সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

আশাশুনিতে লোনাপানিতে ১০ হাজার বিঘা ধান তলিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, ইউএনওকে স্মারকলিপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে লোনাপানিতে ১০ হাজার বিঘা ধান তলিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, ইউএনওকে স্মারকলিপি

পত্রদূত রিপোর্ট: আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নে রাতের আঁধারে স্লুইসগেট দিয়ে লোনাপানি ঢুকিয়ে প্রায় ১০ হাজার বিঘা বোরো ধানের জমি প্লাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। এ ঘটনার প্রতিকার ও লোনাপানি ঢোকানো বন্ধের দাবিতে সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কু-ুর হাতে স্মারকলিপিটি তুলে দেন আনুলিয়া ইউনিয়নের নারী নেতৃত্বাধীন ‘সংগ্রামী বেড়িবাঁধ সুরক্ষা দল’-এর সদস্যরা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত কয়েক দিন আগে রাতের আঁধারে একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে কালকি স্লুইসগেটের কপাট বসিয়ে কপোতাক্ষ নদের লোনাপানি বিলে ঢুকিয়ে দেন। এতে গজুয়াকাটি, রাউতাড়া, গোয়ালডাঙ্গা, পিরোজপুর, খালিয়া ও ফটিকখালীসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বোরো ধান কাটার আগেই তলিয়ে গেছে। বর্তমানে এসব জমিতে আউশ চাষও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, বিলে মাছ ধরা ও ঘেরে পানি তোলার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ মহল স্কেভেটর ব্যবহার করে স্লুইসগেটটি নিয়ন্ত্রণ করছে। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে পুরো জনপদকে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

নারী নেতৃত্বাধীন বেড়িবাঁধ সুরক্ষা দলের সভাপতি আফরোজা খানম বলেন, “লোনাপানির কারণে শুধু ধান নয়, পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। মাঠের ঘাস নষ্ট হয়ে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি পুকুরে নোনা জল ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও গোসলের মিষ্টি পানির তীব্র হাহাকার শুরু হয়েছে।”

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে স্মারকলিপিতে দুটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়েছেÑ কালকি স্লুইসগেট দিয়ে লোনাপানি ঢোকানো অবিলম্বে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। স্লুইসগেট তদারকির জন্য স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি ও কৃষকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কু-ু স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এম্ব্যাসি অব সুইডেন ও ইউএন উইমেন-এর সহযোগিতায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনিতে ‘লিঙ্গ-সংবেদনশীল দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনসহ কয়েকটি সংস্থা। এই প্রকল্পের সদস্যরাই কৃষকদের এই দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়েছেন।

Ads small one

গ্রাম পরিচ্ছন্ন রাখতে তালায় ‘ওয়াশ ক্যাম্পেইন’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
গ্রাম পরিচ্ছন্ন রাখতে তালায় ‘ওয়াশ ক্যাম্পেইন’

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার গ্রামগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও রোগমুক্ত রাখার লক্ষ্যে ‘ওয়াশ ক্যাম্পেইন’ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার খানপুর গ্রামে গ্রাম উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড কনসার্ন’-এর আলো প্রকল্পের সহায়তায় এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

কর্মসূচি উপলক্ষে খানপুর মিশন সভা কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তালা সদর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার, বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার মাধ্যমে রোগব্যাধি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভা শেষে একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গ্রামের রাস্তাঘাট ও বাসিন্দাদের বাড়ির আশপাশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জনপ্রতিনিধি, এনজিও কর্মী, সমাজকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

ডুমুরিয়ায় চলাচলের পথ বন্ধ, অবরুদ্ধ কয়েকটি পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
ডুমুরিয়ায় চলাচলের পথ বন্ধ, অবরুদ্ধ কয়েকটি পরিবার

