কপিলমুনিতে এনজিও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঋণ প্রদানের প্রলোভনে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ
কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: কপিলমুনিতে ব্র্যাক ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি প্রগতির এলাকা ব্যবস্থাপক বিউটি খাতুন এর বিরুদ্ধে মোটা অংকের ঋণ প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগে এক ভুক্তভোগী সদস্য লিগ্যাল নোটিশ প্রদান ও প্রতিষ্ঠানটির আরএমও এর দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে প্রকাশ, পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির কাশিমনগর গ্রামের মোঃ ইবাদুল মোড়লের ছেলে সেলিম মোড়ল (সদস্য নং ৭১৫৪) ‘২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৪ তারিখে ব্র্যাক ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি (প্রগতি) এর কপিলমুনি শাখা থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ১২ মাসে ১২ কিস্তিতে ঋণকৃত টাকা শোধ করার শর্ত দেয় এনজিও সংস্থাটি। কিন্তু ৮ কিস্তিতে ৭ লাখ ৫২ হাজার টাকা পরিশোধ করেন ঋণ গ্রহীতা সেলিম, বাকি চার কিস্তি পরিশোধের চার মাসের সময় থাকলেও পুনঃ ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকা ব্যবস্থাপক বিউটি খাতুন উক্ত চার কিস্তির সমুদয় টাকা সেলিম মোড়লকে অগ্রিম এককালীন পরিশোধ করতে বলেন। তার কথা অনুযায়ী ঋণ পাওয়ার আশায় সদস্য সেলিম মোড়ল এককালীণ বাকি ৪ কিস্তির মোট ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭৮৭ টাকা গত ১৭ সেপ্টেম্বর ‘২৬ তারিখে পরিশোধ করেন।
সেলিম মোড়লের অভিযোগে আরো জানা যায়, ১০ লক্ষ টাকার পুনরায় লোন দেওয়ার জন্য ব্যবস্থাপক বিউটি খাতুন তার নিকট ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন, সেলিম ঋণ পাওয়ার প্রত্যাশায় উক্ত টাকা দিতে রাজি হন। সে অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের আগে ১৬ সেপ্টেম্বর সেলিম মোড়ল তার গোডাউনে ২০ হাজার টাকা বিউটিকে গোপনে প্রদান করেন এবং বাকি ২০ হাজার টাকা ঋণ প্রাপ্তির দিন দেওয়ার কথা থাকে। এদিকে ঋণের সমুদয় টাকা পরিশোধসহ ঘুষের ২০ হাজার টাকা নেওয়ার পর বিউটি খাতুন প্রতারণার আশ্রয় নেন, এক পর্যায়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আরএম সাজিয়ে সেলিমের অফিস ও গোডাউনে পরিদর্শন করান।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও ঋণ প্রদানে নানা তালবাহানা শুরু করেন ব্যবস্থাপক বিউটি খাতুন। শুধু তাই নয়, কালক্ষেপণ করে পরিশেষে তিনি সাফ জানিয়ে দেন সেলিম মোড়লকে ঋণ দেওয়া হবে না। এদিকে ঋণ না পেয়ে প্রতারিত হওয়ার পর ঘুষ দেওয়া ২০ হাজার টাকা ফেরত চাইলে তিনি দিতে অস্বীকার করেন।
এ ঘটনায় সেলিম মোড়ল নিরুপায় হয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর এনজিও সংস্থাটির আর এম বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। শুধু তাই নয়, তিনি আইনী ব্যবস্থার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর অভিযুক্তকে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন।
অভিযুক্ত এলাকা ব্যবস্থাপক বিউটি খাতুন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আণীত অভিযোগ সঠিক নয়, সেলিম মোড়ল আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন, তাকে ঋণ না দেওয়ার কারণে তিনি ঘুষের মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।”
এব বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (আর এম) আবির আজাদ এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরনেনি, ববং কোন কোন সময় ফোন কেটে দেন।












