বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাক বাজুক, বাঁচুক লোকঐতিহ্য/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
ঢাক বাজুক, বাঁচুক লোকঐতিহ্য/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

শরতের আকাশে সাদা মেঘের খেলা। কাশফুলের দোল। শিউলির ঘ্রাণ। আর দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের শব্দ। এই শব্দই যেন জানিয়ে দেয়Ñউৎসব আসছে। দুর্গাপূজার সঙ্গে ঢাকের সম্পর্ক এতটাই নিবিড় যে ঢাকের বাদ্য ছাড়া বাঙালির শারদীয় উৎসবের কল্পনাই অসম্পূর্ণ। কিন্তু যে ঢাকের শব্দে আমাদের উৎসব প্রাণ পায়, সেই ঢাকি মানুষটির জীবন কেমনÑআমরা কি কখনো তা ভেবে দেখি? যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা, মনিরামপুর কিংবা ঢাকা, খুলনা-সাতক্ষীরার গ্রামীণ জনপদে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি শুরু হলেই কোথাও কোথাও ঢাকের আওয়াজ শোনা যায়। ম-পে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে, বাঁশের কাঠামো তৈরি হচ্ছে, আলোকসজ্জার প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যেই কোনো ম-পের এক কোণে ঢাক নিয়ে বসেন একজন শিল্পী। তাঁর হাতের তালে তালে উৎসব যেন ধীরে ধীরে পূর্ণতা পায়।

 

এই ঢাকিরা অধিকাংশই পেশাদার শিল্পী হলেও সারা বছর ঢাক বাজিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন না। কৃষিকাজ, দিনমজুরি, ছোটখাটো ব্যবসা কিংবা অন্য পেশার সঙ্গে তাঁদের যুক্ত থাকতে হয়। দুর্গাপূজার কয়েকটি দিন তাঁদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ। কেউ কেউ দূরের জেলা থেকে এসে একাধিক ম-পে ঢাক বাজান। কয়েক দিনের উপার্জন দিয়ে চলে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা। অথচ তাঁদের শ্রমের মূল্য অনেক সময় উৎসবের অন্যান্য আয়োজনের তুলনায় কম গুরুত্ব পায়। একটি পূজাম-প সাজাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। গেট, আলোকসজ্জা, প্রতিমা, মাইক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানÑসবকিছুর জন্য আলাদা বাজেট থাকে। কিন্তু ঢাকির পারিশ্রমিকের বিষয়টি অনেক সময় শেষের দিকে আসে। অথচ ম-পে ঢাক না বাজলে উৎসবের আবহই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

 

এখানেই আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্নটি সামনে আসে। ঢাকি কি কেবল কয়েক দিনের জন্য ভাড়া করা একজন মানুষ, নাকি তিনি একজন লোকশিল্পী? উত্তরটি দ্বিতীয়টিই হওয়া উচিত। কারণ ঢাক বাজানো কেবল শব্দ তৈরি করা নয়। এর সঙ্গে তাল, ছন্দ, প্রজন্মের পর প্রজন্মের অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ অনুশীলন জড়িয়ে আছে। বিভিন্ন পূজার আচার অনুযায়ী ঢাকের বাদ্যেও রয়েছে ভিন্নতা। বিশেষ করে সন্ধিপূজার সময় ঢাকের তালে যে আবেগ তৈরি হয়, তা কোনো রেকর্ড করা সংগীত দিয়ে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা যায় না। কিন্তু আধুনিকতার চাপে সেই ঐতিহ্যই আজ সংকুচিত হচ্ছে। ম-পে এখন মাইক, সাউন্ড সিস্টেম, ডিজে ও রেকর্ড করা গানের ব্যবহার বেড়েছে। এতে উৎসবের শব্দ হয়তো বেড়েছে, কিন্তু ঢাকের স্বাভাবিক আবেদন অনেক জায়গায় চাপা পড়ে যায়।

 

একসময় সন্ধ্যা নামলেই যে ঢাকের শব্দ গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ত, এখন তা অনেক সময় মাইকের উচ্চ শব্দের ভিড়ে হারিয়ে যায়। আরও বড় সমস্যা নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহ। একজন ঢাকির ছেলে যদি দেখে, তার বাবাকে সারা বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে, পূজার কয়েকটি দিনের আয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, তাহলে সে কেন এই পেশায় আসবে? ফলে অনেক পরিবারের ঢাক শেখার ধারাবাহিকতা ভেঙে যাচ্ছে। বাবার হাতে থাকা ঢাক হয়তো আর ছেলের হাতে উঠছে না। এটি শুধু একটি পেশার সংকট নয়; এটি লোকঐতিহ্যের সংকট। যশোরের গ্রামাঞ্চল থেকে সাতক্ষীরার আশাশুনি, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর কিংবা খুলনার বিভিন্ন এলাকার পূজাম-পÑসব জায়গাতেই উৎসবের সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতির এই যোগ রয়েছে।

 

এসব অঞ্চলে পূজা মানেই শুধু ধর্মীয় আচার নয়; এর সঙ্গে মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রামীণ মানুষের মিলন এবং বহু পুরোনো লোকাচারও জড়িয়ে আছে। ঢাক, ঢোল, কাঁসি ও বাঁশি সেই সাংস্কৃতিক পরম্পরারই অংশ। তাই লোকবাদ্যকে শুধু অতীতের স্মৃতি হিসেবে দেখলে চলবে না। তাকে বর্তমানের উৎসবেও জায়গা দিতে হবে।প্রথম দায়িত্ব পূজা কমিটিগুলোর। পূজার বাজেটে ঢাকি ও অন্যান্য লোকশিল্পীর জন্য ন্যায্য সম্মানী নিশ্চিত করা দরকার। একই শিল্পীকে বছরের পর বছর ডেকে এনে সম্পর্কের কথা বলে কম পারিশ্রমিক দেওয়া কোনোভাবেই ঐতিহ্য রক্ষার পথ নয়। শিল্পীর শ্রমের যথাযথ মূল্য দিতে হবে।

 

স্থানীয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোরও ভূমিকা রয়েছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে লোকশিল্পীদের তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। তাঁদের সম্মাননা, প্রশিক্ষণ ও বাদ্যযন্ত্র কেনার জন্য সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। বিদ্যালয় পর্যায়ে লোকবাদ্য শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে এই শিল্পের সংযোগ তৈরি হবে। পূজা ম-প গুলোতেও হতে পারে একটি ছোট কিন্তু অর্থবহ উদ্যোগÑ‘স্থানীয় লোকশিল্পীর সন্ধ্যা’। সেখানে ঢাক, কাঁসি, বাঁশি, ঢোলসহ স্থানীয় বাদ্যশিল্পীদের পরিবেশনা থাকবে। এতে উৎসবের আনন্দ যেমন বাড়বে, তেমনি শিল্পীরাও পাবেন সম্মান ও পরিচিতি। আমরা প্রযুক্তিকে অস্বীকার করছি না। আধুনিক আলোক সজ্জা থাকবে, মাইক থাকবে, ডিজিটাল আয়োজনও থাকবে। সময়ের সঙ্গে উৎসব বদলাবেÑএটাই স্বাভাবিক।

 

কিন্তু পরিবর্তনের নামে নিজেদের সাংস্কৃতিক শিকড়কে বাদ দেওয়া কোনো অগ্রগতি নয়। শরতের সন্ধ্যায় যখন দূর থেকে ঢাকের শব্দ ভেসে আসে, তখন শুধু একটি পূজাম-পের খবর আসে না; ফিরে আসে আমাদের শৈশব, গ্রামবাংলার স্মৃতি, মেলা, উৎসব আর মানুষের মিলনের গল্প। সেই শব্দ হারিয়ে গেলে ক্ষতি হবে আমাদেরই। তাই এবারের দুর্গোৎসবে শুধু বড় আয়োজন নয়, বড় করে ভাবাও প্রয়োজন। ঢাকির ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত হোক। লোকবাদ্যের চর্চা বাড়–ক। নতুন প্রজন্ম ঢাক হাতে তুলে নিক। মাইকের শব্দের ভিড়েও ঢাকের নিজস্ব সুর যেন হারিয়ে না যায়।ঢাক বাজুকÑউৎসবের জন্য। ঢাকি বাঁচুকÑসম্মানের সঙ্গে। আর বেঁচে থাকুক আমাদের লোকঐতিহ্য।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

অস্ট্রেলিয়া সফরের বাংলাদেশ দলে কারা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
অস্ট্রেলিয়া সফরের বাংলাদেশ দলে কারা?

টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন সম্প্রতি। তবে ওয়ানডেতে তার ওপরই আস্থা বিসিবির। নিগার সুলতানা জ্যোতিকে অধিনায়ক রেখেই অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এবারই প্রথম দুই দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ হতে যাচ্ছে। সফরের তিনটি ম্যাচই হবে ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে।

আগামী ৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। ব্রিসবেনে পৌঁছে ৬ অক্টোবর কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর ৯, ১১ ও ১৪ অক্টোবর হবে সিরিজের তিন ওয়ানডে। সফর শেষে ১৫ অক্টোবর দেশে ফিরবে বাংলাদেশ নারী দল।

জ্যোতি অধিনায়ক থাকলেও সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদা আক্তার।

অস্ট্রেলিয়া সফরের বাংলাদেশ দল: নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), স্বর্ণা আক্তার, মারুফা আক্তার, রাবেয়া খান, রিতু মনি, সোবহানা মোস্তারি, শারমিন সুলতানা, শারমিন আক্তার সুপ্তা, সানজিদা আক্তার, সুলতানা খাতুন, দিলারা আক্তার, ফারজানা হক, দিশা বিশ্বাস, মুর্শিদা খাতুন ও হাবিবা ইসলাম।

৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে মন্ত্রীর ফোন, জিএম বরখাস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে মন্ত্রীর ফোন, জিএম বরখাস্ত

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল আসার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুতের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি ওই গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের এই ভৌতিক বিলটি ইস্যু করা হয়।

বিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। কিন্তু এই ২৩৫ ইউনিটের বিপরীতে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ বিলের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ১ হাজার ৯৬৩ টাকা, যা বিলম্ব মাশুলসহ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৬ টাকা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা বিলটির পরিশোধের শেষ তারিখ আজ ২৯ সেপ্টেম্বর। এতে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গ্রাহক আলেয়া খাতুন বলেন, ‌‘এটা শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে আমাদের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। এ ধরনের ভুলের প্রতিকার চাই।’

জাতিসংঘে জাইমা রহমানের চাকরি নিজ যোগ্যতায়: মাহদী আমিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে জাইমা রহমানের চাকরি নিজ যোগ্যতায়: মাহদী আমিন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের নিয়োগের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনও সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তিনি বলেন, জাইমা রহমান নিজস্ব পেশাগত সক্ষমতা ও যোগ্যতায় জাতিসংঘের এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের করবী হলে প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে কোনও চাকরি দেওয়া হয়নি। এমনকি জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের স্থায়ী মিশনেও তার কোনও পদায়ন হয়নি। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের দূরতম কোনও সম্পৃক্ততা নেই।

তিনি বলেন, জাইমা রহমান সরাসরি জাতিসংঘের সদর দফতরে সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট মানবসম্পদ বিভাগ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বলে জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া ও আর্থিক সুবিধা জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকেই বহন করা হচ্ছে। জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ পদ ও নিয়োগের তথ্য যাচাই করা যাবে বলেও জানান তিনি।

‘যোগ্যতার ভিত্তিতেই পি-৩ পদে নিয়োগ’

জাতিসংঘের পেশাগত কাঠামোর বিভিন্ন স্তরের কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, পি-১ সাধারণত নতুন স্নাতকদের জন্য, পি-২ পদের জন্য ন্যূনতম দুই বছরের অভিজ্ঞতা এবং পি-৩ পদের জন্য অন্তত পাঁচ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।

তার দাবি, জাইমা রহমান তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় পি-৩ পর্যায়ের পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

জাইমা রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওই কার্যালয়ের প্রকাশিত তালিকায় তার নাম ও পদ উল্লেখ রয়েছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন
মাহদী আমিন বলেন, ‘অতীতে আমরা যে ধরনের রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে আন্তর্জাতিক মিশনে পদায়ন কিংবা প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্তির সংস্কৃতি দেখেছি, তিনি কিন্তু সেভাবে যাননি। তিনি বাংলাদেশ সরকারি প্রতিনিধিদলেরও কোথাও সম্পৃক্ত হননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিজের মেধার জোরে আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানোকে আমাদের বরং সাধুবাদ জানানো উচিত। এই ধরনের সফলতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান ও মো. সুজাউদ্দৌল্লা উপস্থিত ছিলেন।