রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্র মেনে তৈরি দুর্গা প্রতিমা পবিত্র শিল্পকর্ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্র মেনে তৈরি দুর্গা প্রতিমা পবিত্র শিল্পকর্ম

প্রকাশ ঘোষ বিধান
সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্র এবং ঐতিহ্য মেনে দুর্গা প্রতিমা তৈরি একটি অত্যন্ত পবিত্র এবং নিয়মতান্ত্রিক শিল্পকর্ম। প্রতিমা তৈরির প্রতিটি পদক্ষেপে সুনির্দিষ্ট আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক নিয়ম জড়িয়ে রয়েছে, যা মূলত শুল্বসূত্র এবং মৎস্যপুরাণ-এর মতো প্রাচীন গ্রন্থে বর্ণিত শিল্পশাস্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্র ও পুরাণ অনুসারে দুর্গা প্রতিমা তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম, ধ্যানমন্ত্র এবং গঠনগত বিধান অনুসরণ করা হয়। ইচ্ছেমতো বা বিকৃত রূপ দিয়ে প্রতিমা তৈরি শাস্ত্রসম্মত নয়।
ধর্মীয় নীতি ও শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে দুর্গা প্রতিমা তৈরি একটি অত্যন্ত পবিত্র এবং সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মৎস্যপুরাণ ও দেবীমাহাত্ম্য; শ্রীশ্রীচন্ডী অনুযায়ী, দুর্গা প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট আচার ও নিয়ম মেনে চলতে হয়। সনাতন ধর্মে প্রতিমা নির্মাণ কেবল একটি শিল্প নয়, এটি একটি গভীর আধ্যাত্মিক সাধনা ও লোকাচারের অংশ।
প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয় কাঠামো পূজার মাধ্যমে। সাধারণত রথযাত্রার দিন বা জন্মাষ্টমীর মতো শুভ তিথিতে প্রতিমা তৈরির কাঠের ভিত্তি বা কাঠামোটি পূজা করা হয়। কাঠ এবং বাঁশ দিয়ে দেবীর অবয়ব বা কঙ্কাল তৈরি করা হয়, যা প্রতিমার পুরো ওজন ধরে রাখে।
শাস্ত্রীয় ও ঐতিহ্যগত নিয়ম অনুসারে, প্রতিমা তৈরির মাটি সাধারণ কোনো মাটি নয়। এতে কয়েকটি বিশেষ উপাদান মেশানো বাধ্যতামূলক। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে বিশেষ কিছু স্থানের মাটির প্রয়োজন হয়, যাকে পঞ্চমৃত্তিকা বা পাঁচ ধরনের মাটি বলা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বেশ্যালয়ের বা পতিতালয়ের দরজার মাটি প্রতিমা তৈরির জন্য আবশ্যক। মনে করা হয়, একজন ব্যক্তি যখন সেখানে প্রবেশ করেন, তখন তিনি তার সমস্ত পুণ্য ও পবিত্রতা দরজায় রেখে ভেতরে যান। তাই ওই মাটি অত্যন্ত পবিত্র হয়ে ওঠে। সমাজ থেকে অবহেলিত এই নারীদের সম্মান জানানো এবং দেবীর সর্বজনীন রূপ ফুটিয়ে তুলতেও এই প্রথা পালন করা হয়। এই মাটি পুরোহিত নিজে গিয়ে চেয়ে নিয়ে আসেন, এটি জোর করে বা টাকা দিয়ে কেনার নিয়ম নেই। এ ছাড়া নদীর তীরের মাটি, গোয়ালঘরের মাটি, চৌমাথার (চার রাস্তার মোড়) মাটি এবং রাজপ্রাসাদের বা রাজদ্বারের মাটি সংগ্রহ করতে হয়।
