মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

ধুলিহরে শতবর্ষী আছিয়া বেগমের কষ্টের জীবন, সম্বল মাত্র ৬০০ টাকার ভাতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
ধুলিহরে শতবর্ষী আছিয়া বেগমের কষ্টের জীবন, সম্বল মাত্র ৬০০ টাকার ভাতা

0-4064x3074-0-0#

জি এম আমিনুল হক: বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর, চামড়া কুঁচকে গেছে। চোখে দেখেন ঝাপসা, লাঠিতে ভর দিয়েও পা কাঁপে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের নাথপাড়ার এক নির্জন এলাকায় ভাঙা টিনের কুঁড়েঘরে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে শতবর্ষী আছিয়া বেগমের। স্বামী ময়েজউদ্দিন ঢালী মারা গেছেন প্রায় ২০ বছর আগে। দুই ছেলের অভাবের সংসার ও নিজেদের অসুস্থতার কারণে মায়ের ঠাঁই হয়নি সেখানে। দুই মেয়েও স্বামীর সংসারে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে একাকী এই বৃদ্ধার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল সরকারের দেওয়া বয়স্ক ভাতার মাসে মাত্র ৬০০ টাকা।

শনিবার (২০ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণশীর্ণ একটি ভাঙা টিনের ঘরের সামনে বসে আছেন আছিয়া বেগম। ঘরের চালের টিনগুলো মরিচা ধরে খসে খসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি ঢোকে, আর বেড়ার ফাঁক দিয়ে হু হু করে বাতাস আসে। ঘরের ভেতর একটি চৌকি, ছেঁড়া কাঁথা, দু-একটি মাটির হাঁড়ি আর একটি ভাঙা রান্নার চুলা ছাড়া আর কিছুই নেই।

আছিয়া বেগম জানান, কোমরে ও হাঁটুতে ব্যথার কারণে এখন আর উঠতে-বসতে পারেন না। ভাত রান্না করার মতো শারীরিক শক্তিও তাঁর নেই। প্রতি তিন মাস পর পর তিনি ১ হাজার ৮০০ টাকা বয়স্ক ভাতা পান, যা মাসে গড়ে ৬০০ টাকা পড়ে। বর্তমান বাজারে ৭০ টাকা কেজি দরে মাত্র ৫ কেজি চাল কিনতেই ৩৫০ টাকা শেষ হয়ে যায়। বাকি ২৫০ টাকায় তেল, ডাল ও ওষুধ কেনা কোনোভাবেই সম্ভব হয় না।

প্রতিবেশী কামরুল ইসলাম জানান, আছিয়া বেগম প্রায়ই না খেয়ে থাকেন। প্রতিবেশীরা মাঝে মাঝে খাবার দিয়ে আসলেও সবার ব্যস্ততা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিন দেওয়া সম্ভব হয় না।

বয়সজনিত কারণে উচ্চ রক্তচাপ ও বাতের ব্যথাসহ নানা রোগে ভুগছেন এই বৃদ্ধা। কিন্তু টাকার অভাবে ডাক্তার দেখানোর সুযোগ নেই। আছিয়া বেগমের এখন একমাত্র চাওয়া—দুটি মুঠো ভাত আর মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদ। মৃত্যুর আগে একটি পাকা ঘরে শান্তিতে ঘুমানোর আকুতি তাঁর। প্রতিবেশীদের ভাষ্য, রাতে ঝড়-বৃষ্টি হলে ঘরের চাল উড়ে যাওয়ার বা সাপ-পোকা ঢোকার আতঙ্কে বৃদ্ধা ঘুমাতে পারেন না। গত কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের একপাশের বেড়া ভেঙে যাওয়ার পর এখন পলিথিন টাঙিয়ে কোনোমতে আছেন।

২০২৬ সালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে একজন মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটাতে এই সামান্য ভাতা অপর্যাপ্ত। আছিয়া বেগমের মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন তাঁকে ‘আশ্রয়ণ-২’ প্রকল্পের আওতায় এনে একটি সেমিপাকা ঘর ও স্থায়ী সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলে তাঁর শেষ জীবনটা অন্তত নিশ্চিন্তে কাটতে পারে।

Ads small one

আলজেরিয়ার জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, নকআউটে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ কারা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
আলজেরিয়ার জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, নকআউটে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ কারা?

