বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পেট্রোল পাম্প গুলিতে জ্বালানি তেলের সংকট প্রসঙ্গে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
পেট্রোল পাম্প গুলিতে জ্বালানি তেলের সংকট প্রসঙ্গে

আজহারুল ইসলাম সাদী
২০২৬ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও পাম্পে দীর্ঘ সারির খবর লক্ষণীয়। যা জনজীবনে অচলাবস্থা তৈরি করেছে, সরকার সংকট না থাকার দাবি করলেও আতঙ্কিত মানুষের চাহিদার কারণে কৃত্রিম সংকট তীব্রতর হচ্ছে, এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ১৯৭০-এর দশকের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কৃত্রিম সংকট: অভিযোগ উঠেছে যে একটি চক্র কৃত্রিমভাবে তেল সংকট তৈরি করছে, যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
গণপরিবহনে ভোগান্তি: তেল না পেয়ে অনেকে লোকাল বাসে চড়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক প্রভাব: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল দেশের ভেতরের সমস্যা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ হ্রাসের একটি অংশ।
উত্তরণের প্রচেষ্টা: সরকার কৃত্রিম সংকট তৈরি কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে, জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক ব্যবহারের আহ্বান জানানো হচ্ছে। তেল সংকটের প্রেক্ষাপট ও কয়েকজন সাংবাদিক এর ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট কৃত সমালোচনা এখানে তুলে ধরা হলো:
সাংবাদিক মিলন রুদ্র লেখেন, পেট্রোল পাম্প থেকে লাইভ সম্প্রচার করতে করতে তেল নিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আমি নিজেও তেল বঞ্চিত হ ই।
সাংবাদিক সাইদুল বাসার তার পোস্টে লেখেন বাজার হতে আমার মোটরসাইকেল থেকে তিনটি তেল চুরি হয়ে গেছে। ১৫ দিন আগেও ৩ টি তেল চুরি হয়ে গিয়েছিল। গত ২ দিন আগে কপোতাক্ষ পাম্প থেকে ৭ ঘন্টা অপেক্ষা পরে ৫ শত টাকার তেল পেলাম তার থেকে ৩ লিটার তেল চুরি!
পেট্রোল পাম্প থেকে কয়েকদিন পেট্রোল নিতে গিয়ে সাংবাদিক তৌহিদ এর সাথে ঘটে যাওয়া তীক্ত অভিজ্ঞতা কথা তার ফেসবুক পোস্টে যা লিখেছেন….
গত কয়েকদিন আমার সাথে ঘটেছে যে কথা বলতে পারিনি কাউকে।
ঘটনা সুত্রপাত, তেল দিচ্ছে এই খবর শুনে তেল নিতে গিয়েছিলাম আলিপুর সোনালী পেট্রোল পাম্পে। সেখানে প্রায় হাফ কিলোমিটার সিরিয়াল ঠেলে ৪ ঘন্টা পর যখন নজেল ম্যানের কাছে পৌঁছালাম আমার সামনে তখন মাত্র একটা গাড়ি ছিল, হঠাৎ হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা এলো তেল শেষ, তেল দেওয়া হবে না? আপনারা জায়গা খালি করেন!
হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা শুনে পাম্প কতৃপক্ষ এক পূর্ব পরিচিত বড় ভাইয়ের কাছে গিয়ে অনেক অনুনয় বিনয় করলাম, ফিরে যাওয়ার মতো তেল বাইকে ছিল না, সেটিও জানালাম, শান্তনা দিলো, বললো বাইক রাখার জায়গা দিচ্ছি, বাইক রেখে যান। অনুরোধ করলাম অল্প একটু তেলের জন্য। কিন্তু কোন কথাতেই কাজ হলো না। উনারা এক কথার মানুষ!
তবে আমার কথা শুনে একজন করুনা করে একটা স্পিডের বোতলে একটু তেল দিতে চাইলো! নিরুপায় হয়ে ঐ তেল নিয়ে কোন রকমে ফিরে এলাম বাসায়!
রাতে ঘুম হচ্ছে না, তেল তো লাগবেই, এই চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, ভাবতে ভাবতে রাত ভোর হলো। সকালে জানতে পারলাম কপোতাক্ষ পেট্রোল পাম্পে তেল দিচ্ছে, আবারো ঝুঁকি নিলাম, পাম্পে সেই লম্বা সিরিয়াল!
তার ফাঁকে ফাঁকে পাম্প কতৃপক্ষ দুই ভাই এবং তাদের কিছু শুভাকাঙ্খি তাদের পছন্দের লোকদের সিরিয়ালের বাইরে নিয়ম ভেঙ্গে ট্যাংকি ফুল করে তেল দিচ্ছে!
দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাইকারদের মধ্য থেকে কেউ কেউ তীব্র প্রতিবাদ করছে– আমি দর্শক সারিতে দাঁড়িয়ে দেখছি, নিয়ম ভেঙ্গে তেল দেওয়া দেখে নিজের পেশার পরিচয় দিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা করলাম আমিও!
কোন কথায় কোন কর্ণপাত করছে না, ঘন্টা তিন পরে বললো এভাবে না দাঁড়িয়ে এতোক্ষণ লাইনে দাড়ালে তো তেল পেতেন, আমিও সেটি ভেবে গেলাম লাইনে আবারো সাড়ে তিন ঘণ্টা লম্বা লাইন ঠেলে যেই নজেল ম্যানের কাছাকাছি পৌছালাম সেই ঘোষণা ছাড়াই তেল বন্ধ!!
প্রথমে বললো জেনারেটর গরম হয়ে গেছে, তারপর সবাই যখন হৈচৈ করছে তখন বললো তেল নেই, আবার আসবে তারপর তেল দিবো। একজন বাইক চালক খুব উত্তেজিত হয়ে চিল্লাচিল্লি করছে দেখে পাম্প মালিক এসে তাকে মারধর শুরু করলো! সাথে সাথে তার বাহিনী ও হামলে পড়লো ঐ বাইক চালকের উপর। এই দৃশ্য দেখার পর আর সাহস হলো না ঐখানে দাঁড়িয়ে তেল চাইবো! খুব ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফিরলাম, ঘুম আসছে না, নির্ঘুম রাত কাটলো।
পরের দিন প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম ভাই গ্রুপে জানালেন কপোতাক্ষ পেট্রোল পাম্পে সাংবাদিকদের তেল দিবে, আলাদা লাইনে, ডিসি অফিস থেকে জানানো হয়েছে! গেলাম দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে দাঁড়ালাম সাংবাদিক সহকর্মীরা মিলে সুশৃঙ্খল ভাবে আলাদা লাইনে। কিন্তু বিপত্তিটা সেখানে বাঁধলো! স্থানীয় চোরাই তেল সিন্ডিকেটরা সাংবাদিকদের দেখে তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।
তারা উস্কানি দিয়ে জনগণকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বাজে স্লোগান দেওয়াচ্ছে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকলো, সাংবাদিকদের লাইন দীর্ঘ হতে লাগলো। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে উনি ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ পাঠালেন, ততক্ষণে পাম্প কর্তৃপক্ষের কারসাজি শুরু হয়ে গেছে,তারা তাদের তেলের লরি দিয়ে সাংবাদিকদের লাইন টি ব্লক করে দিলো।
ম্যাজিস্ট্রেট এসে আপ্রাণ চেষ্টা করলো লাইনে দাঁড়ানো ৫ জন কে এবং ১ জন সাংবাদিক কে তেল দিবে, এভাবে শুরু হলো, তখন সময় সন্ধ্যা হবে হবে, এভাবে ৪/৫ জন সাংবাদিক তেল পেলো আমি ধৈর্য হারা হয়ে সন্ধ্যা ৭ টায় চলে আসলাম বাসায়!
পরে রাত ১২ টায় সহকর্মীরা ফোন দিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বললো তারা তেল না পেয়ে এসেছেন! এমনকি তাদের উপর হামলার চক্রান্ত হয়েছিল!
আমার তবুও ৫ঘন্টা সময় বেঁচে গেছে এই শান্তনায় ঘুমিয়ে পড়লাম। সম্প্রতি চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদরের সকল ফিলিং স্টেশন এবং ডিলার পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন দুই শিফটে একযোগে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত এবং বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সরকারের জরুরি পরিষেবা সংশ্লিষ্ট অফিস ও ব্যক্তিগত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। বোতল ও কন্টেনারে পেট্রোল বিক্রয় নিষিদ্ধ পাশাপাশি হাটে বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির উপর ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয় প্রশাসনের নির্দেশনায় পেট্রোল পাম্প গুলিতে কতটা সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। সুষ্ঠু ভাবে হয়রানি যুক্ত তেল সরবরাহ করা হোক এটাই সকলের কাম্য। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা, সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা, সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বা জোয়ারাধার কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছে যুব পানি কমিটি। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, নদী সচল থাকা অবস্থায় টিআরএম চালু করা না হলে আগামী এক-দুইটি শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই নদীতে আবারও পলি জমে নাব্যতা কমে যেতে পারে। এতে সম্প্রতি ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সুফলও দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরে উত্তরণের আঞ্চলিক কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৯০-এর দশক থেকে সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, তালা, আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর এলাকা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে। এতে অববাহিকার ৬ লাখের বেশি মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

 

বিভিন্ন সময়ে নদী-খাল খনন, স্লুইসগেট নির্মাণ ও উপকূলীয় বাঁধ সংস্কারে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রতি বছর বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীতে ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পলি জমছে। এতে উজানের অংশ ভরাট হয়ে নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে। এর সঙ্গে নদী-খাল দখল, অনিয়ন্ত্রিত চিংড়ি চাষ এবং স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি প্লাবিত হচ্ছে। এতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হয়ে অনেক পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াটার রিসোর্স প্ল্যানিং ইনস্টিটিউটের আওতাভুক্ত আইডব্লিউএমের সমীক্ষা এবং বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, পলিবহুল এ অঞ্চলে শুধু নদী খনন করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। টিআরএমের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নির্দিষ্ট বিলে প্রবেশ করিয়ে পলি জমার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে বিলের উচ্চতা বাড়বে এবং নদীতে পলি জমার চাপ কমবে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০-এ বেতনা-মরিচ্চাপ অববাহিকার সুখদেবপুর, টিকেট, ঝিলমারী, দুর্গাপুর, শ্রীরামপুর, বাগমারা, গোবিন্দপুর, হাজীখালী, আমোদখালী, চাপড়া ও মাটিয়াডাঙ্গা এই ১১টি বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের নির্দেশনা রয়েছে। আইডব্লিউএমের সমীক্ষা অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পুনঃভরাটের হার ৬০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

তবে যুব পানি কমিটির নেতারা বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় পোল্ডার নম্বর ১, ২, ৬-৮ ও ৬-৮ (সম্প্রসারণ)-এর জন্য ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চার বছর মেয়াদি যে প্রকল্প সম্প্রতি শেষ হয়েছে, তাতে টিআরএম রাখা হয়নি। ফলে নদী সচল রাখার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় মৎস্যঘের ও ভেড়ির কারণে অনেক জায়গায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ রয়েছে। ফলে নদী-খাল খনন বা বাঁধ সংস্কার করলেও পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামোগত প্রকল্পের পাশাপাশি পানি চলাচলের সব বাধা দূর করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকার নির্ধারিত বিলে দ্রুত টিআরএম চালু, পানি নিষ্কাশনের সব প্রতিবন্ধকতা দূর, নদী-খাল দখলমুক্ত করা এবং মৎস্যঘেরের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া পানি চলাচলের পথ খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে স্থানীয় জনগণসহ সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনের কার্যকর অংশগ্রহণ ও সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে যুব পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল, প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সদস্য সাজিদুল ইসলাম, করিমুন নেছা শান্তা, লামিয়া সুলতানা, রাবিয়া খাতুন, আজমিরা খাতুন, আবু তাহের ও মিলন কুমার উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া উত্তরণের কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন, কেন্দ্র পানি কমিটির সদস্য মীর জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ বাবু, উত্তরণের নাজমা আক্তার ও প্রতিনিধি গোলাম হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় সচেতন হচ্ছেন সাতক্ষীরার উপকূলীয় নারীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় সচেতন হচ্ছেন সাতক্ষীরার উপকূলীয় নারীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর ও আশাশুনি। যা বারবার জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। সেখানে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। দুর্যোগের পূর্বমুহূর্তে কেবল ত্রাণের জন্য অপেক্ষা না করে, নিজেদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় এবার সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন স্থানীয় নারীরা।

এর সর্বশেষ উদাহরণ দেখা গেল গভীর নিম্নচাপের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য ও ঝোড়ো হাওয়ার ফলে সাগর উত্তাল থাকার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আশাশুনির আনুলিয়া, প্রতাপনগর ও শ্যামনগরের পদ্মপুকুর, গাবুরা ইউনিয়নের নারী বাঁধ সুরক্ষা দলের সদস্যরা সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন-এর কাছে উপকূলের বেড়িবাঁধ সম্পর্কিত সরেজমিন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নারী বাঁধ সুরক্ষা দলের নেতৃবৃন্দ বেড়িবাঁধ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদ্বয়ের কাছে জমা দেন। নারী বাঁধ সুরক্ষা দলের প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি কোনো গতানুগতিক আবেদনপত্র নয়, বরং একটি পেশাদার ও তথ্যসমৃদ্ধ পর্যবেক্ষণ।

গভীর নিম্নচাপের সতর্কবার্তা পাওয়ার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নারী বাঁধ সুরক্ষা দলগুলো মাঠে নামে। তারা সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর, হাওলাদারবাড়ি, মাদারবাড়ি, আদর্শগ্রাম, কল্যাণপুর ও আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট, একসরা, কাকবাসিয়া এবং শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনীমুখা, ডুমুরিয়া, চকবারা, ৯নং সোরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কামালকাঠি, খুটিকাটা, পাখিমারা, ঝাঁপা, পদ্মপুকুর গ্রামের বেড়িবাঁধের অতি-ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। কেবল পরিদর্শনই নয়, তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সাথে জরুরি বৈঠক করে মাঠের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।

নারী বাঁধ সুরক্ষা দলগুলোর বেড়িবাঁধ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনটি গ্রহনকালে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, ‘উপকূলের নারীরা এখন দুর্যোগের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করতে এবং তা নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হচ্ছে। এটি তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির দৃষ্টান্ত।’
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ‘স্থানীয় নারীরা নিজেদের এলাকার বেড়িবাঁধের দুর্বল জায়গা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। তাদের দেওয়া তথ্য নির্ভুল হলে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে আমাদের সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের উপকূলীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নারীদের অংশগ্রহণ মূলত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান বা প্রাথমিক প্রস্তুতি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। তবে, সুইডেন দূতাবাস ঢাকা এবং ইউএন উইমেন এর সহায়তায় ‘বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠন’-এর বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প এই ধারায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। প্রকল্পের আওতায় গঠিত নারী বাঁধ সুরক্ষা দল বা (ইপিজি) এখন উপকূলের বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

গাবুরায় ভূমি অফিসের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
গাবুরায় ভূমি অফিসের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নাম ব্যবহার করে বসতভিটার কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায়, গাবুরা লক্ষীখালী হাফিজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় উক্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এলাকাবাসীরা জানায়, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে গাবুরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীখালী এলাকার মো. হেলাল উদ্দিন, মো. আলামিন গাজী, মোছা. ফিরোজা ও মোছা. ফাহিমাসহ অনেকের কাছ থেকে কাগজপত্র সংশোধনের কথা বলে টাকা নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের বিভিন্ন জটিল কাজ দ্রুত সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি। তিনি গাবুরা চকবারা এলাকার হযরত আলীর ছেলে। এভাবে এলাকাটির প্রায় ৫০ জন বাসিন্দার কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করছেন তারা।

মিথ্যা আশ্বাসে টাকা আদায়ের এ ঘটনায় গাবুরা ইউনিয়নজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে অর্থ লেনদেনের কোনো লিখিত রসিদ বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি অভিযোগকারীরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ সব দাবি অস্বীকার করে বলেন, “আমার সঙ্গে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল গনি উপস্থিত ছিলেন। আমি কোনোভাবেই কারও কাছ থেকে টাকা আদায় করিনি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

এ বিষয়ে গাবুরা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল গনির কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহকে আমি সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলাম। তবে আমার জানামতে সে কোথাও থেকে কোনো টাকা আদায় করেনি।”

অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভূমি অফিসের মতো একটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা উদঘাটনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।