সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

গুড়পুকুরের মেলায় নাগরদোলা-ঘোড়া-ট্রেনে মেতে উঠেছে শিশুরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
গুড়পুকুরের মেলায় নাগরদোলা-ঘোড়া-ট্রেনে মেতে উঠেছে শিশুরা

মিলন বিশ্বাস: জমে উঠেছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা। সকাল থেকে মেলার মাঠে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। তবে মেলার সবচেয়ে বেশি আনন্দ যেন শিশুদের চোখেমুখে। নাগরদোলা, ঘোড়া, শিশুদের ট্রেন, রঙিন খেলনা আর বেলুন-সবকিছু ঘিরেই তাদের উচ্ছ্বাস।

নাগরদোলা ঘুরছে আপন গতিতে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছে শিশুদের আনন্দ। কেউ বাবার হাত ধরে টানছে, ‘ওইটাতে উঠব।’ কেউ মায়ের কাছে আবদার করছে পছন্দের খেলনা কিনে দেওয়ার জন্য। কোথাও ঘোড়ার টগবগ ছুট, কোথাও শিশুদের ট্রেনের হুইসেল। চারপাশে রঙিন বেলুন, খেলনা ও বাহারি পণ্যের সমাহার। সব মিলিয়ে যেন শিশুদের জন্য তৈরি হয়েছে এক অন্যরকম আনন্দের জগৎ।

দুই বছর পর আবারও বসেছে গুড়পুকুর মেলা। ১ অক্টোবর শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। চতুর্থ দিনে এসে মেলার বিভিন্ন আয়োজন আরও জমে উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিশুরা ঘুরে দেখছে মেলার বিভিন্ন স্টল ও বিনোদনের আয়োজন।

বিনেরপোতা থেকে বাবার হাত ধরে মেলায় এসেছে সুমাইয়া ইয়াসমিন (৯)। একের পর এক আয়োজন দেখছিল সে। তবে নাগরদোলার সামনে এসে থমকে যায় তার চোখ। মেলার কোন জিনিসটি সবচেয়ে ভালো লেগেছে জানতে চাইলে সুমাইয়া জানায়, নাগরদোলায় চড়ার আনন্দই তার কাছে সবচেয়ে বেশি। সঙ্গে পছন্দের একটি খেলনা নিয়ে বাড়ি ফেরার ইচ্ছাও রয়েছে তার।

শিশু শোভন (৭)-এর আবার নাগরদোলার চেয়ে বেশি পছন্দ শিশুদের ট্রেন। ট্রেনে ওঠার জন্য সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল সে। নিজের পালা আসতেই আনন্দে চড়ে বসে। ট্রেন চলতে শুরু করলে চারপাশ দেখতে দেখতে হাত নাড়ছিল। তার কাছে মেলার সবচেয়ে মজার বিষয়—একসঙ্গে এত কিছু দেখা আর ঘুরে বেড়ানো।

তাবাচ্ছুম আক্তার (১৪) মেলায় এসেই ছুটে যায় খেলনার দোকানে। নানা রঙ ও আকৃতির খেলনা দেখে একটির পর একটি হাতে নিয়ে দেখছিল সে। শেষ পর্যন্ত পছন্দের খেলনা হাতে পেয়ে মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরে দেখে মেলার অন্যান্য আয়োজন।
দেবহাটা থেকে আসা চুমকির পছন্দ নাগরদোলা ও রঙিন খেলনা। মেলার আলো, মানুষের ভিড় আর সারি সারি খেলনা দেখে তার চোখেমুখে ছিল বিস্ময়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখার আবদারও করছিল সে।

শিশুদের এই আনন্দের অংশীদার অভিভাবকেরাও। সন্তানদের হাত ধরে মেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরছেন তাঁরা। কেউ সন্তানের পছন্দের খেলনা কিনে দিচ্ছেন, কেউ নাগরদোলায় তুলে দিচ্ছেন, আবার কেউ শিশুদের ট্রেনের টিকিট কাটতে ব্যস্ত।

শহরের লস্করপাড়া থেকে আসা হোসনে আরা বলেন, সন্তানদের আনন্দ দেখতেই মেলায় এসেছেন। দীর্ঘদিন পর মেলা হওয়ায় বাচ্চাদের আগ্রহও অনেক বেশি। মেলায় এসে তাদের আনন্দ করতে দেখে ভালো লাগছে।

বাঁশদহা থেকে আসা বিলকিস খাতুন বলেন, বাচ্চাদের আনন্দ দেখে নিজের ছোটবেলার কথা মনে পড়ছে। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে এভাবেই মেলায় এসে ঘুরে বেড়াতেন তাঁরা। এখন সন্তানদের হাত ধরে সেই একই মেলায় আসতে পেরে ভালো লাগছে।

আশাশুনি থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন ওকালত হোসেন। তিনি বলেন, ছোটদের জন্য মেলার আনন্দই আলাদা। দুই বছর পর মেলা হওয়ায় এবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছেন। সন্তানদের মুখে হাসি দেখলেই বোঝা যায়, তারা কতটা আনন্দ করছে।

গুড়পুকুর মেলা শুধু কেনাকাটা কিংবা বিনোদনের আয়োজন নয়, নতুন প্রজন্মের কাছে এটি ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি সুযোগ। বাবা-মায়ের হাত ধরে মেলার মাঠে ঘুরতে ঘুরতে শিশুরা দেখছে বহুদিনের পুরোনো এই আয়োজন। নাগরদোলার ঘূর্ণন, ট্রেনের হুইসেল আর শিশুদের উচ্ছ্বাসে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে গুড়পুকুর মেলা।

চতুর্থ দিনে এসে শিশুদের হাসি-আনন্দে আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে মেলার মাঠ। দুই বছর পর ফিরে আসা এই আয়োজন যেন পুরোনো ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের আনন্দেরও এক সুন্দর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

 