বিশ্বকাপে নিজেদের কাজটা সেরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। টানা দুই জয়ে নিশ্চিত হয়েছে নকআউট। এবার জর্ডানের বিপক্ষে আলজেরিয়ার জয়ে নিশ্চিত হয়েছে গ্রুপ জে এর শীর্ষস্থান। গ্রুপসেরা হয়েই শেষ ৩২ এ যাচ্ছে লিওনেল মেসির দল। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ এইচের রানার্সআপ দল।

দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনারা সংগ্রহ এখন ৬ পয়েন্ট। ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে অস্ট্রিয়া। জর্ডানকে ২-১ গোলে হারানো আলজেরিয়া ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে অবস্থান করছে।

এবার দেখে নেওয়া যাক এইচ গ্রুপে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে কারা

দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত শীর্ষে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের পয়েন্ট ২, তারা আছে দুই নম্বরে। ২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে নবাগত কেপ ভার্দে। ১ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে সৌদি আরব।

গ্রুপ ‘এইচ’-এ এখনও দুটি ম্যাচ বাকি। ২৭ জুন স্পেনের মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে, আর সৌদি আরব খেলবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে। উরুগুয়ে জিতলে এবং কেপ ভার্দে ড্র বা হারলে তখন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে স্পেন।

উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে দুই দলই জিতলে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের মধ্যে যে দলটি গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকবে তার বিপক্ষে। বর্তমানে দুই দলেরই গোল ব্যবধান শূন্য। গোল ব্যবধান সমান থাকলে বেশি গোল করা দল এগিয়ে থাকবে। এখন পর্যন্ত দুই দলই দুটি করে গোল করেছে। সেটিও সমান থাকলে ফেয়ার প্লে পয়েন্ট বিবেচনায় নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে একটি কম হলুদ কার্ড পাওয়ায় উরুগুয়ে এগিয়ে রয়েছে। ওই দুই ম্যাচই ড্র হলে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তবে তখন উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে গ্রুপ সেরা নয়, রানার্সআপ হওয়ার লড়াইয়ে থাকবে।

কেপ ভার্দে চার গোল বা তার কম ব্যবধানে জিতলে এবং উরুগুয়ে ড্র করলে তখন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে কেপ ভার্দে।

কেপ ভার্দে ঠিক চার গোলের ব্যবধানে জিতলে তখন গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে কেপ ভার্দে ও স্পেনের অবস্থান নির্ধারিত হবে গোলসংখ্যা অথবা ফেয়ার প্লে পয়েন্টের ভিত্তিতে।

কেপ ভার্দে চার বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জিতলে এবং উরুগুয়ে ড্র করলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে স্পেন।

উরুগুয়ে জিততে ব্যর্থ হলে এবং সৌদি আরব জিতলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে সৌদি আরব।

কাতারে গ্যাস কারখানায় বিস্ফোরণ: নিহত ১৩ জনের সবাই ভারতীয় ও পাকিস্তানি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
কাতারে গ্যাস কারখানায় বিস্ফোরণ: নিহত ১৩ জনের সবাই ভারতীয় ও পাকিস্তানি

