দেবহাটায় শামীম হ*ত্যা মামলা, গ্রেপ্তারকৃত আমিনীর আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্ত গ্রামের শামছুদ্দিন সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সৃষ্টি করে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামী ফজলুল হক আমিনী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রবিবার রাত ৭টায় সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক নূসরত জাহানের খাস কামরায় তিনি এ জবানবন্দি দেয়া শুরু করেন এবং রাত ৯.৩০টার দিকে শেষ হয়। গ্রেপ্তারকৃত ফজলুল হক দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের কারী রুহুল আমিনের ছেলে।
কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের হাজী রুহুল কুদ্দুস মুন্সির ছেলে বসির আহম্মেদ জানান, ফজলুল হক আমিনী তার আপন চাচাত ভাই। তার জন্ম ফরিদপুর গ্রামে। ২৮ বছর আগে তার চাচা কারী রুহুল আমিন স্বপরিবারে দেবহাটার দক্ষিণ পারুলিয়ায় বসবাস শুরু করেন। ফজলুল হক ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। ওয়াহেদুজ্জামান ওরফে শামীমকে হত্যার পর সে তার বাড়িতে চলে আসে। শনিবার রাত ১০টার দিকে সে ছেলে ও স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে আদালতে আত্মসমর্পণের ব্যাপারে তার সঙ্গে পরামর্শ করে। তিনি স্থানীয় বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের সাথে এ নিয়ে কথা বলতে বলেন। একপর্যায়ে বাথরুম থেকে ফেরার পর চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই মধ্যে রাত সাড়ে ১০টার দিকে এসআরবি সদস্যরা তার বাড়িতে ঢুকে পড়ে। জিজ্ঞাসা করতেই তিনি ফজলুলের অবস্থান নিশ্চিত করেন। পৌনে ১১টার দিকে এসআরবি তাকে নিয়ে যায়।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক আল আমিন জানান, শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ফজলুল হক আমিনীকে তার চাচাত ভাই কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের বেসরকারি বীমা কর্মী বসির আহম্মেদ এর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার রাত সাতটায় তাকে সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারকি হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক নূসরত জাহানের খাস কামরায় হাজির করা হয়। এ সময় তিনি নিজেকে ওয়াহেদুজ্জামান হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আদালতের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, ফজলুল হক আমিনী তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন যে, ওয়াহেদুজ্জামান শামীম নাস্তিক ছিল। তাকে মারার কোন উদ্দেশ্য তার ছিল না। এক্সিডেন্টলি হয়ে গেছে। আপাতত আইনের দৃষ্টিতে তিনি অপরাধী হলেও আল্লাহর দৃষ্টিতে তিনি কি, সেটা আল্লাই ভালো জানেন। এ সময় তিনি হত্যাকা-ে কারা কারা জড়িত তাদের নাম প্রকাশ করেন। তবে, হত্যাকান্ডের পর তাকে এজন্য বীরত্ব প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে ফজলুল হক আমিনীকে রবিবার রাত ৯টার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত. দেবহাটা উপজেলার বড়শান্তা গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীম ১০/১২ বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন। তিনি মহানবীকে কটুক্তি করেছেন এমন একটি অডিও সামাজিক যাগাযোগ মাধমে ছড়িয়ে পড়ায় গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার পর ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে তার বাড়ি ভাংচুর ও পিটিয়ে জখম করা হয়। তাকে কুলিয়ার ডাঃ এমএ সবুর এর ক্লিনিকে ভর্তি করানো হলে ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় একই ব্যক্তির নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় ওয়াহেদুজ্জামান শামীমের উপর হামলা চালানো হয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে রাত সাড়ে ১০টার পর একই ব্যক্তির নেতৃত্বে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকে ডাক্তার, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সামনে তৃতীয় দফায় মারপিট করা হয়। সেখান থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল বাদি হয়ে ফজলুল হক আমিনী, পারুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম, ৭ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি কামরুলগাজীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনের বিরুদ্ধে গত ১৫ অক্টোবর দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করেন। ১৫ অক্টোবর রাতে পুলিশ মোক্তার হোসেন খান ও ১৬ অক্টোবর সকালে নিজ বাড়ি নাজিরের ঘের থেকে আসাদুল্লাহ মোল্ল্যা নামের দুই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।






