বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

গুড়পুকুরের মেলা : মেলা সংস্কৃতির এক অনন্য ধারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
গুড়পুকুরের মেলা : মেলা সংস্কৃতির এক অনন্য ধারা

মনিরুজ্জামান মুন্না

গুড়পুকুরের মেলা। সাতক্ষীরার প্রায় ৩০০ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এই মেলা। প্রতিবছর ভাদ্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ভাদ্র ‘শ্রীশ্রী মা মনসা দেবী’র পূজা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ‘গুড়পুকুরের মেলা’। আবহওয়ামান বাংলার সংস্কৃতির ঐতিহ্য মেলার একটি বাণিজ্যিক দিক রয়েছে। ধর্মীয় চেতনার বাইরে অন্যান্য সামাজিক বা লৌকিক আচারগুলোও মেলার সঙ্গে যুক্ত।

 

‘গুড়পুকুরের মেলা’ গ্রাম বাংলার লোকজ সংষ্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যই এখনও পর্যন্ত সাতক্ষীরার সংস্কৃতির মূলধারাটি বহন করে চলেছে। লৌকিক আচার আচরণ, বিশ্বাস আর পৌরাণিকতায় সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা জেলা। নানা কিংবদন্তির প্রবাহধারায় সজীব এখানকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য। খুব সহজেই এখানে মিলিত হয়েছে লৌকিক আচার-আচরণের সাথে পৌরাণিতত্ত্বের। যেন দুটো নদীর সম্মিলিত এক বেগবান স্রোতধারা। সুন্দরবনের সাগরদ্বীপ দুবলা চর থেকে শুরু করে খুলনা, যশোর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিং, বিক্রমপুর, ফরিদপুর এমনকি একসময় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়ও এর প্রভাব ছিল ব্যাপক। কেউবা কিনতে-বেড়াতে, কেউবা বেচতে।

সাতক্ষীরায় জেলার শুধু নয় দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় লোকজ সংষ্কৃতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ভরা মেলাটি বসে সাতক্ষীরা শহরেই। পলাশপোলে গুড় পুকুরের পাড়ে গুড়পুকুর মেলা। গুড়পুকুর মেলার উৎপত্তি খুঁজতে পৌরাণিক ইতিহাসে কথিত আছে, সাতক্ষীরার জমিদার বংশীয় পরিবারের পূর্বপুরুষেরা কুলিন ব্রাহ্মণ ছিলেন। তাঁদরে পূর্বপুরুষদের জনৈক চৌধুরী বংশীয় জমিদার ক্লান্ত অবস্থায় শেষ ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে সাতক্ষীরার পলাশপোল বিরাটাকার বটগাছ তলায় বটের ছায়ায় একটু জিরিয়ে নেয়ার জন্য বসলেন। বটের ছায়ায় বসতে না বসতেই ঘুম এসে গেল তাঁর। বটের শেকড়ে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন তিনি। বট গাছের ছায়ায় গাছতলায় ঘুম। তখন বটগাছের পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের তীব্র কিরণ এসে পড়ল জমিদারের মুখে। রৌদ্র্যের তাপে ঘুম ভেঙে যেতে লাগলো তাঁর। অস্বস্থি বোধ করলেন তিনি। সেই সময় বট গাছের মগডালে ছিল এক পদ্মগোখরো সাপ, সে তা লক্ষ করল। আস্তে আস্তে পদ্মগোখরোটি নেমে এলো নিচে। যে পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যরশ্মি এসে জমিদারের মুখে পড়েছে, ঠিক সেখানে ফণা তুলে দাঁড়ালো পদ্মগোখরোটি। ফণার ছায়া এসে পড়ল জমিদারে মুখে। তিনি আরাম পেয়ে আবারও ঘুমিয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে থাকার পর আবার ঘুম ভেঙে গেল। এর মধ্যে ক্লান্তি অনেকটা দূর হয়েছে তাঁর। চোখ মেলে বটের পাতার দিকে তাকালেন। হঠাৎ দেখতে পেলেন একটি পদ্মগোখরো সাপ ফণা তুলে সূর্য কিরণকে আড়াল করে আছে। এবার ফণাটি একটু নড়ে উঠলো, দুলে উঠলো গাছের পাতা। ফণা নামিয়ে সাপটি হারিয়ে গেল ডালে ডালে পাতায় পাতায়। আবার সূর্যরশ্মি এসে পড়ল জমিদারের মুখে। তখন তিনি এলাকার সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ডেকে বললেন, এখানে ‘শ্রীশ্রী মা মনসা দেবীর পূজা’ করতে হবে। সেদিন ছিল ভাদ্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ভাদ্র। ১২শ’ বঙ্গাব্দের গোড়ার দিকের কোন এক বছর। তখন থেকেই সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ কেন্দ্র পলাশপোল গ্রামের সেই বিরাটাকার বটবৃক্ষের তলায় প্রতিবছর ভাদ্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ভাদ্র ‘শ্রীশ্রী মা মনসা দেবী’র পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

গুড়পুকুর পাড়ের দক্ষিণে বটগাছতলায় শুরু হয় ‘শ্রীশ্রী মা মনসা দেবীর পূজা’। আর ৩১ ভাদ্র শ্রীশ্রী মা মনসা দেবীর পূজা উপলক্ষে মেলা বসে। এই মেলার নাম হয় ‘গুড়পুকুর মেলা’। গুড়পুকুরের নামানুসারেই মেলার নামকরণ করা হয়েছে ‘গুড়পুকুরের মেলা’। তবে ‘গুড়পুকুর মেলা’ নামকরণের পিছনে রয়েছে ইতিহাস, কাহিনী ও কিংবদন্তী। বটগাছটার উত্তরে বিশাল দিঘি সদৃশ একটা পুকুর আছে। ওই পুকুরটার নাম ‘গুড়পুকুর’। তারই নামে মেলা। কিভাবে হলো এই নামকরণ? কথিত আছে, শ্রীশ্রী মা মনসা দেবীর পূজার উপলক্ষে প্রচুর পরিমাণ ভক্তদের আনা নানা রকমের মিষ্টি দ্রব্য ও বাতাসা ভোগ স্তুপে পরিণত হতো। ভক্তরা মিষ্টি বা বাতাসা প্রসাদ গ্রহণ করলেও আরও অধিক পরিমাণ মিষ্টি ও বাতাসা থেকে যেত। যা খাওয়ার মানুষ পাওয়া যেত না।

 

তখন ওই ভক্তদের আনা মিষ্টি বা বাতাসা ফেলা হতো শ্রীশ্রী মা মনসা বেদীর বটগাছের উত্তর পাশের ওই পুকুরে। ওই সময় ওই পুকুরের পানি গুড়ের মত মিষ্টি হয়ে যেত। এলাকার মানুষ তখন ওই পুকুরকে ‘গুড়পুকুর’ বলে ডাকতো। সেই থেকে ওই পুকুরের নামকরণ হয়ে যায় ‘গুড়পুকুর’। আর ‘গুড়পুকুরকে কেন্দ্র করে মেলার নাম করন ‘গুড়পুকুর মেলা’ হয়েছে। পলাশপোল এলাকার প্রবীণদের কাছ থেকে আর এক রকম কিংবদন্তী শোনা যায়। এখানকার অত্যন্ত প্রবীণ পরিবারদের অন্যতম চৌধুরী পরিবার। এই পরিবারের পূর্বপুরুষেরা কুলিন ব্রাহ্মণ ছিলেন এবং তারা ছিলেন গৌর বর্ণের অধিকারী। উত্তরাধিকার সূত্রে গৌরবর্ণের অধিকারী ছিলেন তারাও। গৌরবর্ণের অধিকারী চৌধুরীরা ওই পুকুরের মালিক বিধায় পুকুরের নাম হয়েছে ‘গুড়পুকুর’।

‘গৌড়’ শব্দটি লোক মুখে ঘুরতে ঘুরতে ‘গুড়ে’ শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। সেদিনের গুড়পুকুরের মেলা অনেক বড় আকারে অনুষ্ঠিত হতো। সাতক্ষীরা শহরের প্রায় ৩ থেকে ৫ কি.মি. ব্যাপি গুড়পুকুরের মেলা বসতো। গুড়পুকুরের মেলা শুরু হবার অর্থাৎ ৩১ ভাদ্র শ্রীশ্রীমনসা পূজার সময় আসার দেড় ২ মাস আগ থেকে শুধু সাতক্ষীরা জেলা নয় দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে মেলার আয়োজনে সাজ সাজ রব শুরু হয়ে যেত। বিশেষ করে খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহা, বাগেরহাট, নড়াইল, সাতক্ষীরার চারা-কলম, সবচেয়ে আকর্ষণ ছিল কাঠের তৈরী বিভিন্ন কাঠের তৈরী আসবাবপত্রের মধ্যে, কাঠের ফুলদানি, পুতুল, শো পিস সামগ্রী, কাঠের পিড়ি, দেলকো, বেলন, রুটি বেলা পিঁড়ি, বসার পিঁড়ি, আলনা, আলমারী, চেয়ার টেবিল, ওয়ারড্রব, শোকেস, ড্রেসিং টেবিল, খাট-পালঙ্ক প্রভৃতি।

 

সাতক্ষীরার কারুশিল্পী নজরুল ইসলামের মূল্যবান ও মনোরম কারুকার্য সম্পন্ন সেগুন কাঠের পালঙ্ক। যা প্রতিটি মনোরম কারুকার্য সম্পন্ন সেগুন কাঠের পালঙ্ক বিক্রি হতো লক্ষাধিক টাকায়। সেই পালঙ্ক এক নজর দেখার জন্য মানুষের ভিড় সামলানো কঠিন হতো। ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ বিভিন্ন বিভাগ, জেলা, শহর, বন্দর, নগর ও গ্রাম থেকে আসতো মনোহারী সামগ্রী, মনোহরী দ্রব্যাদি, স্টেশনারি, শিশুতোষ খেলনার দোকানদাররা। শিশু ও কিশোরদের নানা রকমের খেলনা। মনসা পূজা ৩১ ভাদ্র হলেও মেলা চলতো আশ্বিন মাসের প্রায় শেষ পযর্šÍ। লক্ষ মানুষের সমাগমে, হিন্দু মুসলিম জাতি ধর্ম বর্ণ নারী পুরুষ নির্বিশেষে এ এক মহামিলন স্থলে পরিণত হতো এই মেলা। মেয়েরা এই গুড়পুকুর মেলা উপলক্ষে বাবার বাড়িতে নাইয়োর আসতো। নাতি, নাতনি, মেয়ে জামাইয়ের মেলায় বেড়ানো ছিল এক বড় অনাবিল আনন্দময় ও উচ্ছ্বাসের।

এছাড়াও আসতো দেশীয় ফল-মুল, আখ, বাতাবী লেবু, ইলিশ মাছ। মেলায় এসে আখ-ইলিশ-বাতাবি লেবু ছাড়া কেউ বাড়ি ফিরত না। ছিল বাঁশ ও বেত শিল্পের নানা দ্রব্য, ধামা, কুলা, ঝুড়ি, খাবার ঢাকনি, কর্মকারদের লৌহ শিল্পের দ্রব্যাদি, লোহার তৈরী দা, বটি, নারকেল কোড়ানি, কুড়াল, কাস্তে, খোন্তা, কোঁদাল, শাবলসহ প্রভৃতি। মোটকথা নিত্য ব্যবহার্য সবকিছুই মেলাতে ওঠতো। বসতো অসংখ্য মিষ্টির দোকান। বাহারী ও রংবেরংয়ের মিষ্টির পসরা সাজিয়ে বসতো ময়রা দোকানীরা। দেশীয় তৈরী নানা রকমের খাবার, জিলাপী, ছানার সন্দেশ, খেঁজুর গাছের নলেন গুড়ের সন্দেশ ও জোড়া সন্দেশ, ছানার জিলাপী, বন্দিয়া, মিহিদানা, গজা, রসমণি, রসগোল্লা, রসমালাই, সরপুরিয়া, ছানা, কদমা, বাতসা, মিষ্টিমুড়ি, ছোলা ভাজা, বাদাম ভাজা, চানাচুর, ঝুড়ি ভাজা, কত রকমের খাবার। ছিল মিষ্টি পানের হাজরো বাহারী আয়োজন। গুড়পুকুর মেলা উপলক্ষে দুই মাসাধিককাল শহরের মানুষের আর অন্য কোন ব্যস্ততা থাকতো না। প্রতিবছর মানুষ গুড়পুকুর মেলার জন্য অপেক্ষা করতো। আর দিন গুনতো কবে আসবে, ‘৩১ ভাদ্র’ কবে বসবে, ‘গুড়পুকুর মেলা’।

‘গুড়পুকুর মেলা’র বড় আকর্ষণ ছিলো, পুতুল নাচ, যাত্রা, নাগরদোলা, সার্কাস, সার্কাস খেলায় বাঘ, হরিণ, বানর, থাকত খাঁচায় ভরা। মৃত্যু কূপ বা মরণ কূপ, আসলাম খানের মটর সাইকেল চালনা। সিনেমা হলে এক টিকিটে দুটি শো। কি ছিল না! গুড়পুকুর মেলাকে ঘিরে সারা সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল, কামালনগর, ইটাগাছা, রসুলপুর, মুনজিতপুর, কাটিয়া, পুরাতন সাতক্ষীরা, আলীপুর, কদমতলা, বর্তমানের শহীদ কাজল সরণি, শহীদ নাজমুল সরণি, পাকাপোলের রাস্তা, মোটকথা সাতক্ষীরা শহরময় ছড়িয়ে থাকতো মেলা। সাতক্ষীরার গুড়পুকুরে মেলা এক সময় এ অঞ্চলের ব্যবসা-বানিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সারাবছর ধরে নিয়মিত কাজের অবসরে সংশ্লি¬ষ্ট কাজের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা তাদের বেচা-কেনাকে সমৃদ্ধ করতে বছরময় প্রস্তুতি নিতো। সাতক্ষীরা শহরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত একসময়ের খরোস্রোতা প্রাণসয়ের নদীতে নৌকায় করে আসতো মেলার সার্কাস, মৃত্যুকুপ, যাত্রা, পুতুল নাচ, কাঠ, চারা কলব, ইলিশ মাছ, বাতাবি লেবু, আখ, আসবাবপত্রসহ নানান গৃহসামগ্রী ও ম-া-মিঠাইয়ের পসরা।

হাতি আসতো মেলার আরো অনেক আগে। এসেই শহর ঘুরে বেড়াতো আর জানান দিত, সার্কাস এসে গেছে। ছোটবেলায় উপভোগ করা মেলার এসব সময়ের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বর্তমান সাতক্ষীরার তরুণ সমাজ যা কল্পনাও করতে পারবে না। মেলা বিস্তৃত হয়েছিল দক্ষিণে আলীপুর পর্যন্ত আর উত্তরে কদমতলা-মাধবকাটি পর্যন্ত। আর পূর্ব দিকে পাটকেলঘাটা পর্যন্ত। এভাবে নানান স্পটে নানা ধরনের অনুঘটক অনুসঙ্গ ও প্রাসঙ্গিক সাংসারিক জনজীবনের পরসার বিছিন্ন বিশাল এলাকার সন্নিবেশ ঘটিয়ে চলমান থাকে গুড়পুকুরের মেলা। বহুকাল ধরে সাতক্ষীরায় হয়ে আসছে গুড়পুকুরের মেলা।

 

দেশের অন্যান্য অনেক মেলার মতো এই মেলারও উৎপত্তি, নামকরণ এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়না। অতীতে এনিয়ে তেমন কোন লেখালেখিও হয়নি। তবে গত বিংশ শতাব্দির শেষ দিক থেকে এই মেলা সম্পর্কে অনেকের আগ্রহ সৃষ্টি হয়। শুরু হয় লেখালেখি। এসব লেখায় পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত না থাকলেও কিছু সূত্র পাওয়া যায়। যেসব সূত্র এই মেলার ইতিহাস সম্পর্কে একটা মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ধারণা দিতে পারে। সে সূত্র ধরে কেউ বলে থাকেন গৌড় বংশের উত্তরসূরিদের পুকুর। তাই গুড়পুকুর। সেই পুকুরকে ঘিরে শুরু হয়েছিল মেলা। তাই নাম হয়েছে গুড়পুকুরের মেলা।

 

ইতিহাসে পাওয়া যায় কামদেব, জয়দেবরা নাকি গুড় বংশের উত্তরসূরি ছিলেন। কেউবা এ প্রসঙ্গে কামদেব ও জয়দেব-এর কামালউদ্দিন খাঁ ও জামালউদ্দিন খাঁ হয়ে ওঠার কাহিনী উল্লেখ রয়েছে। এ দু’জনের মধ্যে কোনো একজনের পরবর্তী বংশধর হিসেবে বোরহার খাঁ ওরফে বুড়া খাঁ এঁর নাম উল্লেখ করেন কেউ কেউ। বুড়া খাঁ বাগেরহাট থেকে চলে এসে সাতক্ষীরার প্রাণকেন্দ্রের পলাশপোল গ্রামে বাড়ি ঘর তৈরি করে বসতি স্থাপন করেন। গড়ে তোলেন পলাশপোল চৌধুরী বাড়ি। চৌধুরী বাড়ির পূর্বপাশের একটা দরগা তৈরি করে সেখানে ধর্ম সাধনা করতে থাকেন। দরগাটি বিরাট এক বটগাছ কাঁধে নিয়ে বহুকাল টিকে ছিল। এখনও যার নুন্যতম আলামত লক্ষনীয় হয়। বুড়া খাঁ তার বংশধরদের রেখে যান পলাশপোল চৌধুরী বাড়িতে। চৌধুরী বাড়ির অধীনে তখন পলাশপোল মৌজার বৃহৎ এলাকা। এলাকাবাসী খাজনা দিতো চৌধুরীদের। এটি সাতক্ষীরার জমিদারদের অধীনে ছিল না। সাতক্ষীরার গুড়পুকুরের মেলার নামকরণ নিয়ে সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত হয়েছে, যেমন-

(ক) কেউ বলেন, মনসা পূজার সময় পুকুরে বাতাসা ফেলা হতো। ওই বাতাসার জন্যে পুকুরের পানি মিষ্টি লাগতো। তখন থেকেই গুড়পুকুর। (খ) অনেকের ধারণা পুকুরে পানি থাকতো না বেশিদিন। স্বপ্ন দর্শনে জানা গেল একশ’ ভাঁড় গুড় ঢালতে হবে পুকুরে। স্বপ্ন নির্দেশ মোতাবেক কাজ করা হলো। সেই যে পুকুরে পানি এলো আর শুকালো না। (গ) আবার শোনা যায় পুকুরের তলদেশ থেকে এক সময় মিষ্টি পানি উঠতো তাই এর নাম গুড়পুকুর হয়েছে। (ঘ) আবার কারো মতে পুকুরের জায়গাতে অসংখ্য খেজুর গাছ ছিল এবং প্রচুর রস হতো ওই গাছে। একবার গাছের সমস্ত রস দিয়ে গুড় তৈরি করে তা বিক্রি করা হলো এবং ওই বিক্রিত টাকা দিয়ে পুকুরটি কাটা হলো। তখন থেকে গুড়পুকুর। (ঙ) আবার পলাশপোল চৌধুরী পাড়ার রায় চৌধুরীরা গৌর বর্ণের ব্রাহ্মণ ছিলেন। তাই তাদের পুকুরকে বলা হতো গৌরদের পুকুর। কালক্রমে তা হয়ে গেছে গুড়পুকুর।

