বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

দেশের বিভিন্ন সীমান্তে পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করছে বিজিবি, তারপর অনেকে ‘নিখোঁজ’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
দেশের বিভিন্ন সীমান্তে পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করছে বিজিবি, তারপর অনেকে ‘নিখোঁজ’

ন্যাশনাল ডেস্ক: বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা মানুষগুলো কোথাও শূন্যরেখায় আটকে পড়েছে, আবার কোথাও তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। গত দুইদিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, লালমনিরহাট, মেহেরপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও যশোর ও শেরপুরসহ কমপক্ষে আটটি জেলার সীমান্তে এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর ও নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার শিশু ও নারীসহ অন্তত ৪৫ জন দুই দিন খোলা আকাশের নিচে অবস্থানের পর ‘নিখোঁজ’ হয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) ভোর ও রাতের কোনো এক সময় তারা সীমান্ত এলাকা থেকে উধাও হয়ে যান। তবে সীমান্তে তাদের ব্যবহৃত পোশাক, ব্যাগ ও রান্নার সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রের ধারণা, তাদের কঠোর নজরদারির মুখে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে বিএসএফই রাতের আঁধারে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে পুশইনের চেষ্টার পর বিজিবির প্রতিরোধের মুখে ২৮ জন বাংলাদেশি দুই দিন খোলা আকাশের নিচে জঙ্গলের মধ্যে অনাহারে-অর্ধাহারে অবস্থান করছিলেন। শনিবার সকাল থেকে ওই স্থানে তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। তবে নো ম্যান্স ল্যান্ডের ওই স্থানে তাদের ব্যবহৃত পোশাক ও ব্যাগগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুশইনের শিকার ওই ২৮ জনকে বিএসএফ ফিরিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশক (বিজিবি) কিছু না জানালেও শনিবার ভোরে ওই এলাকা ফাকা পাওয়া যায়।

বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক প্রেস নোটে জানান, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে নো ম্যান্স ল্যান্ডের ভারতীয় অংশের ৫০ গজ অভ্যন্তরে অবস্থান করছিলেন ওই ২৮ জন। কিন্তু শনিবার ভোর থেকে তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় বিএসএফ তাদেরকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে। ১৬ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন পুরো সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল জোরদার রয়েছে।

এদিকে নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকেও সমাধান না হওয়ায় শুক্রবার সারাদিন শূন্য রেখায় মানবেতর দিন কাটিয়েছেন পুশইন হওয়া শিশু ও নারী-পুরুষসহ ১৭ জন। তবে রাতের আঁধারে তারা কোথায় গেছেন, তা স্থানীয়রা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। বিজিবির করমুডাঙ্গা বিওপির নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, শনিবার রাত দুইটার দিকে তাদের ভারতে পুশব্যাক (ফিরিয়ে দেওয়া) করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল আটটার দিকে সাপাহারের হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ভারতের ৮৮ বিএসএফ পান্নাছড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ওই ১৭ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জোর করে প্রবেশ করায়।

বিজিবি সদর দপ্তর জানায়, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে না। সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলার দিয়ে ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। এতে ১২ জন পুরুষ, ১০ নারী ও ছয় শিশুসহ ২৮ জন শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। এ ঘটনায় দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। প্রায় দুইদিন শূন্যরেখায় অবস্থানের পর গতকাল বিএসএফ তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়।

নওগাঁ সীমান্তে ১৯ ঘণ্টার চেষ্টাও ব্যর্থ: শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেয় বিজিবি।

নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বাড়ানো হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্যরেখায় থাকতে দিলেও সন্ধ্যার পর তাদের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয়। রাত ১টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশ-ইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে।’
লালমনিরহাটে ৩৩ জনকে সরিয়ে নেয় বিএসএফ: গত শুক্রবার ভোরে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার পাঁচটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ।

 

খবর পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দিনভর শূন্যরেখায় আটকে রাখার পর রাতের আঁধারে সীমান্তের লাইট নিভিয়ে তাদের নিজ ভূখন্ডে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, ‘সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা মানুষদের নিজ ভূখন্ডে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। যেকোনো পুশ-ইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সর্বদাই সীমান্তে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।’

মেহেরপুরে গ্রামবাসীর প্রতিরোধ: শুক্রবার ভোরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের ১৪০/৫ এস আন্তর্জাতিক পিলারের কাছে ছয়জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে তারা বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকতে পারেনি। স্থানীয়দের দাবি, বিএসএফ কাঁটাতারের একটি অংশ খুলে দিয়ে তাদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। পরে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। তেঁতুলবাড়িয়া বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পুশ-ইনকৃতদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য বিএসএফকে হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে আহ্বান জানানো হচ্ছে। অবৈধ কোনো অনুপ্রবেশ কিংবা পুশ-ইন বাংলাদেশ মেনে নেবে না। সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

