আশাশুনিতে লোনাপানিতে ১০ হাজার বিঘা ধান তলিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, ইউএনওকে স্মারকলিপি
পত্রদূত রিপোর্ট: আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নে রাতের আঁধারে স্লুইসগেট দিয়ে লোনাপানি ঢুকিয়ে প্রায় ১০ হাজার বিঘা বোরো ধানের জমি প্লাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। এ ঘটনার প্রতিকার ও লোনাপানি ঢোকানো বন্ধের দাবিতে সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কু-ুর হাতে স্মারকলিপিটি তুলে দেন আনুলিয়া ইউনিয়নের নারী নেতৃত্বাধীন ‘সংগ্রামী বেড়িবাঁধ সুরক্ষা দল’-এর সদস্যরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত কয়েক দিন আগে রাতের আঁধারে একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে কালকি স্লুইসগেটের কপাট বসিয়ে কপোতাক্ষ নদের লোনাপানি বিলে ঢুকিয়ে দেন। এতে গজুয়াকাটি, রাউতাড়া, গোয়ালডাঙ্গা, পিরোজপুর, খালিয়া ও ফটিকখালীসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বোরো ধান কাটার আগেই তলিয়ে গেছে। বর্তমানে এসব জমিতে আউশ চাষও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, বিলে মাছ ধরা ও ঘেরে পানি তোলার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ মহল স্কেভেটর ব্যবহার করে স্লুইসগেটটি নিয়ন্ত্রণ করছে। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে পুরো জনপদকে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
নারী নেতৃত্বাধীন বেড়িবাঁধ সুরক্ষা দলের সভাপতি আফরোজা খানম বলেন, “লোনাপানির কারণে শুধু ধান নয়, পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। মাঠের ঘাস নষ্ট হয়ে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি পুকুরে নোনা জল ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও গোসলের মিষ্টি পানির তীব্র হাহাকার শুরু হয়েছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে স্মারকলিপিতে দুটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়েছেÑ কালকি স্লুইসগেট দিয়ে লোনাপানি ঢোকানো অবিলম্বে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। স্লুইসগেট তদারকির জন্য স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি ও কৃষকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কু-ু স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এম্ব্যাসি অব সুইডেন ও ইউএন উইমেন-এর সহযোগিতায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনিতে ‘লিঙ্গ-সংবেদনশীল দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনসহ কয়েকটি সংস্থা। এই প্রকল্পের সদস্যরাই কৃষকদের এই দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়েছেন।









