শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

পাইকগাছায় ১৫১টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় ১৫১টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার দেবীপক্ষ ও পুণ্যলগ্নের ক্ষণগণনা। শিশির ভেজা ভোর আর শরতের শুভ্র কাশফুল জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গা পূজার আগমনী বার্তা।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় ১৫১ টি পুজা মন্দির বা মন্ডবে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে।

 

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব ঘিরে পাইকগাছায় প্রতিমা তৈরিতে কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলে হয়ে উঠছে অপরূপ। এখন খড় আর কাদা মাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমায় রঙ্গের কাজ চলছে। একই সঙ্গে শরতের দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে প্যান্ডেল, তোরণ, আলোকসজ্জা ও মন্দিরগুলোতে সাজসজ্জার প্রস্তুতি চলছে।

পাইকগাছার বেশ কয়েকটি পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেবীদুর্গার প্রতিমা। ভাস্কার বা কারিগররা প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা। কোন কোন মন্দিরে মাটির কাজ শেষ হয়েছে আবার কোন কোন মন্দিরে রঙ্গের কাজ চলছে।

প্রকৃতিতে শরতের শুভ্রতার সঙ্গে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। দুর্গা আদ্যাশক্তি, মহামায়া, শিবানী, ভবানী, দশভুজা, সিংহবাহনা ইত্যাদি নামে অভিহিত হন। দুর্গ বা দুর্গম নামক দৈত্যকে বধ করেন বলে তাঁর নাম হয় দুর্গা। জীবের দুর্গতি নাশ করেন বলেও তাঁকে দুর্গা বলা হয়। ব্রহ্মার বরে পুরুষের অবধ্য মহিষাসুর নামে এক দানব স্বর্গরাজ্য দখল করলে রাজ্যহারা দেবতারা বিষ্ণুর শরণাপন্ন হন। বিষ্ণুর নির্দেশে সকল দেবতার তেজঃপুঞ্জ থেকে যে দেবীর জন্ম হয় তিনিই দুর্গা। দেবতাদের শক্তিতে শক্তিময়ী এবং বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিতা হয়ে এ দেবী যুদ্ধে মহিষাসুরকে বধ করেন। তাই দেবীর এক নাম হয় মহিষমর্দিনী।

পাইকগাছা উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় মোট ১৫১টি মন্দিরে সর্বজনীন দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবর হতে দুর্গা পূজা শুরু হবে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে দুর্গা পূজা শেষ হবে। জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলায় ১৫১ টি পুজা মন্দির দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পাইকগাছা পৌরসভায় ৬ টি, হরিঢালী ইউনিয়নে ১৭ টি, কপিলমুনি ইউনিয়নে ১৮ টি, লতা ইউনিয়নে ১২ টি, দেলুটি ইউনিয়নে ১৩টি, সোলাদানা ইউনিয়নে ১২ টি, লস্কর ইউনিয়নে ১৯ টি, গদাইপুর ইউনিয়নে ৭ টি, রাডুলী ইউনিয়নে ২০টি, চাঁদখালী ইউনিয়নে ১৫ টি ও গড়ইখালী ইউনিয়নে ১২ টি সর্বমোট ১৫১ টি মন্দিরে দুর্গা উৎসব উদযাপিত হবে।

বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ পাইকগাছা পৌরসভা শাখার সভাপতি বাবুরাম মন্ডল জানিয়েছেন, এবছর দুর্গোৎসব সুষ্ঠ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে পালনের লক্ষে বাংলাদেশ পুজা উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির, জেলা কমিটি ও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে পাইকগাছা উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পুজা উদযাপন পরিষদ পাইকগাছা শাখার আহ্বায়ক প্রাণ কৃষ্ণ দাশ বলেন, প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এবছর দুর্গা পূজা সুষ্ঠ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয় সে জন্য সরকার ও বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির দিক নির্দেশনা মেনে সংগঠন-এর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সব রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

