সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

পাইকগাছায় ভুমিহীনদের জমি জবর বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট, মারপিট ও অগ্নি সংযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় ভুমিহীনদের জমি জবর বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট, মারপিট ও অগ্নি সংযোগ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় ভুমিহীনদের বন্দোবস্তকৃত জমি জবর দখল, বাড়ী-ঘর ভাংচুর, লুটপাট, মারপিট ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার অপরাধে ভুমিহীন ৮ পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার আগড়ঘাটাস্থ রামনাথপুর গ্রামের একটি অংশ কপোতাক্ষ নদের ভাঙ্গনে জেগে ওঠা চরভরাটি জমি ৫৫ জন ভুমিহীন পরিবারকে ৩ বিঘা করে সরকার বন্দোবস্ত দেয়। যা পাররামনাথপুর গ্রাম বা মৌজা নামে পরিচিত। সে অনুযায়ী উক্ত জমিতে বসতবাড়ী বানিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ তারা সেখানে বসবাস করছেন। ১০ মে রোববার বিকেলে ৫ টার দিকে হঠাৎ হরিঢালী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফারুখ হোসেন লাকির নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন ভুমিদস্যু ভুমিহীনদের বন্দোবস্তকৃত জমি জবর দখল করতে যায়। এসময় তারা ভুমিহীনদের বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে নারীপুরুষদের বেধড়ক মারপিট করে জখম করে। ফাইমা বেগম (২৮) কে জখম অবস্থায় পাইকগাছা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় হামিদ সরদার বাদী হয়ে রাতে থানায় এজহার দাখিল করেন। এ খবর পেয়ে গভীর রাতে আবারও ইউপি সদস্য লাকির নেতৃত্বে আশরাফ শেখ, আজিজ শেখ, মজিদ শেখ,রহিম শেখ, ইউনুছ শেখ, হোসেন আলী শেখ, মোশাররফ চৌধুরী, শেখ রাজনসহ ৪০-৫০ জন ঘেরের বাঁধ কেটে মাছ লুটপাট করে। অগ্নিসংযোগ করে তপন বিশ্বাস ও সুতপ্ত গাইনের দুটি ঘর ভস্মীভূত করে দেয়। লোকজন জীবন রক্ষায় এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান বলে ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলামসহ ভুমিহীনরা জানান। তাদের দাবী নারীদের হেনস্থা করা হয়েছে, পুড়ে গেছে সাগরে মাছ ধরার বেহোনদি জাল। যার মুল্য ৫ লক্ষাধিক টাকা। এছাড়া অন্যান্য আসবাপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এবিষয়ে ইউপি সদস্য লাকি বলেন, ঐ জমি রেকর্ডীয় জমি। আর আমি ১৮শ’ লোকের প্রতিনিধিত্ব করি। তাদের দেখভালের দায়িত্ব আমার। পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া বলেন, একটা এজহার দাখিল হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করেছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Ads small one

পাটকেলঘাটায় ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদরের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার পৃথক অসুস্থতায় ভুগে মারা যান যুগিপুকুরিয়া গ্রামের শহর আলী সরদারের দুই ছেলে আছিরদ্দীন (৫৮) ও মোহাম্মদ আলী (৫০)।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহর আলীর পাঁচ ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আছিরদ্দীন গত ২০ দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। সোমবার ভোরে নিজ বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়। বড় ভাইয়ের দাফনের প্রস্তুতি চলাকালেই দুপুর ১২টার দিকে মারা যান সেজ ভাই মোহাম্মদ আলী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। স্বজনদের দাবি, তাঁর শরীরে একটি টিউমার জটিল আকার ধারণ করে পরবর্তীতে ক্যানসারে রূপ নিয়েছিল।
একই দিনে দুই ভাইয়ের এমন মৃত্যুতে পরিবারটিতে চলছে কান্নার রোল। মৃত আছিরদ্দীনের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্যদিকে মোহাম্মদ আলী রেখে গেছেন এক ছেলে ও পাঁচ মেয়েকে। সোমবার বাদ জোহর বড় ভাই আছিরদ্দীনের এবং বাদ মাগরিব সেজ ভাই মোহাম্মদ আলীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।

প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে গ্রামে বিষাদময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সান্ত¡না দিতে ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী।

হামে শিশু মৃত্যুর ভয়াবহতা: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক কঠিন সতর্কবার্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
হামে শিশু মৃত্যুর ভয়াবহতা: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক কঠিন সতর্কবার্তা

