সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি

সুস্বাদু পেড়া-সন্দেশ ও খাঁটি ছানার মিষ্টিতে বিশ্বজয়ের গল্প

আসাদুজ্জামান সরদার: সাতক্ষীরার মিষ্টির নাম শুনলেই জিভে জল আসে না-এমন লোক খুঁজে পাওয়া দায়। জেলার সীমান্ত ছাড়িয়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিয়েছে উপকূলীয় এই জেলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন। শতবছরের সুনাম, খামারিদের নিরলস শ্রম এবং খাঁটি ছানার সুস্বাদু ছোঁয়ায় সাতক্ষীরার মিষ্টির কদর ছড়িয়ে পড়েছে কানাডা, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে।

সাতক্ষীরার মিষ্টির ইতিহাস ও ঐতিহ্য
সাতক্ষীরার মিষ্টির ইতিহাস শুরু ব্রিটিশ আমলে হাজারি ময়রার হাত ধরে, যা সেসময়েও লন্ডনে যেতো। পরবর্তীতে সুশীল ময়রা, কেষ্ট ময়রা ও ফকির ময়রার হাত ধরে এ অঞ্চলের মিষ্টি শিল্প অনন্য উচ্চতায় পৌঁছায়। বিশেষ করে ফকির ময়রার হাত ধরেই খ্যাতি পায় বিশ্ববিখ্যাত ‘পেড়া সন্দেশ’।

মূলত খাঁটি ছানার পেড়া সন্দেশ ও সন্দেশই সাতক্ষীরার প্রধান ঐতিহ্য। এই মিষ্টি শিল্পের মূল ভিত্তি হলো জেলার উদ্বৃত্ত দুধ।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ লক্ষ ২৫ হাজার ৮৩০ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রকৃত উৎপাদন হয়েছে ২ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৪১.১৩ মেট্রিক টন। তালার জিয়ালা ও খলিশখালিসহ সদর ও কালিগঞ্জের বিপুল উদ্বৃত্ত দুধ ও উন্নত ফ্যাটের কারণে এ অঞ্চলের মিষ্টির স্বাদ অতুলনীয়।

জানা যায়, সাধারণ মিষ্টির মেয়াদ কম হলেও নলেন গুড়ের পেড়া সন্দেশ তাপমাত্রায় ১০-১৫ দিন এবং ফ্রিজে মাসের পর মাস ভালো থাকে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০২২ সাল থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে কানাডায় নিয়মিত যাচ্ছে নলেন গুড়ের প্যাড়া সন্দেশ, সন্দেশ, ল্যাংচা ও কাঁচাগোল্লা। বছরে গড়ে প্রায় এক টন মিষ্টি মাইনাস ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফ্রোজেন করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর হয়ে কানাডায় পাঠানো হচ্ছে।

‘দই সন্দেশ’-এর ম্যানেজার সাদ বলেন, আমাদের এখান থেকে বিদেশগামী ক্রেতাদের মাধ্যমে বিশেষ করে রসগোল্লা এবং পেড়া সন্দেশ-এই দুটি মিষ্টি সবচেয়ে বেশি সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়া হয়।

‘সাগর সুইটস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসান তাজ বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির পাশাপাশি সাতক্ষীরার নলেন গুড়ের পেড়া-সন্দেশ বিদেশে নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০২২ সাল থেকে ভেন্ডর হিসেবে আমরা কানাডায় গড়ে প্রতি বছর এক টনের মতো মিষ্টি পাঠাচ্ছি। নলেন গুড়ের বিশেষ ফ্লেভারের কারণে আমাদের এই মিষ্টিটি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং এটি সাতক্ষীরার জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পূর্ণ দাবি রাখে। সাতক্ষীরায় ফ্রোজেন আইটেমের জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রসেসিং ইউনিট না থাকায় জেলাভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপন ও সরাসরি পণ্য বিক্রির সহজ আন্তর্জাতিক মাধ্যম চালুর দাবি জানাচ্ছি।

প্রবীণ সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন, সাতক্ষীরার মিষ্টির মূল ইতিহাস ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু। সে সময় হাজারি ময়রার মিষ্টির দোকান এতটাই খ্যাতনামা ছিল যে, তাঁর তৈরি মিষ্টি ইংল্যান্ড পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হতো। পরবর্তীতে সুশীল ময়রা ও কেষ্ট ময়রা মিষ্টির বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাঁদের পর ফকির ময়রার হাত ধরে বিশেষ করে ‘পেড়া সন্দেশ’ দেশজুড়ে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করে। এ ছাড়া কেষ্টা ময়রার সন্দেশও তাঁর নিজস্ব ফ্লেভারের জন্য দারুণ জনপ্রিয়। পরবর্তীতে পূর্ণ সাহা ও বর্তমানে তাঁর ছেলে কীর্তি সাহারা ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির ধারা ধরে রেখেছেন।

