ঈদে টানা ৭ দিন বন্ধ থাকবে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে টানা ৭ দিন ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। আগামী সোমবার (২৫ মে) থেকে ৩১ মে (রবিবার) পর্যন্ত এই বন্দরে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই সময়ে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকবে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে ৭ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১ জুন (সোমবার) সকাল থেকে পুনরায় বন্দর ও কাস্টমসের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে। তবে কাস্টমস হাউস ঈদের দিন ব্যতীত অন্যান্য দিন সীমিত আকারে খোলা থাকবে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদের ছুটিতেও কাস্টম হাউস ও শুল্ক স্টেশনগুলো সীমিত আকারে খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে ঈদের আগে-পরে ছয় দিন সড়কপথে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় এবং আমদানিকারক ও শ্রমিকেরা ছুটিতে থাকায় এই সময়ে পণ্য খালাস নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
দেশে চলমান ১২টি স্থলবন্দরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও বেশি রাজস্ব আদায়কারী এই বেনাপোল বন্দর। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে ভারত থেকে ৪০০ থেকে ৪৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং এখান থেকে বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আসে। এমনিতেই বন্দরে সবসময় পণ্যজট লেগে থাকে, তার ওপর একটানা ৭ দিন বন্ধ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র পণ্যজটের সৃষ্টি হবে, যার প্রভাব পড়তে পারে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. শামীম হোসেন জানান, ঈদের ছুটির মধ্যে বন্দরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা নাশকতা না ঘটে, সে জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যরা দিনরাত টহল দেবেন। বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, বন্দর এলাকায় সার্বক্ষণিক বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ঈদের ছুটিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত অনেক বাড়ে। তাই যাত্রীদের দ্রুত সেবা দিতে ইমিগ্রেশনের অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।












