রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কাজের খোঁজে অনিশ্চয়তায় কয়রার যুবসমাজ, টিটিসি স্থাপনে ঘুচতে পারে বেকারত্ব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
কাজের খোঁজে অনিশ্চয়তায় কয়রার যুবসমাজ, টিটিসি স্থাপনে ঘুচতে পারে বেকারত্ব

0-3840x2160-0-0-{}-0-12#

কয়রা (খুলনা) প্রতনিধি: খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় বেকারত্ব সমস্যা দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। বারবার আঘাত হানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এই দুর্গম অঞ্চলে কর্মসংস্থানের অভাবে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজ কাজের অভাবে গভীর অনিশ্চয়তায় ভুগছে, যা এলাকায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কয়রায় একটি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রা উপজেলা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা একটি এলাকা। এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষি, মৎস্য ও সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। তবে ফসলি জমিতে নোনাপানির ঘেরের আধিক্যের কারণে এখন কর্মসংস্থানের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ফলে জীবিকার তাগিদে বছরের একটি বড় সময় এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষকে অন্য জেলার ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতে যেতে হয়। এতে বিঘিœত হচ্ছে সন্তানদের পড়াশোনা, অনেকেই ঝরে পড়ছে বিদ্যালয় থেকে। অন্যদিকে, কর্মসংস্থানের অভাবে উচ্চশিক্ষিত বহু নারী-পুরুষকেও এখানে দিনমজুরের কাজ করতে হচ্ছে। উপযুক্ত কাজের অভাবে যুবসমাজের একটি বড় অংশ বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে মাদক ও জুয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, উপজেলাটিতে কোনো সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। ফলে ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্নকারী কিংবা অনার্স-মাস্টার্স পাস করা শিক্ষার্থীরাও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন না। তাত্ত্বিক জ্ঞান থাকলেও বাস্তবমুখী দক্ষতার অভাবে তারা চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়ছেন, বঞ্চিত হচ্ছেন আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ থেকেও।

বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো কয়রা উপজেলা শাখার সহসভাপতি জি এম মোনায়েম বলেন, “কয়রার মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বেকারত্ব এখন মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। কর্মসংস্থানের অভাবে মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লিপ্ত হচ্ছে এবং শিশুশ্রম বাড়ছে।”

এদিকে, উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম একটি ভিন্ন ও গুরুত্বপূর্ণ সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুর্যোগের কারণে প্রতি বছরই কয়রায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করতে হয়। কিন্তু এসব কাজে মাটির কাটার জন্য স্কেভেটর কিংবা কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের রোলার চালক ও দক্ষ কর্মী বাইরে থেকে আনতে হয়। অথচ প্রশিক্ষণের অভাবে স্থানীয় মানুষ কর্মহীন বসে আছেন। তাঁর মতে, “কয়রাতেই যদি স্কেভেটর ও রোলার ড্রাইভিং, গাড়ি মেরামত কিংবা আইটি খাতের ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায়, তবে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান যেমন হবে, তেমনি দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠনের কাজও দ্রুত ও কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন জানান, দুর্যোগ ও লবণাক্ততার কারণে কৃষি ও মৎস্য খাত বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবারগুলো টেকসই আয়ের পথ হারিয়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে ইটভাটা ও বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক অস্থায়ী শ্রমিকের কাজে চলে যাওয়ায় পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে এবং শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তবে আশার কথা শুনিয়েছেন কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তিনি জানান, কয়রায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রাথমিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার লক্ষ্যে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) কর্মকর্তারা সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। কয়রায় একটি টিটিসি স্থাপনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দক্ষ জনশক্তি গড়তে এই প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে এবং এটি চালু হলে স্থানীয় যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএমইটি-এর আওতাধীন ‘উপজেলা পর্যায়ে ৫০টি টিটিসি স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন সম্প্রতি কয়রায় সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করে এর গুরুত্ব উল্লেখপূর্বক একটি প্রস্তাবনা জমা দিয়েছেন।

প্রস্তাবিত এই কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি স্থাপিত হলে ড্রাইভিং, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, ওয়েল্ডিং, গার্মেন্টস ও নির্মাণসহ বিভিন্ন ট্রেডে যুবকেরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। এতে দেশ ও বিদেশের বাজারে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি কমবে দারিদ্র্য। এছাড়া দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হওয়ায় এই বহুতল ভবনটিকে দুর্যোগের সময়ে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে, যা স্থানীয় জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Ads small one

সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম ও টাকা ছিনতাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম ও টাকা ছিনতাই

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলার উত্তর পাশে অবস্থিত ‘নলেজ একাডেমিক পয়েন্ট কোচিং সেন্টার’-এ এই ঘটনা ঘটে।

এই হামলায় গুরুতর আহত কোচিং সেন্টারের পরিচালক মইনুল ইসলাম (৩০) বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- পুরাতন সাতক্ষীরা (নাথপাড়া) এলাকার ইমরান হোসেন (২৪), মো. তোহা (২১), মো. শিপন হোসেন (২৬) এবং মো. রকি (২২)।