২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ঘটে ৪শ’ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ভরা ‘গুড়পুকুর মেলা’র সর্বনাশাকা-। ঐদিন সন্ধ্যায় পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে সাতক্ষীরার রক্সি সিনেমা হলে এবং সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামের সার্কাস প্যান্ডেলে বোমা হামলা চালানো হয়। তখন সার্কাস প্যা-েলে ও সিনেমা হলে সবেমাত্র শো শুরু হয়েছিল। দর্শকরা উপভোগ করছিলেন আনন্দে। হঠাৎ বোমা হামলায় সার্কাস ল-ভ- হয়ে যায়। চারিদিকে মানুষের ছুটাছুটি, কান্না ও ভয়াল দৃশ্য। এই বোমা হামলায় শিশুসহ মৃত্যুবরণ করেন ৩জন। আহত হয় শতাধিক। বন্ধ হয়ে যায় চার’শ বছরের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহি গুড়পুকুরের মেলা অনির্দিষ্ট কালের জন্য। দীর্ঘ ৮ বছর মেলা বন্ধ থাকার পর ২০১০ সালে সাতক্ষীরার তৎকালীন জেলা প্রশাসক, কবি-সংস্কৃতজন মো. আব্দুস সামাদ সাহস নিয়ে এগিয়ে আসেন। গুড়পুকুরের মেলা আবার শুরু করেন তিনি। ছোট্ট একটি গ-ির মধ্যে শুরু হওয়ায় একে একে মেলা শ্রী হারিয়ে ফেলতে থাকে। পলাশপোলের গুড়পুকুরের মেলা চলে যায় সাতক্ষীরা শহরের মধ্যে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে। ক্রমশঃ লোকজ ঐতিহ্যবাহি গুড়পুকুরের মেলা হয়ে ওঠে শহুরে মেলা। কিন্তু এ শুরুর পরও করোনা, রাজনৈতিক সংকট ও অন্যান্য অসিস্থতিশীল টানাপোড়নের কারণে কয়েকবার মেলা হয়নি বা থেমে থেমে হয়েছে।

দুই বছর বন্ধ থাকার পর ঐতিহ্যঅনুরাগী, শিল্পপ্রিয়, সাহিত্যমনা ও সাংস্কৃতিবান্ধব সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ্ কাওসার আজিজ মহোদয় গুড় পুকুরের মেলাটি করার উদ্যোগী হন। সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়া আরও একটি মেলার বিষয়ে অবহিত করা হলে তিনি যথাসময়ে সেটিও করার আগ্রহ ও ইতিবাচক সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। গুড় পুকুরের মেলা চলবে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ২০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। এই লোকজ মেলাটি এ অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয়।

 

মেলাকে ঘিরে সাতক্ষীরাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। মেলার পূর্বের সেই জৌলুষ এবং সারা শহরজুড়ে বিস্তৃর্ণ বিক্ষিপ্ত পরিসর ও বিনোদনের সর্বতোমুখী নানমাত্রিক অনুষঙ্গ (সার্কাস, যাত্রা, হাউজি, যাদু, মৃত্যুকূপ, বিচিত্রা অনুষ্ঠান ইত্যাদি) না থাকলেও পরিবেশ-পরিস্থিতির বাধ্যবাদকতায় ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে যা হচ্ছে, যেভাবেই হচ্ছে তাতেই এলাকাবাসী পরিতৃপ্ত। সে বিশ্লেষনে সাতক্ষীরার গুড় পুকুরের মেলা নিছক শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, এটি এ অঞ্চলের শত শত বছরের লোকজ ঐতিহ্য, সামাজিক মিলন ও গ্রামীণ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যা স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বিনোদন, কেনাকাটা, পারস্পরিক যোগাযোগের ও নিবিড় আত্মউন্মোচনের একটি বড় অবলম্বন হিসেবে পরিচিত। সুতরাং গুড়পুকুরের মেলা শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং মানুষের চিত্রানন্দ ও খুশির প্রতীক।

 

মেলার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আত্মীয়স্বজনেরা সাতক্ষীরাতে আসে। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ও পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলাতে ঘোরা, কেনাকাটা করা এবং এ অঞ্চলীয় তথা বাঙালি গ্রামীন-লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে অন্য অঞ্চলের মানুষ তথা নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্থানীয় জনসাধারণ, সংশ্লিষ্ট মহল এবং আয়োজকদের আশা, দীর্ঘ বিরতির পর এবার গুড় পুকুরের মেলা আরও উৎসবমুখর জমজমাট পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং চাঁদা ও মব প্রতিরোধে মেলা প্রাঙ্গণে থাকবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাতক্ষীরার ঐতিহ্যের ধারক এই মেলা আবারো প্রমাণ করবে লোকজ সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনই একটি অঞ্চলের প্রাণশক্তি।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, সাতক্ষীরা সিকান্দার একাডেমি।

Ads small one

হাদির নাম মুছে আগের নামেই ফিরছে ঢাবির ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ হল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
হাদির নাম মুছে আগের নামেই ফিরছে ঢাবির ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হলেও প্রশাসনিকভাবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই হলের নামফলক থেকে ওসমান হাদির নাম মুছে আগের নাম ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হল প্রশাসন।

গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর রাত আড়াইটার দিকে হলের মূল ফটকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা একটি ব্যানার টানানো হয়। তখন হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আল সাবাহ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, হলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অধিকাংশ শিক্ষার্থী নাম পরিবর্তনের দাবির পক্ষে মত দিয়েছেন।

হলের সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মো. জবান আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি সরিয়ে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখা হচ্ছে।

লিখিত আবেদন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লিখিত আবেদন আমাদের কাছে নেই। মৌখিকভাবে বারবার এসে তারা আমাদের বিরক্ত করছে। অভিভাবকরা বিভ্রান্ত হন। তাদের সার্টিফিকেটে এক নাম, আর বলা হচ্ছে আরেক নাম। এখন শুধু শেখ মুজিবুর রহমান হল লেখা হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘গত সিনেটে আগের সব নাম আগের মতো রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন সেটাই করা হচ্ছে।’

এর আগে ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে হলের মূল ফটক থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা ওই নাম পরিবর্তন করেন।

শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের দাবিতে এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছিলেন ডাকসুর নেতারা। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ করার সুপারিশ করা হয়।

একই সভায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ করারও সুপারিশ করা হয়।

তবে ২৯ জুন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট অধিবেশনে শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ঘটনায় ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। পরে প্রস্তাবটি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি মুছে ফেলার কাজ শুরু হয়। পরে সেখানে পুরোনো নাম ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

হল প্রশাসনের পক্ষ থেকেই নামটি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হল সংসদের বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নামফলক সরানোর একটি ছবি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজিব হলের সামনে এসে অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে যায় হল চিনতে। আজ থেকে আর সেই বিভ্রান্তি থাকবে না। আগের নামটি ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে।’

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে হলটির নাম বর্তমানে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ হিসেবেই উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল-সংক্রান্ত তথ্যে বলা হয়েছে, ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এ হলটির নাম শেখ মুজিবুর রহমানের নামে করা হয়।

অক্টোবরে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে যে সিদ্ধান্ত এলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
অক্টোবরে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে যে সিদ্ধান্ত এলো

অক্টোবর মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

ফলে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হবে। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল

অক্টোবর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের মূল্যহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অক্টোবর মাসে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের কোনও দাম পরিবর্তন হচ্ছে না। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে নির্ধারিত মূল্যহার বহাল রাখা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া সফরের বাংলাদেশ দলে কারা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
অস্ট্রেলিয়া সফরের বাংলাদেশ দলে কারা?

টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন সম্প্রতি। তবে ওয়ানডেতে তার ওপরই আস্থা বিসিবির। নিগার সুলতানা জ্যোতিকে অধিনায়ক রেখেই অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এবারই প্রথম দুই দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ হতে যাচ্ছে। সফরের তিনটি ম্যাচই হবে ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে।

আগামী ৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। ব্রিসবেনে পৌঁছে ৬ অক্টোবর কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর ৯, ১১ ও ১৪ অক্টোবর হবে সিরিজের তিন ওয়ানডে। সফর শেষে ১৫ অক্টোবর দেশে ফিরবে বাংলাদেশ নারী দল।

জ্যোতি অধিনায়ক থাকলেও সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদা আক্তার।

অস্ট্রেলিয়া সফরের বাংলাদেশ দল: নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), স্বর্ণা আক্তার, মারুফা আক্তার, রাবেয়া খান, রিতু মনি, সোবহানা মোস্তারি, শারমিন সুলতানা, শারমিন আক্তার সুপ্তা, সানজিদা আক্তার, সুলতানা খাতুন, দিলারা আক্তার, ফারজানা হক, দিশা বিশ্বাস, মুর্শিদা খাতুন ও হাবিবা ইসলাম।