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
বাংলাদেশ আবারও এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে হামে আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশুর মৃত্যু ঘটছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৪০০-এর বেশি শিশুমৃত্যুর আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে, আবার অনেকে মনে করছেন প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। দেশের প্রায় সব বিভাগেই হাম ছড়িয়ে পড়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক কয়েক লক্ষ ছাড়িয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো এই রোগে আক্রান্তদের বড় অংশই পাঁচ বছরের নিচের শিশু।
বাংলাদেশ একসময় হাম নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের সফল দেশগুলোর মধ্যে ধরা হতো। টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে বহু বছর ধরে হাম প্রায় নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে অর্ন্তবর্তীকালিন সরকারের সময়ে টিকাদানে ঘাটতি, ভ্যাকসিন সংকট, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা, সচেতনতার অভাব এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে আবারও ভয়াবহভাবে ফিরে এসেছে এই রোগ। আজকের বাংলাদেশে হামের এই পুনরুত্থান শুধু একটি রোগের বিস্তার নয়, বরং এটি আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি এবং সামাজিক সচেতনতার এক কঠিন পরীক্ষাও।
হাম কী ? অনেকেই একে সাধারণ জ্বর বা শিশুদের চর্মরোগ ভেবে ভুল করেন। কিন্তু বাস্তবে হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মূলত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং খুব সহজেই অন্য শিশু বা মানুষ আক্রান্ত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হাম পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সংক্রামক রোগগুলোর একটি। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জন পর্যন্ত অন্য মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। হামের লক্ষণ শুরু হয় সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হওয়া দিয়ে। এরপর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। অনেক পরিবার প্রথমদিকে এটিকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু এই অবহেলাই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। কারণ হাম শুধু চামড়ার ফুসকুড়িতে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি ফুসফুসে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণ, তীব্র ডায়রিয়া, অপুষ্টি এবং শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করতে পারে। দুর্বল ও অপুষ্ট শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকা পায়নি বা অসম্পূর্ণ টিকা পেয়েছে, তাদের জন্য হাম প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো এত বেশি মৃত্যু এবার কেন ঘটছে? অতীতে তো হাম ছিল, কিন্তু এত ব্যাপক মৃত্যুর খবর পাওয়া যেত না। এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে।
প্রথমত, টিকাদানে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের তথ্যে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত হাম-রুবেলা টিকাদানের হার কমে গেছে। এমনকি কিছু সময় ভ্যাকসিন সরবরাহেও সংকট দেখা দেয়। ফলে বিপুল সংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। দীর্ঘদিন ধরে যেসব শিশু টিকা পায়নি, তাদের মধ্যে একসাথে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয়ত, করোনা মহামারির পর অনেক দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। বহু পরিবার শিশুদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়নি, আবার অনেক এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছিল। ফলে “ইমিউনিটি গ্যাপ” বা রোগ প্রতিরোধের ফাঁক তৈরি হয়েছে। এই ফাঁকই এখন বিপজ্জনকভাবে প্রকাশ পাচ্ছে।
তৃতীয়ত, দেশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বস্তি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকার বিভিন্ন বস্তি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে। যেখানে এক ঘরে অনেক মানুষ থাকে, সেখানে একজন আক্রান্ত হলেই পুরো পরিবার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চতুর্থত, অপুষ্টি একটি বড় কারণ। বাংলাদেশের বহু শিশু এখনও অপুষ্টিতে ভোগে। অপুষ্ট শিশুর শরীর রোগ প্রতিরোধে দুর্বল থাকে। হাম হলে তাদের নিউমোনিয়া বা মারাত্মক জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব থাকলে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকেরা তাই হাম আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
পঞ্চমত, অনেক পরিবার এখনও কুসংস্কার বা ভুল তথ্যের কারণে টিকা নিতে অনীহা দেখায়। কেউ কেউ মনে করেন টিকা দিলে সমস্যা হয়, আবার অনেকে গুজবে বিভ্রান্ত হন। অথচ বাস্তবতা হলো হামের টিকা কোটি কোটি শিশুর জীবন বাঁচিয়েছে। বিশ্বজুড়ে দুই ডোজ টিকা গ্রহণই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা হিসেবে স্বীকৃত।
সরকারের কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল এই প্রশ্নও এখন সামনে এসেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কখনও দুর্বল হতে দেওয়া উচিত ছিল না। দেশে টিকার পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে ঘরে ঘরে গিয়ে শিশুদের তালিকা তৈরি করে টিকা নিশ্চিত করতে হতো। স্কুল, মসজিদ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ব্যাপক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে যেসব এলাকায় শিশুরা টিকা পায়নি, সেখানে আগেভাগে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো গেলে হয়তো এত বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো। তবে ইতোমধ্যে সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহায়তায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাখ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কর্মসূচি দ্রুত এবং সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। হামের চিকিৎসা নিয়ে একটি ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন হাম হলে “গায়ে বের হতে দিতে হয়”, বেশি ওষুধ খাওয়া যাবে না, বা ঘর অন্ধকার করে রাখতে হবে। এগুলোর অনেকটাই বৈজ্ঞানিক নয়। হাম হলে শিশুকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার, জ্বর নিয়ন্ত্রণ, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে ইচ্ছেমতো ওষুধ না খাইয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো হামের টিকা কি জরুরি? উত্তর হলো, অবশ্যই জরুরি। শুধু জরুরি নয়, এটি শিশুর জীবনের জন্য অপরিহার্য। চিকিৎসাবিজ্ঞান বহু আগেই প্রমাণ করেছে, দুই ডোজ হাম-রুবেলা টিকা একজন শিশুকে মারাত্মক হাম থেকে সুরক্ষা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, একটি দেশকে নিরাপদ রাখতে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হয়। এই হার কমে গেলেই মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের একটি বড় শিক্ষা দিচ্ছে। একটি রোগকে একবার নিয়ন্ত্রণে আনলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। টিকাদান বন্ধ হলে বা দুর্বল হলে বহু বছর পরেও সেই রোগ ভয়ংকরভাবে ফিরে আসতে পারে। হাম সেই বাস্তবতার নির্মম উদাহরণ। একটি শিশুর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়; এটি রাষ্ট্রের জন্যও ব্যর্থতার বেদনা। কারণ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের যুগে হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। আজ প্রয়োজন রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে শিশুদের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। দরকার নিরবচ্ছিন্ন টিকাদান, দ্রুত চিকিৎসা, গ্রাম পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সচেতনতা গড়ে তোলা। কারণ প্রতিটি শিশুর জীবন মূল্যবান। একটি টিকা, একটি সচেতনতা, একটি সময়মতো চিকিৎসাই হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে হাজারো নিষ্পাপ প্রাণ।
তথ্যসুত্র : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও প্রথম আলো।

ভোমরায় শুকনা মরিচ আমদানি কমেছে, কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
ভোমরায় শুকনা মরিচ আমদানি কমেছে, কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা

 

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে শুকনা মরিচ আমদানি গত ১০ মাসে প্রায় এক হাজার টন কমেছে। আমদানিতে এই ঘাটতির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে শুকনা মরিচের দাম কেজিতে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের দাবি, ভারতের বাজারে শুকনা মরিচের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমদানির পরিমাণ কমেছে।
ভোমরা কাস্টমস হাউসের রাজস্ব শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই থেকে এপ্রিল) এই বন্দর দিয়ে ৪৮ হাজার ৩৭৫ টন শুকনা মরিচ আমদানি হয়েছে। যার মোট আমদানি মূল্য ১ হাজার ৩২৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৩৩২ টন। সেই হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পণ্যটির আমদানি কমেছে ৯৫৬ টন।
আমদানি কমে যাওয়ার অজুহাতে সাতক্ষীরার মসলার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গতকাল রোববার সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারের মসলা বিতানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি শুকনা মরিচ খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা দরে। অথচ এক মাস আগেও এই বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
সুলতানপুর বড় বাজারের মেসার্স ফতেমা স্টোরের পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমদানি কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা বেড়েছে। এর প্রভাবে খুচরা বাজারে কেজিতে দাম বেড়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা।”
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এম এম আবদুল্লাহ বলেন, ভোমরা বন্দরে আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মূলত এই কারণেই শুকনা মরিচের দাম বেড়েছে। তবে বাজারে সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হলে দাম কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আমদানিকারকরা জানান, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশসহ প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে ফলন কম হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকায় এলসি খোলার ক্ষেত্রে তাঁরা কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।