বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

কপ সম্মেলন: জলবায়ু ন্যায়বিচারের মঞ্চ, নাকি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রদর্শনী?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ
কপ সম্মেলন: জলবায়ু ন্যায়বিচারের মঞ্চ, নাকি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রদর্শনী?

বাহলুল আলম

জলবায়ু পরিবর্তন আজ আর কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা নয়; এটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। গ্রিনহাউস গ্যাসের অতিরিক্ত নিঃসরণ, বিশেষ করে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ক্রমবর্ধমান নির্গমন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। অথচ এই সংকট সৃষ্টিতে ঐতিহাসিকভাবে যেসব শিল্পোন্নত ও ধনী রাষ্ট্রের দায় সবচেয়ে বেশি, জলবায়ু মোকাবিলার অর্থায়নেও তারাই নেতৃত্ব দিচ্ছে। কিন্তু সেই অর্থায়নের বড় অংশই আসছে ঋণ হিসেবে। ফলে সংকট সৃষ্টিতে যাদের দায় সবচেয়ে কম, তাদেরই আবার সংকট মোকাবিলায় ঋণের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।

গ্লোবাল কার্বন বাজেট ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান মাত্র ০.২৮ শতাংশ। ২০২৪ সালের বার্ষিক নির্গমন পরিসংখ্যানে ২০৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪০তম। অন্যদিকে, জার্মানওয়াচের জলবায়ু ঝুঁকি সূচক ২০২৬ অনুযায়ী, ১৯৯৫ থেকে ২০২৪ সালের দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু ঝুঁকির বিবেচনায় বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩তম অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম আবহাওয়া, প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির বড় মূল্য দিতে হচ্ছে দেশটিকে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত গড় বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশের সমান। এসব ক্ষয়ক্ষতির বড় প্রভাব পড়ে কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি, জীবিকা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর। এখানেই জলবায়ু ন্যায়বিচারের মৌলিক প্রশ্ন—যারা সংকট সৃষ্টিতে সবচেয়ে কম দায়ী, তাদেরই কেন সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হবে?

২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-১৫) উন্নত দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বছরে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি; ২০২২ সালে গিয়ে প্রথমবারের মতো তা অর্জিত হয়। অর্থাৎ, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দুই বছর বিলম্ব হয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঋণ ও অনুদানের কোনো বাধ্যতামূলক অনুপাত নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সহায়তার নামে ঋণনির্ভর অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে উন্নত দেশগুলোর মোট সরকারি জলবায়ু অর্থায়নের ৬৭ শতাংশ ছিল ঋণ, ২৯ শতাংশ অনুদান এবং বাকি অংশ ইকুইটি বিনিয়োগ। অর্থাৎ, সরকারি জলবায়ু অর্থায়নের প্রতি ১০০ ডলারের মধ্যে প্রায় ৬৭ ডলারই ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হলো, জলবায়ু সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো কি সহায়তার নামে নতুন ঋণের বোঝা বহন করবে, নাকি ন্যায্য অধিকার হিসেবে অনুদান পাবে?

বিশ্বের শিল্পোন্নত ও ধনী রাষ্ট্রগুলো ঐতিহাসিকভাবে অধিক কার্বন নিঃসরণ ও অপরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে বর্তমান জলবায়ু সংকট সৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দায় বহন করে। অথচ এই সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে প্রতিবছর জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন—কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ)—আয়োজন করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এসব সম্মেলন কি সত্যিই জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কার্যকর মঞ্চ, নাকি প্রতিশ্রুতি, আলোচনা ও অর্থায়নের নামে ঋণনির্ভর ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্র হয়ে উঠছে?

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কপ সম্মেলনে প্রায় ৪০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত মানুষ অংশ নিয়েছেন। সম্মেলন আয়োজনেও ব্যয় হচ্ছে বিপুল অর্থ। উদাহরণ হিসেবে, কপ-২৮ আয়োজনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যয় নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন হিসাবে ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয়ের কথা উঠে এসেছে। কিন্তু এত আয়োজন, অংশগ্রহণ, আলোচনা ও প্রতিশ্রুতির পর বাস্তবে কতটা পরিবর্তন এসেছে? জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মানুষের জীবনে কতটা স্বস্তি ফিরেছে? অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় তারা কি ন্যায্য, পর্যাপ্ত ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন পেয়েছে?

আমাদের প্রশ্ন সম্মেলন আয়োজনের বিরোধিতা নয়; প্রশ্ন হলো, এত বিপুল অর্থ, সময় ও আয়োজনের বিনিময়ে জলবায়ু ন্যায়বিচারের বাস্তব অগ্রগতি কোথায়? কপ সম্মেলন ধীরে ধীরে কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপের মঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকতা, কূটনৈতিক প্রদর্শনী ও আন্তর্জাতিক মিলনমেলায় পরিণত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।

প্রতিটি কপ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু তাঁদের অংশগ্রহণে মোট ব্যয় কত, আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ কী অর্জন করেছে, কতটুকু অর্থায়ন আদায় করতে পেরেছে এবং সেই অর্থের কতটুকু বাস্তবে ছাড় হয়েছে—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত মূল্যায়ন জনসমক্ষে কতটা প্রকাশিত হয়?

গত ১০ বছরে প্রতিটি কপ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কতজন অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের বিমানভাড়া, হোটেল, দৈনিক ভাতা, প্যাভিলিয়ন, যাতায়াতসহ অন্যান্য খাতে মোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিটি সম্মেলন থেকে বাংলাদেশ কী কী লিখিত সিদ্ধান্ত, প্রতিশ্রুতি ও অর্থায়ন পেয়েছে, প্রাপ্ত অর্থের কতটুকু অনুদান এবং কতটুকু ঋণ, আর কত অর্থ বাস্তবে ছাড় হয়েছে—সেসব তথ্যও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

কপ সম্মেলনে অংশগ্রহণের ফলে বাংলাদেশের কোন কোন অভিযোজন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলীয় ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ কত মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছেন এবং প্রতিটি সম্মেলন শেষে অর্জন, ব্যয় ও অর্থায়ন নিয়ে কোনো স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সরকারের উচিত প্রতিটি কপ সম্মেলন শেষে ‘কপ অংশগ্রহণ, ব্যয় ও অর্জন প্রতিবেদন’ প্রকাশ করা। এতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ও পরিচয়, সরকারি-বেসরকারি ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব, আলোচনার ফলাফল, প্রাপ্ত অর্থায়ন, অনুদান ও ঋণের অনুপাত, বাস্তবে ছাড় হওয়া অর্থ এবং প্রকৃত উপকারভোগীর তথ্য থাকতে হবে। জনগণের অর্থে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি জনগণের কাছে তার ব্যয়, অর্জন ও কার্যকারিতার জবাবদিহি নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি আরও জরুরি। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার, নিরাপদ পানির সংকট, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও কৃষি উৎপাদনের অনিশ্চয়তা মানুষের জীবন ও জীবিকাকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের বহু মানুষ নিরাপদ পানির জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা হারাচ্ছেন এবং জীবিকা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন। এসব ক্ষয়ক্ষতি শুধু অর্থনৈতিক নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের স্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা, বসতভিটা, জীবিকা ও মর্যাদার প্রশ্ন।

বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় (এনএপি ২০২৩–২০৫০) পানি, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবেশগত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের অভিযোজন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের অর্থায়ন নতুন ঋণের বোঝা হয়ে আসা উচিত নয়।

