পাইকগাছায় পেঁপে চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক
প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করে বহু কৃষক এখন অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভবান হচ্ছেন। কম খরচে ও স্বল্প সময়ে পেঁপে চাষ করে অনেক কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এখানকার উৎপাদিত পেঁপে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আশেপাশের বাজারেও বিক্রি করা হয়। অল্প সময়ে কম খরচে অধিক ফলন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষের প্রতি চাষিদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
পেঁপে মূলত সারা বছর বা বিভিন্ন মৌসুমে চাষ করা যায়। বাংলাদেশে পেঁপে চাষের প্রধান তিনটি মৌসুম হলো আশ্বিন-কার্তিক সেপ্টেম্বর-নভেম্বর, মাঘ-ফাল্গুন জানুয়ারি-মার্চ এবং জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মে-জুলাই। সঠিক সময়ে বীজ বপন ও পরিচর্যা করলে তিন মৌসুমেই পেঁপে চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় পেঁপে চাষের প্রধান তিনটি মৌসুম মিলে ৪৬ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ করা হয়। চাষিরা স্থানীয় জাতের পাশাপাশি রেড লেডি বা হাইব্রিড জাতের পেঁপে চাষ করছেন, যাতে দ্রুত এবং বেশি ফলন আসে।
পাইকগাছার উঁচু ও মাঝারি ধরনের দোআঁশ মাটি পেঁপে চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যা পানি নিষ্কাশনে সহায়তা করে। পেঁপে বাগানের লাইনের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় কৃষকরা শীতকালীন শাকসবজি ও মরিচ চাষ করে অতিরিক্ত আয় করছেন।
কৃষকদের তথ্যমতে, জমি প্রস্তুত, বীজ, চারা ও সারসহ প্রতি বিঘা জমিতে পেঁপে চাষে খরচ হয় প্রায় ৪০হাজার থেকে ৫০হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক পরিচর্যা করলে প্রতি বিঘা জমি থেকে উৎপাদিত পেঁপে দেড় থেকে দুই লাখ টাকারও বেশি বিক্রি করা সম্ভব হয়। পাইকগাছার কৃষকদের পেঁপে বিক্রির জন্য বাজারে যেতে হয় না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে পেঁপে কিনে নিয়ে যান। উন্নত জাতের পেঁপে চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, পেঁপে চাষে আগ্রহ বাড়াতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কম খরচে ও স্বল্প সময়ে পেঁপে চাষ করে বেশী লাভবান হওয়া যায়। বেকার যুবকরা পেঁপে চাষে এগিয়ে এলে তারা লাভবান হবেন।









