সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ফসলের ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব
তালা ও পাটকেলঘাটাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বিলে রোপা আমন ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। মাগুরা, খলিলনগর, তেঁতুলিয়া কিংবা নগরঘাটার মতো এলাকাগুলোতে প্রতিদিন রাতের আঁধারে কেটে সাবাড় হয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ফসল। ইঁদুরের এই হঠাৎ তাণ্ডবে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে হাজারো কৃষকের। একদিকে কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি আর চড়া শ্রমিকের দাম চুকিয়ে যে ফসল গড়ে তোলা হয়েছিল, তা এভাবে চোখের সামনে বিনষ্ট হতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের সাধারণ কৃষকেরা।
উদ্বেগের বিষয় হলো, বিষ কিংবা প্রচলিত ফাঁদ ব্যবহার করেও যখন ইঁদুরের আক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না, তখন মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কার্যকর সহযোগিতা ও পরামর্শ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগীরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের একটি সূত্র যেখানে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করছে, সেখানে কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক ও সমন্বিত দমন প্রযুক্তির পৌঁছে না যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। কেবল প্রশাসনিক দায়সারা আশ্বাস বা বিচ্ছিন্ন দু-একটি পরামর্শ দিয়ে এই বড় মাপের সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
কৃষিই আমাদের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি, আর আমন ধান দেশের খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ। এ অবস্থায় তালা ও পাটকেলঘাটার কৃষকদের আর একমুহূর্তও অবহেলার সুযোগ নেই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে অবিলম্বে মাঠপর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ পর্যবেক্ষণ দল পাঠাতে হবে। বাঁশের কঞ্চি বা ডাল পুঁতে পেঁচা ও অন্যান্য পাখির সাহায্যে প্রাকৃতিক উপায়ে ইঁদুর দমন (পার্চিং পদ্ধতি), জিংক ফসফাইড মিশ্রিত বিষটোপের সুষম ব্যবহার এবং ইঁদুর দমনে কৃষক পর্যায়ে দ্রুত উঠান বৈঠক ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। যে কৃষক আমাদের মুখে অন্ন জোগান, সংকটের দিনে তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ানো সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব। আমরা আশা করব, দ্রুততম সময়ে তালা ও পাটকেলঘাটায় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আমন ফসল ও কৃষকের হাড়ভাঙা শ্রমের মর্যাদা রক্ষায় এগিয়ে আসবে প্রশাসন।












