আশাশুনিতে জেলা পরিষদের পুকুরের মাছ লুটপাট, কেয়ারটেকারকে লাঞ্ছিত
আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে জেলা পরিষদের একটি সংরক্ষিত পুকুর থেকে মাছ ধরে লুটপাট ও কেয়ারটেকারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২ মে) সকালে উপজেলার বুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র অন্তত ৫ থেকে ৭ মণ মাছ লুট করেছে বলে জানা গেছে।
জেলা পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িয়া গ্রামের এই পুকুরটি এলাকাবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। পুকুরের পানি যেন নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে এটি কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি এবং এতে মাছ চাষ বা গোসল করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে গোপনে পুকুরটির মাছ ধরে আসছিল।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমানের নির্দেশে শনিবার সকাল সোয়া আটটার দিকে পুকুর পরিদর্শনে যান জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার তারিফুল ইসলাম। তিনি জানান, সেখানে গিয়ে দেখেন ফকরাবাদ ও বুড়িয়া গ্রামের অন্তত ১২-১৩ জন ব্যক্তি জাল টেনে মাছ ধরে বস্তায় ভরছেন।
তারিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘আমি তাদের বাধা দিতে গেলে তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে লাঞ্ছিত করে। দ্রুত বস্তাভর্তি মাছ নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা সটকে পড়ে।’
আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নীতিশ বিশ্বাস বলেন, ‘পুকুর থেকে মাছ মারার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে মাছ ধরার সত্যতা পাওয়া গেছে, তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কেয়ারটেকারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান জানান, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটি দেখছেন।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, ‘সংরক্ষিত পুকুরের মাছ লুটের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’









