সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজী আজিজুর রহমান : প্রান্তিক জনপদের সাহিত্যজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
গাজী আজিজুর রহমান : প্রান্তিক জনপদের সাহিত্যজন

মনিরুজ্জামান মুন্না


ফুলফুঁটেছে ফুল; চিনতে যাকে আমরা আজ কেউ করেনি ভুল। পাঁপড়িভরা মনোহরা সুবাস পাগলপারা; গদ্যসুধার ধারক সে যে সুনাম সীমাহারা। অর্থ নয় বিত্ত নয় নয়কো অলংকার; এ জনপদে ফুলটি সবার গর্বের অহংকার। ফুলটি আজি অদম্য আশি শোভিত দুর্বার, অনন্য হয়ে বনানীর কোলে জাগে বারংবার। নামটি হয়েছে কালজয়ী নদী এক প্রবাহমান; কালিগঞ্জের ছেলে তিনি গাজী আজিজুর রহমান।

গাজী আজিজুর রহমানের জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতের দার্জিলিংয়ে। তার বাবা কাসেম আলী গাজী এবং মা করিমন্নেসা। তিনি ১৯৬৪ সালে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৬৬ সালে সাতক্ষীরা কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৬৯ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। কালীগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন ১৯৭৫ সালে। অধ্যাপক পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন ২০১০ সালে। এসময়ে নিজেকে সম্পূর্ণ নিয়োজিত করেছেন গবেষণাকর্ম ও সংস্কৃতি সেবায়। কালীগঞ্জে বসে কাজ করলেও তার গবেষণাকর্ম ঢাকা-কোলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং সমাদৃত।

ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হওয়ার নামই জীবন। বছরান্তে জন্মদিন তার একটা অংশ বা অনুষঙ্গ মাত্র। সম্পূর্ণ জীবন প্রবাহ যদি একটা ফুল হয়, তবে প্রতিটি জন্মদিন তার একটি পাঁপড়ির মতো। একটা জন্মদিন চলে গেল তো জীবন প্রবাহের নির্ধারিত ও পরিবেষ্টিত পাঁপড়ি থেকে একটি পাঁপড়ি ঝরে গেল। এভাবে পাঁপড়িগুলো ঝরতে ঝরতে একদিন পৌঁছে যাবে জীবনের অন্তিমে। তবুও কষ্টের সে বার্তাকে অতিক্রম করে জন্মদিনের তিথিকৃত্য আমাদের সবারই ভালো লাগে। ভালো লাগে কোন আনন্দ আয়োজনের মাধ্যমে আলোচনা ও শুভেচ্ছা-প্রীতির ভাব বিনিময়ে। জন্মতীথিকে উপলক্ষ করে হৃদয়ের গহীনে সাহিত্য-সংস্কৃতি ও শিল্প-শৈলীর ব্যঞ্জনায় একাকার করে নিতে।

জন্মই আজন্ম ঘটনার সূত্রপাত। বছরের অন্য যে কোন বিশেষ উৎসবমুখর দিন-ক্ষণের সাথে যার একটা চমৎকার মিল থাকে। যেমন নববর্ষ। জন্মের পর থেকে প্রথম জন্মদিনের মতো প্রথম যে নববর্ষকে আমরা দেখি, সেখান থেকে আর একটি নববর্ষকে দেখতে দেখতে জানিনা কোনটির অন্তর্বর্তীকালে জীবনের আবসান ঘটে যাবে। কত ফুল ফোঁটে, কত ফুল ঝরে যায়। কত তারা জ্বলে, কত তারা নিভে যায়। পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে ফোঁটাফুল আর নিভে যাওয়া তারার মতো মানব জীবন যেন এক পুতুল নাচের ইতিহাস। জীবন একটাই, তাও আবার স্বল্প দিনের। একমাত্র কর্মই পৃথিবীতে আয়ুষ্কালের পরিসীমা অতিক্রম করে মানুষকে অমরত্ব দিতে পারে। মানুষ হতে পারে কাল-মহাকালের আলোক অভিসারী। তখন শুধু বেঁচে থাকা অবদিই শুধু নয়, মৃত্যুর পরও শত শত বছর ধরে আড়ম্বর উৎসব আয়োজনে পালিত হতে থাকে জন্মদিন বা জন্মজয়ন্তী। যার আমেজ, মর্যাদা, গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা তাকে অনন্য, অসাধারণ আর কালজয়ী কোন মানুষের ইতিহাসে অন্তর্ভূক্ত করে। গাজী আজিজুর রহমান তেমনই একজন অনন্য মর্যাদাবান মানুষ।