উপকূলীয় বাঁধ ও পোল্ডার সংস্কার, নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, মিঠাপানির জলাধার সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, লবণসহিষ্ণু ও স্থানীয় উপযোগী কৃষি, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বিকল্প জীবিকা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত অনুদান প্রয়োজন। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে যেসব পরিবার বসতভিটা, জমি ও জীবিকা হারিয়েছে, তাদের পুনর্বাসন এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সহজলভ্য অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়ন ও উদ্যোগের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু জলবায়ু সংকটের ঐতিহাসিক দায় ও অর্থনৈতিক সামর্থ্যের বিবেচনায় উন্নত দেশগুলোর দায়িত্বও এড়ানোর সুযোগ নেই। জলবায়ু অর্থায়নের নামে বাংলাদেশকে এমন ঋণ গ্রহণে বাধ্য করা উচিত নয়, যার সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ শেষ পর্যন্ত দেশের জনগণকেই বহন করতে হবে। আমাদের প্রয়োজন এমন অর্থায়ন, যা উপকূলের মানুষের নিরাপদ পানি, কৃষি, জীবিকা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে; নতুন ঋণের বোঝা তৈরি করবে না।

বাংলাদেশের দাবি তাই স্পষ্ট: অভিযোজন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে পর্যাপ্ত অনুদান, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরাসরি ও সহজলভ্য অর্থায়ন, জলবায়ু সহনশীল উপকূলীয় অবকাঠামো এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে অভিযোজন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু অর্থায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে উপকূলীয় নারী, কৃষক, জেলে, শ্রমজীবী মানুষ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহিও নিশ্চিত করা জরুরি।

যেসব দেশ ঐতিহাসিকভাবে জলবায়ু সংকট সৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দায়ী, তাদের দায়িত্ব শুধু সম্মেলন আয়োজন, ঘোষণা দেওয়া কিংবা নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সেই দায়িত্বের বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে অর্থায়নে, নীতিনির্ধারণে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনে। বাংলাদেশসহ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মানুষ কি শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতই বহন করবে, আর সংকট মোকাবিলার জন্য ঋণের বোঝা বইবে? এটি কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না।

জলবায়ু অর্থায়ন কোনো দয়া, অনুগ্রহ কিংবা বাণিজ্যিক ঋণ নয়; এটি ঐতিহাসিক দায়, ন্যায্যতা ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। বাংলাদেশের দাবি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি ন্যায্য অধিকার। আমরা ঋণ নয়, অনুদান চাই; প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব অর্থায়ন চাই। কাগুজে পরিকল্পনা নয়, উপকূলের মানুষের জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন চাই। জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাঁধে ঋণের বোঝা চাপিয়ে নয়, বরং ঐতিহাসিক দায়ের স্বীকৃতি ও দায়িত্বশীল অর্থায়নের মাধ্যমে।

বাহলুল আলম, প্রধান সমন্বয়কারী, সিভিক ভয়েস বাংলাদেশ

Ads small one

পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে পৌরসভায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দাতা সংস্থা ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নবলোক পরিষদের সহযোগিতায় আয়োজিত সচেতনতামূলক র‍্যালিটি টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে নবপল্লীসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালি শেষে পাইকগাছা সরকারি কলেজের পশ্চিম পাশে এবং শহীদ গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে পৌরসভার নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য এলাকাবাসীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ক্যাম্পেইন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সাবেক প্যানেল মেয়র এস এম ইমদাদুল হক, পৌরসভা জামায়াতের আমির ডা. জি এম আসাদুল হক, সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা লালু সরদার, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রতিনিধি সুমন সাহা ও নিপু খানম, প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ সরদার, সেলিনা পারভীন, অ্যাডভোকেট মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, তুষার কান্তি মণ্ডল, সেলিম রেজা লাকি, ইলিয়াস হোসেন, এম আব্দুস সামাদ, মুহাম্মদ শফিয়ার রহমান, আলহাজ মুরশাফুল আলম, মাওলানা আব্দুল কাদীর, গাজী আব্দুস সামাদ, শফিকুল ইসলাম, নবলোক পরিষদের ওমর ফারুক জুয়েল, বিএম নাহিদ হাসান, কাজী ফারহানা আফরোজ ও মুক্তা বিশ্বাস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পৌরসভার প্রধান সহকারী জিয়াউর রহমান।