পঞ্চগড়ে ২৪ ঘণ্টা পরও শূন্যরেখায় ১০ জন: শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি বাধা দিলে তারা বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করতে থাকে। এ নিয়ে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু তারা ভারতের অভ্যন্তরে ছিল, আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের (আইসিপি) মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো উচিত। রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে এভাবে ফেলে দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো ধরনের পুশ-ইন বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না। যদি তারা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের ফেরত পাঠাতে হবে।’

ঠাকুরগাঁওয়ে শিশুসহ ১১ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা: শুক্রবার ভোরে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দায়িত্ব পালনকালে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তের ওপারে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে সতর্ক অবস্থান নেন। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে ওই ১১ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, ‘মশালগাঁও সীমান্তে ১১ জনকে পুশ-ইনের একটি চেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিহত করেছে। সীমান্তে আমাদের সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা সফল হতে দেয়া হবে না। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বদা দায়িত্বশীল, পেশাদার ও তৎপর রয়েছে।’

শেরপুরে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ: গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন এলাকা দিয়ে পাঁচ-ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত সতর্কতায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি তারা। বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত পিলার ১১১৮-এর নিকটবর্তী এলাকায় শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ গজ ভেতরে ভারতের চেরাংপাড়া এলাকায় ওই ব্যক্তিদের জড়ো করে রাখা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মেঘালয় থেকে নিয়ে আসা এসব ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল বিএসএফ। ঘটনার পর ৩৯ বিজিবির সব বিওপিতে জনবল বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্য পুশ-ইন পয়েন্টগুলোতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মাইকিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আমিন বায়েজীদ বলেন, ‘ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমানা রক্ষায় এবং যেকোনো অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে মাদক, চোরাচালান এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইন রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’

Ads small one

সম্পাদকীয়/নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক সংস্কার ও নাগরিক প্রতিবাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক সংস্কার ও নাগরিক প্রতিবাদ

সাতক্ষীরা শহরের অত্যন্ত ব্যস্ততম পাকাপোল থেকে কেষ্টময়রা মোড় পর্যন্ত সড়ক পুনর্র্নিমাণ কাজে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অনাকাক্সিক্ষত। শিডিউলবহির্ভূত অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংস্কারকাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। নাগরিকদের এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং জনস্বার্থ সুরক্ষায় একটি সচেতন পদক্ষেপ।
খবরে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, প্রাক্কলন তোয়াক্কা না করে ৩ নম্বর ইট ও ঝামাযুক্ত মাটি মিশ্রিত খোয়া দিয়ে তড়িঘড়ি রাস্তা ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। যেখানে মানসম্মত ১ নম্বর ইট ব্যবহারের কথা, সেখানে গুঁড়ো ইট ও ধূলো-মাটির প্রলেপ দিয়ে সরকারি বরাদ্দের অপচয় ঘটানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এমন নি¤œমানের কাজের স্থায়িত্ব অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী, যা প্রথম পশলা বৃষ্টিতেই ধুয়েমুছে গিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে।
শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে পৌর প্রশাসনের সরাসরি নজরদারির সময় কীভাবে এমন অনিয়ম ঘটতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের গাফিলতি কিংবা নীরবতা এই দুর্নীতির সুযোগ করে দিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন বেপরোয়া আচরণ প্রমাণ করে যে, জবাবদিহিতার ঘাটতি কোথায় যেন থেকে যাচ্ছে।
সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। অবিলম্বে এই নি¤œমানের খোয়া অপসারণ করে শিডিউল অনুযায়ী গুণগত মান বজায় রেখে সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে কাজের তদারকিতে গাফিলতি থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি। জনগণের করের টাকার অপচয় রোধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেনÑএটাই প্রত্যাশিত।