তিনি আরো বলেন, সাতক্ষীরার আসল ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি বলতে মূলত খাঁটি ছানার সন্দেশ এবং নলেন গুড়ের পেড়া সন্দেশকেই বোঝায়। এর পাশাপাশি একসময় প্রতাপনগর ও নয়াবেকি হাটে ছানার তৈরি লাল রঙের ‘মালফো’ নামের বিশেষ একটি বড় মিষ্টি খুব নাম করেছিল, যা এখন আর তেমন দেখা যায় না। অন্যদিকে বর্তমানে বাজারে থাকা ‘ভাগ্যকূল’ বা ‘সাগর’ সাধারণ মিষ্টি তৈরি করে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবির বলেন, “আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন অনেক বেশি। ২ লক্ষ ২৫ হাজার মেট্রিক টনের জায়গায় প্রায় ২ লক্ষ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন দুধ উৎপাদিত হয়েছে। চাহিদার তুলনায় দুধ উদ্বৃত্ত থাকায় এবং গুণগত মান ভালো হওয়ায় সাতক্ষীরার মিষ্টির সুনাম আজ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম বলেন, “উৎপাদনে দুগ্ধ খাতে সাতক্ষীরা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। প্রতিদিন রাতে ঢাকার গাড়িতে বিপুল পরিমাণ মিষ্টি দেশের নানা প্রান্ত চলে যায়। তবে মিষ্টি শিল্পে ব্যাংক লোন বা সরকারি সহায়তার সুযোগ নেই। আমাদের দাবি, এখানকার ঐতিহ্যবাহী প্যাড়া সন্দেশকে দ্রুত জিআই স্বীকৃতি দেওয়া হোক।

Ads small one

পাটকেলঘাটায় মাস আইসিইউতে থাকার পর স্মৃতিশক্তি ফিরল জাহিদের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় মাস আইসিইউতে থাকার পর স্মৃতিশক্তি ফিরল জাহিদের

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: খুলনার নর্থ ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. নাঈমুর রহমান জাহিদ দুরারোগ্য জিবিএস (গুলেন ব্যারি সিন্ড্রোম) রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ চার মাস ধরে ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে স্মৃতিশক্তি ফিরে পেয়েছেন।
পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা গ্রামের সোপান সরদারের একমাত্র পুত্র জাহিদ গত ১৯ জুন জিবিএস রোগে আক্রান্ত হন। প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রফেসর ডা. এনায়েতুল্লাহর তত্ত্বাবধানে ও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি এখন অক্সিজেন ছাড়াই কথা বলতে পারছেন এবং মানুষের নাম ধরে ডাকতে পারছেন। ছেলের এমন সুস্থতায় মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে তার মা সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

 

সুন্দরবন উপকূলসংলগ্ন পূজাম-পের নিরাপত্তায় ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবন উপকূলসংলগ্ন পূজাম-পের নিরাপত্তায় ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

সংবাদদাতা: শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সুন্দরবন উপকূলসংলগ্ন এই তিন উপজেলার ৪৪টি পূজাম-পের নিরাপত্তায় নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) থেকে ১৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর কদমতলা পূজাম-পে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ (পিএসসি, সিগন্যাল)।

তিনি জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘœ ও উৎসবমুখর করতে বিজিবি মাঠে কাজ করছে। মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যরা পূজাম-প ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল এবং নজরদারি জোরদার রাখবেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন।

সাতক্ষীরায় সীমানা পিলার তুলে গাছ ও বেড়া ভাঙচুর, ১৫ হাজার টাকা চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সীমানা পিলার তুলে গাছ ও বেড়া ভাঙচুর, ১৫ হাজার টাকা চুরি

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর গ্রামে সীমানা বিরোধের জেরে গাছপালা কাটা, বেড়া ভাঙচুর ও ঘরে ঢুকে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জুয়েলারি ব্যবসায়ী পলাশ চৌধুরী জানান, প্রতিবেশী রতন অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত রাতে তিনি পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে রেখে বিভিন্ন ম-পে প্রতিমা দর্শনে যান। রাত দেড়টার দিকে বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, তার সীমানা পিলার তুলে ফেলা হয়েছে এবং গাছপালা ও চটার বেড়া কেটে তছনছ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘরের পেছনের বেড়া ভেঙে দোতলায় প্রবেশ করে টিনের বাক্সের তালা ভেঙে নগদ ১৫ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে। তিনি পূর্ববিরোধের জের ধরে প্রতিবেশী রতন অধিকারী এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে আশঙ্কা করছেন।
অভিযুক্ত রতন অধিকারী দাবি করেন, নিজেদের সাজানো নাটকে তাকে দোষারোপ করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।