অধ্যাপক গাজী আজিজুর রহমান সাতক্ষীরার সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সুধী-সুশীল মহলে এক অপরিহার্য নাম। একজন নিষ্ঠাবান কর্মযোগি মানুষ। সর্বমহলে যার সহজ-সরল, সাবলিল উপস্থাপন সকলকে আকৃষ্ট করে। জীবনের জটিল সংগ্রাম ও কষ্টের বহুমাত্রিক পরীক্ষায় তিনি পরাস্ত হননি। জীবন সংগ্রামের আগুন তাকে পলে-পলে দগ্ধ করায় চেহারায় বিদগ্ধ পোড় খাওয়া মানুষের উজ্জ্বল্যতা লক্ষনীয়। শিক্ষাকতা পেশার বাহিরে তিনি মূলত সাহিত্য কর্মের মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপন করেন। তিনি সাতক্ষীরার শিক্ষা-স্বাস্থ্য, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি, সাংবদিকতা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করেন। এর জন্য সংশ্লিষ্ট নানান সংগঠন বা সংস্থার সমৃদ্ধিতে সম্পৃক্ত হয়ে সফলতার সাক্ষ্য রেখেছেন। বহুমাত্রিক নিমগ্ন সংগঠক হয়ে মানব সমাজে আদর্শ ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষাকতার মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মহান ব্রতে নিয়েজিত থেকে তিনি আমাদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণকে সমৃদ্ধ করেছেন। আট দশক আয়ুষ্কালে অব্যাহতভাবে পেশাদারী কর্মকা-ের সাথে ব্যক্তি, সমাজ, সভ্যতা, মানবিক ও অত্মিক উন্নয়নে নিবেদিত। যদিও তার পরিচয়ধর্মী ব্যাপৃত জীবনচরিত ও প্রতিভার ভা-ার সম্পর্কে আমি পুরোপুপি অকিবহাল নই। তবুও স্নেহধন্য ক্ষুদ্রতম অনুজ হিসেবে এবং আশির্বাদের পরিধিতে সাময়িক বসবাসের সুযোগ পেয়ে আমার যতটুকু জানা-শোনা তা বেশ প্রশংসার যোগ্য। আজ স্যারের আশিতম জন্মবার্ষিকীতে স্বত:প্রণাদিত হয়ে কৃতজ্ঞচিত্তে হাতে কলম তুলে নেওয়া।

শৈশব-কৈশরের স্বর্গীয়ভাব, আনন্দ-কাকলী ব্যাতিরেখে পরিবারের ভিত টিকিয়ে রাখার জন্য নানামুখী ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে অনর্গল লড়াই করে নিজেকে ও সমাজকে আলোকিত করেছেন নিজস্ব আলোকছটায়। চিরায়ত সত্য-সুন্দরের বিজয় নিশানে তার নিরন্তর অভিযাত্রা। গাজী আজিজুর রহমান এর সংস্পর্শে একদিকে যেমন তৈরী হয়েছে নানান ধরনের উন্নত পেশাধারী ব্যক্তিত্ব, অন্যদিকে তেমনি তৈরী হয়েছে দায়-দায়িত্বশীল সেবক, উন্নয়ন ও সাহিত্য-সংস্কৃতিক কর্মী। নানা রকমের নিছক মতবিরোধ বা আপত: টানাপোড়ন নিয়েও তার সাথে সর্বত্র সহঅবস্থান সুখকর। জীবনঘনিষ্ঠ ঐতিহ্যপ্রিয় এই ঋদ্ধ মানুষটি স্বাতন্ত্র্য ব্যক্তিত্ব, মুক্তবুদ্ধি ও প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার আতœপ্রত্যয়ে সমৃদ্ধ। বিনয়, অমায়িকতা ও সুসংস্কৃতির দিলখোলা মানুষ হওয়ায় তার লোকপ্রিয়তার ব্যাপ্তী অনেক। কখনও কখনও জীবন জটিলতায় মসৃণ স্বপ্ন হোচট খায়। তবু জমা-খরচের হালখাতায় দেউলিয়া হয়ে যাননি। তাই স্বপ্নীল প্রত্যাশা থেকে চুড়ান্ত প্রাপ্তির অংকটা ঘুরে ফিরে মিলে যায়। মানুষ ও মানুষ পাঠের নিমগ্ন সাধক হয়ে ওঠায় তার অর্জনের ফলাফল তাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধা, সম্মান, ভালোবাসা আর মর্যাদার আসনে আসীন করেছে। অনেকটা নিরিবিলি অথচ সৃজনশীল বলে তার উপস্থিতি সরব ও মহিমান্বিত। অন্যদের তুলনায় কম কথা বললেও যতটুকু বলেন তা গুরুত্বপূর্ণ ও পরিণত সুরে। তাই ততোটুকুই মরুভূমিতে মরুদ্যানের মতো প্রশান্তি বিলিয়েছে। বৈশাখের রোদে পোড়া মাঠের কৃষকের মত ফলিয়েছে স্বর্ণালী ফসল। লোভ, কপটতা কিংবা বিলাস তাকে কখনো আকৃষ্ট করেনি। থাকেন সাধারণ তবু অসাধারন সে ব্যক্তি সত্ত্বার অপরূপ রূপ।