Ads small one

শ্যামনগরে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। দলীয় কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১০টা থেকে শ্যামনগর পৌরসভার নকিপুর বাজারসহ জনবহুল এলাকাগুলোতে এই প্রচারপত্র বিলি করা হয়।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে অংশ নেন পৌর জামায়াতের আমির হারুন-অর রশীদ সাচ্চু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মঈনুদ্দীন, গোলাম মোস্তফা, যুব বিভাগের সাঈদী হাসান বুলবুল এবং ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এর আগে সকালে জামায়াতের একটি দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
কর্মসূচিপালনের সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যা সাধারণ মানুষের জনজীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এই মহামারি থেকে রক্ষা পেতে হলে নিজের আঙিনাসহ চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু লক্ষণে ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের পরমর্শ অনুযায়ী সঠিক ওষুধ সেবন ও মানসিক শক্তি ধরে রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

 

পাটকেলঘাটা-কলারোয়া সড়কের দুপাশে ঝোপঝাড়: পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটা-কলারোয়া সড়কের দুপাশে ঝোপঝাড়: পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: পাটকেলঘাটা-কলারোয়া সড়কের সরুলিয়া বাজার থেকে মুরারিকাটি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশ দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঝোপঝাড়ে আচ্ছাদিত হয়ে আছে। এতে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি ডাকাতি, মাদকসেবন ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকা- বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এই রুটে চলাচলকারী যানবাহনচালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তালা ও কলারোয়াÑএই দুই উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ের কারণে বেশ কিছু স্থান দিনের বেলাতেও নির্জন ও আড়ালযুক্ত হয়ে থাকে। ফলে সেখানে অপরাধীরা সহজেই লুকিয়ে থাকে।

নিয়মিত যাতায়াতকারী ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি মাহমুদুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করায় পরিবেশ নষ্ট হয়েছে এবং উচ্ছৃঙ্খল যুবকরা এই জঙ্গলের আড়ালকে অপরাধের কাজে ব্যবহার করছে। ধানদিয়া চৌরাস্তা মোড়ের মুদি দোকানদার ফরিদুল ইসলাম জানান, বাইরের পথচারীরা প্রায়ই ছিনতাইয়ের শিকার হন। সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়, কারণ অপরাধীরা লুটপাট করে দ্রুত জঙ্গলের মধ্যে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের ধরা সম্ভব হয় না।

স্থানীয়দের দাবি, সড়কের দুই পাশের আগাছা ও জঙ্গল নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে দৃশ্যমানতা বাড়বে এবং অপরাধীদের লুকিয়ে থাকার সুযোগ থাকবে না। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলের আতঙ্ক কাটাতে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে এলজিআরডির এক কর্মকর্তা জানান, খুব দ্রুতই সড়কটির দুই পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হবে। তবে বর্ষাকাল হওয়ায় জঙ্গল দ্রুত বেড়ে ওঠে। পাটকেলঘাটা থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তার দুই পাশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। জনগণের জানমালের সুরক্ষা দিতে নিয়মিত পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে এবং আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে এই টহল আরও জোরদার করা হবে।

কেশবপুরে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি ও মারধরের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি ও মারধরের অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে প্রায় ১১ মাস আগে সংঘটিত তোতা সরদারের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, মামলা দায়েরের পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত ফারুক হোসেন, আব্দুস সালাম ও বিল্লাল হোসেনের পক্ষ থেকে বাদীপক্ষকে নানাভাবে হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। গত ৭ অক্টোবর এই মামলাকে কেন্দ্র করে তোতা সরদারের মেয়ে ও মামলার বাদী আসমা খাতুন এবং তাঁর চাচাতো বোন জেসমিন আক্তারকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে একই দিনে চিংড়া বাজার ক্যাম্প পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ফারুক হোসেন দাবি করেন, তাঁরা কাউকে কোনো ধরনের হুমকি বা মারধর করেননি এবং এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

অন্যদিকে বাদীপক্ষের ক্ষোভ, হত্যা মামলার দীর্ঘ ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাঁরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। এ বিষয়ে চিংড়া বাজার ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ শামীম হোসাইন জানান, মারধরের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।