বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা শীর্ষক সংলাপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা শীর্ষক সংলাপ

পত্রদূত ডেস্ক: বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে এগ্রোইকোলজি চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষক হিসেবে নারীর স্বীকৃতি, নারী শ্রমিকের মজুরি বৈষম্য দূরীকরণ এবং জাতীয় নীতিতে এগ্রোইকোলজিকে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ২টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের ল্যাবে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা: এগ্রোইকোলজিই পথ দেখায়’ শীর্ষক আঞ্চলিক সংলাপে এসব কথা উঠে আসে। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান। বারসিকের উপকূলীয় আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শাহীন ইসলাম মূল উপস্থাপনা করেন। তাঁর উপস্থাপনার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীরা উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনায় সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক তানভীর হোসাইন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানের পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার ৮৬ পৃষ্ঠার মধ্যে ছয় পৃষ্ঠা বারসিকের শ্যামনগর কর্মএলাকার সুন্দরবননির্ভর মানুষের জীবন ও বাস্তবতা নিয়ে। তিনি আরও বলেন, বছরের প্রায় পাঁচ মাস সুন্দরবন বন্ধ থাকায় বনজীবীদের জীবিকায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। এ সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে যে সীমিত সহায়তা দেওয়া হয়, তা বনজীবীদের প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। কমিউনিটি পর্যায় থেকে উঠে আসা দাবি ও সুপারিশগুলো গবেষণায় তুলে ধরা হলেও সেগুলো সরকারি নীতিনির্ধারণে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে।

সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী নওশিন নোয়ার প্রমি বলেন, নারীরা পরিবারে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ কাজ করলেও এসব কাজের জন্য কোনো শ্রমমজুরি পান না। এগ্রোইকোলজি চর্চা সম্প্রসারিত হলে পানি সংগ্রহ, কৃষিকাজ, বীজ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর কাজের চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই নারীর কাজের ক্ষেত্রকে আরও নমনীয় ও সহায়ক করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

অধ্যাপক ড. মোসাম্মত রওশন আরা বলেন, দেশে এখনো নারী শ্রমিকের মজুরি বৈষম্য রয়েছে। কৃষক বলতেই সাধারণ মানুষের চিন্তায় পুরুষের নাম আসে, অথচ কৃষির সূচনালগ্ন থেকেই নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নারীর হাত ধরেই কৃষির পাশাপাশি বীজ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনারও বিকাশ ঘটেছে।

তিনি বলেন, মানুষের খাদ্য এমন হওয়া উচিত, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা গুরুত্বপূর্ণ পথ দেখাতে পারে। তাই সরকারের বিদ্যমান নীতিমালায় কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সবাইকে সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হতে হবে।

আলোচনার এক পর্যায়ে অধ্যাপক ড. তুহিন রায় বলেন, বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে প্রযুক্তির ব্যাপক প্রয়োগের ফলে কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় নানা ধরনের সংকট তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে রাসায়নিক কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার সেই ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। এর ফলে আমাদের খাদ্যব্যবস্থা দিন দিন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এগ্রোইকোলজি র বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে টেকসই কৃষি, নিরাপদ খাদ্য এবং খাদ্য সার্বভৌমত্ব অর্জনের পথ তৈরি হতে পারে।

সংলাপে সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. সেলিনা আহমেদ, অধ্যাপক মোসাম্মত রওশন আরা, অধ্যাপক তানভীর হোসাইন, ড. তুহিন রায়সহ অন্যান্য শিক্ষক, পিএইচডি গবেষক, মাস্টার্স ও বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, খাদ্যব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা, কৃষকের স্বীকৃতি, নারী শ্রমের মূল্যায়ন, নারী শ্রমিকের মজুরি বৈষম্য দূরীকরণ, নিরাপদ খাদ্য এবং জাতীয় কৃষিনীতি ও পরিকল্পনায় কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যার অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতবিনিময় হয়।

সমাপনী বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান বারসিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এত চমৎকার ও সময়োপযোগী একটি বিষয় নিয়ে সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের সঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়ায় বারসিককে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আজকের সংলাপ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সংকট ও বাস্তবতা চিহ্নিত করে সেকেন্ডারি স্টেকহোল্ডারদের মাধ্যমে তা নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে কৃষি, পরিবেশ, নারী ও কৃষকের অধিকারকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এগ্রোইকোলজি র চর্চা ও নীতিগত স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

জ্ঞান বিনিময়, লোকায়ত জ্ঞানের প্রসার এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ ও জৈব খাদ্য উৎপাদনের যে পথ (এখানে পথ বলতে এগ্রোইকোলজি) বারসিক আমাদের সামনে উন্মোচন করছে, সেটিকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। রবিবার থেকে বারসিক ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যে পথচলা শুরু হলো, তা অত্যন্ত শুভ ও ফলপ্রসূ হোক- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

Ads small one

ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই দিয়ে বিধবা জানলেন ‘বিয়ে হয়ে গেছে’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই দিয়ে বিধবা জানলেন ‘বিয়ে হয়ে গেছে’

ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবার (৪৩) জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়া হয়েছিল। কয়েক দিন পর ডেকে নিয়ে একটি কাগজে তার টিপসই নেওয়া হয়। এরপর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে, ওই নারীর বিয়ে হয়ে গেছে। তাকে একটি কাবিননামাও দেখানো হয়। তবে তিনি কোনও বিয়েতে সম্মতি দেননি বলে দাবি করেন।

সম্প্রতি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠকও করেছেন। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে কৌশলে টিপসই নেন স্থানীয় জামায়াত নেতা আবদুস ছাত্তার। সেই টিপসই ব্যবহার করেই জালিয়াতি করে বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে।

প্রায় ১৩ বছর আগে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মারা গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর মানুষের জমিতে কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। তার নাতি-নাতনিও আছে। গতকাল বুধবার তার বাড়িতে গিয়ে ওই নারীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি দাবি করেন, ‘আমি কোথাও বিয়ে করতে যাইনি। কোনও কাজিকেও দেখিনি।’

অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার নিজেকে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তার কসমেটিকসের দোকান আছে। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, ওই নারীর কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি কোনও টিপসই নেননি। এলাকার জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়েছি। তিনি (ছাত্তার) জামায়াতের পদধারী কোনও নেতা নন; বিগত নির্বাচনের সময় তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন। আগে তিনি বিএনপি করতেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আমরা চাই, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হোক। তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে, ঘটনাটি সাজানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।’

ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম আছে। তিনি আগেও বিভিন্ন সময় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু তিনি কখনও প্রস্তাবে রাজি হননি। কুদ্দুসের সংসারে স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, ছেলেমেয়েসহ নাতি-নাতনি আছে।

বাড়িতে কুদ্দুসকে না পাওয়া গেলেও স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানান, বিয়ের বিষয়ে তার স্বামী তাকে আগে কখনও কিছু জানাননি। ঘটনা জানাজানি হলে দাবি করেন, তিনি ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করেছেন; কিন্তু তিনি কারও কথা শোনেননি।

কাবিননামায় দেখা যায়, কাজি গোলাম মোস্তফা বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। এতে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা উল্লেখ আছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম আছে। সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি কোনও বিয়ের সাক্ষী হননি।

কাজি গোলাম মোস্তফা এই বিয়ের কিছু সম্পন্ন করেননি বলে জানান। তার দাবি, যে কাগজ ছড়িয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ জাল। এর আগে ২০২০ সালে এমন একটি জাল কাগজ তৈরি হওয়ায় ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এবার কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলবেন।

গত সোম ও বুধবার গ্রামে দুই দফা সালিশ বসেছে। তবে সালিশে অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন না। আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। এরপরও আবদুস ছাত্তার অবস্থান স্পষ্ট না করলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সালিশে নেতৃত্বে দেওয়া মোহাম্মদ রুস্তম আলী। তিনি বলেন, ‘কীভাবে কী হলো, আমরা যাচাই করছি। সালিশের মাধ্যমে সমাধান না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।’

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, ঘটনাটি তারা বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছেন। কিন্তু এখনও থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

দুই মাসে কমপক্ষে ১ হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
দুই মাসে কমপক্ষে ১ হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তুলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে কমপক্ষে ১ হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে সেখানে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়।

নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। নতুন প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

বৈঠকে বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল ও খেলাধুলার উপযোগী করা, দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাব কার্যক্রম চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ, সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল আলম খান মিল্টন, ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমীন।

 

দেবহাটায় বাল্যবিবাহকে লালকার্ড দেখানো কিশোরীদের মাঝে প্রণোদনার চেক প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় বাল্যবিবাহকে লালকার্ড দেখানো কিশোরীদের মাঝে প্রণোদনার চেক প্রদান

সংবাদদাতা: ‘আর নয় বাল্যবিয়ে, এগিয়ে যাব স্বপ্ন নিয়ে, করলে সঞ্চয় ২০০ টাকা, সরকার দেবে ৪০০ টাকা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার দেবহাটায় কিশোরী ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে কিশোরীদের মধ্যে বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উপকরণ এবং সঞ্চয়ের বিপরীতে প্রণোদনার চেক বিতরণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার সখীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) পরিচালিত ইরেসপো প্রকল্পের আওতায় সখীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় পল্লী উন্নয়ন কিশোরী সংঘ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের পাশাপাশি কিশোরীদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা, শিক্ষা অব্যাহত রাখা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। নিয়মিত সঞ্চয়ের মাধ্যমে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় কাজে অর্থনৈতিক সহায়তার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ইরেসপো প্রকল্পের আওতায় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া সখীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উপকরণ এবং সঞ্চয়ের বিপরীতে প্রণোদনার চেক হস্তান্তর করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের জমাকৃত সঞ্চয় ৬৩ হাজার ৮০০ টাকা এবং সরকার প্রদত্ত প্রণোদনা হিসেবে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯১৯ টাকা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দেবহাটা উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ কিশোরী বাল্যবিয়ে না করার শপথ নিয়ে প্রকল্পের সুবিধাভোগী হয়েছে বলে জানানো হয়।

সখীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ তহিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মৃদুল সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা। বক্তব্য দেন বিআরডিবি সাতক্ষীরার উপপরিচালক আফরুজ্জামান, দেবহাটা উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা সন্দীপ মন্ডল, শিক্ষার্থী তাহেরা ইসলামসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। কিশোরীদের শিক্ষা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা, সঞ্চয়ের অভ্যাস ও আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

আয়োজকেরা জানান, শিক্ষা, সচেতনতা ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে কিশোরীদের বাল্যবিয়ের ঝুঁকি থেকে দূরে রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে তোলার আত্মবিশ্বাসও তৈরি হবে।