালাজ করতে দেখেছেন, তবে কোনো জখম বা আঘাতের চিহ্ন তাঁর চোখে পড়েনি।
দরগাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মজিদ জোয়ার্দ্দার বলেন, “ঝর্না খাতুন চারজনের চাল একাই নিতে চেয়েছিলেন। ডিলার নিয়ম মানতে বলায় ঝগড়া বাধে। জনসমক্ষে কথা-কাটাকাটি ও তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু মারধর বা কুপ্রস্তাবের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে দরগাহপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মিরাজ আলী বলেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে পরে শুনেছেন যে চাল দেওয়া নিয়ে ডিলারের সঙ্গে ওই নারীর কথা-কাটাকাটি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ট্যাগ অফিসারকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Ads small one

প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

শেখ আব্দুল আলিম: সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার কমিটির সক্ষমতা বাড়াতে এক পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের ম্যানগ্রোভ সভাকক্ষে উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকা ও প্রাণসায়ের খাল পাড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা জানান, প্রাণসায়ের খালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যাতায়াতের জন্য যে পথটি তৈরি করা হয়েছে, তা বর্তমানে গরু-ছাগল চলাচল, ময়লা-আবর্জনা এবং মাদকসেবীদের দখলে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে পুরো এলাকাটিকে ধূমপান ও মাদকমুক্ত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ঝুড়ি (বাস্কেট) স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিনিধি রতœা খাতুন, অণিক দত্ত এবং কর্মসূচি সঞ্চালক নাসরিন সুলতানা মৌ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা বড়বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রব, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রতিনিধি মো. ইদ্রিস আলি, মো. রাশেদ, আব্দুল আলিম, ফরিদ আহম্মেদ ময়না এবং প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা।
আলোচনা পর্ব শেষে সাতক্ষীরা শহর ও প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত রাখতে সর্বস্তরের নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পৌর প্রতিনিধি মোঃ ইদ্রিস আলি ও রূপান্তরের প্রতিনিধি নাসরিন সুলতানা মৌ।

সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি: জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প। দীর্ঘ লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে প্রায় ১৫৮ মেগাওয়াট। তবে আবহাওয়াভেদে গড় চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ, এমনকি ক্ষেত্রভেদে আরও বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে এলাকাভেদে দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ও আশাশুনির গদাইপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর মাত্র এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ধানের মিল, মুড়ির মিল ও খাবার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আশাশুনির মৎস্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরাও জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
সাতক্ষীরা সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ জানান, ভোল্টেজ পরিবর্তনের কারণে ফ্রিজসহ মূল্যবান সরঞ্জাম বিকল হয়ে যাচ্ছে। এতে কোল্ড স্টোরেজ ও ফ্রিজনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘিœত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মুহাঃ আজিজু রহমান সরকার জানান, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে এক ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়; তবে কোথাও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তা কারিগরি ত্রুটি বা স্থানীয় সমস্যার কারণে হতে পারে।

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার কয়রা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। ৫৩৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই মহাসড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। একই বছরের ডিসেম্বরে ৩৩৯ কোটি টাকা চুক্তিতে মোজাহার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ বর্তমানে প্রকল্পের মোট বাজেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁক সোজা করার কাজ সিংহভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার মূল কাজ অর্ধেকের কম হয়েছে। নির্মাণাধীন সড়কের ধুলোবালি ও খানাখন্দে যানবাহনের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি লাগছে। বিশেষ করে রোগী, পরীক্ষার্থী ও নিত্যদিনের যাত্রীদের যাতায়াতে চরম বিঘœ ঘটছে।
খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ জানান, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কাজে ধীরগতি ছিল। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণাও নিয়মিত তদারকি করছেন বলে জানান।