শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কয়রায় স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনের টিন ও বেঞ্চ বিক্রির অভিযোগ, ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
কয়রায় স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনের টিন ও বেঞ্চ বিক্রির অভিযোগ, ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের টিন ও অব্যবহৃত বেঞ্চ গোপনে বিক্রি করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিক্রির পর ওই বিদ্যালয়ের জমিদাতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে বিক্রি করা টিন ফেরত এনে পুনরায় ঘরে লাগানো হয়েছে। তবে বেঞ্চগুলোর কোনো হদিস মেলেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জমিদাতার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার ১১০ নম্বর চৌকুনী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের টিন গোপনে সাবুর আলী নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। পরে তিনি ভবন থেকে সেগুলো খুলে নিয়ে যান। এ ছাড়া ওই শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চগুলো কয়েক মাস আগে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে আত্মসাৎ করা হয় বলে জমিদাতা সদস্য মো. নজরুল ইসলাম গত ১৬ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

লিখিত অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান ও নবগঠিত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ মোল্লাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ১১০ নম্বর চৌকুনী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি সরকারি অর্থ ও উদ্যোগে নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যালয়ের জন্য সাইক্লোন শেল্টার নির্মিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সেখানে পাঠদান করছে। ফলে পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, বিদ্যালয়ের কমিটির অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের না জানিয়ে এবং কোনো ধরনের সভা আহ্বান বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ (রেজুলেশন) ছাড়াই সাবুর আলীর কাছে পুরোনো ভবনটির ইট ও ঢেউটিন বিক্রি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও বিদ্যালয়ের পুরোনো বেঞ্চগুলো ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

পরিত্যক্ত ভবনের ইট ও ঢেউটিন গোপনে বিক্রি এবং আগের বেঞ্চ বিক্রির ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাবুর আলীর কাছে পুরোনো টিন বিক্রির পর তিনি সেগুলো খুলে নিয়ে যান। ইট খুলে নেওয়ার আগেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে এবং প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলে টিনগুলো ফেরত এনে পুনরায় ঘরে লাগানো হয়।
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বেঞ্চগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। আর ঘর যেভাবে ছিল, সেভাবেই রয়েছে। কোনো টিন কিংবা ঘর বিক্রি করা হয়নি।”

অন্যদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ মোল্লা বলেন, “সাইক্লোন শেল্টার ভবন নির্মাণের পর সেখানে ক্লাস হয়। এ জন্য কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে অব্যবহৃত পুরোনো ঘর বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ করার পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। ঘর বিক্রি করা হয়নি।”

এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Ads small one

পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত, নতুন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত, নতুন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেস ক্লাবের কার্যালয়ে সভাপতি শেখ আব্দুল মমিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন সরদারের সঞ্চালনায় এ সভা হয়।

সভায় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ জোরুল হক, সহসভাপতি নাজমুল হক খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জামান মনি, মো. মুজিবুর রহমান, প্রভাষক ফিরোজ আহমেদ, আতাউর রহমান বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রেস ক্লাবের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ক্লাব পরিচালনায় নতুন নির্বাচন আয়োজনের উদ্দেশ্যে একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সম্পাদকীয়/ উপকূলের বাঁচার লড়াই: প্রতিশ্রুতি ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ উপকূলের বাঁচার লড়াই: প্রতিশ্রুতি ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে সাতক্ষীরা জেলা এখন এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখি। বারবার আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততার আগ্রাসন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকাকে প্রতিদিন বিপন্ন করছে। সম্প্রতি কপোতাক্ষ নদের তীরে ৫ হাজার ম্যানগ্রোভ ও ৮০০ নিম গাছের চারা রোপণ, ‘কমিউনিটি অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’ প্রকল্পের সমাপনী সভা এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু সপ্তাহকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরে তরুণদের ‘ক্লাইমেট স্ট্রাইক’-এর খবরগুলো উপকূলের একই অখ- বাস্তবতার চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরে।

প্রতাপনগরের রুইয়ারবিলে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল কেবল পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করে না, বরং তা নদীভাঙন প্রতিরোধে একটি প্রাকৃতিক ও শক্ত প্রাচীর হিসেবে কাজ করে। বেসরকারি সংস্থা ‘উত্তরণ’-এর এ পদক্ষেপে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে যে, টেকসই সুরক্ষার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।

তবে কেবল চারা রোপণই শেষ কথা নয়; সেই চারাগুলোকে টিকিয়ে রেখে পূর্ণাঙ্গ বনে রূপান্তর করাই আসল চ্যালেঞ্জ। প্রায়শই দেখা যায়, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এমন অনেক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ভেস্তে যায়। ঠিক এই জায়গাতেই আলোকপাত করা হয়েছে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত জলবায়ু ন্যায়বিচার সংক্রান্ত সমাপনী অনুষ্ঠানে। বক্তারা যথার্থই বলেছেনÑপ্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও জলবায়ুঝুঁকি মোকাবিলা ও স্থানীয়দের সুরক্ষার কাজ থেমে থাকা চলবে না। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম এবং তরুণ সমাজকে একযোগে এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।

শ্যামনগরের পদ্মপুকুরে তরুণদের ক্লাইমেট স্ট্রাইক আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর এই দুর্বিষহ পরিবেশগত সংকটের পেছনে তাদের নিজেদের দায় সামান্যই। জলবায়ু অর্থায়ন, ন্যায্য রূপান্তর এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচারের দাবি আজ আর কেবল বৈশ্বিক মঞ্চের আলোচনার বিষয় নয়, তা উপকূলের তৃণমূল যুবসমাজের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে। এই তরুণরা স্থানীয় সুরক্ষার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছে, যা এক আশাব্যঞ্জক দিক।

জলবায়ু সংকটের হাত থেকে উপকূলকে বাঁচাতে হলে টুকরো টুকরো উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা। ম্যানগ্রোভ সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, নদীর বাঁধ টেকসই করা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের স্থানীয় ও বৈশ্বিক দাবিগুলোকে জোরদার করার ক্ষেত্রে সরকার, এনজিও এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশীদারিত্বই হতে পারে একমাত্র পথ। দুর্যোগের অপেক্ষা না করে উপকূল রক্ষায় এখন থেকেই ধারাবাহিক ও টেকসই পদক্ষেপে জোর দেওয়ার সময় এসেছে।

 

সাতক্ষীরায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন শাখা কার্যালয় উদ্বোধন ও কমিটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন শাখা কার্যালয় উদ্বোধন ও কমিটি

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সার্কিট হাউস মোড় শাখার নতুন কার্যালয় উদ্বোধন ও ৩ বছর মেয়াদি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সার্কিট হাউস সংলগ্ন স্থানে নতুন কার্যালয় উদ্বোধন করেন ইউনিয়নের জেলা সভাপতি আব্দুল বারী।

সার্কিট হাউস মোড় শাখার সভাপতি মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক সিকদার। অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টা মো. জিল্লুর রহমান, মো. আতিকুর রহমান খান, আলমগীর হোসেন, জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আসাদুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে মো. মাজহারুল ইসলামকে সভাপতি ও সফিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৮ সদস্যবিশিষ্ট সার্কিট হাউস মোড় শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটির অন্যান্য পদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সালাম গাজী, সহসভাপতি মো. হাফিজুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, মো. হারুন বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তাজেল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফজলু সরদার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু গাজী, অর্থ সম্পাদক নাজমুল ও দফতর সম্পাদক শিমুল মনোনীত হয়েছেন।