কাতারের রাস লাফান শিল্প কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত এবং আরও ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতের সবাই ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক। সোমবার (২২ জুন) কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাতি এই তথ্য জানান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি সাংবাদিকদের বলেন, এই বিস্ফোরণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি রাস লাফানে এলএনজি কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য কাজ করে যাচ্ছে, যা গত মার্চ মাসে ইরানের হামলার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত রবিবার সন্ধ্যায় বারজান লোকাল গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় একটি ‘প্রযুক্তিগত দুর্ঘটনা’ ঘটে। কাবি সাংবাদিকদের জানান, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে কারখানাটির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল এবং মাত্র দুই দিন আগে এটি প্রথমবারের মতো পুনরায় চালু করা হয়েছিল।

লখনৌতে কোচিং সেন্টারে আগুন, নিহত ১৪ শিক্ষার্থীলখনৌতে কোচিং সেন্টারে আগুন, নিহত ১৪ শিক্ষার্থী
গ্যাস শিল্পে এর আগের বড় বিপর্যয়টি ঘটেছিল ২০০৪ সালে আলজেরিয়ার স্কিকদা এলএনজি কমপ্লেক্সে, যেখানে বিস্ফোরণে ২৭ জন নিহত হন। কাবি বলেন, বারজান বিস্ফোরণের পর আহত এবং চিকিৎসাধীন ৬৬ জনের মধ্যে কারও অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয়। তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তিরা ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাবি জোর দিয়ে বলেন, কাতারএনার্জি ইতোমধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। তবে এটি কোনও ধরনের নাশকতা বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড ছিল না এবং এতে পরিবেশের কোনও ক্ষতি বা ঝুঁকি নেই। তিনি আরও বলেন, এই বিস্ফোরণ ও আগুনের ফলে কাতারএনার্জির এলএনজি অবকাঠামো, রাস লাফান বন্দর এবং অন্যান্য লজিস্টিক কার্যক্রমের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং এটি আমাদের রফতানি সক্ষমতায় কোনও প্রভাব ফেলবে না।

২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করলো ওরাকল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১:১৬ অপরাহ্ণ
২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করলো ওরাকল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি একদিকে যেমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ করে তুলছে, অন্যদিকে সাধারণ কর্মীদের জন্য এটি তৈরি করছে চরম অনিশ্চয়তা। এর সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে সামনে এলো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট ওরাকল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে নিজেদের ব্যবসা নতুন করে সাজানোর অংশ হিসেবে কোম্পানিটি ২০১৬ অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। ওরাকলের সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় কোম্পানিটির মোট জনবল এবার ১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত বছর যেখানে ওরাকলের কর্মী সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬২ হাজার, ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজারে।

তবে কর্মী ছাঁটাই এখানেই শেষ নাও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এআই কি পারবে একাকীত্ব দূর করতেএআই কি পারবে একাকীত্ব দূর করতে
গত সোমবার (২২ জুন) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে ওরাকল জানিয়েছে, তাদের সামগ্রিক কার্যক্রমে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার ইতোমধ্যে জনবল হ্রাসের কারণ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এর ফলে আরও কর্মী ছাঁটাই হতে পারে।

কোম্পানিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, আমাদের পুরো কার্যক্রম জুড়ে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার কর্মসংস্থান হ্রাসের কারণ হয়েছে এবং এটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।

অবশ্য ওরাকল আরও জানিয়েছে, এই জনবল কাঠামোর সমন্বয় বা ছাঁটাইয়ের পেছনে আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ব্যবস্থাপনা ও পণ্যের পরিবর্তন, পারফরম্যান্স বা কর্মদক্ষতার সমস্যা, কৌশলগত পরিবর্তন এবং নতুন কোম্পানি অধিগ্রহণ।

ভিক্ষুকরাও এআই যুগে নিরাপদ নয়!ভিক্ষুকরাও এআই যুগে নিরাপদ নয়!
চলতি বছরের শুরুর দিকেই অবশ্য এমন বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। গত মার্চ মাসে ওরাকল তাদের বিশাল এআই ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের খরচের কারণে সৃষ্ট নগদ অর্থের সংকট বা ক্যাশ ক্রাঞ্চ মোকাবিলায় হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিল।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে