মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে জেলায় শীর্ষে সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে জেলায় শীর্ষে সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা

সংবাদদাতা: ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা। গত বছর দাখিল ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরা জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। এবারও দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে সেই সাফল্যের ধারা ধরে রেখেছে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে মোট ৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৩৭ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জন জিপিএ-৫ এবং ৯ জন এ গ্রেড অর্জন করেছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি সাতক্ষীরা জেলায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা জানান, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত পাঠদান এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। গত বছর জেলার সেরা ফলাফল অর্জনের পর এবারও সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী দিনগুলোতে পাঠদানের মান আরও উন্নত করে সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা শিক্ষা ও ফলাফলের ক্ষেত্রে আরও সাফল্য অর্জন করবে।

 

Ads small one

৩ মণ ধানের বিনিময়ে এক টুকরো ইলিশ!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
৩ মণ ধানের বিনিময়ে এক টুকরো ইলিশ!

এম.এম হায়দার আলী

ইলিশের সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক কেবল রসনার নয়, এ সম্পর্ক আবেগের, স্মৃতির আর ভালোবাসার। বর্ষার মেঘলা দুপুরে ধোঁয়া ওঠা ভাতের পাশে সরষে ইলিশ কিংবা কড়কড়ে ভাজা ইলিশ, বাঙালির ঘরোয়া সুখের ছবিতে এই মাছটির উপস্থিতি বহু পুরোনো। নদী, বর্ষা আর ইলিশ যেন বাংলার জীবনের অবিচ্ছেদ্য ৩টি শব্দ। কিন্তু সেই ইলিশই আজ বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষের কাছে ক্রমেই দূরের কোনো স্বপ্ন হয়ে উঠছে।

 

সম্প্রতি দেশের একটি স্বনামধন্য পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পড়তে গিয়ে এই বাস্তবতাটি নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। সেই খবরটি হলো, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হামছাদী গ্রামের কৃষক মোঃ হাসানের গল্পটি হয়তো খুব ছোট একটি খবর। কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের দীর্ঘশ্বাসের এক বিশাল গল্প। বহুদিন পর ঢাকার শহর থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন তাঁর মেয়ে।

 

মেয়ের আসা মানেই বাবার ঘরে আনন্দ। মেয়েটি ঢাকায় থাকেন, সংসারের ব্যস্ততায় নিয়মিত বাবার কাছে আসার সুযোগ হয় না। আর লক্ষ্মীপুরের বিখ্যাত ইলিশের স্বাদও তাঁর নেওয়া হয় না। তাই মেয়ের আসার খবর পেয়েই বাবা মনে মনে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এবার মেয়েকে ইলিশ খাওয়াবেন। একজন বাবার কাছে এটি খুব সাধারণ একটি ইচ্ছা।

 

মেয়ের জন্য একটি ভালো মাছ কিনবেন, নিজের হাতে কিংবা পরিবারের সঙ্গে বসে মেয়েকে খাওয়াবেন, এতে অসাধারণ কিছু নেই। কিন্তু সেই সাধারণ ইচ্ছাটিই যখন পূরণ করতে হয় তিন মণ ধান বিক্রি করে, তখন বিষয়টি আর সাধারণ থাকে না। মোঃ হাসান হাটে গিয়ে তিন মণ ধান বিক্রি করেছেন ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। সেই টাকা থেকে মেয়ের জন্য এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ কিনেছেন ২ হাজার ৮০০ টাকায়।

 

এই বছর এটাই তাঁর প্রথম ইলিশ কেনা। ভাবুন একবার, একজন কৃষকের ঘাম ঝরানো ৩ মণ ধান আর একটি ইলিশ মাছের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের বাজার অর্থনীতির কতগুলো নির্মম প্রশ্ন! যে মানুষটি মাঠে ধান ফলান, সেই ধান বিক্রি করেই তাঁকে পরিবারের জন্য মাছ কিনতে হয়। কিন্তু ৩ মণ ধান বিক্রির পরও হাতে থাকে মাত্র ৭০০ টাকা।

 

সেই টাকা দিয়ে তাঁকে চলতে হবে আরও কতদিন, তার হিসাব কে রাখে? ধানের বীজ কিনতে টাকা লাগে। সার কিনতে টাকা লাগে। কীটনাশক লাগে। সেচের খরচ আছে। শ্রমিকের মজুরি আছে। জমি চাষের খরচ আছে। কখনো বৃষ্টি বেশি, কখনো কম, কখনো রোগবালাই, কখনো পোকামাকড়। এতসব প্রতিকূলতা পেরিয়ে কৃষক যখন ধান ঘরে তোলেন, তখন তাঁর সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা থাকে, ফসলের ন্যায্য দাম পাবেন। কিন্তু সেই ন্যায্য দাম কি তিনি পান? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে মোঃ হাসানের ইলিশ কেনার গল্পটি আরও গভীর হয়ে ওঠে।

 

আমরা বাজারে গিয়ে যখন ইলিশের দাম শুনে বিস্মিত হই, তখন হয়তো শুধু মাছটির দামটিই দেখি। কিন্তু একজন কৃষক যখন সেই মাছ কিনতে যান, তখন তাঁকে মাছের দাম মেলাতে হয় তাঁর উৎপাদিত ধানের সঙ্গে। একজন শ্রমজীবী মানুষকে মেলাতে হয় দিনের মজুরির সঙ্গে। একজন নিম্ন-মধ্যবিত্তকে মেলাতে হয় মাসের সংসার খরচের সঙ্গে।

 

সেখানেই দেখা যায়, ইলিশের দাম শুধু টাকা দিয়ে মাপা যায় না। কারও কাছে এক কেজি ইলিশ কয়েক হাজার টাকার একটি মাছ, আর কারও কাছে সেটি কয়েক দিনের সংসারের হিসাব। একটি মাছের বাজারদর যখন একটি পরিবারের আনন্দের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করে, তখন অর্থনীতির হিসাবের পাশাপাশি সমাজের মানবিক হিসাবটিও সামনে আসে। আজ বাংলাদেশের বহু পরিবার বছরের পর বছর ইলিশ কিনতে পারে না।

 

বাজারে ইলিশ দেখে তাঁরা দাঁড়ান, দাম জিজ্ঞেস করেন, তারপর নিঃশব্দে অন্য মাছের দিকে চলে যান। সন্তান হয়তো বলে, বাবা, ইলিশ নাও। বাবা হয়তো হেসে বলেন, আজ না, আরেকদিন নেব। সেই ‘আরেকদিন’ অনেক সময় আর আসে না। কোনো কোনো পরিবারে ইলিশ এখন আর মাসিক বাজারের তালিকায় থাকে না। থাকে উৎসবের তালিকায়। কারও বিয়েতে, কারও বিশেষ অতিথি এলে, কারও প্রবাসী সন্তান বাড়ি ফিরলে,তখন হয়তো বাজারে ইলিশের সন্ধান শুরু হয়। আর সাধারণ দিনে? সাধারণ মানুষের পাতে তখন ছোট মাছ, চাষের মাছ কিংবা অপেক্ষাকৃত কম দামের মাছ।

 

এতে কোনো লজ্জা নেই। মাছের প্রকারভেদে মানুষের ভালোবাসারও কোনো শ্রেণি-বিভাগ নেই। কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়, যে দেশের নদী-জেলে ইলিশ ধরে, যে দেশের কৃষক সেই ইলিশ কেনার টাকা জোগাতে নিজের ধান বিক্রি করেন, সেই দেশের সাধারণ মানুষের কাছে ইলিশ কেন এতটা দুর্লভ? ইলিশ আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য। এই মাছ নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই। ইলিশের উৎপাদন, সংরক্ষণ, রপ্তানি, সবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইলিশের গল্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি কে ? জেলে। আর সেই জেলে যেমন ইলিশ ধরেন, তেমনি কৃষক ধান ফলান। দু’জনেই দেশের খাদ্য ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ তাঁদের জীবনেই খাদ্যের নিশ্চয়তা অনেক সময় সবচেয়ে কম।

 

এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবায়। একদিকে শহরের কোনো রেস্টুরেন্টে কয়েক হাজার টাকা দিয়ে অনায়াসে ইলিশের পদ খাওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে লক্ষ্মীপুরের একজন কৃষক মেয়েকে ইলিশ খাওয়াতে তিন মণ ধান বিক্রি করছেন। একই দেশ, একই মাছ, কিন্তু দুই মানুষের জীবনে তার অর্থ দুই রকম। প্রায় দেড় যুগ যাবৎ কারও কাছে ইলিশ একটি স্বাভাবিক খাবার, কারও কাছে একটি উৎসব। কারও কাছে ইলিশের কাঁটা বিরক্তির কারণ, আর কারও কাছে একটি টুকরো ইলিশও বহুদিনের আকাঙ্ক্ষা।

 

এই বৈষম্য শুধু আয়-বৈষম্যের কথা বলে না, এটি আমাদের বাজার ব্যবস্থার কথাও বলে। কৃষক তাঁর উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান কি না, জেলে তাঁর ধরা মাছের সঠিক দাম পান কি না, ভোক্তা যুক্তি সঙ্গত দামে পণ্য কিনতে পারেন কি না, এই তিনটি প্রশ্নের সমন্বিত উত্তর ছাড়া একটি সুস্থ বাজার ব্যবস্থা তৈরি হয় না। বাজারে মধ্যস্বত্ব ভোগীর স্তর যত বাড়ে, উৎপাদক ও ভোক্তার দূরত্ব তত বাড়ে। কৃষক কম দামে ফসল বিক্রি করেন, অথচ ভোক্তা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হন।

 

এই ব্যবধানের সবচেয়ে বড় শিকার হন সীমিত আয়ের মানুষ। তাঁদের স্বপ্ন গুলোও তখন ছোট হতে থাকে। একজন মা হয়তো সন্তানের জন্য নতুন জামা কেনার আগে দশবার ভাবেন। একজন বাবা হয়তো চিকিৎসা করাতে গিয়ে সংসারের অন্য খরচ কমান। কেউ হয়তো ঈদের বাজার ছোট করেন। কেউ হয়তো সন্তানের আবদার মেটাতে পারেন না। আর কোনো কোনো বাবা তিন মণ ধান বিক্রি করে মেয়ের জন্য এক কেজি ইলিশ কিনে আনেন।

 

মোঃ হাসানের গল্পের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি তাই তাঁর আর্থিক কষ্ট নয়, তাঁর ভালোবাসা।তিনি মেয়ের জন্য ইলিশ কিনেছেন। হয়তো মাছটি রান্না হওয়ার সময় তাঁর ঘরে ইলিশের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছিল। মেয়েটি হয়তো বাবার পাশে বসে খেয়েছেন। হয়তো বাবা মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে তৃপ্তি পেয়েছেন। হয়তো তাঁর নিজের পাতে ইলিশের টুকরো ছিল না, কিংবা থাকলেও খুব সামান্য। কিন্তু মেয়ের মুখে হাসি দেখেই হয়তো তাঁর তিন মণ ধানের কষ্ট কিছুটা ভুলে গিয়েছিলেন। এই ভালোবাসার মূল্য কোনো বাজারদর দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না।

 

তবু রাষ্ট্র, সমাজ ও বাজারের কাছে প্রশ্ন থেকেই যায়, একজন বাবাকে কি মেয়েকে ইলিশ খাওয়াতে তিন মণ ধান বিক্রি করতে হবে? মানুষের জীবনে সব খাবার প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খাবার নয়। কিছু খাবার আনন্দের। কিছু খাবার স্মৃতির। কিছু খাবার প্রিয়জনকে ঘিরে ভালোবাসার। ইলিশ তেমনই একটি খাবার। তাই ইলিশের দাম কমানোর প্রশ্নের পাশাপাশি মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানোর প্রশ্নটিও জরুরি। কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ন্যায্য আয় নিশ্চিত করা জরুরি। বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

 

উৎপাদক ও ভোক্তার মাঝখানে অপ্রয়োজনীয় দামের স্তর কমানো জরুরি। কারণ একটি দেশের উন্নয়ন শুধু বড় সেতু, উঁচু ভবন কিংবা বড় বড় পরিসংখ্যানে মাপা যায় না। উন্নয়ন তখনই মানুষের জীবনে অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন একজন কৃষক তাঁর মেয়ের জন্য একটি ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরতে গিয়ে তিন মণ ধান বিক্রি করার হিসাব করতে বাধ্য হন না। যখন একজন বাবা সন্তানের আবদারে বলতে পারেন, চলো, আজ ইলিশ রান্না হবে।

 

যখন ইলিশ শুধু বিত্তবানদের টেবিলের বিলাসিতা নয়, বরং বাংলার সাধারণ মানুষের রান্না ঘরেরও পরিচিত ঘ্রাণ হয়ে ওঠে। মোঃ হাসানের তিন মণ ধানের গল্প তাই আমাদের সামনে একটি আয়না তুলে ধরে। সেই আয়নায় আমরা শুধু একজন কৃষককে দেখি না, দেখি বাংলাদেশের অসংখ্য বাবাকে, যাঁরা নিজেদের প্রয়োজন ভুলে সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে চান। দেখি অসংখ্য মাকে, যাঁরা বাজারের হিসাব মেলাতে মেলাতে নিজের পছন্দের খাবারটি তালিকা থেকে বাদ দেন।

 

দেখি অসংখ্য সন্তানকে, যারা ইলিশের স্বাদকে ধীরে ধীরে বিশেষ দিনের স্মৃতিতে পরিণত হতে দেখে। আর দেখি একটি প্রশ্ন,বাঙালির জাতীয় মাছ ইলিশ যদি বাঙালিরই ঘরে দুর্লভ হয়ে যায়, তবে সেই ইলিশের প্রাচুর্যের গল্প কার জন্য? হয়তো একদিন আবার বর্ষার দুপুরে বাংলার ঘরে ঘরে ইলিশের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়বে। কোনো বাবা তখন তিন মণ ধান বিক্রির হিসাব না করেই মেয়ের জন্য একটি ইলিশ কিনে আনবেন। সেদিন ইলিশ শুধু মাছ থাকবে না,হয়ে উঠবে সত্যিকারের মানুষের খাবার, মানুষের আনন্দ, মানুষের অধিকার। ততদিন পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের কৃষক মোঃ হাসানের সেই ২ হাজার ৮০০ টাকার ইলিশ আমাদের বিবেকের দরজায় কড়া নাড়তেই থাকবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

পাইকগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে নাজেহাল সরকারী কর্মকর্তারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে নাজেহাল সরকারী কর্মকর্তারা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ নিয়ে সরকারী নির্দেশনা অনুরণ করতে যেয়ে নাজেহাল সরকারী কর্মকর্তারা। ফ্যামিলি কার্ডের জরিপ কাজে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর ক্ষোভের মুখে অবশেষে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় স্থগিত হলো ঘোষিত ফলাফল। প্রত্যহার করা হলো আন্দোলনের কর্মসুচী। পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণরা নিরব।

সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য খানা জরিপে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদের দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। যাতে ১ হাজার ১০০ অধিক আবেদন জমা পড়ে। আবেদনকারীরা গত ২৫ ও ২৬ জুলাই প্রথম এবং ৪ আগস্ট দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা অংশ নেন। ৮ আগস্ট চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সুপারিশকৃতদের সবগুলো নাম ফলাফলে প্রকাশ পায়নি। এজন্য বিএনপি ও জামায়াতের একটি অংশ বিক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় ফেটে পড়ে। তারা জানায় যাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা প্রায় সবাই ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী ও আত্মীয় স্বজনরা। তারা আওয়ামী লীগ দোসর মুক্ত তালিকা চায়। এজন্য তারা রোববার ইউএনও দপ্তর ঘেরাও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন অবগত হয়ে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শুক্রবার ঘোষিত ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করতে যেয়ে নাজেহাল সরকারী কর্মকর্তারা এমনটি জানালেন প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস জানানা, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। নিয়োগ বোর্ডের কর্মকর্তারা সরকারী নীতিমালা অনুসরণ করে পরীক্ষা নিয়েছেন, যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ফলাফলে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালার বাইরে কোন প্রকার পন্থা অবলম্বন করলে তাদেরকে শাস্তির আওতায় নেয়া হবে এমন কথা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে। আমরা কোনভাবেই সরকারের এই মহাৎ উদ্যোগকে ব্যহত করতে পারিনা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পরিপত্রের আলোকে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। পরীক্ষার্থীরা বোর্ডের কাছে পরীক্ষা দিলে, বোর্ডে থাকা ৩ কর্মকর্তা তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নম্বর প্রদান করেন। ভাইভা বোর্ডে প্রার্থী বা তার পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সংক্রান্ত প্রশ্ন করার সুযোগ থাকেনা। ৩ কর্মকর্তার মূল্যায়নে প্রদত্ত নম্বরের যোগফলে সর্বাধিক নম্বর প্রাপ্তকে নিয়োগ দেয়া হয়।

যেহেতু বিসিএস, সামরিক বাহিনী বা আরো কিছু নিয়োগের ন্যায় বিশেষ সংস্থাকে নিয়োগকারী মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রার্থীদের বিষয়ে ভেরিফিকেশনের জন্য বলা হয়নি, তাই বিশেষ সংস্থা কর্তৃক প্রার্থী বা তাদের পরিবার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভেরিফাইড অফিসিয়াল তথ্য পাওয়া যায়নি। এর প্রেক্ষিতে বোর্ডে থাকা ৩ কর্মকর্তার মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশের পর সারা দেশের বিভিন্ন স্থানের মত এখানেও বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের উর্ধতন কর্মকর্তাদের আলোচনার ভিত্তিতে উপজেলা পর্যায়ে যদি কোন বিরুপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার ফল স্থগিত করতে পারবে মর্মে শনিবার জানানো হয়। এই প্রেক্ষিতে সদস্য সচিবের স্বাক্ষরে ফলাফল স্থগিত করা হয়। এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আহ্বানকারীরা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে।

 

 

 

সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধে বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধে বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শুরু

পত্রদূত ডেস্ক: ‘দুর্নীতি বিরোধী শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নতুন সূর্য শিখা জ্বলবেই’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জেলা পর্যায়ে সপ্তাহব্যাপী দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনার আয়োজনে এবং সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ব্যবস্থাপনায় এ আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও সমাজসেবক আলহাজ্ব ডা. আবুল কালাম বাবলা।

 

প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্নীতির অন্যতম কারণ মানুষের মধ্যে লোভের বিস্তার। লোভের বশবর্তী হয়েই মানুষ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। নৈতিকতার বিকাশ ঘটলে মানুষের চিন্তা ও মূল্যবোধেরও উন্নতি হবে, তখন দুর্নীতি থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন্নাহার, এনডিসি নাফিউল ইসলাম ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল হোসেন। বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সহযোগী অধ্যাপক মো. অলিউর রহমান, সহকারী অধ্যাপক শাহেদ মোস্তফা চৌধুরী ও প্রভাষক ওমর ফারুক। উদ্বোধনী বিতর্কের বিষয় ছিল-‘দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপে সরকারের দায়বদ্ধতাই বেশি’।

 

এতে পক্ষে অংশ নেয় বৈকারী কুশখালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বিপক্ষে অংশ নেয় বাকাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিতর্ক পরিচালনা করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মো. সাকিবুর রহমান। সময় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যক্ষ রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য রেবেকা সুলতানা, জিএম নাজমুল আরিফ, মো. শহিদুর রহমান, অ্যাডভোকেট মুহা. মুনির উদ্দীন, মো. নাজমুল হক, অধ্যাপক আব্দুল ওহাব আজাদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

জেলার ৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সপ্তাহব্যাপী এ বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান।