মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

পাইকগাছায় তালের রস আহরণের মৌসুম পুরাদমে শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় তালের রস আহরণের মৌসুম পুরাদমে শুরু

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় তাল গাছের রস আহরণের মৌসুম পুরাদমে শুরু হয়েছে। গাছিরা রস আহরণে তালগাছে ব্যস্ত দিন পার করছে। তালের রস একটি জনপ্রিয় পানীয়। এছাড়াও, এই রস থেকে সুস্বাদু গুড়, পাটালি এবং তালমিছরি তৈরি করা হয়। তালের রস সুমিষ্ট ও পাটালি গুড় সবার কাছে মুখরোচক। এ কারণে তালের রস ও গুড়ে কদর রয়েছে সবার কাছে।

চৈত্র মাসের শুরু থেকে আষাঢ় মাসের শেষ পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রচন্ড গরমের সময় রস আহরণের উপযুক্ত সময়। গাছিরা বাঁশের ডগা বা শক্ত বাঁশের সাহায্যে গাছে উঠে পুরুষ তালের মঞ্জরি কেটে তার মুখে মাটির ভাঁড় বেধে দিয়ে আসেন। প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে এই ভাড় থেকে রস সংগ্রহ করা হয়।

উপকূলের পাইকগাছা উপজেলায় গদাইপুর, গোপালপুর, তোকিয়া, হিতামপুর, বাঁকা, কপিলমুনি, সলুয়া, শ্যামনগর গ্রামে তাল গাছের রস আহরণে গাছিরা সারাদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফাল্গুনের শেষ ও চৈত্র মাসের প্রথম থেকে তালের রস আহরণের জন্য গাছিরা তাল গাছ পরিচর্যা শুরু করে। চৈত্র মাস থেকে আষাড় মাষের শেষ পর্যন্ত তালের রস আহরণ চলবে। বর্ষাকাল আসলে আর রস আহরণ করা যায় না।

তালগাছে উঠার জন্য সোজা শক্ত বাঁশের প্রয়োজন হয়। বাঁশের গিরার এই কুঞ্চি সিঁড়ি হিসাবে বেয়ে ওঠা নামা করতে হয়। তালগাছ ২ প্রকারের ফল ও জটা থেকে রস আহরণ করা যায়। তালের জট ও ফলের কাধির মুজ্ঞরি ৬ ইঞ্চি মতো বের হলে রস আহরণের জন্য কাঁটা আহরণ শুরু করতে হয়। প্রতিটি গাছে ৬টি কাধি বা মুচা রেখে বাকি গুলো কেঁটে রাখা হয়। জটা তাল গাছের জটার মুচার সারিগুলো শক্তভাবে বেঁধে রাখা হয়। জট বা কাঁধির শেষ প্রান্ত থেকে ধারালো দা দিয়ে পাতলা করে কাঁটা শুরু করা হয়।

 

কয়েকদিন কাঁটার পর রসের পরিমাণ বাড়লে রস আহরণ শুরু হয়। রস আহরণের জন্য প্রতিটি গাছে ১২টি ঘট প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন ৩ বার গাছের মুচা বা কাধি পাতলা করে কেঁটে রস আহরণ করা হয়। সকালে ও বিকালের রস গাছ থেকে নামানো হয়। আর দুপুর বেলায় শুধু মুচা বা কাধি পাতলা করে কাঁটা হয়। প্রতিদিন একটি গাছে থেকে ১৩ থেকে ১৫ লিটার রস পাওয়া যায়। সকালে ৮-৯ লিটার ও বিকালে ৫-৬ লিটার রস হয়।

উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়ানের তকিয়া গ্রামের মোঃ আনোয়ার গাজী জানান, তিনি প্রায় ২০ বছর যাবৎ তালগাছের রস আহরণ করছেন এবং তার পিতা মোঃ নজরুল গাজী প্রায় ৪৫ বছর যাবত কৃষি কাজের পাশাপাশি প্রতিবছর খেঁজুর ও তালের রস আহরণ করেন। তিনি জানান, তাল গাছের মালিকের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ শত টাকা হারি হিসাবে ৬টি গাছ এ মৌসুমে লীজ নিয়ে তালের রস সংগ্রহ করছেন।

 

এক ভাড় রস পাইকারী ১৫০ টাকা ও খুচরা গ্লাস প্রতি ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়। প্রতি কেজি তালের পাটালি ২শত ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে তিনি জানান, তালের রস আহরণে প্রায় সারা দিন তালগাছের জন্য ব্যয় করতে হয়। বাঁশ বেয়ে গাছে ওঠা নামা ও মাজায় বেঁধে ঘট ও রস নামানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এ কষ্টের কাজে গাছির কাজ করতে কেউ এগিয়ে আসছে না। নতুন করে গাছি তৈরি না হলে আগামীতে হয়তো এ এলাকায় তালের রস সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না।

বৃদ্ধ গাছি মোঃ নজরুল গাজী (৭৬) জানান, এ এলাকায় তাল গাছের যত গাছি রয়েছে অধিকাংশ তার শিস্য। তবে তালগাছ কমে যাওয়া এবং শ্রমসাধ্য হওয়ায় এই পেশাটি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। নতুন করে গাছির কাজে কেউ না আসায় তিনি কিছুটা হতাশ, হয়তো এক সময় তালের রস বের করার এই শিল্প এলাকা থেকে হারিয়ে যাবে।

পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে তালগাছ সহায়তা করে। পাইকগাছায় তালগাছ রোপণের মাধ্যমে এর ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টাও করা হচ্ছে। অনেকেই পেশাদার গাছি হিসেবে এই কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গ্রামীণ ঐতিহ্য বজায় রেখে পাইকগাছায় এই মৌসুমি ব্যবসা স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম উৎস হিসেবে টিকে আছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

 

Ads small one

সম্পাদকীয়/ বখাটে, মাদক, জুয়া ও চুরির রুখতে আশু পদক্ষেপ জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ বখাটে, মাদক, জুয়া ও চুরির রুখতে আশু পদক্ষেপ জরুরি

পাটকেলঘাটা ও সাতক্ষীরা শহরের সাম্প্রতিক অপরাধচিত্র জেলাটির সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একের পর এক বখাটেপনা, চাঁদাবাজি, নারীদের উত্ত্যক্তকরণ, চুরি ও মাদকের বিস্তারে সাধারণ মানুষের জনজীবন আজ চরম অতিষ্ঠ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় বা দক্ষিণাঞ্চলের যেকোনো অঞ্চলে যখন অপরাধীরা এতটা বেপরোয়া হয়ে ওঠে, তখন তা সমাজব্যবস্থার সামগ্রিক শিথিলতাকেই নির্দেশ করে।
পাটকেলঘাটার কালীবাড়ী রোড, হাইস্কুল রোড কিংবা কুমিরা মহিলা কলেজের আশপাশের এলাকাগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে। স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা ও ছবি তোলার মতো অপরাধ শুধু ব্যক্তি নিরাপত্তা বিঘিœত করছে না, বরং নারীশিক্ষার পরিবেশকেও ব্যাহত করছে। তার ওপর পুকুরে গোসলরত নারীদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা সামাজিক নৈতিকতার চরম অবক্ষয় প্রকাশ করে। অন্যদিকে, কৃষি ও মৎস্যজীবীদের ওপর নেমে এসেছে আর্থিক বিপর্যয়। খলিশখালী ইউনিয়নে গত ছয় মাসে ৬৫টি সেচ পাম্প চুরি এবং মাছের ঘের থেকে চুরি শুধু অপরাধই নয়, এর মাধ্যমে স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতি ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। চুরি করা মালামাল ও মাছ কম দামে বিক্রি করে সেই অর্থ মাদকের পেছনে ব্যয় করার যে তথ্য উঠে এসেছে, তা ইঙ্গিত করে যে এই অপরাধচক্রের মূলে রয়েছে মাদকের নীল ছোবল।

একইভাবে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি কলেজ মোড় এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে ধারাবাহিক চুরির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির দুর্বলতা স্পষ্ট করে তোলে। পুলিশের হাতেনাতে আটক বা অভিযানের পরও যখন চুরি থামে না, তখন সাধারণ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য নিরাপত্তা সবচেয়ে মৌলিক শর্ত।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হলেও কেবল আশ্বাসেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ। পাটকেলঘাটার চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকা এবং শহরের সিটি কলেজ মোড়ে নিয়মিত বিট পুলিশিং ও নৈশ টহল দ্বিগুণ করতে হবে। বখাটে চক্র যে মাদক স্পটগুলোতে আড্ডা দেয়, সেগুলোতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মাদকের সরবরাহ বন্ধ করা জরুরি। চুরি যাওয়া সেচ পাম্প বা মাছের মতো চোরাই পণ্যের ক্রেতা ও চোর চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও তরুণদের সমন্বয়ে মহল্লাভিত্তিক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করে পুলিশের সাথে যোগাযোগের পথ সুগম করতে হবে, যাতে ভুক্তভোগীরা নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন।
জনগণের জীবনের নিরাপত্তা ও সম্পদে হাত দেওয়া অপরাধীদের প্রতি কোনো অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই। প্রশাসন অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়ে নাগরিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পাটকেলঘাটায় ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় ১০ পিস ইয়াবাসহ রহমত আলী মিঠু (৪০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাটকেলঘাটা পাঁচরাস্তা মোড় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রহমত আলী মিঠু যুগিপুকুরিয়া গ্রামের সুজাউদ্দিনের ছেলে এবং পেশায় ইলেকট্রনিক্স মিস্ত্রি।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০ পিস ইয়াবাসহ তাঁকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

দেবহাটায় টিআরএম চালু ও সরকারি খাল খননের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় টিআরএম চালু ও সরকারি খাল খননের দাবি

সংবাদদাতা: স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে দেবহাটা উপজেলা পানি কমিটির নিয়মিত ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় পারুলিয়া ট্রেড স্কুলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘উত্তরণ’ ও উপজেলা পানি কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল ফজলের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন কমিটির সম্পাদক অধ্যাপক রাজু আহমেদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উত্তরণ সীমান্ত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ওয়ারেছীন কবির, উত্তরণের প্রকল্প কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সানা, টাউন শ্রীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আফছার আলী, শাখা ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম, দেবহাটা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিটন ঘোষ বাপি ও মাঠ সংগঠক গোলাম হোসেন।
সভায় বক্তারা এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করার ওপর জোর দেন। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে নদীর পাশাপাশি জলাধার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার এবং সরকারি খালগুলো পুনঃখননের দাবি জানানো হয়।
জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ‘টিআরএম’ (টিডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট বা জোয়ার-ভাটা নদী ব্যবস্থাপনা) অবিলম্বে চালু করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, কেবল নদী বা খাল খনন করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, কারণ দ্রুত পলি জমে তা আবার ভরাট হয়ে যায়। টিআরএম চালু করে জোয়ারের পলিযুক্ত পানি নির্দিষ্ট বিলে আবদ্ধ করে পলি ফেলা এবং ভাটার টানে নদীর নাব্য বজায় রাখাই একমাত্র টেকসই পথ। দেবহাটার নদী ও খালের সাথে টিআরএম সংযোগ করা না হলে প্রতিবছর কৃষি জমি ও লোকালয় প্লাবিত হবে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।