বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

‘এক গ্রাম, এক শিল্প’: গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লবের রূপরেখা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
‘এক গ্রাম, এক শিল্প’: গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লবের রূপরেখা

সম্পাদকীয়

একটি দেশের টেকসই ও সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে তার গ্রামীণ জনপদের বিকাশের মধ্যে। বাংলাদেশ বিগত কয়েক দশকে নগরায়ণ ও শিল্পায়নে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করলেও, গ্রামীণ অর্থনীতির চিরাচরিত কাঠামোকে আধুনিক ও স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এখনও নানামুখী চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এই বাস্তবতায় সম্প্রতি খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আলোচিত ‘এক গ্রাম, এক শিল্প’ (ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট বা ওভিওপি মডেলের আদলে) ভাবনার বাস্তবায়ন গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করতে পারে। সরকারের এই উদ্যোগটি প্রাথমিকভাবে পাইলট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু হলেও এর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে।

‘এক গ্রাম, এক শিল্প’ ধারণার মূল সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে গ্রামীণ জনশক্তির সর্বোচ্চ উপযোগিতা নিশ্চিত করার মধ্যে। আমাদের গ্রামে বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত বা লক্ষ্যহীন শ্রম রয়েছে, যা সঠিক নির্দেশনার অভাবে জাতীয় উৎপাদনে অবদান রাখতে পারছে না। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীরা যদি বাড়ির আঙিনায় হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু পালন কিংবা শাকসবজি চাষের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোগকে একটি পরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় এনে শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, তবে তা গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া, ১০ বছর বয়স থেকেই শিশুদের অর্থনৈতিক সচেতনতা ও কর্ম ব্যবস্থাপনার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার যে দর্শন এই উদ্যোগে রয়েছে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কর্মবিমুখ তাত্ত্বিক শিক্ষার পরিবর্তে বাস্তবমুখী ও উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। শিক্ষা ও কর্মকে একে অপরের পরিপূরক করে তোলার এই চিন্তা আধুনিক যুগের চাহিদা।

তবে, সেমিনারে প্রধান অতিথি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন যথার্থই বলেছেনÑযেকোনো নতুন উদ্যোগ নেওয়া সহজ, কিন্তু তার বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। ‘এক গ্রাম, এক শিল্প’ প্রকল্পকে কেবল সরকারি ফাইলের লাল ফিতায় বন্দি না রেখে মাঠপর্যায়ে সফল করতে হলে ত্রিবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। প্রথমত, প্রতিটি গ্রামের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে সঠিক পণ্য বা খাতটি বেছে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, গ্রামে উৎপাদিত কাঁচামাল বা কৃষি পণ্যকে প্রক্রিয়াজাতকরণের (অ্যাগ্রো-প্রসেসিং) জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, হিমাগার ও ক্ষুদ্র শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলা। এবং তৃতীয়ত, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এড়িয়ে উৎপাদকের উৎপাদিত পণ্য যাতে সরাসরি শহুরে বাজার বা পর্যটন শিল্পের সাথে যুক্ত হতে পারে, তার জন্য একটি নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন বা রুট তৈরি করা।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল সরকারের একার পক্ষে বা একক কোনো দপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। এর জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিন, সমাজসেবা কার্যালয়, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারি-বেসরকারি সকল স্টেকহোল্ডারদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবেÑএই চিরন্তন সত্যকে ধারণ করে গ্রামীণ সম্পদ, শ্রম এবং প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানোর এখনই সময়। ‘এক গ্রাম, এক শিল্প’ উদ্যোগটি যদি প্রতিটি গ্রামের নিজস্ব ঐতিহ্য ও কাঁচামালকে ব্র্যান্ডিং করতে পারে, তবে তা শুধু গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমানই উন্নত করবে না, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে শক্তিশালী করে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখবে। আমরা আশা করি, খুলনা বিভাগ থেকে শুরু হওয়া এই দূরদর্শী উদ্যোগটি সব বাধা পেরিয়ে দ্রুত দেশব্যাপী সফল রূপ লাভ করবে।

Ads small one

গর্ত আর কাদা-পানিতে বেহাল শহরের তুফান মোড়-পিএন স্কুল সড়ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
গর্ত আর কাদা-পানিতে বেহাল শহরের তুফান মোড়-পিএন স্কুল সড়ক

oplus_0

নিজস্ব প্রতিনিধি: বুধবার সকাল সাড়ে আটটা। শহরের দোকানপাট সবে খুলতে শুরু করেছে। কর্মজীবী মানুষ ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও রওনা হয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে। এমন সময় শুরু হলো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাতক্ষীরা শহরের তুফান মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়কে জমে গেল পানি।
ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি ইজিবাইকের চাকা পানিভরা গর্তে পড়ে যায়। এতে নোংরা পানি ছিটকে গিয়ে ভিজে যায় পাশ দিয়ে যাওয়া একটি ভ্যানের যাত্রীদের পোশাক। তুফান মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ মিটারের এই সড়কে এমন ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র।
শহরের অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে পুরোপুরি বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। পুরো সড়ক জুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই কাদা-পানি মাড়িয়েই চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। সড়কের দুপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনের অংশও কাদায় ঢেকে গেছে।
এ রাস্তায় যাতায়াতকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। গর্তে চাকা পড়ে প্রতিনিয়ত রিকশা বা ইজিবাইক উল্টে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। নোংরা পানিতে জামাকাপড় নষ্ট হওয়া এখানে নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হলে এই পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ারও কোনো উপায় থাকে না।
সড়কের পাশের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাস্তার এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। কাদা আর নোংরা পানির ছিটায় দোকানের মালামাল নষ্ট হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির এই অবস্থা থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
ব্যস্ততম এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে কাদা-পানির এই নাকাল হওয়া থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পৌরবাসী।

আজ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আজ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

সাতক্ষীরায় মোট পরীক্ষার্থী ১৫,৯০৬, এইচএসসি ১১৪০২, আলিম ১৮৪২, ভোকেশনাল ২৬৬২
নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার সাতক্ষীরা জেলায় এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি (ভোকেশনাল) মিলিয়ে মোট ১৫ হাজার ৯০৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। জেলার মোট ৪০টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার সাধারণ ধারায় এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জেলার ২৩টি কেন্দ্রে মোট ১১ হাজার ৪০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৯০৫ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৪৯৭ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় ৯টি কেন্দ্রে মোট অংশ নিচ্ছে ১ হাজার ৮৪২ জন পরীক্ষার্থী। যার মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১৩৫ জন এবং ছাত্রী ৭০৭ জন। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল পরীক্ষায় জেলার ৮টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৬৬২ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্র এবং ৯৭৯ জন ছাত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বীয় (লিখিত) পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর উক্ত তথ্য দিয়ে জানান, সবকটি কেন্দ্রে সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো নিয়মিত তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

পুনঃখননে প্রাণ ফিরল জাহাজমারী খালে, ৩ হাজার কৃষকের মুখে হাসি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
পুনঃখননে প্রাণ ফিরল জাহাজমারী খালে, ৩ হাজার কৃষকের মুখে হাসি

সংবাদদাতা: দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পলি জমে নাব্যতা হারানো সাতক্ষীরার কলারোয়ার ঐতিহাসিক জাহাজমারী খালটি পুনঃখননের ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ অঞ্চলের কৃষিতে। খরা মৌসুমে তীব্র সেচ সংকট আর বর্ষায় জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়ে এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন এই খালের সুবিধাভোগী ছয়টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার কৃষক।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে খনন করা এই খালটি নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও উত্তরণের যৌথ উদ্যোগে ‘সফল ফর আইডব্লিউআরএম’ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি পুনঃখনন করা হয়। দলুইপুর থেকে গোছমারা লস্কার বড় খাল পর্যন্ত ২ দশমিক ৯৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৩ ফুট প্রশস্ত এই খালটি পুনঃখননের ফলে প্রায় ৬২৫ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক শেখ আব্দুর রব ও খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের জানান, একসময় সেচের পানির অভাবে জমি অনাবাদি থাকত, আবার বর্ষায় ফসল তলিয়ে লোকসান গুনতে হতো। এখন পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও খালটি সচল রাখতে কৃষকেরা নিজেদের অর্থায়নে একটি তহবিল গঠন করেছেন, যা দিয়ে প্রতিবছর এটি পরিষ্কার করা হবে।
এদিকে, পুনঃখননকৃত খালের নাব্যতা ধরে রাখতে গত সোমবার দুপুরে যুগিখালী ইউনিয়নের আড়খালী মসজিদ-সংলগ্ন জাহাজমারী খালে কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।