রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

ইরানের সঙ্গে ৬০ দিনের চুক্তিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, অপেক্ষা ট্রাম্পের সইয়ের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সঙ্গে ৬০ দিনের চুক্তিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, অপেক্ষা ট্রাম্পের সইয়ের

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। কাতারে মার্কিন ও ইরানি আলোচনাকারীরা ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর একটি কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। তবে এটি কার্যকর হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

প্রাথমিক খবরে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার আওতায় রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত, হরমুজ প্রণালি আবার চালু করা, ইরানের মাইন অপসারণ, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির অঙ্গীকার, এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ছাড়ের আলোচনা।

মার্কিন প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে একটি ‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ (এমওইউ) হয়েছে, যার মাধ্যমে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউস বলছে, এই চুক্তি কার্যকর হয়নি। কারণ ট্রাম্প এখনো এতে সই করেননি বা অনুমোদন দেননি।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা

চুক্তির অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় হলো কৌশলগত হরমুজ প্রণালি। মার্কিন দাবি অনুযায়ী, সমঝোতা হলে প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়া হবে। তবে ইরান এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ বা সার্বভৌমত্ব ছাড়তে নারাজ অবস্থানে আছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রণালিটি ‘নতুন ব্যবস্থাপনায়’ চালু হতে পারে, তবে সিদ্ধান্ত থাকবে তেহরান ও ওমানের যৌথ অবস্থানে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে, হরমুজে টোল আরোপ বা নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সামরিক উত্তেজনা চলছেই

কূটনৈতিক অগ্রগতির খবরে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিললেও বাস্তবে সংঘাত থামেনি। আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নতুন করে প্রাণহানি ঘটেছে। ইরানের বুশেহর অঞ্চলে ‘শত্রু ড্রোন’ ধ্বংস করার দাবি করেছে তেহরান। আর হরমুজ প্রণালির কাছে একাধিক জাহাজকে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানি বাহিনী। এছাড়া ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাম্পের অবস্থান ও অনিশ্চয়তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি একটি চুক্তি চান, তবে শর্তগুলো নিয়ে কঠোর অবস্থানে আছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে এই সামরিক উপস্থিতি ও নৌ অবরোধ চালিয়ে যেতে পারবে না, ফলে একটি সমঝোতার দিকে চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে শেষ সিদ্ধান্ত এখনো রাজনৈতিকভাবে ঝুলে আছে।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন হরমুজ অঞ্চলে নৌ নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সংঘাত আরও না বাড়ে।

Ads small one

সাতক্ষীরার কলারোয়ার রেমিটেন্সযোদ্ধা শুভ দাসের মরদেহ নিজ বাড়িতে, শোকের মাতম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার কলারোয়ার রেমিটেন্সযোদ্ধা শুভ দাসের মরদেহ নিজ বাড়িতে, শোকের মাতম

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইসরাইলের ড্রোন হামলায় লেবানন এ নিহত সাতক্ষীরার কলারোয়ার শ্রীপতিপুর গ্রামের শুভদাস এর মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌচেছে। সকাল ১০ টায় মরদেহ পৌছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। গত ১১ মে লেবানন এর দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ড্রোন হামলায় শুভদাস মারা যান। মৃত্যুর ৩ মাস ২৫ দিন পর মরদেহ আসলো। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে শুভ দ্বিতীয়।

 

দরিদ্র পরিবারের দুই শতক বসত ভিটা বিক্রি করে আড়াই বছর আগে লেবাননে যায়। এরপর লাশ হয়ে ফিরলো। হতাশ পুরো পরিবার। আজ দুপুরে সমাধির প্রস্তুতি চলছে। নিয়ে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় লেবানন এ সাতক্ষীরার ৩ জন রেমিটেন্স যোদ্ধা মারা গেল। আশাশুনির নাহিদুল, সদরের ভালুকা চাদপুরের শফিকুল ও কলারোয়ার শুভ দাস।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের খুলনা বিভাগীয় অফিসের কাউন্সিলর মইন উদ্দীন জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ৮৫ হাজার টাকার চেক গতকাল রাতেই দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে আরো ৩ লাখ ও কয়েকমাস পর জীবন বীমার আরো ১০ টাকা অনুদান পাবেন।

ভোমরায় এমএসপি ও এমএনপি সদস্যদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
ভোমরায় এমএসপি ও এমএনপি সদস্যদের সমন্বয় সভা

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোমরা মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদ (এমএসপি) আহবায়ক সৌমেন কুমার সরকার ও মানবাধিকার নারী পরিষদ (এমএনপি) আহবায়ক মধুমালা গাইন এর সভাপতিত্বে সদস্যদের সাথে পৃথক দুটি দ্বি-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সভায় নারী শিশু পাচার এবং শিশুদের জন্ম নিবন্ধন ও বাল্যবিবাহসহ এলাকার মানবাধিকার পরিস্থিতিসহ সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। শেষে সদস্যদের উদ্যোগে এলাকাতে উক্ত বিষয়ের উপরে মানুষকে সচেতন করার জন্য সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার সিদ্ধান্ত হয়।

 

স্বদেশ সংস্থার নাগরিকতা প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম অফিসার মো: আজাহারুল ইসলাম ও প্যারালিগ্যাল মো: শরিফুল ইসলাাম উপস্থিত ছিলেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

বনবিবির সন্তানেরা এবং বাঘের সঙ্গে এক অলিখিত চুক্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
বনবিবির সন্তানেরা এবং বাঘের সঙ্গে এক অলিখিত চুক্তি