বক্তারা বলেন, পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। তাই পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন রাখা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। তাঁরা আরও জানান, মানববর্জ্য শোধনাগারের পাশাপাশি পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে পৌরসভায় পরিবেশবান্ধব আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে এবং পৌরবাসী পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাবে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’-এর যাত্রা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’-এর যাত্রা শুরু

সংবাদদাতা: বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে নতুন সংবাদপত্র ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’। বুধবার (৪ নভেম্বর) সাতক্ষীরা শহরের তুফান কনভেনশন সেন্টারে পত্রিকাটির মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক মীর আবু বকরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’ জেলার সম্ভাবনা, সমস্যা এবং মানুষের সুখ-দুঃখ তুলে ধরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সত্য প্রকাশে আপস না করে জেলার উন্নয়নে পত্রিকাটি ভূমিকা রাখবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

পত্রিকাটির সহসম্পাদক ও জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নূর মোহাম্মাদ পাড়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তিনি বলেন, সংবাদপত্র সমাজের অতন্দ্র প্রহরী। হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার করে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে পত্রিকাটি সাতক্ষীরার সম্ভাবনা, ঐতিহ্য ও মানুষের কথা তুলে ধরবে বলে তিনি আশা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ আব্দুর রউফ, জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হাসেম, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু, জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ফারুক, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, দৈনিক যুগের নির্বাহী সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা তথ্য কর্মকর্তা জাহারুল ইসলাম, সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়ব হাসান সামসুজ্জামান, দৈনিক দক্ষিণের মশাল-এর সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বাবু, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক কাউন্সিলর মাসুম বিল্লাহ শাহিন, সেতারা নাসরিন নিশী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান সজিব, সাবেক কাউন্সিলর শফিকউদ্দৌলা সাগর, সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইমরান হোসেন, পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক এস এম মহিদার রহমান, আশাশুনি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জি এম মুজিবুর রহমান, কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল বারী সফুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, একটি অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করবে বলে তাঁরা প্রত্যাশা করেন। সাতক্ষীরার শিক্ষা, কৃষি ও পর্যটন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পত্রিকাটির প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। এ সময় পত্রিকাটির অঙ্গসজ্জা ও বিষয়বস্তুর প্রশংসাও করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঝাউডাঙ্গা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী, জেলা যুবদলের সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বাবু, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, মনিরুল ইসলাম মনিসহ জেলার শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে অতিথিরা সম্মিলিতভাবে পত্রিকাটির মোড়ক উন্মোচন করেন। পরে সম্পাদক ও প্রকাশক মীর আবু বকর এবং নির্বাহী সম্পাদক এস এম মহিদার রহমান অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

সমাপনী বক্তব্যে মীর আবু বকর উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সাতক্ষীরার মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতাকে পাথেয় করে পত্রিকাটির পথচলা শুরু হলো। বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে পাঠকদের আস্থা অর্জন করাই তাঁদের লক্ষ্য।

সাতক্ষীরায় দোয়ার মধ্য দিয়ে বায়তুল হামদ জামে মসজিদের ছাদ ঢালাই উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দোয়ার মধ্য দিয়ে বায়তুল হামদ জামে মসজিদের ছাদ ঢালাই উদ্বোধন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বায়তুল হামদ জামে মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে কদমতলা ব্রিজসংলগ্ন থানাঘাটা-নলকুড়া মোড়ে নির্মাণাধীন মসজিদটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইদ্রিস আলী, সহসভাপতি মো. তোরাবুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মো. আজিজুল ইসলাম মুকুল, সদস্য শেখ নুর আহমেদ লাল্টু, মীর নুরুজ্জামান, রিপন, রফিকুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম মন্টু, রেজাউল করিম ও আবুল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দান-অনুদানে মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা শহিদুল ইসলাম।