বৃহন্নন্দিকেশ্বর পুরাণ বা অন্যান্য শাক্ত ও পৌরাণিক শাস্ত্রের নির্দেশিত ধ্যানমন্ত্র অনুসারে দেবীর রূপ কল্পনা করতে হয়। নিজের ইচ্ছামতো বা দৃষ্টিকটু আধুনিক থিমের নামে শাস্ত্রবিরোধী রূপ দেওয়া অনুচিত। দেবী দুর্গা সাধারণত দশটি হাতে বিভিন্ন অস্ত্রধারী এবং সিংহবাহিনী রূপে মহিষাসুরমর্দিনী হিসেবে প্রতিমা তৈরি হন। তার পদমূলে মহিষাসুর অবস্থান করে।
শাস্ত্রে প্রতিমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুনির্দিষ্ট পরিমাপ দেওয়া আছে। দেবী দুর্গার মূর্তি সাধারণত দশতাল (মাথার পরিমাপের দশ গুণ) নিয়মে তৈরি হয়। দেবী দুর্গার দশটি হাত মহাবিশ্বের দশটি দিক রক্ষা করার প্রতীক।
ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিমায় রাসায়নিক রঙের বদলে খড়িমাটি, ভূষো কালি, শিউলি ফুলের বোঁটার রস, এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে রং করার নিয়ম। সাধারণত প্রতিমার ভেতরের কাঠামো তৈরি করা হয় বাঁশ ও খড় দিয়ে। শাস্ত্রে দেবীর গায়ের রং তপ্তকাঞ্চনবর্ণ (গলানো সোনার মতো উজ্জ্বল হলুদ বা সোনালী) বা অতসী পুষ্পবর্ণ (উজ্জ্বল হলুদ) হওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনো কৃত্রিম বা প্লাস্টিকের জিনিস এখানে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
মা দুর্গা দশভূজা এবং তিনি মহিষাসুরমর্দিনী রূপে সিংহের পিঠে চড়ে অসুর বধ করছেন। দেবীর পায়ের নিচে মহিষাসুর এবং সিংহের অবস্থানও শাস্ত্রীয় পরিমাপ অনুযায়ী নিখুঁত হতে হয়। দেবীর ডানে থাকেন দেবী লক্ষ্মী ও গণেশ এবং বামে থাকেন দেবী সরস্বতী ও কার্তিক। প্রতিমার চালচিত্রে বা দেবীর মাথার ওপরে ভগবান শিবের ছবি বা ছোট মূর্তি থাকা বাধ্যতামূলক, কারণ শিব ছাড়া দুর্গা পূজা অসম্পূর্ণ।
দেবী দুর্গার চোখ বা চক্ষুদান এটি প্রতিমা তৈরির সবচেয়ে পবিত্র অংশ। মহালয়ার দিন বা শুক্লা দ্বিতীয়া-তৃতীয়া তিথিতে শিল্পী সম্পূর্ণ উপবাস থেকে অত্যন্ত ভক্তি সহকারে দেবীর চোখ আঁকেন, যাকে চক্ষুদান বলা হয়। চক্ষুদান সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রতিমার নির্মাণ কাজ ধর্মীয়ভাবে সমাপ্ত বলে গণ্য হয় এবং প্রতিমাটি পূজার মন্ডপে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। পরবর্তীতে ষষ্ঠীর দিন বোধন ও প্রাণপ্রতিষ্ঠা আচারের মাধ্যমে এই মৃন্ময়ী (মাটির) প্রতিমায় দেবীর চিন্ময়ী রূপ বা প্রাণের আবাহন জানানো হয়।
সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্র মেনে তৈরি দুর্গা প্রতিমা অবশ্যই একটি অত্যন্ত পবিত্র এবং উচ্চমানের শাস্ত্রীয় শিল্পকর্ম। এটি কেবল মাটির তৈরি কোনো সাধারণ ভাস্কর্য নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক দর্শন, কঠোর শাস্ত্রীয় নিয়ম এবং শিল্পীর নিষ্ঠা। দুর্গা প্রতিমা হলো নান্দনিক শিল্পকলা এবং বৈদিক আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব মিলন, যা ভক্তদের মনে ভক্তিভাব জাগিয়ে তোলে এবং একই সাথে মৃৎশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

ফিফা সভাপতিকে ঢাকায় স্বাগত জানালেন বাফুফে সভাপতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
ফিফা সভাপতিকে ঢাকায় স্বাগত জানালেন বাফুফে সভাপতি

মরক্কো থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেছেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। রবিবার দুপুরের পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

ভুটানে যাওয়ার পথে ঢাকাকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করেছেন ইনফান্তিনো। তার যাত্রাপথে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় ঢাকায় এই যাত্রাবিরতি।

এ সময় ঘণ্টাখানেক তারা বাংলাদেশ ও সামগ্রিক ফুটবল নিয়ে আলোচনা করেন। বাফুফে সহ-সভাপতি ও গভর্নমেন্ট রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরি হ্যাপি বলেন, ‘সভাপতি ও আমরা সবাই বাংলাদেশের ফুটবলের নানা বিষয় তুলে ধরেছি। কক্সবাজারে ফিফার অর্থায়নে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে ফিফার আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক আশ্বাসও মিলেছে। ’

 

বিমানবন্দরে ইনফান্তিনোর ট্রানজিট সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেছিল বাফুফে।

তবে ফিফা সভাপতির বাংলাদেশে এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে কিছু জানায়নি দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এমনকি জাতীয় দল কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা নিয়েও কোনও তথ্য জানানো হয়নি। অথচ নারায়ণগঞ্জে সম্ভাব্য ফুটবল অ্যাকাডেমির জন্য জায়গা পরিদর্শনের আগাম আমন্ত্রণপত্র প্রচারে গুরুত্ব দিয়েছে বাফুফে।

বাফুফের মিডিয়া বিভাগে দুজন উচ্চ বেতনে কর্মরত থাকলেও সংস্থাটির গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা ও তথ্য সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের একজন জাতীয় নারী দলের ম্যানেজার হিসেবে ভারতের গোয়ায় সাফে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন; তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া আমিরুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে মিডিয়া কমিটি থাকলেও কার্যকারিতা নিয়ে আছে প্রশ্ন।

 

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক নাহিদা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক নাহিদা

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। নিগার সুলতানার জায়গায় নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে নাহিদা আক্তারকে। তার সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সোবহানা মোস্তারি।

এশিয়ান গেমসের পর টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিগার সুলতানা। নিজের খেলায় আরও মনোযোগ দিতেই নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি। এর আগে ক্রিকবাজ জানিয়েছিল, নিগারের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন নাহিদা-ই।

ক্রিকবাজকে বিসিবির নারী বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচক প্যানেলের সদস্যদেরসহ অন্যদের সঙ্গে আমরা বসেছিলাম। এরপর টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব নাহিদার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সোবহানা মোস্তারি তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’

নাহিদাকে দায়িত্ব দেওয়ার উপযুক্ত সময় এখনই বলে মনে করছে বিসিবি। ২০২২ সালে নিগার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন নাহিদা।

রফিকুল বলেন, ‘নাহিদা বেশ দীর্ঘ সময় ধরে সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। এখন আমরা মনে করছি, টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব তার হাতে তুলে দেওয়ার সঠিক সময় এসেছে।’

টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব ছাড়লেও ওয়ানডেতে অধিনায়ক থাকছেন নিগার। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও তার নেতৃত্বেই খেলেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ নারী দলের পরবর্তী সূচি আইসিসি উইমেন্স এমার্জিং নেশনস ট্রফি। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় এই প্রতিযোগিতায় আগামী ১২ নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে দলটি।

 

ব্যাটিংয়ে বারবার একই ধরনের ভুল হচ্ছে: তাসকিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
ব্যাটিংয়ে বারবার একই ধরনের ভুল হচ্ছে: তাসকিন

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হওয়ার কথা ছিল না। অন্তত আবুধাবির ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটে ২৭০ রান জয়ের মতো সংগ্রহই ছিল- এমনটা মনে করেন তাসকিন আহমেদ। কিন্তু ব্যাটাররা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেননি। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানের বড় হারের পর ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের এই পেসার।

শনিবার শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অথচ বল হাতে ভালো শুরুর পর ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছিল তাদের সামনে। তাসকিন নিজে তিনটি উইকেটও নিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাটিংয়ের বেহাল দশায় সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি।

লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ব্যর্থতাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে সর্বশেষ ১০ ইনিংসের আটটিতেই ২৪০ বা তার বেশি রান তাড়া করতে পারেনি দলটি। পূর্ণকালীন ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে তাওহীদ হৃদয়ের প্রথম ম্যাচেও সেই চিত্রের পরিবর্তন হয়নি। টুর্নামেন্ট থেকে চোটের কারণে ছিটকে গেছেন লিটন দাস। তবে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের অনুপস্থিতিকে হারের অজুহাত হিসেবে দেখাতে রাজি নন তাসকিন।

ম্যাচের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘২৭২ রান অবশ্যই তাড়া করা সম্ভব ছিল, অন্তত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।’

তাসকিনের মতে, একটি জুটি গড়তে পারলেই ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত। তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে ভালো খেলিনি। এই রান তাড়া করা উচিত ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা একটিও জুটি গড়তে পারিনি। একটি জুটি হলে ম্যাচটা বের করে আনতে পারতাম। কিন্তু ব্যাটিংয়ে বারবার একই ধরনের ভুল হচ্ছে।’

বোলিংয়ে কিছুটা ধারাবাহিকতা ফিরলেও ব্যাটিংয়ে সেই উন্নতি দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করেন তাসকিন। তার ভাষায়, ‘বোলিংয়ে অন্তত কিছুটা ধারাবাহিকতা এসেছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হয়, এই ম্যাচটা আমাদের ব্যাটারদেরই জেতানো উচিত ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা পারেনি। তারপরও একটি ম্যাচ বাকি আছে। আশা করি, আমরা ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারব এবং ফাইনালে খেলতে পারব।’