সাতক্ষীরায় শিল্প বিকাশে সকল বাধা দূর করার আশ্বাস জেলা প্রশাসকের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শিল্প বিকাশে সকল বাধা দূর করার আশ্বাস জেলা প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরীর সার্বিক কর্মকা- পরিদর্শন, শিল্প উদ্যোক্তাদের সাথে মতবিনিময় এবং শিল্পনগরী প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেছেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিসিক শিল্পনগরী পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসককে বিসিক শিল্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক শিল্পনগরীর বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কারখানা ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে ‘সুন্দরবন এগ্রো’-এর মধু প্রসেসিং সেন্টার এবং ‘এক্সিমকো ভেট ফার্মা’সহ বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিল্প ইউনিট পরিদর্শন করে তিনি উৎপাদিত পণ্যের মান ও সামগ্রিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিদর্শন শেষে শিল্পনগরী চত্বরে পরিবেশ সুরক্ষায় ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। পরবর্তীতে বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি ও সাংবাদিক মো. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিসিক সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের ডেপুটি ম্যানেজার গৌরব দাসসহ স্থানীয় উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় বিসিকের বিদ্যুৎ সংযোগের নিরবচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করা, শিল্পনগরীতে একটি ড্যাডিকেটেড ‘শিল্প পুলিশ ফাঁড়ি’ স্থাপন এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানান শিল্প মালিকেরা।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনে সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, শিল্পই হচ্ছে অর্থনীতির প্রধান চাকা। শিল্প কারখানা সচল থাকলে অঞ্চলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতির গতি সঞ্চার হবে। বিসিকের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নে জেলা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

 

বিশ্ব গগনচুম্বী অট্টালিকা দিবস: আকাশছোঁয়া স্বপ্ন, প্রকৌশলের বিস্ময় এবং নগর সভ্যতার নতুন দিগন্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব গগনচুম্বী অট্টালিকা দিবস: আকাশছোঁয়া স্বপ্ন, প্রকৌশলের বিস্ময় এবং নগর সভ্যতার নতুন দিগন্ত

