চিংড়ি রপ্তানি পাঁচগুণ করা ব্যাপারই না: আশিক চৌধুরী
ন্যাশনাল ডেস্ক: তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল রপ্তানি আয়কে বহুমুখীকরণের আওতায় চিংড়ির রপ্তানি বাড়াতে দেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা শোনালেন মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (মিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি বললেন, এখান থেকে রপ্তানি তিন থেকে পাঁচগুণ করা কোনো ব্যাপারই না।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন মিডা ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ঢাকার একটি হোটেলে এক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান। ‘বাংলাদেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শিরোনামে এ সেমিনার হয়েছে।
আশিক চৌধুরী বলেন, চিংড়ি রপ্তানিটা দেশি বিনিয়োগকারীদেরকে দিয়েই করাতে চাই। আমাদের আগ্রহ হচ্ছে যে চিংড়ি রপ্তানি এখন যেখানে আছে, এটা থেকে তিন থেকে পাঁচ গুণ নিয়ে যাওয়া কোনো ব্যাপারই না।
ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ভারত কিন্তু গত দশ বছরে এটাকে একটা অন্য লেভেলে নিয়ে গেছে। তো আমরা আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে চেষ্টা করব যে চিংড়ি রপ্তানিটাকে আমাদের যে ‘এক্সপোর্ট বাস্কেট’, সেই বাস্কেটে একটা বড় ‘সিগনিফিকেন্ট পোরশনে’ নিয়ে যাওয়ার।
চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের ভাটার মধ্যেই হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিও দেখেছে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। এ খাত থেকে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জুলাই-মে সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ২৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যেখানে গত অর্থ বছরের একই সময়ে ছিল ২৭ কোটি ৩২ লাখ ডলার। এ বিবেচনায় রপ্তানি আয় কমেছে ২৮ শতাংশের বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো সময়ে এখান থেকে রপ্তানি আয় হয়েছিল ২৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।
দীর্ঘ আলোচনার পর চলতি বছরে চালু হওয়া মিডা কক্সবাজারের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা মহেশখালী ও মাতারবাড়ীর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সমন্বয় করছে। গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে লজিস্টিকস, জ্বালানি, উৎপাদনশিল্প এবং মৎস্য খাতের সমন্বয়ে এ অঞ্চলকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথা সোমবারের সেমিনারে তুলে ধরা হয়।
এর মাধ্যমে কী পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা মিলতে পারে, এমন প্রশ্নে আশিক চৌধুরী বলেন, এফডিআইয়ের ক্ষেত্রে আমাদের আগ্রহ হচ্ছে গভীর সমুদ্রে ফিশিংয়ের দিকে। কারণ ডিপ সি ফিশিংটা এত স্পেশালাইজড যে এখানে লোকাল ইনভেস্টরদের পক্ষে একা এটা করা সম্ভব না। তো আমরা চেষ্টা করছি যে বিদেশি বিনিয়োগকারীকে নিয়ে এসে জয়েন্ট ভেঞ্চারের মাধ্যমে আমাদের দেশি বিনিয়োগকারীদেরকেও একটা সুযোগ করে দেওয়া। একইসাথে জয়েন্ট ভেঞ্চারের মাধ্যমে ডিপ সি ফিশিংয়ে একটা ট্রেন্ড করার চেষ্টা করা। গভীর সমুদ্রে বাংলাদেশের যে ভৌগোলিক সীমানা তার বেশি অংশই নৌকা ও জাহাজের সক্ষমতা না থাকায় মাছ শিকার ও অন্যান্য সম্পদ আহরণে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
সেমিনারে সেই দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশ তাদেরটা ইউজ করছে, কিন্তু বাংলাদেশিরা করতে পারছে না। এবং শুধু বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের পক্ষে সেটা করাও সম্ভব না। সে কারণে আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসতেই হবে। আমাদের ক্যাপাসিটি নেই বলেই কিন্তু আমরা শ্রীলংকানদের সাথে বা ভারতীয়দের সাথে কম্পিট (প্রতিযোগিতা) করতে পারছি না। তার মানেই হচ্ছে এখানে সলিউশনটা তো খুব ক্লিয়ার। সেটা হচ্ছে আমাদেরকে সক্ষমতা তৈরি করতে হবে এবং সেটা আমাদের বিদেশি বিনিয়োগকারীকে নিয়ে এসে করতে হবে।
মিডা তৈরি হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশেষ করে যেসব দেশ এসব ব্যাপারে আমাদের কাছাকাছি। পার্শ্ববর্তী দেশ এবং এসব ব্যাপারে অনেক উন্নত। জাপানিদের সঙ্গে অনেক সিরিয়াসলি এটা নিয়ে আলাপ হচ্ছে। দুটি কোম্পানি অলরেডি এসেছে। তারা অলরেডি ডিপ সি ফিশিংয়ের জন্য যেই জাহাজ লাগে, সেই জাহাজ রেজিস্ট্রেশনের জন্য অলরেডি আমাদের সরকারের কাছে অ্যাপ্লাই করেছে।
এর বাইরে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও পার্শ্ববর্তী দেশের বিনিয়োগকারীদেরকে নিয়ে এসে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগটা তৈরি করে দেওয়ার কাজ হচ্ছে বলে সেমিনারে তুলে ধরেন তিনি।
সেমিনারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো এবং বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ও মিনিস্টার এইচ ই তাকাহাশি নাওকি উপস্থিত ছিলেন।