মো. মামুন হাসান

সুন্দরবনের গহীনে যখন ভোরের কুয়াশা কাটতে শুরু করে, তখন ছোট ছোট নৌকায় চড়ে একদল মানুষ রওনা দেয় এমন এক যুদ্ধযাত্রায়, যার প্রতিপক্ষ পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর শিকারিদের একজন। এরা মৌয়াল। বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে এই মানুষগুলোর সাহসের ওপর, যারা প্রতি বছর এপ্রিল থেকে জুন মাসে সুন্দরবনে ঢোকেন কেবল একটি জিনিসের খোঁজে, বন্য মধু।

 

এই পেশাটি শুনতে যতটা রোমান্টিক লাগে, বাস্তবতা ততটাই নির্মম। প্রতিটি মৌসুমে গড়ে কয়েকজন মৌয়াল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণে প্রাণ হারান, আরও অনেকে ফিরে আসেন গুরুতর জখম নিয়ে। সরকারি হিসাবে যে সংখ্যা পাওয়া যায়, বাস্তব সংখ্যা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি বলে মনে করেন স্থানীয়রা, কারণ অনেক মৃত্যু কিংবা নিখোঁজের ঘটনা কখনো নথিভুক্তই হয় না। যে বনজীবী পরিবার একবার তার উপার্জনক্ষম সদস্যকে বাঘের পেটে হারায়, তার জন্য অপেক্ষা করে থাকে কেবল দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার এক দীর্ঘ ছায়া।

 

এই ভয়াবহ ঝুঁকির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মৌয়ালরা যে সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক আশ্রয় গড়ে তুলেছেন, তার কেন্দ্রে আছেন বনবিবি। হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মৌয়ালদের কাছেই তিনি সমান শ্রদ্ধার পাত্র, এক অসাম্প্রদায়িক লোকদেবী, যিনি বনের রক্ষাকর্ত্রী বলে বিশ্বাস করা হয়। বনে ঢোকার আগে প্রতিটি নৌকায় বনবিবির পূজা অনুষ্ঠিত হয়, মানত করা হয়, প্রার্থনা করা হয় নিরাপদে ফেরার জন্য। এই আচার কোনো নিছক কুসংস্কার নয়, বরং এক মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি, যা মানুষকে অজানা বিপদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস জোগায়।

 

আরও চমকপ্রদ হলো বাঘের সঙ্গে মৌয়ালদের এক ধরনের অলিখিত সম্পর্কের ধারণা, যাকে স্থানীয় লোকবিশ্বাসে প্রায়ই এক চুক্তির রূপে দেখা হয়। দক্ষিণরায় নামের বাঘ দেবতার কাহিনি এই বিশ্বাসের মূলে। কিংবদন্তি অনুযায়ী বনবিবি ও দক্ষিণরায়ের মধ্যে এক আপসরফা হয়েছিল, যেখানে মানুষ যদি বনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সীমিত পরিমাণে সম্পদ আহরণ করে, তবে বাঘ তাকে আক্রমণ করবে না। মৌয়ালরা তাই মধু সংগ্রহের সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেন, যেমন প্রয়োজনের অতিরিক্ত মৌচাক না ভাঙা, নির্দিষ্ট আচার পালন করে বনে প্রবেশ করা, কিংবা মুখোশ পরিধান করে বাঘকে বিভ্রান্ত করার কৌশল অবলম্বন করা। এই বিশ্বাস কার্যকর প্রতিরোধমূলক আইন না হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে আছে এক গভীর পরিবেশগত প্রজ্ঞা, প্রকৃতি থেকে নিলে সীমা মেনে নেওয়ার শিক্ষা।

 

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই যে জীবনবাজি রেখে মধু সংগ্রহ করে আনা মৌয়ালরা, তাদের প্রাপ্য মূল্য কি তারা পান। বাজারে যে মধু বিক্রি হয় চড়া দামে, সেই মধুর প্রকৃত উৎপাদনকারীর ভাগে জোটে সামান্যই। মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ঘুরে মুনাফার সিংহভাগ চলে যায় অন্য কারো পকেটে। যে মানুষটি বাঘের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নেন, তার সন্তানের শিক্ষা কিংবা পরিবারের স্বাস্থ্যসেবার ন্যূনতম নিশ্চয়তাও অনেক সময় থাকে না।

 

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মৌয়ালদের জন্য বিমা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহের যে উদ্যোগ নেওয়ার কথা, তা এখনো অনেকাংশে কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। বন বিভাগের অনুমতিপত্র নেওয়ার প্রক্রিয়া জটিল, আর দুর্ঘটনার শিকার পরিবারের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ আরও দুর্গম। অথচ এই মানুষগুলোই সুন্দরবনের প্রকৃত রক্ষক, কারণ তারা জানেন বন বাঁচলেই তাদের জীবিকা বাঁচবে।

 

সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদের এই মৌয়াল সম্প্রদায়ের গল্প আসলে বাংলাদেশের এক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র, যারা প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের এক অনন্য দর্শন ধারণ করেও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় থেকে যান অবহেলিত। বনবিবির প্রতি তাদের বিশ্বাস আর বাঘের সঙ্গে তাদের সেই নীরব সমঝোতা কেবল লোকজ সংস্কৃতির উপাদান নয়, এটি টিকে থাকার এক আশ্চর্য কৌশল, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিমার্জিত হয়ে এসেছে। এই কৌশলকে সম্মান জানিয়ে যদি রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়ায়, তবেই সুন্দরবন এবং তার সন্তানেরা উভয়েই রক্ষা পাবে।

 

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।