সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

তালায় শত বছরের পুরোনো রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ, ক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
তালায় শত বছরের পুরোনো রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ, ক্ষোভ

খলিষখালি (তালা) প্রতিনিধি: তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নের চোমরখালী গ্রামে শত বছরের পুরোনো একটি গ্রামীণ রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হোসেন আলী নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি জনসাধারণের চলাচলের ওই পথটি আটকে দিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার সকালে থানা-পুলিশ ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চোমরখালী গ্রামের এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশী হোসেন আলী হঠাৎ করেই রাস্তাটিতে বাঁশের বেড়া দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেন। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী প্রতিবেশী বিধান ঘোষ বাদী হয়ে তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পাটকেলঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম জানান, রাস্তাটির বয়স প্রায় শত বছরেরও বেশি। এখানে সরকারের খাস জমিও রয়েছে। হোসেন আলী কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করে বেড়া দিয়ে দেওয়ায় গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় যুবদল নেতা রিপন মোল্লা। তিনি বলেন, “আমাদের দাদার আমল থেকে এই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করছে। অথচ অন্যায়ভাবে বাঁশের বেড়া দিয়ে জনসাধারণের পথ বন্ধ করে দেওয়া হলো।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী হোসেন আলীর ছেলে আবু সাইদ দাবি করেন, এটি তাঁদের পৈত্রিক সম্পত্তি, এখানে কোনো খাস জমি নেই। তাই তাঁরা বেড়া দিয়েছেন। এদিকে ঘটনার তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কর্মকর্তারা পরিদর্শনে গেলে আবু সাইদ তাঁদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাস্তাটি দ্রুত অবমুক্ত করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

 

 

Ads small one

বর্ষায় পাইকগাছায় নার্সারিতে গাছের চারা বিক্রির ধুম পড়েছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
বর্ষায় পাইকগাছায় নার্সারিতে গাছের চারা বিক্রির ধুম পড়েছে

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): বর্ষার অনুকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে খুলনার পাইকগাছায় নার্সারিগুলোতে গাছের চারা বিক্রির ধুম পড়েছে। বিশেষ করে গদাইপুরসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ও খুচরা নার্সারিগুলোতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা কিনতে ভিড় করছেন দেশের বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা বর্ষা মৌসুমে শত কোটি টাকার চারা বিক্রির আশা করছেন।

উপজেলায় বাণিজ্যিক ভাবে গড়ে তোলা নার্সারিগুলিতে বছরজুড়ে সব গাছের চারা পাওয়া যায়। এসব চারা বেচাকেনা হয় সব মৌসুমে। তবে চারা বিক্রির সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বর্ষাকালে। এই সময়টাতে রোপণ করা চারা শতভাগ জীবিত থাকে বলে চারারও চাহিদা বাড়ে দ্বিগুণ। অনেকে এই সময়টাতে তৈরি করেন ফলজ-বনজ বাগান। বেশির ভাগ মানুষ তাদের বসতবাড়িতে নানা প্রকারের চারা রোপণ করে থাকেন। এ বছরের আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়েছে। এ সুযোগে নার্সারিগুলো গাছের চারার ব্যাপক চাহিদা বিক্রির ধুম পড়েছে।

উপজেলার গদাইপুরে বাণিজ্যিক ভাবে গড়ে উঠেছে তিন শতাধিক নার্সারি। তাছাড়া ১০ শতক থেকে এক বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক নার্সারি। গ্রামের চারদিকে যেন সবুজের সমাহার। গদাইপুরে ঢুকলে চোখে পড়ে ক্ষেতের পর ক্ষেত নার্সারি। বাড়ির সামনে-পেছনে ও আশপাশে নার্সারি গড়ে তুলেছেন সবাই। সব নার্সারির সামনে আছে সাইনবোর্ড লাগাানো। নানা রকমের ফুল, ফল ও মসলার চারা বাড়িগুলোর সামনে। বাড়ির ভেতরে গড়ে তোলা নার্সারিতে চারা কেনাবেচার দৃশ্যও নজর কাড়ে। গদাইপুর এলাকার তৈরী কলম বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, রংপুর, সিলেট, বরিশাল, কুমিল্লা, রাজশাহী সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হচ্ছে।

নার্সারি মালিক সমিতি সুত্রে জানা গেছে, কেবল বর্ষা মৌসুমেই গদাইপুরের কয়েক শত নার্সারিতে প্রায় শত কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়। আর সারা বছরের বিক্রি হয় প্রায় আড়াই শত কোটি টাকার বেশি। এসময় চারা ক্রয়, বিক্রি ও পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন মালিক-শ্রমিকরা। রজনীগন্ধা নার্সারির মালিক সুকনাথ পাল বলেন, বর্ষায় চারার চাহিদা ও বিক্রি ভালো হচ্ছে।

উপজেলার গদাইপুর গ্রামের মেইন সড়কের দুই পাশে নার্সারিতে নানা প্রজাতির গাছের চারার দৃশ্য নজর কাড়ে। রাস্তার পাশে যতদূর দৃষ্টি যায় ফুল, ফল, মসলা ও বনজের চারা দেখা যায়। দেশী প্রজাতির পাশাপাশি বিদেশী ফলের চারারও উৎপাদন হয়। এখানে স্ট্রবেরি, রাম্বুটান, ড্রাগন, থাই পেয়ারাসহ ৩০-৪০ প্রজাতির বিদেশী ফলের চারা তৈরি হয়। এছাড়া দেশী প্রজাতির সকল ফলের চারা নার্সারিগুলোয় পাওয়া যায়। এসব ফলের প্যাকেট চারা বছরজুড়ে পাওয়া যায়। প্যাকেটে রোপণ করা চারার পাশাপাশি টবে লাগানো ফুল-ফলের চারাও এখানে বিক্রি হয়। চুই, লবঙ্গ, তেজপাতা, দারুচিনি, গোলমরিচ, এলাচসহ বেশ কয়েক প্রজাতির মসলার চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয়।

পাইকগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, নার্সারি ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক। কেউ পরিকল্পনা মাফিক নার্সারি করলে অনায়াসে তিনি স্বাবলম্বী হবেন। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্ষাকালে গাছের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। এসময় প্রচুর বৃষ্টি হয় এবং মাটির উর্বরা শক্তিবৃদ্ধি পায়। তাই এই সময়ে তিনি সবাইকে বৃক্ষরোপণ করার জন্য আহ্বান জানান।

 

 

সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া নদী থেকে ৭০ কেজি হরিণের মাংস ও ২টি মাথা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া নদী থেকে ৭০ কেজি হরিণের মাংস ও ২টি মাথা উদ্ধার

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন কাশিয়াবাদ ফরেস্ট ষ্টেশনের অধীনস্থ শাকবাড়িয়া নদী থেকে ৭০ কেজি হরিণের মাংস, ২ টি হরিণের মাথা, ১ টি নৌকাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করেছে বন বিভাগ। এসময় বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় চোরাকারকারিরা

রবিবার রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে সংরক্ষিত সুন্দরবনের ক/৩৬ এর শাকবাড়িয়া নদী সংলগ্ন ০৬ নং কয়রা পল্টন এলাকা থেকে বন বিভাগের বিশেষ অভিযানে ৭০ কেজি হরিণের মাংস, ২ টি হরিণের মাথা, ১ টি নৌকা, ১ টি দা ও ১০ ফুট লম্বা পলিথিন উদ্ধার করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন কাশিয়াবাদ ফরেস্ট ষ্টেশন কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার মোঃ নাসির উদ্দীন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দীন স্বর্গীয় ষ্টাফ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারকারিরা পালিয়ে যায়। এসময় নৌকায় তল্লাশি করে ৭০ কেজি হরিণের মাংস, ২ টি হরিণের মাথা, ১ টি নৌকা, ১ টি দা ও ১০ ফুট লম্বা পলিথিন জব্দ করে।

কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় স্টাফ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করি। এসময় আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারকারিরা পালিয়ে যায়। এসময় নৌকায় তল্লাশি করে ৭০ কেজি হরিণের মাংস, ২ টি হরিণের মাথা, ১ টি নৌকা, ১ টি দা ও ১০ ফুট লম্বা পলিথিন জব্দ করে। তিনি আরও বলেন, আদালতে নির্দেশে জব্দকৃত হরিণের মাংস মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আশাশুনি উপকূলে ৩শ পরিবারের মাঝে ১০ হাজার গাছের চারা বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
আশাশুনি উপকূলে ৩শ পরিবারের মাঝে ১০ হাজার গাছের চারা বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় ৩০০ পরিবারের মাঝে ১০ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে আশাশুনি উপজেলা অ্যাডাপটেশন ক্লিনিক প্রাঙ্গণে ব্র্যাক এর ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রামের (সিইআইপি) আওতাধীন ‘রেইন ফর লাইফ’ প্রকল্পের উদ্যোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু।

ব্র্যাকের ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের অপারেশন ম্যানেজার মো. সফিকুর রহমান স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহান, ব্র্যাকের কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম, কাজী এনামুল হক এবং সেক্টর স্পেশালিস্ট (কৃষি) মো. শাহীন হোসেনসহ ব্র্যাকের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগীরা।

আয়োজকরা জানান, আশাশুনি উপজেলার বড়দল, বুধহাটা, কাদাকাটি ও কুল্লা ইউনিয়নের প্রায় ৩০০টি পরিবারের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে। এসব চারা বসতভিটা ও আশপাশে রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবারের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।