ফ্রান্সের সামনে মরক্কোর নতুন ইতিহাসের হাতছানি
বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ আটের লড়াইয়ে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ভিন্ন ধারার দুই শক্তিশালী দল—দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং আফ্রিকার বর্তমান সেরা দল মরক্কো। চার বছর আগে বিশ্বকাপের শেষ চারে ফ্রান্সের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মরক্কোর। এবার সেই স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে আটলাস সিংহরা।
গত বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান ও প্রথম আরব দেশ হিসেবে শেষ চারে উঠে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল মরক্কো। এবারও তারা দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। আফ্রিকা কাপ জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত দলটি শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।
অন্যদিকে ফ্রান্সও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে শেষ আটে পৌঁছেছে তারা। এ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে চৌদ্দটি গোল করে মাত্র দুটি গোল হজম করেছে দিদিয়ে দেশঁর দল। কিলিয়ান এমবাপে ইতোমধ্যে সাতটি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন। তার সঙ্গে উসমান দেম্বেলে, মিশেল অলিজে ও ব্র্যাডলি বারকোলার আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
তবে বড় ধাক্কাও পেয়েছে মরক্কো। দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ইসমাইল সাইবারি চোটের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তবু রক্ষণভাগের দৃঢ়তা, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং দলগত সমন্বয়ের ওপর ভর করেই ফ্রান্সকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত মরক্কো।
মরক্কোর প্রধান প্রশিক্ষক মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধু ইতিহাস সৃষ্টি নয়, বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘমেয়াদি শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। অন্যদিকে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশঁ মনে করেন, অতীতের ফলাফল এই ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তার ভাষায়, ফুটবলে প্রতিটি ম্যাচই নতুন, আর জয় নির্ভর করবে মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর।
এ পর্যন্ত দুই দলের ছয়বার মুখোমুখি লড়াইয়ে চারটিতে জয় পেয়েছে ফ্রান্স, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে বর্তমান মরক্কো অতীতের সেই দল নয়। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করেছে বড় দলকে হারানোর সামর্থ্য তারা রাখে।
বিশ্বকাপের শেষ চার নিশ্চিত করার এই লড়াইয়ে একদিকে থাকবে ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা ও তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগ, অন্যদিকে মরক্কোর অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা। তাই ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায় রয়েছেন আরেকটি রোমাঞ্চকর মহারণের।