{"capture_mode":"AutoModule","faces":[]}

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আন্দুলীয়া গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি বেড়া ও পিলার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে ওই গ্রামের গৌতম সাহার পরিবারসহ কয়েকটি পরিবারের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিবেশী এক ব্যক্তির সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, প্রতিবেশী দীপঙ্কর সাহার সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এরই জেরে সম্প্রতি দীপঙ্কর সাহা বিরোধপূর্ণ জমিতে খুঁটি ও বেড়া দিয়ে চলাচলের পথটি আটকে দেন। ফলে পরিবারগুলোর দৈনন্দিন চলাচলসহ শিশু ও বৃদ্ধদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় লোকজনের দাবি, আন্দুলীয়া সাহা পাড়ার এই রাস্তাটি গত ৮০ থেকে ৯০ বছর ধরে এলাকাবাসী ব্যবহার করে আসছেন। যাতায়াতের অন্য কোনো বিকল্প পথ না থাকায় পরিবারগুলো এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। কয়েকবার স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দীপঙ্কর সাহা জানান, জমিটি তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তি এবং মালিকানা ফিরে পেতে তিনি ইতিমধ্যে থানায় মামলাও করেছেন। তবে এলাকাবাসী বলছেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জমি হলেও দীর্ঘ সময় ধরে চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসায় এটি এখন সাধারণের অধিকারের আওতায় পড়ে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘সুখাধিকার আইন, ১৮৮২’ অনুযায়ী কোনো রাস্তা যদি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে কোনো বাধা ছাড়াই নিয়মিত ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তবে সেই পথে চলাচলের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এক্ষেত্রে জমির মালিক চাইলেই হঠাৎ করে চলাচলের পথ বন্ধ করতে পারেন না।

ভুক্তভোগী গৌতম সাহা বলেন, “হঠাৎ করে রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি না। জরুরি প্রয়োজনে বা অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নেওয়ারও কোনো পথ নেই। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।”

ডুমুরিয়া থানা পুলিশ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত রাস্তাটি খুলে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে অবরুদ্ধ পরিবারগুলো স্বাভাবিক চলাচলের নিশ্চয়তা পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

পাইকগাছায় ভুমিহীনদের জমি জবর বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট, মারপিট ও অগ্নি সংযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় ভুমিহীনদের জমি জবর বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট, মারপিট ও অগ্নি সংযোগ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় ভুমিহীনদের বন্দোবস্তকৃত জমি জবর দখল, বাড়ী-ঘর ভাংচুর, লুটপাট, মারপিট ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার অপরাধে ভুমিহীন ৮ পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার আগড়ঘাটাস্থ রামনাথপুর গ্রামের একটি অংশ কপোতাক্ষ নদের ভাঙ্গনে জেগে ওঠা চরভরাটি জমি ৫৫ জন ভুমিহীন পরিবারকে ৩ বিঘা করে সরকার বন্দোবস্ত দেয়। যা পাররামনাথপুর গ্রাম বা মৌজা নামে পরিচিত। সে অনুযায়ী উক্ত জমিতে বসতবাড়ী বানিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ তারা সেখানে বসবাস করছেন। ১০ মে রোববার বিকেলে ৫ টার দিকে হঠাৎ হরিঢালী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফারুখ হোসেন লাকির নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন ভুমিদস্যু ভুমিহীনদের বন্দোবস্তকৃত জমি জবর দখল করতে যায়। এসময় তারা ভুমিহীনদের বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে নারীপুরুষদের বেধড়ক মারপিট করে জখম করে। ফাইমা বেগম (২৮) কে জখম অবস্থায় পাইকগাছা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় হামিদ সরদার বাদী হয়ে রাতে থানায় এজহার দাখিল করেন। এ খবর পেয়ে গভীর রাতে আবারও ইউপি সদস্য লাকির নেতৃত্বে আশরাফ শেখ, আজিজ শেখ, মজিদ শেখ,রহিম শেখ, ইউনুছ শেখ, হোসেন আলী শেখ, মোশাররফ চৌধুরী, শেখ রাজনসহ ৪০-৫০ জন ঘেরের বাঁধ কেটে মাছ লুটপাট করে। অগ্নিসংযোগ করে তপন বিশ্বাস ও সুতপ্ত গাইনের দুটি ঘর ভস্মীভূত করে দেয়। লোকজন জীবন রক্ষায় এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান বলে ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলামসহ ভুমিহীনরা জানান। তাদের দাবী নারীদের হেনস্থা করা হয়েছে, পুড়ে গেছে সাগরে মাছ ধরার বেহোনদি জাল। যার মুল্য ৫ লক্ষাধিক টাকা। এছাড়া অন্যান্য আসবাপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এবিষয়ে ইউপি সদস্য লাকি বলেন, ঐ জমি রেকর্ডীয় জমি। আর আমি ১৮শ’ লোকের প্রতিনিধিত্ব করি। তাদের দেখভালের দায়িত্ব আমার। পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া বলেন, একটা এজহার দাখিল হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করেছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।