লিখিত এজাহার থেকে জানা যায়, মইনুল ইসলামের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে একজন আসামির ১৬ বছর বয়সী এক বোন পড়াশোনা করত। কোচিংয়ে আসা-যাওয়ার সুবাদে সেন্টারের শিক্ষক আলফাজের সঙ্গে ওই ছাত্রীর অতিরিক্ত কথাবার্তা বলা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন তৈরি হয়। বিষয়টি পরিচালকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি কোচিংয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শিক্ষক আলফাজকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেন এবং ওই ছাত্রীকেও কোচিংয়ে আসতে নিষেধ করে দেন।

এঘটনার পর ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার ভাইদের কাছে বিষয়টি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত ১৪ মে রাতে আসামিরা লোহার রড, জিআই পাইপ ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে বেআইনিভাবে কোচিং সেন্টারের নিচতলার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা পরিচালক মইনুল ইসলামের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ১নং আসামি ইমরান তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জিআই পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে, যার ফলে তার মাথায় ৪টি সেলাই লেগেছে। ২নং আসামি তোহা লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে মইনুল ইসলামের বাম গাল কেটে রক্তাক্ত জখম হয় এবং সেখানেও ৪টি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া ৩ ও ৪নং আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

হামলার একপর্যায়ে ১নং আসামি ইমরান হোসেন পরিচালকের কাছে থাকা নগদ ৪২ হাজার ৫২০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং যাওয়ার সময় তাকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয় ফরহাদ হোসেন ও আব্দুর রহমানসহ উপস্থিত সাক্ষীদের সহায়তায় গুরুতর আহত মইনুল ইসলামকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নিতে ব্যস্ত থাকার কারণে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী জানিয়েছেন।

 

 

জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে বাজেট বৃদ্ধির দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে বাজেট বৃদ্ধির দাবি

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে আসন্ন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতি সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বাজেট বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। প্রাকটিক্যাল এ্যাকশনের সহযোগিতায় ‘উত্তরণ’ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রামের অধীনে রবিবার (১৭ মে) সকালে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হবে।” সভায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা কার্তিক চন্দ্র মন্ডল জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাস কর্ম্পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

 

উপস্থিত জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম-উত্তরণের ফিল্ড সুপারভাইজার জাহিদ হাসান উল্লেখ করেন- উপকূলীয় এই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, তীব্র তাপপ্রবাহ ও জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি, সুপেয় পানি সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং জীবিকার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। তাই স্থানীয় সরকার পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, নিরাপদ পানি ব্যবস্থা, টেকসই কৃষি, বৃক্ষরোপণ, ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়েজন।

 

উপস্থিত বক্তারা আরও বলেন, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করলে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হবে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় বিভিন্ন উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

সুন্দরবনে বাঘে-মানুষে লড়াই, বাঘকে কাবু করে হাসপাতালে বাবলু গাজী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে বাঘে-মানুষে লড়াই, বাঘকে কাবু করে হাসপাতালে বাবলু গাজী

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সুন্দরবনের গহীনে জীবিকার সন্ধানে গিয়ে এবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সাহসী মৌয়াল বাবলু গাজী (৫০)। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাবলু গাজীর অস্ত্র পাচার সঠিক ভাবে হয়েছে, এবং তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে খুব দ্রুত তিনি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে মধু আহরণে গিয়েছিলেন বাবলু গাজী। বনজীবীদের ভাষায়, সুন্দরবনের প্রতিটি মুহূর্তই অনিশ্চয়তায় ভরা। কখন কোথা থেকে বাঘের আক্রমণ আসবে, তা কেউ বলতে পারে না। সেই ভয়ংকর বাস্তবতার মুখোমুখি হন বাবলু।

ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, হঠাৎ পেছন দিক থেকে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাবলুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে জীবন বাঁচাতে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাঘ যখন তাকে ধরার চেষ্টা করছিল, তখন বাবলু বাঘের দাড়ি শক্ত করে ধরে টান দেন এবং পাশে থাকা একটি ড্রামের ভেতরে বাঘের মাথা ঢুকিয়ে দেন।

এরপর শুরু হয় ভয়ংকর পরিস্থিতি। বাঘটি ড্রামের মধ্যে আটকা পড়ে লাফালাফি ও ছটফট করতে থাকে। এতে ড্রামে বিকট শব্দ সৃষ্টি হয়। বনজীবীরা জানান, সেই শব্দে বাঘটি আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে বাবলুকে ছেড়ে সরে যায়। ওই সুযোগে প্রাণে রক্ষা পান বাবলু গাজী।

স্থানীয়রা বলছেন, “বাঘ তারে জব্দ করবে কি, সে-ই বাঘরে জব্দ করছে।” এমন সাহসিকতার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গাবুরা ও আশপাশের এলাকায় এখন বাবলুর বীরত্বের গল্প ছড়িয়ে পড়েছে মুখে মুখে।
বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাবলু গাজী। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে আঘাত থাকলেও তিনি এখন শঙ্কামুক্ত আছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করছেন চিকিৎসকরা।

উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতার আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকলো এই ঘটনা। জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়েই সুন্দরবনে যেতে হয় তাদের। তবে অসীম সাহস, উপস্থিত বুদ্ধি আর জীবন বাঁচানোর তাগিদে এবার বাঘের মুখ থেকেও ফিরে এলেন বাবলু গাজী।