সৃষ্টির প্রতিশ্রুত পথে হেঁটে হেঁটে পরিশ্রান্ত পথিকে মননী মগ্নে চলেছেন বিজয় আনন্দে। স্বপ্নডানায় উড়ে বেড়ায় প্রমুক্ত সৃজনী। কাঙ্খিত আকাঙ্খা সাবলীল উন্মোচনে ঠিকানা পায় গতি-প্রগতির অনন্ত ধারায়। আকাশ যেমন তার সমস্ত কথা জল হয়ে লিখে দেয় পৃথিবীর গায়, ঠিক তেমনি মননের জমিনে সাহিত্য-শব্দের বৃষ্টি ঝরিয়ে একের পর এক রচনা করেন জীবন ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষনে অনন্ত সৃষ্টির শ্লোগান। আজ অদম্য আশি’তে কুয়াশা ভেজা বাতাসে দুলে ওঠে পুরোনো দিনের স্মৃতি। সে নাম বার বার উচ্চারিত হয় সাহিত্যের পাতায়, জলসায় কিম্ব অন্য কোন শিল্পনিলয়। কিছু অপেক্ষা, কিছু অভিমান, কিছু বিশ্বাস মেঘের মতোই ফিরে ফিরে আসে বিস্ময় নিয়ে। তবুও আমরা শুধু শুনে যাইÑ মাটির গন্ধে লেখা এক অনন্ত জীবনের গান। কখনও ভোর, কখনও দুপুর কখনও রাত। আলো-আধরীর পট পরিবর্তনে মেঘ জমবে, সরেও যাবে। বর্ষা নামবে, খরাও হবে। কিন্তু সকল চড়াই-উতরাই পার করে অনবদ্য গদ্য-পদ্যের জন্মদাতায় তিনি থেকে যাবেন স্বরবে, সপ্তর্ষীর অগ্নিস্বরে, বর্ষার বারিধারা হয়ে। জন্মদিনের পরাগ মেখে তব করিতকর্মায় শুভেচ্ছা জানায়Ñ নভোনীল, বিলঝিল, শঙ্খচিল, মানবকুল, কাশফুল, গানের বুলবুল। তাদের সাথে সাথে আমিও জানাই শুভেচ্ছা, অভিনন্দন। অন্য ভূবনে, অন্য আলোয় জড়তা আর অভিমানের হিমবাহ গলে অনুরাগের ক্ষুধা-তৃষ্ণা, প্রীতি-অপ্রীতি, গতি-প্রকৃতি, পরিণতি স্বপ্নময়তার সম্মোহনে ঠিকানা খুঁজে নেয় প্রচ্ছন্ন দূতিকায়। অস্তিত্বের সন্ধানে অবরুদ্ধ সুখ স্বাধীনতার অবগহনে অকপটে তা জানান দেয় বিভ্রমের স্বর্ণালী বিকেল। বয়স শুধু কালক্ষেপণ নয়Ñ কর্ম কালের সাক্ষী হয়ে গতিময় ছন্দে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে প্রেরণা জাগরুখ থাকুক আনন্দের সানন্দ অভিলাষে। সেই বিশ্লেষিত বিশেষনে আত্মজার আত্মার ইতিহাসে গাজী আজিজুর রহমান স্যার শতায়ু নিয়ে আমাদের মাঝে থেকে যাবেন অন্বেষণ এবং প্রাপ্তির নিবেদিত বৃত্তান্তে।

প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ- প্রবন্ধ গবেষণা : সাহিত্যে সমাজ বাস্তবতার ধারা (১৯৯২, পুনর্মুদ্রণ ২০১৪), স্বেচ্ছামৃত্যুর করতলে কবি (১৯৯৬, পুনর্মুদ্রণ ২০১৫), সাহিত্য ও সিংহাসন (১৯৯৯), নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের শতবর্ষ (২০০১), সাতক্ষীরার ভাষা ও শব্দকোষ (২০০৪), আধুনিক বাংলা উপন্যাসের বিষয় ও শিল্পরূপ (২০০৯), কবিদের কবি (২০১০) এবং কালীগঞ্জের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ (২০১৪) ইত্যাদি। প্রকাশনা ও সম্পাদনার কাজেও তার মুন্সিয়ানা রয়েছে। একক সম্পাদনা : মরণরে তুহু মম (২০০৪) এবং খান আনসার উদ্দীন আহমেদ রচনাবলী (১৯৯৯), ১৯৮৩ সাল থেকে সম্পাদনা করে যাচ্ছেন ‘নদী’ নামে একটি সাহিত্যপত্র। অন্যান্য প্রকাশনা : বজ্রের বাঁশি (উপন্যাস), কালো সূর্যের নীচে (নাটক), সক্রেটিস (নাটক), যোদ্ধার জতুগৃহ (উপন্যাস) ইত্যাদি। পরিশ্রমী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বেশ কয়েকটি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সাতক্ষীরা সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার (১৯৯৫), ম্যান অব দি ইয়ার, বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টিটিউট (যুক্তরাষ্ট্র, (১৯৯৮), কবি জসীম উদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার (২০০১), শিমুল-পলাশ সাহিত্য পুরস্কার (কলকাতা, ২০০৪), বাংলা ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র পুরস্কার (২০০৭), লিনট পদক পুরস্কার (২০০৮), সিকান্দার আবু জাফর পদক (২০১২) ও কবি সুকান্ত পুরস্কার (কলকাতা, ২০১৫) ইত্যাদি।

গাজী আজিজুর রহমান প্রতিভার সপ্তপর্ণা মণি ধারণ করে বাংলা সাহিত্যের রস ভা-ার পূর্ণ করে চলেছেন। তিনি কম লিখলেও যা লেখেন ভেবেচিন্তে লেখেন এবং অনেক সমৃদ্ধ করেন। মৃত্যু, আত্মহত্যা এবং কবিতা বিষয়ক তার লেখাগুলো পাঠককে বার বার ভাবিত করে। এছাড়া বিশ্বসাহিত্য, ইতিহাস, আধুনিকতা তার লেখালেখির অন্যতম বিষয়। সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে তার দীর্ঘ তিন দশকের লেখা পাঠককে জুগিয়েছে নবভাবনার খোরাক।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, সাতক্ষীরা সিকান্দার একাডেমি

Ads small one

‘২ কোটির নিচে নেবো না’ বলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সেই প্রকৌশলী বরখাস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
‘২ কোটির নিচে নেবো না’ বলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সেই প্রকৌশলী বরখাস্ত

আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. কাউসার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক-৩ মো. কাউসার আহমেদ অপু স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশের মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘মো. নুরুল আমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, বিউবো, লক্ষ্মীপুর-এর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ১৯৮২-এর ১৪১ (১) বিধির অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিধি অনুসারে নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।’

পিডিবির কুমিল্লা বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির সাময়িকভাবে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনটি বলেন, ‘তাকে সাময়িক বহিষ্কারের অফিস আদেশের চিঠিটি আমি বিকালে পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত রবিবার রাতে নুরুল আমিনের প্রায় ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে সামনে থাকা এক ব্যক্তিকে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেবো।’

ভিডিওতে তিনি একটি কাজের ব্যয় ও মালামালের হিসাব নিয়েও কথা বলেন। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘সোজা হিসাব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করছে। হিসাব করে দেখা যাবে ৫ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে। ৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেবো।’

ভিডিওর একটি অংশে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে কোনও একটা কারণে, আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়বো না। ছয় কোটি টাকা তিন গুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাবো। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।’

এরপর তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘একটা বিলের জন্য যদি দুই কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গামতো পোস্টিং দেবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লক্ষ্মীপুর পিডিবির দুই ঠিকাদার অভিযোগ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন বিভিন্ন কাজের বিল অনুমোদন ও অর্থ ছাড় করাতে ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দিলে বিল আটকে রাখা, কাজের অনুমোদন না দেওয়া কিংবা নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলার কারণে ঠিকাদারদের কেউই তার সঙ্গে বিরোধে যেতে চান না।

অভিযোগ ও ভিডিওর বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও রিসিভ করেননি। আজ দুপুর ১২টার দিকে তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় কার্যালয়ে থাকা পিডিবির সহকারী প্রকৌশলী জানান, নুরুল আমিন সকাল থেকেই কার্যালয়ে আসেননি।

এ ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলীর নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে মিটার সংযোগ ও লাইন নির্মাণ এবং মেরামতকাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন একাধিক গ্রাহক।

 

কালিগঞ্জে শিক্ষকের ১৫৬টি পদ শূন্য, ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষার পাঠদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে শিক্ষকের ১৫৬টি পদ শূন্য, ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষার পাঠদান

নিয়াজ কওছার তুহিন: সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, দাপ্তরিক কর্মচারী ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই জনবল সংকট নিরসন করা না হলে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মোট ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ৬টি ক্লাস্টারে বিভক্ত এসব বিদ্যালয়ের জন্য ৬ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। তাঁদেরকেই ১৩৮টি বিদ্যালয়ের পরিদর্শনের কাজ সামলাতে হচ্ছে।

একই সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়েও তীব্র জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। কার্যালয়টিতে ৫টি প্রশাসনিক পদের বিপরীতে মাত্র একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও একজন অফিস সহায়কের মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, ১৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৮টিতেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই; সহকারী শিক্ষকদের দিয়ে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রশাসনিক কাজ চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ৮৩১ জন সহকারী শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭৭৩ জন, অর্থাৎ ৫৮টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান ও সহকারী শিক্ষক মিলে মোট ১৫৬টি শিক্ষক পদ খালি পড়ে রয়েছে।

একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, দাপ্তরিক কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে ঠিকমতো মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। শিক্ষকের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস জনবল সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সমস্যাগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন জানান, শূন্যপদের তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদে নিয়োগ সম্পন্ন হতে পারে। পর্যায়ক্রমে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হবে।

ভারতের কাছে ১০ গোলে হারলো বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
ভারতের কাছে ১০ গোলে হারলো বাংলাদেশ

র‌্যাংকিংয়ের ব্যবধানটা মাঠেও স্পষ্ট হয়ে গেলো। বিশ্ব হকি র‌্যাংকিংয়ে ভারত সপ্তম, বাংলাদেশ ২৭ নম্বরে। এশিয়ান গেমসের টার্ফে সেই পার্থক্য আরও বড় করে দেখালো ভারত। গোলের বন্যায় বাংলাদেশকে ভাসিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০-০ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা।

জাপানের গিফু শহরে বৃষ্টিস্নাত ম্যাচে শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চড়াও হয় ভারত। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই অভিষেকের গোলে এগিয়ে যায় তারা। এরপর একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে ভারত।

২২ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জুগরাজ সিং। পাঁচ মিনিট পর, ২৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রিত সিং। ৩২ মিনিটে সুখজিৎ সিংয়ের গোলে ভারত এগিয়ে যায় ৪-০ ব্যবধানে।

দ্বিতীয়ার্ধেও ভারতের গোলের ক্ষুধা কমেনি। ৪০ মিনিটে আরেকটি পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হারমানপ্রিত। এরপর ৪৪ ও ৪৫ মিনিটে পরপর দুটি গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন শিলানন্দ লাকরা।

৪৫ মিনিটেই আবার পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হারমানপ্রিত সিং। শেষ দিকে ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন সঞ্জয়। ম্যাচের শেষ মিনিটে ভারতের দশম গোলটি করেন মানদীপ সিং।

এশিয়ান গেমসে অবশ্য বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলের হার দিয়ে। পরের ম্যাচে স্বাগতিক জাপানের কাছেও ৬-১ গোলে হারতে হয় লাল-সবুজদের। তবে তৃতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫-১ গোলে জয় পায় বাংলাদেশ। এরপর ইন্দোনেশিয়াকে হারায় ৩-১ গোলে।

‘এ’ গ্রুপে চার ম্যাচে দুটি জয় পেলেও বাংলাদেশ শেষ করেছে চতুর্থ স্থানে। ফলে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এবার চীনের মুখোমুখি হতে হবে জিমি-আমিরুলদের।