Ads small one

কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়ায় এবার দুর্গাপ্রতিমায় নতুন চমক, সাদা তিলে গড়া অনন্য শিল্পকর্ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়ায় এবার দুর্গাপ্রতিমায় নতুন চমক, সাদা তিলে গড়া অনন্য শিল্পকর্ম
কলারোয়া প্রতিনিধি: প্রতিমা নির্মাণে ব্যতিক্রমী সৃজনশীলতার জন্য ইতোমধ্যে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে সাতক্ষীরার কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া। দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রতিবছরই নতুন কোনো শিল্পভাবনা নিয়ে হাজির হন এখানকার প্রতিমাশিল্পী ও পূজা আয়োজকরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিলের আবরণে তৈরি করা হয়েছে দুর্গাপ্রতিমা। অভিনব এই শিল্পকর্ম দেখতে প্রতিদিনই পূজামণ্ডপে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
কলারোয়া পৌরসভাধীন উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া সর্বজনীন পূজামণ্ডপে এবার দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিক, অসুর ও মহিষাসুরসহ মোট ১৬টি প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিমার গায়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বসানো হচ্ছে সাদা তিল। সব মিলিয়ে প্রতিমাগুলোতে প্রায় ২৫ কেজি সাদা তিল ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৩ সালে চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে এবং গত বছর পাটের আঁশ ব্যবহার করে প্রতিমা নির্মাণ করে চমক সৃষ্টি করেছিল পালপাড়া পূজামণ্ডপ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সাদা তিলের মোড়কে প্রতিমা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিমাগুলো নির্মাণের মূল কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এখন প্রতিমার শরীরে আঠা দিয়ে একেকটি করে সাদা তিল বসানোর সূক্ষ্ম কাজ চলছে। তালুতে তিল নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে দেওয়ার এই কাজ অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য। প্রতিটি তিল সঠিকভাবে বসিয়ে প্রতিমার শরীরে নান্দনিক নকশা ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন হচ্ছে ধৈর্য, নিখুঁত হাতের কাজ ও শিল্পীর দক্ষতা।
প্রতিমাশিল্পী খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনির বাসিন্দা প্রহ্লাদ বিশ্বাস জানান, প্রতিমা নির্মাণ, তিল বসানো ও রঙের কাজ শেষ করতে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগছে। তিনি চার সহকর্মীকে নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন। তিল বসানোর কাজ শেষ করতে আরও দুই দিন সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, “পরিষ্কার সাদা তিল হাতের তালুতে নিয়ে প্রতিমার গায়ে একে একে বসিয়ে দেওয়ার কাজটি বেশ কঠিন। প্রতিটি তিল সঠিকভাবে স্থাপন করতে যথেষ্ট সময় ও শ্রম দিতে হয়।”
পূজা মণ্ডপ কমিটির কোষাধ্যক্ষ অশ্বিন পাল জানান, এবার প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপসজ্জাসহ সব মিলিয়ে পাঁচ লাখ টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে। তিনি বলেন, পাটের আঁশ দিয়ে প্রতিমা তৈরির পর এবারও নতুন কিছু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পূজা মণ্ডপের দায়িত্বশীলদের আলোচনার মাধ্যমে সাদা তিলের মোড়কে প্রতিমা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, “কলারোয়া উপজেলার মধ্যে আমরাই প্রতিবার নতুন কিছু করে দেখানোর চেষ্টা করি। এবারও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সাদা তিল দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
পূজা মণ্ডপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক প্রদীপ পাল বলেন, সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার ফলেই এই ব্যতিক্রমী কাজ সম্ভব হয়েছে। চিনিগুঁড়া ধান ও পাটের আঁশ দিয়ে তৈরি প্রতিমা দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও প্রশংসা পেয়েছিল। এবার দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিল দিয়ে তৈরি প্রতিমাটিও মানুষের নজর কাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পালপাড়া পূজামণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দের মতে, সাদা তিল দিয়ে প্রতিমা সাজানো শুধু একটি ব্যতিক্রমী শিল্পপ্রয়াস নয়; এর মাধ্যমে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের মাটি, শস্য, শিকড় ও ঐতিহ্যকেও তুলে ধরা হচ্ছে। দেশীয় উপকরণকে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন প্রজন্মের সামনে লোকজ সৃজনশীলতার একটি ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করাই তাদের লক্ষ্য।
উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু প্রকাশ হালদার জানান, এ বছর কলারোয়া উপজেলায় ৪৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া পূজামণ্ডপে সাদা তিলের আবরণে তৈরি ব্যতিক্রমী প্রতিমা ইতোমধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নজর কেড়েছে।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে একদিকে যেমন ফুটে উঠেছে প্রতিমাশিল্পীদের নিপুণ হাতের কারুকাজ, অন্যদিকে দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিল পেয়েছে এক অনন্য শিল্পরূপ। ফলে এবারের দুর্গাপূজায় উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া হয়ে উঠেছে সৃজনশীলতার এক আকর্ষণীয় কেন্দ্র।

অ্যাড. মহিদুল ইসলামকে প্রধান করে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কমিশন গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
অ্যাড. মহিদুল ইসলামকে প্রধান করে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কমিশন গঠন
পত্রদূত রিপোর্ট : সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ৭ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. মহিতুল ইসলাম।
সোমবার (৫ অক্টোবর) জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আহ্বায়ক কমিটির বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজ্ঞ আইনজীবীদের সমন্বয়ে এ নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা হলেন— অ্যাডভোকেট খায়রুল বদিউজ্জামান, অ্যাডভোকেট মো. আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ফারহানা ইয়াসমিন, অ্যাডভোকেট শেখ আবু সাঈদ রাজা এবং অ্যাডভোকেট কাজী আব্দুল্লাহ আল হাবিব।
চিঠিতে সমিতির গঠনতন্ত্রের বিধি-বিধান অনুসরণ করে আগামী ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পুনরায় নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পাওয়া অ্যাডভোকেট খায়রুল বদিউজ্জামান বলেন, “পুনরায় নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া যেমন সম্মানের, তেমনি এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল কাজ। বিজ্ঞ আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা এবং আস্থার মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমি এবং আমাদের কমিশন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব।”
নির্বাচন কমিশন গঠনের চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, সাতক্ষীরার বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা তথ্য কর্মকর্তা এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

সাতক্ষীরার মেয়ে প্রজ্ঞার প্রকৌশল প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার মেয়ে প্রজ্ঞার প্রকৌশল প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়
আসাদুজ্জামান সরদার: সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান, মেধা ও মননে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী শিক্ষার্থী প্রজ্ঞা পারমিতা রহমান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। প্রজ্ঞার এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন তাঁর মা-সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার। যিনি নিজে একজন সফল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সমাজসেবায় অবদান রাখার পাশাপাশি প্রজ্ঞাকে গড়ে তুলেছেন একজন অল-রাউন্ডার হিসেবে। মা নাজমুন নাহারের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় ছোটবেলা থেকেই একের পর এক সাফল্য অর্জন করা এই ‘সাতক্ষীরার মেয়ে’ এবার জয় করেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রকৌশল সংগঠন ASHRAE-এর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছেন প্রজ্ঞা। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে তিনি বর্তমানে মিশরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (সিআরসি) অংশগ্রহণ করছেন। গত ১ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশ্বের খ্যাতনামা প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে প্রজ্ঞা পারমিতা রহমানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বুয়েট অটোমোবাইল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট প্রজ্ঞার এই অনন্য সম্মাননা অর্জন পুরো সাতক্ষীরাবাসী তথা পুরো দেশের জন্য এক অভাবনীয় গর্বের বিষয়।
প্রতিযোগিতার কঠিন বাছাই প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে প্রজ্ঞার মা জানান, প্রায় দুই মাস আগে ASHRAE-এর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞপ্তির পর সারা বিশ্বের হাজারো শিক্ষার্থী আবেদন করেন। অত্যন্ত কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই এবং একাধিক ধাপের সাক্ষাৎকার শেষে বিশ্বজুড়ে মাত্র তিনজনকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এই ৩ জনের মধ্যে ২ জনই বাংলাদেশের বুয়েটের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী (প্রজ্ঞা পারমিতা রহমান ও আফতাব) এবং অপরজন দুবাইয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিজয়ী হওয়ায় আয়োজক সংস্থা ASHRAE প্রজ্ঞার বিমান ভাড়া, ভিসা, থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহন করেছে।
সাতক্ষীরার সন্তান প্রজ্ঞার এই বিশ্বজয়ের পেছনে রয়েছে তাঁর শৈশব থেকেই অল-রাউন্ডার হয়ে ওঠার গল্প। প্রজ্ঞা সাতক্ষীরা কিন্ডার গার্টেন, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে শিক্ষা শেষ করে বুয়েটে সুযোগ পান। এসএসসিতে জিপিএ-৫ সহ জেলার সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনকারী প্রজ্ঞা ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে ছিলেন ঈর্ষণীয়ভাবে সফল।
তিনি জাতীয় শিশু পুরস্কারসহ চার-পাঁচটি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন। ছিলেন সাতক্ষীরা বিতর্ক দলের ক্যাপ্টেন; ২০২১ সালে বিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তাঁর দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি তিনি টানা ৭টি বিতর্কেই ‘শ্রেষ্ঠ বক্তা’ হন। এছাড়া তিনি চ্যানেল আই-এর ‘স্বর্ণকিশোরী’ হিসেবে খুলনা বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং দীর্ঘদিন বিডিনিউজ২৪ ডটকমের হ্যালোর শিশু সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রজ্ঞার বাবা আলহাজ্জ মো. সাহিদুর রহমান সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মার্স ব্যাংকের খুলনা শাখার ম্যানেজার ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট।
মেয়ের এই আন্তর্জাতিক অর্জনে আবেগপ্লুত মা নাজমুন নাহার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, প্রজ্ঞা শুধু আমার মেয়ে নয়, সে সাতক্ষীরার মেয়ে, পুরো বাংলাদেশের মেয়ে। একজন মা হিসেবে ওর এই বিশ্বজয়ের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ছোটবেলা থেকেই প্রজ্ঞাকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি ওর মেধা বিকাশে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে ও যেন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে মর্যাদার সাথে তুলে ধরতে পারে এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য বড় অবদান রাখতে পারে-এই জন্য আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।