সাকিবুর রহমান বাবলা
৩ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব গগনচুম্বী অট্টালিকা দিবস। আধুনিক স্থাপত্য, প্রকৌশল, নগর পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অসাধারণ সাফল্যকে সম্মান জানাতেই এই দিনটি উদযাপিত হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আকাশরেখা আজ যেসব সুউচ্চ ভবনের মাধ্যমে নতুন পরিচয় লাভ করেছে, সেসব স্থাপনার পেছনে রয়েছে মানুষের সৃজনশীলতা, বৈজ্ঞানিক চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং দীর্ঘ গবেষণার ইতিহাস। এই দিবস সেই অর্জনগুলোকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
৩ সেপ্টেম্বর তারিখটি বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে স্থাপত্য ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৮৫৬ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন মার্কিন স্থপতি লুই এইচ. সুলিভান, যিনি আধুনিক গগনচুম্বী অট্টালিকার পথিকৃৎ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। তার বিখ্যাত নীতি ‘কাজের প্রয়োজনই নকশার রূপ নির্ধারণ করবে’Ñআজও আধুনিক স্থাপত্যচর্চার অন্যতম মৌলিক দর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। বহুতল ভবনের নকশা ও কাঠামোগত পরিকল্পনায় তার অবদান এতটাই গভীর যে তাকে ‘গগনচুম্বী অট্টালিকার জনক’ নামে অভিহিত করা হয়।
গগনচুম্বী অট্টালিকা বলতে সাধারণত এমন ভবনকে বোঝায়, যা আশপাশের স্থাপনাগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উঁচু এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মিত। বর্তমানে কাউন্সিল অন টল বিল্ডিংস অ্যান্ড আরবান হ্যাবিট্যাট-এর মানদ- অনুযায়ী ১৫০ মিটার বা তার বেশি উচ্চতার ভবনকে গগনচুম্বী অট্টালিকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অধিকাংশ আধুনিক স্কাইস্ক্র্যাপারে ৪০টিরও বেশি তলা থাকে এবং এগুলো শক্তিশালী ইস্পাত কাঠামো, উন্নত কংক্রিট প্রযুক্তি ও উচ্চগতির এলিভেটরের ওপর নির্ভর করে নির্মিত হয়।
আজকের পৃথিবীতে গগনচুম্বী অট্টালিকা শুধু স্থাপত্যের সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং অর্থনৈতিক শক্তি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং নগর উন্নয়নের পরিচায়ক। বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফা, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে অবস্থিত, ৮২৮ মিটার উচ্চতা নিয়ে আধুনিক প্রকৌশলের এক অনন্য নিদর্শন। এর পরেই রয়েছে মালয়েশিয়ার মেরদেকা ১১৮, চীনের সাংহাই টাওয়ার, সৌদি আরবের মক্কা রয়্যাল ক্লক টাওয়ার, এবং চীনের পিং অ্যান ফাইন্যান্স সেন্টার। এসব ভবন শুধু উচ্চতার রেকর্ডই গড়েনি, বরং শক্তি সাশ্রয়, বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, ভূমিকম্প প্রতিরোধ এবং টেকসই নির্মাণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও নতুন মানদ- স্থাপন করেছে।
ঢাকার শীর্ষস্থানীয় বহুতল ভবনগুলোর মধ্যে শান্তা পিনাকলের মূল স্থপতি এহসান খান (ইকে আর্কিটেক্টস) এবং প্রকৌশল সহায়তা দিয়েছে মাইনহার্ট সিঙ্গাপুর। মতিঝিলের সিটি সেন্টারের নকশায় যৌথভাবে স্থপতি টিআইএম নুরুন্নবী চৌধুরী ও বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার (সাইট ফোর্স ও আরবান কন্টেক্সট)। তেজগাঁওয়ের ইনস্টার ট্রেড ইন্টারকন্টিনেন্টাল ভবনের প্রধান স্থপতি মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ (ভলিউমজিরো)। আর গুলশানের হিলটন ঢাকা ভবনের আন্তর্জাতিক স্থাপত্য নকশায় এইচবি ডিজাইন ও প্রকৌশল সেবা দিয়েছে ইইসি লিনকন স্কট।
গগনচুম্বী অট্টালিকার ইতিহাসে দুটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে। প্রথমটি হলো ইস্পাতের কঙ্কাল কাঠামো। প্রচলিত ইট বা পাথরের ভারী দেয়ালের পরিবর্তে ইস্পাতের শক্তিশালী ফ্রেম ব্যবহারের ফলে ভবনের উচ্চতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো নিরাপদ যাত্রীবাহী এলিভেটর। দ্রুত ও নিরাপদ ওঠানামার সুবিধা না থাকলে শততলা ভবনের ধারণা কখনো বাস্তবে রূপ নিত না। এই দুটি প্রযুক্তির সমন্বয়ই আধুনিক নগর সভ্যতার আকাশছোঁয়া রূপ গঠনে সহায়ক হয়েছে।
আধুনিক গগনচুম্বী অট্টালিকা নির্মাণের নেপথ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী ড. ফজলুর রহমান খানের আবিষ্কৃত ‘টিউব স্ট্রাকচারাল সিস্টেম’ এক বৈপ্লবিক ভিত্তি তৈরি করে, যা ছাড়া উইলিস টাওয়ার বা বুর্জ খলিফার মতো বহুতল ভবন তৈরি অসম্ভব ছিল। পরবর্তীতে আমেরিকান কাঠামো প্রকৌশলী উইলিয়াম এফ. বেকার এই টিউবুলার পদ্ধতিকে আরও উন্নত করে ‘বাট্রেসড কোর’ সিস্টেম উদ্ভাবন করেন, যার মাধ্যমে বুর্জ খলিফার মতো বিশ্বের সর্বোচ্চ কাঠামোর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ও দৃষ্টিনন্দিত গগনচুম্বী ভবনগুলোর নেপথ্যে রয়েছেন আদ্রিয়ান স্মিথ, নরম্যান ফস্টার, মার্শাল স্ট্র্যাবালা, সিজার পেলি এবং জাহা হাদিদের মতো প্রখ্যাত স্থপতিরাÑযাঁরা বুর্জ খলিফা, দ্য ঘেরকিন, পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার ও সাংহাই টাওয়ারের মতো আইকনিক স্থাপত্যের নকশা করেছেন। পাশাপাশি এসওএম, কেপিএফ এবং জেন্সলার-এর মতো শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক ডিজাইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মগুলো যৌথ স্থাপত্য ও প্রকৌশলগত দক্ষতার মাধ্যমে ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, পিং অ্যান ফাইন্যান্স সেন্টার ও পরিবেশবান্ধব সাংহাই টাওয়ারসহ বিশ্বের সর্বোচ্চ ১০০টি ভবনের বেশিরভাগের নির্মাণ ও কাঠামোগত বাস্তব রূপদান সম্পন্ন করেছে।
বিশ্ব গগনচুম্বী অট্টালিকা দিবস মূলত মানব মেধা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্থাপত্য এবং প্রকৌশলের সম্মিলিত সাফল্যকে উদযাপনের দিন। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি সীমাবদ্ধ নয়; সৃজনশীল চিন্তা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি একসময় অসম্ভব মনে হওয়া স্বপ্নকেও বাস্তবে রূপ দিতে পারে। আকাশ ছুঁয়ে থাকা এসব স্থাপনা কেবল কংক্রিট, ইস্পাত ও কাচের সমষ্টি নয়; এগুলো মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রতীক।